ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফের আসছে জোটবদ্ধ রূপরেখা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে ফের জোটবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছে দেশের চারটি রাজনৈতিক দল। বিএনপির নেতৃত্বে সরকারবিরোধী এ আন্দোলনে মাঠে নামবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), নাগরিক ঐক্য ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। যে কোনো দিন জোটবদ্ধ এ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখার ঘোষণাও আসতে পারে। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিন দলের নেতাদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মহামারি করোনাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসির সংলাপের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের স্থবিরতা কেটেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে বিরোধী দলের আন্দোলনে বাধা না দিতে প্রশাসনের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনাকে সরকারের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের চেষ্টা করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে থাকা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে এগিয়ে এসেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও নাগরিক ঐক্য। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় থাকা জামায়াতে ইসলামীও দীর্ঘদিন পর মওকা বুঝে যোগ দিচ্ছে এ জোটে।

গত বৃহস্পতিবার ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি’ নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে এলডিপি। এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় বিএনপির কোনো নেতা উপস্থিত না থাকলেও নাগরিক ঐক্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সরকারের নানা কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। সভায় অলি আহমদ বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের একটা চেষ্টা চলছে বলে স্বীকার করে বলেন, এ সংক্রান্ত আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কীভাবে আন্দোলন হবে, তার রূপরেখা যে কোনো দিন জাতির সামনে বিএনপি দেবে। সেই রূপরেখার সঙ্গে তারা একমত।

তিনি আরও বলেন, বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে আশা নিয়ে ভারত গিয়েছিলেন, তা প্রতিফলিত হয়নি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। অনেককে হায়ার (ভাড়া) করেছিলেন। তারা নিশ্চয়তা দিয়েছিল, আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। এখন ভূ-রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।

এ সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইতিমধ্যে দেশের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য হয়েছে। ঐক্যটি হলো এ সরকারের অধীন তারা নির্বাচনে যাবে না। আমরা যারা যারা ঐক্য গড়ে তুলব, তারা প্রথম দফায় একবার কথা বলেছি। দ্বিতীয় দফায় কথা বলব বলতে বলতে তিন মাস হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হতাশ হইনি। ঐক্য হবে আশা করি। ঐক্য হওয়ার পর ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামব, এই আশায় বসে আছি।’

মান্না বলেন, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রথমে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গেছেন। গিয়ে বলেছেন। কিন্তু এবার ভারত তাকে বলেনি যে ঠিক আছে। নিশ্চিন্তে থাকেন। এবার আওয়ামী লীগ সরকার বুঝতে পারছে, পৃথিবীতে তার কোনো বন্ধু নেই।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, ‘অতীতে কোন দলের কী ভূমিকা ছিল, এটা পর্যালোচনা করি না। বর্তমান দুঃশাসনের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রামে নেমে পড়ব, এটাই আমাদের অঙ্গীকার। দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে। যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। সম্মিলিত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটাব।’

Tag :
জনপ্রিয়

বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূপেশ কুমার দাস রায় আর নেই : বিভিন্ন মহলে শোক

ফের আসছে জোটবদ্ধ রূপরেখা

প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে ফের জোটবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছে দেশের চারটি রাজনৈতিক দল। বিএনপির নেতৃত্বে সরকারবিরোধী এ আন্দোলনে মাঠে নামবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), নাগরিক ঐক্য ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। যে কোনো দিন জোটবদ্ধ এ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখার ঘোষণাও আসতে পারে। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিন দলের নেতাদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মহামারি করোনাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসির সংলাপের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের স্থবিরতা কেটেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে বিরোধী দলের আন্দোলনে বাধা না দিতে প্রশাসনের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনাকে সরকারের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের চেষ্টা করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে থাকা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে এগিয়ে এসেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও নাগরিক ঐক্য। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় থাকা জামায়াতে ইসলামীও দীর্ঘদিন পর মওকা বুঝে যোগ দিচ্ছে এ জোটে।

গত বৃহস্পতিবার ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি’ নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে এলডিপি। এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় বিএনপির কোনো নেতা উপস্থিত না থাকলেও নাগরিক ঐক্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সরকারের নানা কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। সভায় অলি আহমদ বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের একটা চেষ্টা চলছে বলে স্বীকার করে বলেন, এ সংক্রান্ত আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কীভাবে আন্দোলন হবে, তার রূপরেখা যে কোনো দিন জাতির সামনে বিএনপি দেবে। সেই রূপরেখার সঙ্গে তারা একমত।

তিনি আরও বলেন, বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে আশা নিয়ে ভারত গিয়েছিলেন, তা প্রতিফলিত হয়নি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। অনেককে হায়ার (ভাড়া) করেছিলেন। তারা নিশ্চয়তা দিয়েছিল, আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। এখন ভূ-রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।

এ সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইতিমধ্যে দেশের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য হয়েছে। ঐক্যটি হলো এ সরকারের অধীন তারা নির্বাচনে যাবে না। আমরা যারা যারা ঐক্য গড়ে তুলব, তারা প্রথম দফায় একবার কথা বলেছি। দ্বিতীয় দফায় কথা বলব বলতে বলতে তিন মাস হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হতাশ হইনি। ঐক্য হবে আশা করি। ঐক্য হওয়ার পর ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামব, এই আশায় বসে আছি।’

মান্না বলেন, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রথমে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গেছেন। গিয়ে বলেছেন। কিন্তু এবার ভারত তাকে বলেনি যে ঠিক আছে। নিশ্চিন্তে থাকেন। এবার আওয়ামী লীগ সরকার বুঝতে পারছে, পৃথিবীতে তার কোনো বন্ধু নেই।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, ‘অতীতে কোন দলের কী ভূমিকা ছিল, এটা পর্যালোচনা করি না। বর্তমান দুঃশাসনের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রামে নেমে পড়ব, এটাই আমাদের অঙ্গীকার। দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে। যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। সম্মিলিত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটাব।’