ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লাভে লাল ব্যবসায়ীরা

বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, গম, চিনিসহ অনেক পণ্যের দাম কমেছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম ছয় মাস আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে পাম অয়েল টনপ্রতি এক হাজার ৭৭৬ ডলার ছিল তা ৮৫০ ডলারে নেমেছে। এক হাজার ৯৫৬ ডলারের সয়াবিন তেল নেমেছে এক হাজার ৫০০ ডলারের নিচে। প্রতি টন গমের দাম ৫০০ ডলার থেকে নেমে হয়েছে ৩০০ ডলার। এভাবে অনেকগুলো নিত্যপণ্যের দাম কমেছে বিশ্ববাজারে। তাই এসব পণ্য আমদানিতে দেশের ব্যবসায়ীদেরও অনেক কম অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

বিদেশ থেকে কম দামে পণ্য এনে দেশেও কম দামে বিক্রি করার কথা। কিন্তু দেশের ব্যবসায়ীরা না কমিয়ে আগের মতো বেশি দামেই বিক্রি করছেন। এভাবে অর্ধেক দামে আমদানি করে এবং বেশি দামে বেচে কয়েকগুণ মুনাফা করছেন তারা। এভাবে দুই দিক থেকে লাভ করে ব্যবসায়ীরা লালে লাল হয়ে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের এ প্রবণতা প্রসঙ্গে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে যখন দাম বাড়ে তখন দেশের বাজারে সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ানো হয়, কিন্তু কমলে ব্যবসায়ীরা মুখে উল্টো সুর তোলেন। দাম না কমানোর পক্ষে নানা অজুহাত দেন। কখনও ডলারের দাম, কখনও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দাম না কমিয়ে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি সয়াবিন তেল, পামওয়েল, গমসহ অনেক পণ্যের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। কিন্তু দেশে কমছে না। এটা তো ফেয়ার ট্রেড নয়। কম দামে পণ্য আমদানি করে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা দেশের মানুষের পকেট কাটছেন। তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন, অথচ দেখার কেউ নেই। সরকারেরও এদিকে কোনো নজর নেই। অথচ এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার কথা। সেটি না করে তারা ব্যবসায়ীদের সুরে সুর মেলায়। এতে ব্যবসায়ীরা আশকারা পায়। এ ছাড়া তারা আরও বেপরোয়া হয়ে যায় যখন দেখে বাজার কারসাজিতে অধিক মুনাফা করলে শাস্তি পেতে হয় না। এ অবস্থা থেকে বের হওয়া দরকার। বাজার সিন্ডিকেটকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা দরকার।’

ভোজ্য তেলের বিশ্ববাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে গত মার্চ মাসে প্রতি টন অপরিশোধিত পামওয়েলের দাম ছিল এক হাজার ৭৭৬ দশমিক ৯৬ ডলার। এরপর এপ্রিলে আরও কমে হয় এক হাজার ৬৮২ দশমিক ৭৪ ডলার। মে মাসে আবার কিছুটা বেড়ে হয় এক হাজার ৭১৬ দশমিক ৯২ ডলার হলেও জুনে কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৫০১ দশমিক ১০ ডলার। জুলাইয়ে আরও কমে হয় এক হাজার ৪৪৫ দশমিক ৬৪ ডলার। আগস্টে কমে হয় ৮৭১ ডলার। আর গত রোববার বিশ্ববাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত পামওয়েল বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮৫৪ ডলারে। এ হিসাবে মার্চের দামের সঙ্গে বর্তমান বিশ্ববাজারের দামের পার্থক্য ৯২২ ডলার।

একইভাবে গত মার্চে বিশ্ববাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম ছিল এক হাজার ৯৫৬ দশমিক ৮৮ ডলার। এপ্রিলে কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৯৪৭ দশমিক ৫১ ডলার। মে মাসে কিছুটা বেড়ে হয় এক হাজার ৯৬২ দশমিক ৮৮ ডলার হলেও জুনে ফের কমে হয় এক হাজার ৭৫১ দশমিক ৭৬ ডলার। জুলাইয়ে দাম ছিল এক হাজার ৭১৬ দশমিক ৭৬ ডলার। কমার প্রবণতা দেখা যায় আগস্টেও, এক হাজার ৫১২ দশমিক ১৫ ডলার। আর শুক্রবার বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫১০ ডলারে। এ হিসাবে গত ছয় মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম কমেছে ৪৪৬ ডলার।

একইভাবে গমের দামও অনেক কমেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে গমের দাম বাড়লেও এখন ধারাবাহিকভাবেই কমছে। যুদ্ধ শুরুর পর গত মে মাসে প্রতি টন গম ৫০০ ডলারের বেশি দামেও বিক্রি হয়। আড়াই মাসের ব্যবধানে এখন প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২৫ ডলারে। অথচ এর কোনো প্রভাব নেই দেশের নিত্যপণ্যের অন্যতম বাজার খাতুনগঞ্জে। দাম কমার পরিবর্তে সেখানে উল্টো গমের দাম বাড়ছে। গত মাসের তুলনায় প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জুনে যেখানে প্রতি মণ ভারতীয় গম বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৩৫০ থেকে এক হাজার ৪৫০ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৫৫০ টাকায়।

মাস দুয়েক আগে অস্ট্রেলিয়ার মসুর ডালের দাম টনপ্রতি ৯২০ মার্কিন ডলারে উঠেছিল। এরপর থেকে কমছে। এখন অস্ট্রেলিয়ার ডালের দাম নেমেছে ৭৮০ ডলারে। অর্থাৎ এ পণ্যের দাম ১৫ শতাংশের মতো কমেছে। অথচ দেশের বাজারে কমেনি এক টাকাও।

প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দামও বিশ্ববাজারে অনেকটাই কমেছে। মার্চ মাসে প্রতি টন চালের দাম ছিল ৪২২ ডলার। এপ্রিলে ৪৩১ ডলার, মে মাসে ৪৬৪ ডলার, জুনে ৪৪৪ ডলার, জুলাইয়ে ৪১৮ ডলার, আগস্টে ছিল ৩৮০ ডলার এবং এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ ডলারে। অথচ দেশের বাজারে চালের দাম বাড়ছেই। আমদানিকারকরা বিশ্ববাজার থেকে আমদানি করলেও বাজারে চাল ছাড়ছেন না। এ কারণে চালের বাজার আরও অস্থির হচ্ছে। একইভাবে বিশ্ববাজারে চিনি, গুঁড়া দুধসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও কমছে। কিন্তু দেশের মানুএর সুফল পাচ্ছে না বললেই চলে।

অবশ্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের কমে যাওয়া দাম অনুযায়ী, দেশে কতটা কমা উচিত, সেটা পর‌্যালোচনা করা দরকার। কারণ সাধারণত বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেই দেশে বেড়ে যায়। কিন্তু কমার সময় দেশের বাজারে খুচরা পর‌্যায়ে প্রভাব পড়তে অনেক সময় লাগে।

চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী জানান, তারা এখন সরু দানার আস্ত মসুর ডাল বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৮১ টাকার কিছু কম দরে। তার হিসাবে, আস্ত ডাল ভাঙাতে কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৩ টাকা খরচ হয়। এ হিসাবে ৯৪ টাকা দাঁড়ায় সরু দানার মসুর ডালের দাম। এরপর মিলমালিক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীর মুনাফা এবং পরিবহন খরচ যোগ হবে।

এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুসাধারণত বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার অসুবিধা দ্রুত টের পায়, কমার সুবিধা পায় দেরিতে। এর কারণ বাজারে প্রতিযোগিতা কম।’ তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার যে যুক্তি তুলে ধরছেন, সেটা অনেকাংশে ঠিক। আবার দেশে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুটিকয় হওয়ায় বাজারে পণ্যের দাম ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখা দরকার।

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

লাভে লাল ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, গম, চিনিসহ অনেক পণ্যের দাম কমেছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম ছয় মাস আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে পাম অয়েল টনপ্রতি এক হাজার ৭৭৬ ডলার ছিল তা ৮৫০ ডলারে নেমেছে। এক হাজার ৯৫৬ ডলারের সয়াবিন তেল নেমেছে এক হাজার ৫০০ ডলারের নিচে। প্রতি টন গমের দাম ৫০০ ডলার থেকে নেমে হয়েছে ৩০০ ডলার। এভাবে অনেকগুলো নিত্যপণ্যের দাম কমেছে বিশ্ববাজারে। তাই এসব পণ্য আমদানিতে দেশের ব্যবসায়ীদেরও অনেক কম অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

বিদেশ থেকে কম দামে পণ্য এনে দেশেও কম দামে বিক্রি করার কথা। কিন্তু দেশের ব্যবসায়ীরা না কমিয়ে আগের মতো বেশি দামেই বিক্রি করছেন। এভাবে অর্ধেক দামে আমদানি করে এবং বেশি দামে বেচে কয়েকগুণ মুনাফা করছেন তারা। এভাবে দুই দিক থেকে লাভ করে ব্যবসায়ীরা লালে লাল হয়ে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের এ প্রবণতা প্রসঙ্গে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে যখন দাম বাড়ে তখন দেশের বাজারে সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ানো হয়, কিন্তু কমলে ব্যবসায়ীরা মুখে উল্টো সুর তোলেন। দাম না কমানোর পক্ষে নানা অজুহাত দেন। কখনও ডলারের দাম, কখনও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দাম না কমিয়ে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি সয়াবিন তেল, পামওয়েল, গমসহ অনেক পণ্যের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। কিন্তু দেশে কমছে না। এটা তো ফেয়ার ট্রেড নয়। কম দামে পণ্য আমদানি করে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা দেশের মানুষের পকেট কাটছেন। তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন, অথচ দেখার কেউ নেই। সরকারেরও এদিকে কোনো নজর নেই। অথচ এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার কথা। সেটি না করে তারা ব্যবসায়ীদের সুরে সুর মেলায়। এতে ব্যবসায়ীরা আশকারা পায়। এ ছাড়া তারা আরও বেপরোয়া হয়ে যায় যখন দেখে বাজার কারসাজিতে অধিক মুনাফা করলে শাস্তি পেতে হয় না। এ অবস্থা থেকে বের হওয়া দরকার। বাজার সিন্ডিকেটকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা দরকার।’

ভোজ্য তেলের বিশ্ববাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে গত মার্চ মাসে প্রতি টন অপরিশোধিত পামওয়েলের দাম ছিল এক হাজার ৭৭৬ দশমিক ৯৬ ডলার। এরপর এপ্রিলে আরও কমে হয় এক হাজার ৬৮২ দশমিক ৭৪ ডলার। মে মাসে আবার কিছুটা বেড়ে হয় এক হাজার ৭১৬ দশমিক ৯২ ডলার হলেও জুনে কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৫০১ দশমিক ১০ ডলার। জুলাইয়ে আরও কমে হয় এক হাজার ৪৪৫ দশমিক ৬৪ ডলার। আগস্টে কমে হয় ৮৭১ ডলার। আর গত রোববার বিশ্ববাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত পামওয়েল বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮৫৪ ডলারে। এ হিসাবে মার্চের দামের সঙ্গে বর্তমান বিশ্ববাজারের দামের পার্থক্য ৯২২ ডলার।

একইভাবে গত মার্চে বিশ্ববাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম ছিল এক হাজার ৯৫৬ দশমিক ৮৮ ডলার। এপ্রিলে কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৯৪৭ দশমিক ৫১ ডলার। মে মাসে কিছুটা বেড়ে হয় এক হাজার ৯৬২ দশমিক ৮৮ ডলার হলেও জুনে ফের কমে হয় এক হাজার ৭৫১ দশমিক ৭৬ ডলার। জুলাইয়ে দাম ছিল এক হাজার ৭১৬ দশমিক ৭৬ ডলার। কমার প্রবণতা দেখা যায় আগস্টেও, এক হাজার ৫১২ দশমিক ১৫ ডলার। আর শুক্রবার বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫১০ ডলারে। এ হিসাবে গত ছয় মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম কমেছে ৪৪৬ ডলার।

একইভাবে গমের দামও অনেক কমেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে গমের দাম বাড়লেও এখন ধারাবাহিকভাবেই কমছে। যুদ্ধ শুরুর পর গত মে মাসে প্রতি টন গম ৫০০ ডলারের বেশি দামেও বিক্রি হয়। আড়াই মাসের ব্যবধানে এখন প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২৫ ডলারে। অথচ এর কোনো প্রভাব নেই দেশের নিত্যপণ্যের অন্যতম বাজার খাতুনগঞ্জে। দাম কমার পরিবর্তে সেখানে উল্টো গমের দাম বাড়ছে। গত মাসের তুলনায় প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জুনে যেখানে প্রতি মণ ভারতীয় গম বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৩৫০ থেকে এক হাজার ৪৫০ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৫৫০ টাকায়।

মাস দুয়েক আগে অস্ট্রেলিয়ার মসুর ডালের দাম টনপ্রতি ৯২০ মার্কিন ডলারে উঠেছিল। এরপর থেকে কমছে। এখন অস্ট্রেলিয়ার ডালের দাম নেমেছে ৭৮০ ডলারে। অর্থাৎ এ পণ্যের দাম ১৫ শতাংশের মতো কমেছে। অথচ দেশের বাজারে কমেনি এক টাকাও।

প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দামও বিশ্ববাজারে অনেকটাই কমেছে। মার্চ মাসে প্রতি টন চালের দাম ছিল ৪২২ ডলার। এপ্রিলে ৪৩১ ডলার, মে মাসে ৪৬৪ ডলার, জুনে ৪৪৪ ডলার, জুলাইয়ে ৪১৮ ডলার, আগস্টে ছিল ৩৮০ ডলার এবং এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ ডলারে। অথচ দেশের বাজারে চালের দাম বাড়ছেই। আমদানিকারকরা বিশ্ববাজার থেকে আমদানি করলেও বাজারে চাল ছাড়ছেন না। এ কারণে চালের বাজার আরও অস্থির হচ্ছে। একইভাবে বিশ্ববাজারে চিনি, গুঁড়া দুধসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও কমছে। কিন্তু দেশের মানুএর সুফল পাচ্ছে না বললেই চলে।

অবশ্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের কমে যাওয়া দাম অনুযায়ী, দেশে কতটা কমা উচিত, সেটা পর‌্যালোচনা করা দরকার। কারণ সাধারণত বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেই দেশে বেড়ে যায়। কিন্তু কমার সময় দেশের বাজারে খুচরা পর‌্যায়ে প্রভাব পড়তে অনেক সময় লাগে।

চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী জানান, তারা এখন সরু দানার আস্ত মসুর ডাল বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৮১ টাকার কিছু কম দরে। তার হিসাবে, আস্ত ডাল ভাঙাতে কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৩ টাকা খরচ হয়। এ হিসাবে ৯৪ টাকা দাঁড়ায় সরু দানার মসুর ডালের দাম। এরপর মিলমালিক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীর মুনাফা এবং পরিবহন খরচ যোগ হবে।

এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুসাধারণত বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার অসুবিধা দ্রুত টের পায়, কমার সুবিধা পায় দেরিতে। এর কারণ বাজারে প্রতিযোগিতা কম।’ তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার যে যুক্তি তুলে ধরছেন, সেটা অনেকাংশে ঠিক। আবার দেশে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুটিকয় হওয়ায় বাজারে পণ্যের দাম ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখা দরকার।