ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সুবর্ণচরে বাড়ছে চোখ ওঠা রোগী

গ্রামীণ ভাষায় চোখ উঠা বলা হলেও চিকিৎসকরা একে বলে কনজাংটিভাইটিস বা চোখের আবরণ কনজাংটিভার প্রদাহ। গেল ক’দিন ধরে সুবর্ণচরের প্রতিটি পরিবারে হঠাৎ করে বাড়ছে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা।

হঠাৎ এ রোগে আতঙ্কিত সুবর্ণচরবাসী। চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে আর বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে। উপজেলা এবং জেলা সদর মাইজদির হাসপাতালে-হাসপাতালে বাড়ছে চক্ষু রোগীদের ভিড়। শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রায় সব বয়সের লোকদেরই দেখা যাচ্ছে এ রোগের।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সুবর্ণচর উপজেলার খাসের হাট বাজারে গিয়ে কথা হয় লাইটহাউজ ডায়াগনস্টিক এন্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে।

সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার হাসিবুর রহমান জানিয়েছে, গেল দু’সপ্তাহ কনজাংটিভার প্রদাহর রোগীর সংখ্যা দেখা যাচ্ছে মারাত্মক আকারে। তবে বেশিরভাগ রোগীর সমস্যা প্রাথমিকভাবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ভালো হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হাট বাজারে অধিকাংশ মানুষের কনজাংটিভার প্রদাহ বা চোখ উঠা রোগীর দেখা মেলছে। রোগটি ছোঁয়াচে। ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চরবৈশাখী এলাকার বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, কাল হঠাৎ আমি চোখ উঠা রোগে আক্রান্ত হই। পরে আমার পরিবারের আরও চারজন সদস্য একই রোগে আক্রান্ত। তার মতো একই মত প্রকাশ করেছে সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের পল্লী চিকিসৎক মো. রুবেল। গত পরশুদিন তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন কয়েকজন কনজাংটিভাইটিসের রোগী। সেদিন বিকেল থেকে তিনিই এ রোগের রোগী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলছেন, কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ হলো চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, খচখচ করা বা অস্বস্তি। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়, তারপর অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। চোখের নিচের অংশ ফুলে ও লাল হয়ে যায়। চোখ জ্বলে ও চুলকাতে থাকে। আলোয় চোখে আরও অস্বস্তি হয়। তবে সেপ্টেম্বরের পর এ রোগ কমে যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, তার কাছে ৩০ জন সাধারণ রোগী আসে। তারমধ্যে ২৫ জনই কনজাংটিভার প্রদাহ বা চোখ উঠা রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকের পরামর্শে চোখের ড্রপেই অধিকাংশ সময়ে এ রোগের সমাধান মেলছে। তবে মারাত্মক পর্যায়ে হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবার কথাও জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয়

নিরব-আরিয়ানা জামানের ‘স্পর্শ’

সুবর্ণচরে বাড়ছে চোখ ওঠা রোগী

প্রকাশের সময় : ১০:১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

গ্রামীণ ভাষায় চোখ উঠা বলা হলেও চিকিৎসকরা একে বলে কনজাংটিভাইটিস বা চোখের আবরণ কনজাংটিভার প্রদাহ। গেল ক’দিন ধরে সুবর্ণচরের প্রতিটি পরিবারে হঠাৎ করে বাড়ছে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা।

হঠাৎ এ রোগে আতঙ্কিত সুবর্ণচরবাসী। চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে আর বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে। উপজেলা এবং জেলা সদর মাইজদির হাসপাতালে-হাসপাতালে বাড়ছে চক্ষু রোগীদের ভিড়। শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রায় সব বয়সের লোকদেরই দেখা যাচ্ছে এ রোগের।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সুবর্ণচর উপজেলার খাসের হাট বাজারে গিয়ে কথা হয় লাইটহাউজ ডায়াগনস্টিক এন্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে।

সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার হাসিবুর রহমান জানিয়েছে, গেল দু’সপ্তাহ কনজাংটিভার প্রদাহর রোগীর সংখ্যা দেখা যাচ্ছে মারাত্মক আকারে। তবে বেশিরভাগ রোগীর সমস্যা প্রাথমিকভাবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ভালো হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হাট বাজারে অধিকাংশ মানুষের কনজাংটিভার প্রদাহ বা চোখ উঠা রোগীর দেখা মেলছে। রোগটি ছোঁয়াচে। ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চরবৈশাখী এলাকার বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, কাল হঠাৎ আমি চোখ উঠা রোগে আক্রান্ত হই। পরে আমার পরিবারের আরও চারজন সদস্য একই রোগে আক্রান্ত। তার মতো একই মত প্রকাশ করেছে সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের পল্লী চিকিসৎক মো. রুবেল। গত পরশুদিন তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন কয়েকজন কনজাংটিভাইটিসের রোগী। সেদিন বিকেল থেকে তিনিই এ রোগের রোগী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলছেন, কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ হলো চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, খচখচ করা বা অস্বস্তি। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়, তারপর অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। চোখের নিচের অংশ ফুলে ও লাল হয়ে যায়। চোখ জ্বলে ও চুলকাতে থাকে। আলোয় চোখে আরও অস্বস্তি হয়। তবে সেপ্টেম্বরের পর এ রোগ কমে যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, তার কাছে ৩০ জন সাধারণ রোগী আসে। তারমধ্যে ২৫ জনই কনজাংটিভার প্রদাহ বা চোখ উঠা রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকের পরামর্শে চোখের ড্রপেই অধিকাংশ সময়ে এ রোগের সমাধান মেলছে। তবে মারাত্মক পর্যায়ে হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবার কথাও জানান তিনি।