ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যতই আক্রমণ হোক মাঠ ছাড়বে না বিএনপি

রাজনীতির মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে সব সময়ই নিজেদেরকে সক্রিয় রেখেছিল বিএনপি। কিন্তু জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি দিয়ে গণমানুষের দেখা পায় দলটি মূলত জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যখন একের পর এক কর্মসূচি দিতে থাকে। এসব কর্মসূচিতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারন মানুষেরও দেখা পায় দলটি। কর্মসূচিগুলোতে ব্যাপক জনসমাগমে চাঙ্গা হয়ে উঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল। দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যেও নব উদ্যম লক্ষ্য করা যায়।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের চাওয়া নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনজীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতিবাদে শক্তভাবে মাঠে থাকা। একই সাথে ভবিষ্যতে তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনের যে ছক কষছে এরমধ্য দিয়ে সারা দেশে দলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সেই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করা। কিন্তু সরকারে থাকা আওয়ামী লীগও বসে নেই। রাজপথে বিএনপিকে প্রতিহত করতে তারাও সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। কর্মসূচিতে হামলা এবং পরবর্তীতে মামলা দিয়ে বিএনপিকে আন্দোলন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ বিএনপির।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল টিপু বার্তা২৪.কমের কাছে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন,শুধু আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে এসে আমাদের ৪জন নেতাকর্মী মারা গেছেন। আহতদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের উপরে।গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক আর মামলা হয়েছে ৭২টি। সেই মামলায় নামসহ অজ্ঞাতনামা আসামীর সংখ্যা ২৫ হাজারের উপরে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে প্রায় ৫০ জায়গায়। আর আমাদের সমাবেশ পন্ড করতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জায়গায়।

টিপু আরও যোগ করে বলেন, আক্রমণ যতই হোক আমাদের রাজপথ ছাড়ার কোন সুযোগ নাই। পুলিশ গুলি চালাক, টিয়ার গ্যাস মারুক, বিএনপি জনগণকে নিয়ে সেটা প্রতিরোধ করবে। সারাবিশ্ব ও দেশবাসী তো দেখছে কিভাবে নিরস্ত্র অবস্থায় বিএনপি রাজপথে মোকাবিলা করছে। সরকার ও পুলিশ যৌথভাবে জনগণের টাকায় কেনা গুলি আমাদের উপর ছুড়ছে, সেটাও সবাই দেখছে। এখন আমাদের সামনে বিকল্প কোন পথ নেই। ঘরে বসে মরার থেকে রাজপথে শহীদ হওয়ার জন্য সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত হয়ে গেছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন পর্যায়ক্রমে দলটির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। কিন্তু সেটাও তারা নির্বিঘ্নে করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। ১৫ সেপ্টেম্বর কয়েকবার জায়গা পরিবতর্ন করেও এবং পুলিশের অনুমতি থাকার পরও সমাবেশ করতে না পেরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক আমানুল্লাহ আমান বলেন,পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে যেভাবে আমাদের সমাবেশ পন্ড করলো তা নজিরবিহীন।

এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রমনা ও শাহবাগ থানা বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ নির্ধারিত জায়গায় করতে না পেরে অবশেষে গলির ভিতর সেটা করতে বাধ্য হয় বিএনপি। সেখানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন,কেউ গুলি করলে আমরা তাকে ছাড় দেবো না। আমরা আত্মাহুতির জন্য প্রস্তুত। আন্দোলনে গুলি চালানো হলে আমাদের আন্দোলনও ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হবে। অবস্থা বুঝে আমরাও ব্যবস্থা নেবো।

মাঠে নির্যাতনের মাত্রা বাড়লে কি করবে বিএনপি এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বার্তা২৪’কে বলেন, আমরা তো ঘরেও থাকতে পারছি না। আমরা এখন আন্দোলনের মুডে আছি এবং মাঠে আছি। আওয়ামী লীগ সরকার যদি আমাদের উপর আক্রমণ না করে তবে সেটা হবে অস্বাভাবিক। আক্রমণ করবে এটাই স্বাভাবিক। তারমধ্যেই আমাদেরকে যেটা করার সেটা করতে হবে। যেহেতু ঘরে থাকতে পারছি না তাই আমাদেরকেও বাধ্য হয়ে রাজপথেই থাকতে হবে এবং নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে হবে।

Tag :

আবদুল্লা আল মামুন নোয়াখালীর শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক  

যতই আক্রমণ হোক মাঠ ছাড়বে না বিএনপি

প্রকাশের সময় : ১০:১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজনীতির মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে সব সময়ই নিজেদেরকে সক্রিয় রেখেছিল বিএনপি। কিন্তু জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি দিয়ে গণমানুষের দেখা পায় দলটি মূলত জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যখন একের পর এক কর্মসূচি দিতে থাকে। এসব কর্মসূচিতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারন মানুষেরও দেখা পায় দলটি। কর্মসূচিগুলোতে ব্যাপক জনসমাগমে চাঙ্গা হয়ে উঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল। দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যেও নব উদ্যম লক্ষ্য করা যায়।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের চাওয়া নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনজীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতিবাদে শক্তভাবে মাঠে থাকা। একই সাথে ভবিষ্যতে তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনের যে ছক কষছে এরমধ্য দিয়ে সারা দেশে দলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সেই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করা। কিন্তু সরকারে থাকা আওয়ামী লীগও বসে নেই। রাজপথে বিএনপিকে প্রতিহত করতে তারাও সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। কর্মসূচিতে হামলা এবং পরবর্তীতে মামলা দিয়ে বিএনপিকে আন্দোলন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ বিএনপির।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল টিপু বার্তা২৪.কমের কাছে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন,শুধু আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে এসে আমাদের ৪জন নেতাকর্মী মারা গেছেন। আহতদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের উপরে।গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক আর মামলা হয়েছে ৭২টি। সেই মামলায় নামসহ অজ্ঞাতনামা আসামীর সংখ্যা ২৫ হাজারের উপরে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে প্রায় ৫০ জায়গায়। আর আমাদের সমাবেশ পন্ড করতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জায়গায়।

টিপু আরও যোগ করে বলেন, আক্রমণ যতই হোক আমাদের রাজপথ ছাড়ার কোন সুযোগ নাই। পুলিশ গুলি চালাক, টিয়ার গ্যাস মারুক, বিএনপি জনগণকে নিয়ে সেটা প্রতিরোধ করবে। সারাবিশ্ব ও দেশবাসী তো দেখছে কিভাবে নিরস্ত্র অবস্থায় বিএনপি রাজপথে মোকাবিলা করছে। সরকার ও পুলিশ যৌথভাবে জনগণের টাকায় কেনা গুলি আমাদের উপর ছুড়ছে, সেটাও সবাই দেখছে। এখন আমাদের সামনে বিকল্প কোন পথ নেই। ঘরে বসে মরার থেকে রাজপথে শহীদ হওয়ার জন্য সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত হয়ে গেছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন পর্যায়ক্রমে দলটির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। কিন্তু সেটাও তারা নির্বিঘ্নে করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। ১৫ সেপ্টেম্বর কয়েকবার জায়গা পরিবতর্ন করেও এবং পুলিশের অনুমতি থাকার পরও সমাবেশ করতে না পেরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক আমানুল্লাহ আমান বলেন,পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে যেভাবে আমাদের সমাবেশ পন্ড করলো তা নজিরবিহীন।

এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রমনা ও শাহবাগ থানা বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ নির্ধারিত জায়গায় করতে না পেরে অবশেষে গলির ভিতর সেটা করতে বাধ্য হয় বিএনপি। সেখানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন,কেউ গুলি করলে আমরা তাকে ছাড় দেবো না। আমরা আত্মাহুতির জন্য প্রস্তুত। আন্দোলনে গুলি চালানো হলে আমাদের আন্দোলনও ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হবে। অবস্থা বুঝে আমরাও ব্যবস্থা নেবো।

মাঠে নির্যাতনের মাত্রা বাড়লে কি করবে বিএনপি এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বার্তা২৪’কে বলেন, আমরা তো ঘরেও থাকতে পারছি না। আমরা এখন আন্দোলনের মুডে আছি এবং মাঠে আছি। আওয়ামী লীগ সরকার যদি আমাদের উপর আক্রমণ না করে তবে সেটা হবে অস্বাভাবিক। আক্রমণ করবে এটাই স্বাভাবিক। তারমধ্যেই আমাদেরকে যেটা করার সেটা করতে হবে। যেহেতু ঘরে থাকতে পারছি না তাই আমাদেরকেও বাধ্য হয়ে রাজপথেই থাকতে হবে এবং নিজেদের দাবি আদায় করে নিতে হবে।