ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘বড় জুতা’য় তাঁদের পা গলানোর চ্যালেঞ্জ

একজন তারকা খেলোয়াড়কে সরিয়ে তাঁর ‘উত্তরাধিকার’দের জায়গা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মোটেও সহজ নয়। মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সহজ ছিল না টিম ম্যানেজমেন্ট কিংবা নির্বাচকদের কাছে। মাহমুদউল্লাহর বিকল্প খোঁজার কাজ কয়েক মাস আগেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু যাঁদের তাঁর বিকল্প ভাবা হচ্ছিল, তাঁদের এক সঙ্গে পেতে দেরি হওয়ায় সিদ্ধান্ত এল ঠিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে।

বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরামের উত্তরাধিকার পরিকল্পনায় মাহমুদউল্লাহর ‘বিগ শু বা বড় জুতায়’ পা গলাতে যাচ্ছেন নুরুল হাসান সোহান, ইয়াসির আলী রাব্বি কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। লোয়ার মিডল অর্ডারে তীব্র স্নায়ুচাপ সামলে যাঁদের কাজ দলকে ভালো স্কোর এনে দেওয়া কিংবা জয়ের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া। ছয় কিংবা সাত নম্বর পজিশনে যে দায়িত্বটা লম্বা সময়ে সামলেছেন মাহমুদউল্লাহ। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জায়গাটা যাঁরা নিচ্ছেন, তাঁরা পারবেন আস্থার প্রতিদান দিতে? গত দুই দিনে সংবাদমাধ্যমকে অবশ্য তাঁরা আশার কথাই শুনিয়েছেন। সোহান যেমন বলেছেন, ‘আমরা যারা আছি, আমাদের কাজ হলো এখান থেকে আরও এগিয়ে যাওয়া।’ আর ইয়াসির রাব্বি বলেছেন, ‘আমাদের ওপর অনেক বড় দায়িত্ব আছে। হ্যাঁ, চ্যালেঞ্জ, তবে চাপ নয়।’

সোহান নিজেকে কিছুটা প্রমাণ করেছিলেন গত জুলাইয়ে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৬ বলে তাঁর অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংস ভিন্ন বার্তাই দিয়েছিল। পরে চোটের কারণে আবার একটা বিরতি। চোটে পড়ায় গত তিন মাসে নিজেকে খুব একটা প্রমাণের সুযোগ পাননি রাব্বিও। তবে ২৬ বছর বয়সী ব্যাটারের ব্যাটিং দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় শ্রীরাম, ‘ইয়াসিরকে আরও দেখতে চাই। ওর পাওয়ার আছে, যেটা বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলে ঘাটতি আছে। আমার মনে হয়, রাব্বি খুব রোমাঞ্চকর এক সম্ভাবনা।’

মোসাদ্দেক অবশ্য নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন সর্বশেষ এশিয়া কাপে। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাতে নেমে ১৫৪ দশমিক ৮৩ স্ট্রাইকরেটে করা অপরাজিত ৪৮ আর দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২৬৬ দশমিক ৬৬ স্ট্রাইকরেটে অপরাজিত ২৪ রান আশাবাদী করেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। আশাবাদী নাজমুল আবেদীন ফাহিমও। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা বলেছিলেন, ‘ওদের মেধা আছে, সন্দেহ নেই। তবে জয়ের জন্য উন্মুখ থাকা, জিততে মরিয়ে থাকার সংস্কৃতি চর্চা করতে পারলে ওদের জন্য খেলাটা সহজ হবে।’

যে পজিশনে সোহান-মোসাদ্দেক-রাব্বিদের খেলতে হবে, সেখানে কাজটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। এখন সেটা আরও কঠিনই হবে। প্রায় সিনিয়র ক্রিকেটার শূন্য একটা সমন্বয়ে তাঁরা কেমন করে, সেটিই দেখতে চান নাজমুল, ‘দায়িত্ব যখন ওদের কাঁধে পড়বে, তখন তারা কী করবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ওটা এখনো সেভাবে হয়নি। এত দিন দল এক ভাবে খেলছে। দলটা সিনিয়র ক্রিকেটাররাই এগিয়ে নিয়েছে, আশপাশে ছিল বাকিরা। এখন ওদের প্রতিক্রিয়া কিংবা সাড়া কেমন হয়, এটা দেখার বিষয়।’

দেখার প্রথম সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে এ মাসেই, দুবাইয়ে আমিরাতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজে। দেখার সুযোগ থাকছে আগামী মাসে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেও। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আর দেখাদেখি নয়, সেটা কিন্তু শুধুই প্রমাণের মঞ্চ।

Tag :

পঞ্চগড়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দূর্গা পূজা

‘বড় জুতা’য় তাঁদের পা গলানোর চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

একজন তারকা খেলোয়াড়কে সরিয়ে তাঁর ‘উত্তরাধিকার’দের জায়গা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মোটেও সহজ নয়। মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সহজ ছিল না টিম ম্যানেজমেন্ট কিংবা নির্বাচকদের কাছে। মাহমুদউল্লাহর বিকল্প খোঁজার কাজ কয়েক মাস আগেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু যাঁদের তাঁর বিকল্প ভাবা হচ্ছিল, তাঁদের এক সঙ্গে পেতে দেরি হওয়ায় সিদ্ধান্ত এল ঠিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে।

বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরামের উত্তরাধিকার পরিকল্পনায় মাহমুদউল্লাহর ‘বিগ শু বা বড় জুতায়’ পা গলাতে যাচ্ছেন নুরুল হাসান সোহান, ইয়াসির আলী রাব্বি কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। লোয়ার মিডল অর্ডারে তীব্র স্নায়ুচাপ সামলে যাঁদের কাজ দলকে ভালো স্কোর এনে দেওয়া কিংবা জয়ের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া। ছয় কিংবা সাত নম্বর পজিশনে যে দায়িত্বটা লম্বা সময়ে সামলেছেন মাহমুদউল্লাহ। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জায়গাটা যাঁরা নিচ্ছেন, তাঁরা পারবেন আস্থার প্রতিদান দিতে? গত দুই দিনে সংবাদমাধ্যমকে অবশ্য তাঁরা আশার কথাই শুনিয়েছেন। সোহান যেমন বলেছেন, ‘আমরা যারা আছি, আমাদের কাজ হলো এখান থেকে আরও এগিয়ে যাওয়া।’ আর ইয়াসির রাব্বি বলেছেন, ‘আমাদের ওপর অনেক বড় দায়িত্ব আছে। হ্যাঁ, চ্যালেঞ্জ, তবে চাপ নয়।’

সোহান নিজেকে কিছুটা প্রমাণ করেছিলেন গত জুলাইয়ে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৬ বলে তাঁর অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংস ভিন্ন বার্তাই দিয়েছিল। পরে চোটের কারণে আবার একটা বিরতি। চোটে পড়ায় গত তিন মাসে নিজেকে খুব একটা প্রমাণের সুযোগ পাননি রাব্বিও। তবে ২৬ বছর বয়সী ব্যাটারের ব্যাটিং দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় শ্রীরাম, ‘ইয়াসিরকে আরও দেখতে চাই। ওর পাওয়ার আছে, যেটা বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলে ঘাটতি আছে। আমার মনে হয়, রাব্বি খুব রোমাঞ্চকর এক সম্ভাবনা।’

মোসাদ্দেক অবশ্য নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন সর্বশেষ এশিয়া কাপে। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাতে নেমে ১৫৪ দশমিক ৮৩ স্ট্রাইকরেটে করা অপরাজিত ৪৮ আর দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২৬৬ দশমিক ৬৬ স্ট্রাইকরেটে অপরাজিত ২৪ রান আশাবাদী করেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। আশাবাদী নাজমুল আবেদীন ফাহিমও। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা বলেছিলেন, ‘ওদের মেধা আছে, সন্দেহ নেই। তবে জয়ের জন্য উন্মুখ থাকা, জিততে মরিয়ে থাকার সংস্কৃতি চর্চা করতে পারলে ওদের জন্য খেলাটা সহজ হবে।’

যে পজিশনে সোহান-মোসাদ্দেক-রাব্বিদের খেলতে হবে, সেখানে কাজটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। এখন সেটা আরও কঠিনই হবে। প্রায় সিনিয়র ক্রিকেটার শূন্য একটা সমন্বয়ে তাঁরা কেমন করে, সেটিই দেখতে চান নাজমুল, ‘দায়িত্ব যখন ওদের কাঁধে পড়বে, তখন তারা কী করবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ওটা এখনো সেভাবে হয়নি। এত দিন দল এক ভাবে খেলছে। দলটা সিনিয়র ক্রিকেটাররাই এগিয়ে নিয়েছে, আশপাশে ছিল বাকিরা। এখন ওদের প্রতিক্রিয়া কিংবা সাড়া কেমন হয়, এটা দেখার বিষয়।’

দেখার প্রথম সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে এ মাসেই, দুবাইয়ে আমিরাতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজে। দেখার সুযোগ থাকছে আগামী মাসে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেও। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আর দেখাদেখি নয়, সেটা কিন্তু শুধুই প্রমাণের মঞ্চ।