ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চ্যালেঞ্জ একগুচ্ছ, কীভাবে মোকাবেলা করবে ইসি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই ১৯টি উপায়কে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে কমিশন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি এবং ইভিএম পদ্ধতি মানিয়ে নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা নিয়ে সংশয়-অনিশ্চয়তা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপের খসড়ার ওপর অংশীজনদের মতামত নিয়ে তার ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা ঢেলে সাজানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে সব চ্যালেঞ্জ পার হয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ^াস দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমিশন যদি সব রাজনৈতিক দলকে আস্থায় আনতে না পারে, তবে সব আয়োজন ব্যর্থ হবে।

গত মঙ্গলবার আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ (কর্মপরিকল্পনা) ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে ১৪টি চ্যালেঞ্জ দেখছে ইসি। তা মোকবেলায় কমিশন ১৯টি উপায়ও আবিষ্কার করেছে। কমিশন বলছে, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বা রোডম্যাপ ঘোষণার একটাই উদ্দেশ্য, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।

ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে আওয়ামী লীগ বলেছে, নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। অন্যদিকে তার মিত্র কয়েকটি দলের নেতারা বলেছেন, এটা সাধারণ ঘোষণা মাত্র। কিন্তু বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপি বলছে, এ রোডম্যাপ মূল্যহীন। এ ছাড়া দেশের ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এবারের রোডম্যাপে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ইভিএম ইস্যু। শুরু থেকেই ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের বিষয়টি নানান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক ঐকমত্য না হওয়ায় গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুব অল্পসংখ্যক আসনে ইভিএমে ভোট হয়। ইভিএমে বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তকরণের সুবিধা ছিল না। আবার বর্তমানে যে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে ভোটার ভেরিয়েবল অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) সুবিধা নেই। এটাই বিরোধী দলের আপত্তির মূল কারণ বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের অবাধ সুযোগ এই রোডম্যাপে অনিশ্চিত। এর আগে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে। সেখানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। একই ব্যবস্থায় নির্বাচনের জন্য যে রোডম্যাপ বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে, তাতে মনে হচ্ছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আগের দুটি নির্বাচনের মতো আরও একটি নির্বাচন আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে।’

ইভিএম প্রসঙ্গে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটি কারিগরি দিক থেকে দুর্বল একটি যন্ত্র। আর এর নিয়ন্ত্রণ থাকে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের হাতে। তারা চাইলেও ফলাফল বদলে দিতে পারেন। তাই যন্ত্রের ্পরে জনগণের আসস্থা নেই। আর এই ত্রুটি ও দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে কমিশনের অধস্তন কোনো কর্মকর্তা, কারিগরি টিম এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের পক্ষে নির্বাচনে কারসাজি করা সম্ভব।’

যদিও ড. বদিউল আলমের এ বক্তব্য মানতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি পরিষ্কার করতে ইভিএম কেন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার হবে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। তাদের দাবি, ইভিএমে কোনো ধরনের প্রকার জাল-জালিয়াতির সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত কেউ তার প্রমাণ দিতে পারেনি। ব্যালটে ভোট হলে কেন্দ্র দখল করে ভোটের আগে-পরে ইচ্ছামতো বাক্সে ব্যালট ভর্তি করা সম্ভব। কিন্তু ইভিএম ব্যবহারে সে সুযোগ থাকছে না।

অন্যদিকে নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদান অবাধ করতে যা অপরিহার্য তা হচ্ছে লেভেং প্লেয়িং ফিল্ড। অর্থাৎ সব প্রার্থী বা ভোটারের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। ঘোষিত রোডম্যাপে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, ‘যে নামেই নির্বাচনকালীন সরকার হোক, তা স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের স্বপদে থেকে নির্বাচন করার বিষয়টি রহিত করতে হবে।’

ইভিএম নিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিতর্কের মধ্যেই ইভিএম নিয়ে কমিশন চট করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। আবার বলা হচ্ছে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ইভিএমের পক্ষে। যা একধরনের প্রতারণা। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণ কেমন হবে- তা নিয়েও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই এই রোডম্যাপে। কাজেই এই রোডম্যাপ অসম্পূর্ণ ও অবাস্তব এবং অর্থহীন।’

এদিকে নানান আলোচনা-সমলোচনার মধ্যেই গত মঙ্গলবার রোডম্যাপ ঘোষণাকালে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেছেন, ‘আমাদের হাতে এখন অনেক সময় আছে। আশা করি এর মধ্যে সবার আস্থা অর্জন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। এ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নিজেদের জবাবদিহিতা ও বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতাও বাড়বে।’

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব আরও বলেন, ‘আমরা অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন এবং আমরা অনেক আস্থাশীলতার ঘাটতির মধ্যে আছি। আমাদের কর্মকান্ড দিয়ে প্রমাণ দিয়েছি, আমরা কিছুটা হলেও আগে থেকে আস্থা অর্জনে এগিয়ে গেছি।’

কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ইসি ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় দল, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞ, ইভিএম কারিগরি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদসহ নানা অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। সবার মতামত নিয়ে আইন সংস্কার, ইভিএমে ভোটগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা। হালনাগাদ ভোটার তালিকায় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদনও নিচ্ছে।

২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে পরের বছরের জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন শেষ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

Tag :

নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ইতালি

চ্যালেঞ্জ একগুচ্ছ, কীভাবে মোকাবেলা করবে ইসি

প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই ১৯টি উপায়কে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে কমিশন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি এবং ইভিএম পদ্ধতি মানিয়ে নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা নিয়ে সংশয়-অনিশ্চয়তা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপের খসড়ার ওপর অংশীজনদের মতামত নিয়ে তার ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা ঢেলে সাজানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে সব চ্যালেঞ্জ পার হয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ^াস দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমিশন যদি সব রাজনৈতিক দলকে আস্থায় আনতে না পারে, তবে সব আয়োজন ব্যর্থ হবে।

গত মঙ্গলবার আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ (কর্মপরিকল্পনা) ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে ১৪টি চ্যালেঞ্জ দেখছে ইসি। তা মোকবেলায় কমিশন ১৯টি উপায়ও আবিষ্কার করেছে। কমিশন বলছে, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বা রোডম্যাপ ঘোষণার একটাই উদ্দেশ্য, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।

ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে আওয়ামী লীগ বলেছে, নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। অন্যদিকে তার মিত্র কয়েকটি দলের নেতারা বলেছেন, এটা সাধারণ ঘোষণা মাত্র। কিন্তু বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপি বলছে, এ রোডম্যাপ মূল্যহীন। এ ছাড়া দেশের ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এবারের রোডম্যাপে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ইভিএম ইস্যু। শুরু থেকেই ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের বিষয়টি নানান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক ঐকমত্য না হওয়ায় গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুব অল্পসংখ্যক আসনে ইভিএমে ভোট হয়। ইভিএমে বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তকরণের সুবিধা ছিল না। আবার বর্তমানে যে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে ভোটার ভেরিয়েবল অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) সুবিধা নেই। এটাই বিরোধী দলের আপত্তির মূল কারণ বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের অবাধ সুযোগ এই রোডম্যাপে অনিশ্চিত। এর আগে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে। সেখানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। একই ব্যবস্থায় নির্বাচনের জন্য যে রোডম্যাপ বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে, তাতে মনে হচ্ছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আগের দুটি নির্বাচনের মতো আরও একটি নির্বাচন আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে।’

ইভিএম প্রসঙ্গে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটি কারিগরি দিক থেকে দুর্বল একটি যন্ত্র। আর এর নিয়ন্ত্রণ থাকে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের হাতে। তারা চাইলেও ফলাফল বদলে দিতে পারেন। তাই যন্ত্রের ্পরে জনগণের আসস্থা নেই। আর এই ত্রুটি ও দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে কমিশনের অধস্তন কোনো কর্মকর্তা, কারিগরি টিম এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের পক্ষে নির্বাচনে কারসাজি করা সম্ভব।’

যদিও ড. বদিউল আলমের এ বক্তব্য মানতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি পরিষ্কার করতে ইভিএম কেন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার হবে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। তাদের দাবি, ইভিএমে কোনো ধরনের প্রকার জাল-জালিয়াতির সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত কেউ তার প্রমাণ দিতে পারেনি। ব্যালটে ভোট হলে কেন্দ্র দখল করে ভোটের আগে-পরে ইচ্ছামতো বাক্সে ব্যালট ভর্তি করা সম্ভব। কিন্তু ইভিএম ব্যবহারে সে সুযোগ থাকছে না।

অন্যদিকে নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদান অবাধ করতে যা অপরিহার্য তা হচ্ছে লেভেং প্লেয়িং ফিল্ড। অর্থাৎ সব প্রার্থী বা ভোটারের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। ঘোষিত রোডম্যাপে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, ‘যে নামেই নির্বাচনকালীন সরকার হোক, তা স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের স্বপদে থেকে নির্বাচন করার বিষয়টি রহিত করতে হবে।’

ইভিএম নিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিতর্কের মধ্যেই ইভিএম নিয়ে কমিশন চট করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। আবার বলা হচ্ছে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ইভিএমের পক্ষে। যা একধরনের প্রতারণা। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণ কেমন হবে- তা নিয়েও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই এই রোডম্যাপে। কাজেই এই রোডম্যাপ অসম্পূর্ণ ও অবাস্তব এবং অর্থহীন।’

এদিকে নানান আলোচনা-সমলোচনার মধ্যেই গত মঙ্গলবার রোডম্যাপ ঘোষণাকালে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেছেন, ‘আমাদের হাতে এখন অনেক সময় আছে। আশা করি এর মধ্যে সবার আস্থা অর্জন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। এ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নিজেদের জবাবদিহিতা ও বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতাও বাড়বে।’

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব আরও বলেন, ‘আমরা অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন এবং আমরা অনেক আস্থাশীলতার ঘাটতির মধ্যে আছি। আমাদের কর্মকান্ড দিয়ে প্রমাণ দিয়েছি, আমরা কিছুটা হলেও আগে থেকে আস্থা অর্জনে এগিয়ে গেছি।’

কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ইসি ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় দল, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞ, ইভিএম কারিগরি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদসহ নানা অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। সবার মতামত নিয়ে আইন সংস্কার, ইভিএমে ভোটগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা। হালনাগাদ ভোটার তালিকায় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদনও নিচ্ছে।

২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে পরের বছরের জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন শেষ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।