ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ভায়া খানপুরের কার্পেটিং সড়কের বেহাল দশা: ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে সংষ্কার 

কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ একটি বাজার কৃষ্ণনগর। এটি অনেকের কাছে বালিয়াডাংগা বাজার নামেও সর্বাধিক পরিচিত।

 

বাজারটিতে ছোট বড় মিলিয়ে ৫ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লোকের সমাগম ঘটে ঐতিহ্যবাহী এই লম্ফসল বাজারটিতে।

 

উপজেলার বিষ্ণুপুর, দক্ষিন শ্রীপুর, মৌতলার আংশিক এবং পাশ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি, আটুলিয়া সহ আশাশুনি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষের ব্যবসায়ীক ও নিত্যপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম বাজার এটা।

 

তাজা শাক-সবজির জন্য প্রদিদ্ধ বাজারটি হতে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকার সবজি রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা বিপনন করে থাকেন।

 

এ ছাড়া এলাকাটিতে পোল্ট্রি শিল্পের সম্প্রসারণ চোখে পড়ার মত। পোল্ট্রি ফিড পরিবহন ও ডিম মাংস বিপননে মস্ফসল এই এলাকাটির বেশ সু-খ্যাতি রয়েছে।

 

এই বাজারটি কালিগঞ্জ উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উপজেলা সদর হতে কালিগঞ্জ কলেজ হয়ে কুশুলিয়া ভায়া বিষ্ণুপুর এর মধ্য দিয়ে কৃষ্ণনগর বাজার পর্যন্ত যে কার্পেটিং সড়কটি রয়েছে সেটি দীর্ঘদিন যাবত সংষ্কার না হওয়ায় ভারী মালবাহী ট্রাক তো দূরের কথা সাধারণ মানুষের চলাচলেও ঘটছে অহরহ নানান দূর্ঘটনা।

 

বাজারটির সাথে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ সড়কের সহজ যোগাযোগের কারণে শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের খানপুর হতে বালিয়াডাংগা বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা তাদের অধিকাংশ পণ্য সহ ভারী সকল যানবাহন এ পথেই আসা যাওয়া করেন।

 

দীর্ঘদিন যাবত এই সড়কটিও সংষ্কার অভাবে ও কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারনে যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেররা চরম দূর্ভোগ পোহাতে থাকে।

 

বিভিন্ন দপ্তরে ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাঁপে সাম্প্রতিক সময়ে কালিগঞ্জ অংশের কৃষ্ণনগর বাজার হতে চাতরা ব্রিজ পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তা সংষ্কার হলেও রাস্তাটির শ্যামনগর অংশের খানপুর হতে চাতরা ব্রিজ পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তার সংষ্কার তো হয়নি বরং ব্যবসায়ীদের সেচ্ছাশ্রমে কয়েকবার সংষ্কারের পরেও সাম্প্রতিক ভারী বর্ষায় রাস্তাটির খোদাবক্স এর পুকুর এর নিকট ২০ মিটারের মত অংশ সম্পূর্ণ ভেংগে গর্তের মধ্য পড়ে যাওয়ায় ও বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে পন্যবাহী যানবাহন বাজারে পৌঁছানো নিয়ে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

 

বিষয়টি নিয়ে বাজার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অনেক দৌড়ঝাপ করেও কার্যকর কোন উদ্যোগ দেখতে না পেরে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সংষ্কারের মাধ্যমে সাময়িক যানবহন চলাচলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়।

 

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সড়কটির চাতরা ব্রিজ হতে খানপুর পর্যন্ত ৬টি স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভেংগে যাওয়া অংশ ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সংষ্কার করেছেন।

 

বিশিষ্ট পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী মনি সংকার, নূর ইসলাম, উজ্জ্বল অধিকারী, সুতা ব্যবসায়ী খোকন মীর ও সাজাহান কবীর শানু বলেন, তারা প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ ও নিজেরা শ্রমের মাধ্যমে রাস্তাটির খুব খারাপ যায়গা গুলো ইট ও বালু দিয়ে সংষ্কার করেছেন। তবে সে সংষ্কারও বেশিদিন টিকবেনা।

 

 

তাই তারাসহ এলাকাবাসী অতিদ্রুত রাস্তাটির পূর্ণ সংষ্কার করে বৃহৎ এই বাজারটির ব্যবসায়ীক কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা দূর করে কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও আশাশুনী উপজেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জনদূর্ভোগ লাঘব করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

Tag :
জনপ্রিয়

নিরব-আরিয়ানা জামানের ‘স্পর্শ’

কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ভায়া খানপুরের কার্পেটিং সড়কের বেহাল দশা: ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে সংষ্কার 

প্রকাশের সময় : ০৩:১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ একটি বাজার কৃষ্ণনগর। এটি অনেকের কাছে বালিয়াডাংগা বাজার নামেও সর্বাধিক পরিচিত।

 

বাজারটিতে ছোট বড় মিলিয়ে ৫ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লোকের সমাগম ঘটে ঐতিহ্যবাহী এই লম্ফসল বাজারটিতে।

 

উপজেলার বিষ্ণুপুর, দক্ষিন শ্রীপুর, মৌতলার আংশিক এবং পাশ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি, আটুলিয়া সহ আশাশুনি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষের ব্যবসায়ীক ও নিত্যপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম বাজার এটা।

 

তাজা শাক-সবজির জন্য প্রদিদ্ধ বাজারটি হতে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকার সবজি রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা বিপনন করে থাকেন।

 

এ ছাড়া এলাকাটিতে পোল্ট্রি শিল্পের সম্প্রসারণ চোখে পড়ার মত। পোল্ট্রি ফিড পরিবহন ও ডিম মাংস বিপননে মস্ফসল এই এলাকাটির বেশ সু-খ্যাতি রয়েছে।

 

এই বাজারটি কালিগঞ্জ উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উপজেলা সদর হতে কালিগঞ্জ কলেজ হয়ে কুশুলিয়া ভায়া বিষ্ণুপুর এর মধ্য দিয়ে কৃষ্ণনগর বাজার পর্যন্ত যে কার্পেটিং সড়কটি রয়েছে সেটি দীর্ঘদিন যাবত সংষ্কার না হওয়ায় ভারী মালবাহী ট্রাক তো দূরের কথা সাধারণ মানুষের চলাচলেও ঘটছে অহরহ নানান দূর্ঘটনা।

 

বাজারটির সাথে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ সড়কের সহজ যোগাযোগের কারণে শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের খানপুর হতে বালিয়াডাংগা বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা তাদের অধিকাংশ পণ্য সহ ভারী সকল যানবাহন এ পথেই আসা যাওয়া করেন।

 

দীর্ঘদিন যাবত এই সড়কটিও সংষ্কার অভাবে ও কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারনে যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেররা চরম দূর্ভোগ পোহাতে থাকে।

 

বিভিন্ন দপ্তরে ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাঁপে সাম্প্রতিক সময়ে কালিগঞ্জ অংশের কৃষ্ণনগর বাজার হতে চাতরা ব্রিজ পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তা সংষ্কার হলেও রাস্তাটির শ্যামনগর অংশের খানপুর হতে চাতরা ব্রিজ পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তার সংষ্কার তো হয়নি বরং ব্যবসায়ীদের সেচ্ছাশ্রমে কয়েকবার সংষ্কারের পরেও সাম্প্রতিক ভারী বর্ষায় রাস্তাটির খোদাবক্স এর পুকুর এর নিকট ২০ মিটারের মত অংশ সম্পূর্ণ ভেংগে গর্তের মধ্য পড়ে যাওয়ায় ও বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে পন্যবাহী যানবাহন বাজারে পৌঁছানো নিয়ে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

 

বিষয়টি নিয়ে বাজার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অনেক দৌড়ঝাপ করেও কার্যকর কোন উদ্যোগ দেখতে না পেরে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সংষ্কারের মাধ্যমে সাময়িক যানবহন চলাচলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়।

 

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সড়কটির চাতরা ব্রিজ হতে খানপুর পর্যন্ত ৬টি স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভেংগে যাওয়া অংশ ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সংষ্কার করেছেন।

 

বিশিষ্ট পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী মনি সংকার, নূর ইসলাম, উজ্জ্বল অধিকারী, সুতা ব্যবসায়ী খোকন মীর ও সাজাহান কবীর শানু বলেন, তারা প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ ও নিজেরা শ্রমের মাধ্যমে রাস্তাটির খুব খারাপ যায়গা গুলো ইট ও বালু দিয়ে সংষ্কার করেছেন। তবে সে সংষ্কারও বেশিদিন টিকবেনা।

 

 

তাই তারাসহ এলাকাবাসী অতিদ্রুত রাস্তাটির পূর্ণ সংষ্কার করে বৃহৎ এই বাজারটির ব্যবসায়ীক কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা দূর করে কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও আশাশুনী উপজেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জনদূর্ভোগ লাঘব করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।