ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

টেউয়ের তোড়ে কুয়াকাটায় বিলীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জিরো পয়েন্ট থেকে সৈকতের পূর্বদিকে ট্যুরিজম পার্ক পর্যন্ত মাত্র তিনশ মিটার এলাকায় জিও টিউব ও জিও ব্যাগ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি প্রটেকশন দেয়ায় সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে রক্ষা পেয়েছে বালিয়াড়ি। তবে সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত হয়ে আছে। তা রক্ষায় নেয়া হয়নি কোন প্রকল্প।

স্থায়ী কোন উদ্যোগ না নেয়ায় দীর্ঘ সৈকতের জাতীয় উদ্যানসহ ঝাউ বাগান দুই তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে গেছে। কড়ই, নারিকেল, তাল ও সেগুন বাগান এখন আর নেই। সাগর গিলে খেয়েছে। জেলে পল্লীর দুই তৃতীয়াংশ স্থাপনাসহ সাগরে ভেসে গেছে।

উত্তাল ঢেউ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের ব্লকে ঝাপটা দেয়। মাঝিবাড়ি ও মিরা বাড়ি পয়েন্টের এই দশা। অমাবশ্যা ও পূর্ণিমায় অস্বাভাবিক জোয়ারের সৃষ্ট ঢেউ সৈকতের গাছপালা সব উপড়ে ফেলছে। সবশেষ তিনদিন আগের নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সৈকতের দীর্ঘ এলাকার বালিয়াড়ির প্রায় ৩০ ফুট প্রস্থ সাগর গিলে খেয়েছে। সৈকতের পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। জোয়ারের সময় ওয়াকিং জোন থাকে না।

বর্তমানে কুয়াকাটায় সাগরের ভাঙনের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে বেড়িবাঁধের বাইরের ছোট-বড় তিন শতাধিক স্থাপনা। শত শত ক্ষুদে দোকানপাট। অন্তত হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার অবলম্বন এই বেড়িবাঁধের বাইরের সৈকতের বালিযাড়ি। যেখানে দোকানের পসরা সাজিয়ে বেচাকেনা করে।

জেলেদের সংগঠন আশার আলো মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নিজাম শেখ জানান, বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করছে শত শত খুটা জেলেরা। সৈকত রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া না হলে এসব মানুষ হারাবে আবাসস্থল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় স্থায়ী প্রকল্প অনেক আগেই ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো রক্ষায় জরুরি প্রতিরক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

বিয়ের আসরেও ল্যাপটপে অফিসের কাজে ব্যস্ত বর, ছবি ভাইরাল

টেউয়ের তোড়ে কুয়াকাটায় বিলীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল

প্রকাশের সময় : ১১:০৩:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জিরো পয়েন্ট থেকে সৈকতের পূর্বদিকে ট্যুরিজম পার্ক পর্যন্ত মাত্র তিনশ মিটার এলাকায় জিও টিউব ও জিও ব্যাগ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি প্রটেকশন দেয়ায় সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে রক্ষা পেয়েছে বালিয়াড়ি। তবে সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত হয়ে আছে। তা রক্ষায় নেয়া হয়নি কোন প্রকল্প।

স্থায়ী কোন উদ্যোগ না নেয়ায় দীর্ঘ সৈকতের জাতীয় উদ্যানসহ ঝাউ বাগান দুই তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে গেছে। কড়ই, নারিকেল, তাল ও সেগুন বাগান এখন আর নেই। সাগর গিলে খেয়েছে। জেলে পল্লীর দুই তৃতীয়াংশ স্থাপনাসহ সাগরে ভেসে গেছে।

উত্তাল ঢেউ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের ব্লকে ঝাপটা দেয়। মাঝিবাড়ি ও মিরা বাড়ি পয়েন্টের এই দশা। অমাবশ্যা ও পূর্ণিমায় অস্বাভাবিক জোয়ারের সৃষ্ট ঢেউ সৈকতের গাছপালা সব উপড়ে ফেলছে। সবশেষ তিনদিন আগের নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সৈকতের দীর্ঘ এলাকার বালিয়াড়ির প্রায় ৩০ ফুট প্রস্থ সাগর গিলে খেয়েছে। সৈকতের পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। জোয়ারের সময় ওয়াকিং জোন থাকে না।

বর্তমানে কুয়াকাটায় সাগরের ভাঙনের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে বেড়িবাঁধের বাইরের ছোট-বড় তিন শতাধিক স্থাপনা। শত শত ক্ষুদে দোকানপাট। অন্তত হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার অবলম্বন এই বেড়িবাঁধের বাইরের সৈকতের বালিযাড়ি। যেখানে দোকানের পসরা সাজিয়ে বেচাকেনা করে।

জেলেদের সংগঠন আশার আলো মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নিজাম শেখ জানান, বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করছে শত শত খুটা জেলেরা। সৈকত রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া না হলে এসব মানুষ হারাবে আবাসস্থল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় স্থায়ী প্রকল্প অনেক আগেই ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো রক্ষায় জরুরি প্রতিরক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।