ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপেও বাবর-রিজওয়ান জুটিতে ভরসা পাকিস্তানের

রান আসছে, কিন্তু খটকা লাগছে রানের গতিতে। জুটি গড়ে উঠছে, কিন্তু সংশয় জাগছে কার্যকারিতায়। পরিসংখ্যানের পাতায় দারুণ সফল বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের উদ্বোধনী জুটি। কিন্তু ক্রমেই উচ্চকিত হচ্ছে প্রশ্ন, এই জুটির সাফল্যে দলের উপকার হচ্ছে নাকি অপকার? পাকিস্তান দল অবশ্য এই দুজনকে আলাদা করার কথা ভাবতেই পারছে না। বিশ্বকাপেও অটুট থাকবে এই জুটি, জানিয়ে দিলেন প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম।

এমনিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা উদ্বোধনী জুটিগুলোর মধ্যেই রাখা হয় বাবর-রিজওয়ান জুটিকে। স্রেফ ২৯ ইনিংসেই ৫টি শতরানের জুটি তাদের, যা বিশ্বরেকর্ড। ৪৭.৬০ গড়ে জুটিতে রান এসেছে ১ হাজার ৩৩৩।

তবে প্রশ্ন জাগিয়ে তুলছে তাদের রান তোলার গতি। এই জুটির রান রেট ৭.৯৬। টি-টোয়েন্টিতে অন্তত ৫০০ রান তোলার উদ্বোধনী জুটি আছে ৩০টি, বাবর-রিজওয়ান জুটির রান রেট সেই তালিকায় আছে ২৭ নম্বরে!

তাদের রানের গতি নিয়ে মূল অভিযোগের জায়গা পাওয়ার প্লে ও প্রথম ১০ ওভারে। ২০২০ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত পাওয়ার প্লেতে বাবরের স্ট্রাইক রেট ১১৫.৬৮, রিজওয়ানের ১১৫.৯৮। টি-টোয়েন্টিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের জন্য যা ঠিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয় না।

দুজনই শুরু একটু সময় নিয়ে খেলে ইনিংস গড়তে পছন্দ করেন, পরে চেষ্টা করেন পুষিয়ে দিতে। কখনও কখনও তা পারেন ভালোভাবেই। কিন্তু থিতু হওয়ার পর কেউ আউট হয়ে গেলেই দল পড়ে বিপদে।

দুজনের জুটির স্ট্রাইক রেট নিয়ে তাই আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর এই জুটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন অনেকেই। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই বলছেন, দুজনের একজনকে তিনে নামিয়ে আগ্রাসী কাউকে ওপেনিংয়ে তুলে আনতে।

তবে বিশ্বকাপেও সেটি হচ্ছে না, সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম। পাশাপাশি জুটির স্ট্রাইক রেটে উন্নতির আশা দেখালেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান।

“দুজনই অনেক সাফল্য পেয়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। বিশ্বের সেরা উদ্বোধনী জুটি ভাঙা কথা বলছেন আপনারাৃ অথচ এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা এবং পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে ওরা দারুণ ধারাবাহিকতায় রান তুলেছে। ওদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে আপত্তিটা আমি উপলব্ধি করতে পারছি, তবে এখানে উন্নতি দেখতে পারবেন।”

এই জুটি পাকিস্তানের হার ত্বরান্বিত করছে, এমন ভাবনার সঙ্গেও একমত নন ওয়াসিম। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা সাবেক এই ব্যাটসম্যান বললেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পথ ধরেই তারা এগিয়ে চলেছেন।

“সবশেষ ১৩ টি-টোয়েন্টির ৯টি জিতেছি আমরা। বড় দলগুলিকে হারিয়েছি এই পথচলায়। স্রেফ কয়েকটি ম্যাচে ভালো না করায় কাউকে বাতিল করে দেওয়া অন্যায়। এই ছেলেদের নিয়ে আমার কোনো সংশয় নেই, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত প্রায় সবাই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে।”

“যে কারও নাম বলতে পারেন, সাম্প্রতিক সময়ে সবাই পারফর্ম করেছে। গত বিশ্বকাপের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন ভাবনায় রেখে আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছি। পুরো দলটাই আমাদের শক্তি এবং আমি আশাবাদী, এই দল আমাদের ভালো ফল এনে দেবে।”

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

বিশ্বকাপেও বাবর-রিজওয়ান জুটিতে ভরসা পাকিস্তানের

প্রকাশের সময় : ১১:১৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

রান আসছে, কিন্তু খটকা লাগছে রানের গতিতে। জুটি গড়ে উঠছে, কিন্তু সংশয় জাগছে কার্যকারিতায়। পরিসংখ্যানের পাতায় দারুণ সফল বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের উদ্বোধনী জুটি। কিন্তু ক্রমেই উচ্চকিত হচ্ছে প্রশ্ন, এই জুটির সাফল্যে দলের উপকার হচ্ছে নাকি অপকার? পাকিস্তান দল অবশ্য এই দুজনকে আলাদা করার কথা ভাবতেই পারছে না। বিশ্বকাপেও অটুট থাকবে এই জুটি, জানিয়ে দিলেন প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম।

এমনিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা উদ্বোধনী জুটিগুলোর মধ্যেই রাখা হয় বাবর-রিজওয়ান জুটিকে। স্রেফ ২৯ ইনিংসেই ৫টি শতরানের জুটি তাদের, যা বিশ্বরেকর্ড। ৪৭.৬০ গড়ে জুটিতে রান এসেছে ১ হাজার ৩৩৩।

তবে প্রশ্ন জাগিয়ে তুলছে তাদের রান তোলার গতি। এই জুটির রান রেট ৭.৯৬। টি-টোয়েন্টিতে অন্তত ৫০০ রান তোলার উদ্বোধনী জুটি আছে ৩০টি, বাবর-রিজওয়ান জুটির রান রেট সেই তালিকায় আছে ২৭ নম্বরে!

তাদের রানের গতি নিয়ে মূল অভিযোগের জায়গা পাওয়ার প্লে ও প্রথম ১০ ওভারে। ২০২০ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত পাওয়ার প্লেতে বাবরের স্ট্রাইক রেট ১১৫.৬৮, রিজওয়ানের ১১৫.৯৮। টি-টোয়েন্টিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের জন্য যা ঠিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয় না।

দুজনই শুরু একটু সময় নিয়ে খেলে ইনিংস গড়তে পছন্দ করেন, পরে চেষ্টা করেন পুষিয়ে দিতে। কখনও কখনও তা পারেন ভালোভাবেই। কিন্তু থিতু হওয়ার পর কেউ আউট হয়ে গেলেই দল পড়ে বিপদে।

দুজনের জুটির স্ট্রাইক রেট নিয়ে তাই আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর এই জুটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন অনেকেই। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই বলছেন, দুজনের একজনকে তিনে নামিয়ে আগ্রাসী কাউকে ওপেনিংয়ে তুলে আনতে।

তবে বিশ্বকাপেও সেটি হচ্ছে না, সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম। পাশাপাশি জুটির স্ট্রাইক রেটে উন্নতির আশা দেখালেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান।

“দুজনই অনেক সাফল্য পেয়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। বিশ্বের সেরা উদ্বোধনী জুটি ভাঙা কথা বলছেন আপনারাৃ অথচ এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা এবং পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে ওরা দারুণ ধারাবাহিকতায় রান তুলেছে। ওদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে আপত্তিটা আমি উপলব্ধি করতে পারছি, তবে এখানে উন্নতি দেখতে পারবেন।”

এই জুটি পাকিস্তানের হার ত্বরান্বিত করছে, এমন ভাবনার সঙ্গেও একমত নন ওয়াসিম। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা সাবেক এই ব্যাটসম্যান বললেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পথ ধরেই তারা এগিয়ে চলেছেন।

“সবশেষ ১৩ টি-টোয়েন্টির ৯টি জিতেছি আমরা। বড় দলগুলিকে হারিয়েছি এই পথচলায়। স্রেফ কয়েকটি ম্যাচে ভালো না করায় কাউকে বাতিল করে দেওয়া অন্যায়। এই ছেলেদের নিয়ে আমার কোনো সংশয় নেই, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত প্রায় সবাই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে।”

“যে কারও নাম বলতে পারেন, সাম্প্রতিক সময়ে সবাই পারফর্ম করেছে। গত বিশ্বকাপের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন ভাবনায় রেখে আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছি। পুরো দলটাই আমাদের শক্তি এবং আমি আশাবাদী, এই দল আমাদের ভালো ফল এনে দেবে।”