ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পুরনো মামলার পুলিশি কৌশল

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেড় বছরের কম সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনেও এ রকম আভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-এর ডিসেম্বর মাসের শেষে বা ২০২৪-এর জানুয়ারি মাসে সংসদ নির্বাচন হতে পারে।

ইভিএম প্রভৃতি ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন কিছুটা উত্তপ্ত। বিএনপি আন্দোলন জমিয়ে তুলতে মরিয়া। দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। আবার বিএনপির যেকোনো বিশৃঙ্খল উদ্যোগ ঠেকাতে, তাদের প্রতিরোধ করতে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে। দেশের প্রধান দুটি দল মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে কোনো কোনো এলাকায়। তাদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

কোনো কোনো জেলায় নতুন করে মামলা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিএনপি ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো মামলা সক্রিয় করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের হাইকমান্ড পুলিশকে এই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রে বিভিন্ন পক্ষ থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোরও বিভিন্ন পক্ষ আছে। নানা পক্ষের নানা মত। কোনো পক্ষ মনে করছে, পুরনো মামলায় বিএনপিকে ফাঁসানো হবে। কী করে ফাঁসাতে হয় পুলিশের সেই কায়দা জানা আছে। ভালো করেই জানা আছে। পুরনো মামলা ফাঁসানোর একটা ‘অস্ত্র’। আবার কোনা পক্ষ বলছে, ‘বিএনপি নিজের কর্মকান্ডের মাধ্যমে ফেঁসেই আছে। ২০১৩ সালে তাদের কর্মকান্ড তার প্রমাণ। নতুন করে ফাঁসানোর কিছু নেই। মামলাগুলো চাঙা করলেই হবে।’

পুরনো মামলায় যেসব নেতা জামিন নেননি বা যাদের হয়নি অথবা যাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। এই সংক্রান্ত নির্দেশনা সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে। যেসব মামলার অভিযোগপত্র এখনো দেওয়া হয়নি সেসবের অভিযোগপত্র তৈরি করতেও বলা হয়েছে। পুলিশ অবহিত হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা গোপনে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তারা বিএনপিকে শলাপরামর্শ দিচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কারও দ্বারা আক্রান্ত হলেই কেবল পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। যেসব জায়গায় বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছে, সেখানে তাদের বাধা দেয়নি পুলিশ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত যেখানে পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভেবে আক্রমণ করা হচ্ছে সেখানে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও প্রতিরোধ করছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা আইন অনুযায়ীই চলবে। এতে হস্তক্ষেপের ধারণা অমূলক।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সম্প্রতি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে বিএনপি মিছিল-মিটিং করুক তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করা হলে, শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা আইনগতভাবেই শেষ হবে। মামলায় আমাদের কোনো হাত নেই।

রাজনীতি-সংশ্লিষ্টরা জানান, এক যুগের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনা করছে। আর অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতার বাইরে আছে। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশ বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। দলটি জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনও করেছে। এই নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বিএনপির তথ্যনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এক লাখের বেশি মামলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন থানায়। কিছু মামলা হয়েছে আদালতে। মামলায় অন্তত ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং কেন্দ্র্রীয় ও তৃণমূলের সব নেতাই মামলার আসামি। কোনো নেতার নামে আছে একশ’র কাছাকাছি মামলা।

নেতাকর্মীদের কেউ জামিনে আছেন। কেউ আছেন জামিন-ছাড়া। কারও জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যাদের আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার কথা তারা তা করছে না বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে হঠাতে বিএনপি নানা কৌশল করছে, ঘাপটি মেরেও কিছু কাজ করছে তারা। আমাদের কাছে তথ্য আছে, আন্দোলনের নামে দলটি ২০১৩ সালের মতো জ্বালাও-পোড়াও চালাতে পারে। চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আমরা সতর্ক আছি। সরকারের হাইকমান্ডও সতর্ক থাকতে বলেছে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে পুলিশের সব ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জের ডিআইজি এবং জেলার এসপিদের কাছে বেশকিছু নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানাতে বলা হয়েছে। যারা জামিনে আছেন কিন্তু মেয়াদ নেই তাদের তালিকা করা হচ্ছে। চার্জশিটও প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।’

দ্র্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ইভিএম প্রভৃতি ইস্যুতে চলতি বছরের ২২ আগস্ট থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, ঢাকায় বাধাহীন কর্মসূচি পালন করতে পারলেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে, কখনো পুলিশের সঙ্গে তাদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হচ্ছে। সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিও করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, ‘সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত-পরিচয়ে আসামি করা হয়েছে বিভিন্ন্ থানায়। আন্দোলন বেগবান হলে ওই সব মামলায় তাদের আসামি দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছি।’

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কাজ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এটাই স্বাভাবিক। এতে ব্যত্যয়ী কিছু নেই।’

পাঁচ জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দায়ের হওয়া পুরনো মামলার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যেসব মামলার চার্জশিট হয়নি সেগুলোর বিষয়ে বেশি খোঁজ নিচ্ছি আমরা। ওসিদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। অহেতুক কাউকে হয়রান করা হবে না। এই জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের কিছু নির্দেশনা রয়েছে।’ তারা বলেন ‘সরকারের হাইকমান্ডের কাছে তথ্য এসেছে, সংসদ নির্বাচনকে পুঁজি করে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা হতে পারে।’

এই তথ্য পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা একাধিক বৈঠক করেছেন। পুলিশের সব ইউনিট, রেঞ্জ-ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কিছুদিন আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ‘একটি মহল ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কঠোর নজরদারিতে নিতে হবে। যারা নাশকতা করতে পারে তাদের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।’

Tag :

শাকিব-বুবলীর গুঞ্জন উসকে দিচ্ছে যে ছবিগুলো

পুরনো মামলার পুলিশি কৌশল

প্রকাশের সময় : ১০:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেড় বছরের কম সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনেও এ রকম আভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-এর ডিসেম্বর মাসের শেষে বা ২০২৪-এর জানুয়ারি মাসে সংসদ নির্বাচন হতে পারে।

ইভিএম প্রভৃতি ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন কিছুটা উত্তপ্ত। বিএনপি আন্দোলন জমিয়ে তুলতে মরিয়া। দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। আবার বিএনপির যেকোনো বিশৃঙ্খল উদ্যোগ ঠেকাতে, তাদের প্রতিরোধ করতে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে। দেশের প্রধান দুটি দল মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে কোনো কোনো এলাকায়। তাদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

কোনো কোনো জেলায় নতুন করে মামলা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিএনপি ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো মামলা সক্রিয় করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের হাইকমান্ড পুলিশকে এই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রে বিভিন্ন পক্ষ থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোরও বিভিন্ন পক্ষ আছে। নানা পক্ষের নানা মত। কোনো পক্ষ মনে করছে, পুরনো মামলায় বিএনপিকে ফাঁসানো হবে। কী করে ফাঁসাতে হয় পুলিশের সেই কায়দা জানা আছে। ভালো করেই জানা আছে। পুরনো মামলা ফাঁসানোর একটা ‘অস্ত্র’। আবার কোনা পক্ষ বলছে, ‘বিএনপি নিজের কর্মকান্ডের মাধ্যমে ফেঁসেই আছে। ২০১৩ সালে তাদের কর্মকান্ড তার প্রমাণ। নতুন করে ফাঁসানোর কিছু নেই। মামলাগুলো চাঙা করলেই হবে।’

পুরনো মামলায় যেসব নেতা জামিন নেননি বা যাদের হয়নি অথবা যাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। এই সংক্রান্ত নির্দেশনা সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে। যেসব মামলার অভিযোগপত্র এখনো দেওয়া হয়নি সেসবের অভিযোগপত্র তৈরি করতেও বলা হয়েছে। পুলিশ অবহিত হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা গোপনে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তারা বিএনপিকে শলাপরামর্শ দিচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কারও দ্বারা আক্রান্ত হলেই কেবল পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। যেসব জায়গায় বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছে, সেখানে তাদের বাধা দেয়নি পুলিশ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত যেখানে পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভেবে আক্রমণ করা হচ্ছে সেখানে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও প্রতিরোধ করছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা আইন অনুযায়ীই চলবে। এতে হস্তক্ষেপের ধারণা অমূলক।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সম্প্রতি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে বিএনপি মিছিল-মিটিং করুক তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করা হলে, শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা আইনগতভাবেই শেষ হবে। মামলায় আমাদের কোনো হাত নেই।

রাজনীতি-সংশ্লিষ্টরা জানান, এক যুগের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনা করছে। আর অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতার বাইরে আছে। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশ বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। দলটি জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনও করেছে। এই নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বিএনপির তথ্যনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এক লাখের বেশি মামলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন থানায়। কিছু মামলা হয়েছে আদালতে। মামলায় অন্তত ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং কেন্দ্র্রীয় ও তৃণমূলের সব নেতাই মামলার আসামি। কোনো নেতার নামে আছে একশ’র কাছাকাছি মামলা।

নেতাকর্মীদের কেউ জামিনে আছেন। কেউ আছেন জামিন-ছাড়া। কারও জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যাদের আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার কথা তারা তা করছে না বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে হঠাতে বিএনপি নানা কৌশল করছে, ঘাপটি মেরেও কিছু কাজ করছে তারা। আমাদের কাছে তথ্য আছে, আন্দোলনের নামে দলটি ২০১৩ সালের মতো জ্বালাও-পোড়াও চালাতে পারে। চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আমরা সতর্ক আছি। সরকারের হাইকমান্ডও সতর্ক থাকতে বলেছে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে পুলিশের সব ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জের ডিআইজি এবং জেলার এসপিদের কাছে বেশকিছু নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানাতে বলা হয়েছে। যারা জামিনে আছেন কিন্তু মেয়াদ নেই তাদের তালিকা করা হচ্ছে। চার্জশিটও প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।’

দ্র্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ইভিএম প্রভৃতি ইস্যুতে চলতি বছরের ২২ আগস্ট থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, ঢাকায় বাধাহীন কর্মসূচি পালন করতে পারলেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে, কখনো পুলিশের সঙ্গে তাদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হচ্ছে। সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিও করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, ‘সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত-পরিচয়ে আসামি করা হয়েছে বিভিন্ন্ থানায়। আন্দোলন বেগবান হলে ওই সব মামলায় তাদের আসামি দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছি।’

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কাজ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এটাই স্বাভাবিক। এতে ব্যত্যয়ী কিছু নেই।’

পাঁচ জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দায়ের হওয়া পুরনো মামলার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যেসব মামলার চার্জশিট হয়নি সেগুলোর বিষয়ে বেশি খোঁজ নিচ্ছি আমরা। ওসিদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। অহেতুক কাউকে হয়রান করা হবে না। এই জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের কিছু নির্দেশনা রয়েছে।’ তারা বলেন ‘সরকারের হাইকমান্ডের কাছে তথ্য এসেছে, সংসদ নির্বাচনকে পুঁজি করে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা হতে পারে।’

এই তথ্য পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা একাধিক বৈঠক করেছেন। পুলিশের সব ইউনিট, রেঞ্জ-ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কিছুদিন আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ‘একটি মহল ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কঠোর নজরদারিতে নিতে হবে। যারা নাশকতা করতে পারে তাদের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।’