ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডলার নেই খোলাবাজারে

ডলারের সঙ্কট আবার চরমে পৌঁছেছে। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে না কোনো অঙ্কের নগদ ডলার। বাজারে এমন ডলার সঙ্কটের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেটের আভাস পাচ্ছেন। এখনই বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের অন্য সংস্থাগুলোকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

নগদ ডলারের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে খোলাবাজারে। বাড়তি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না আন্তর্জাতিক এই মুদ্রা। মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে গেলেই জিজ্ঞেস করছে কত ডলারে বিক্রি করবেন। কেনার কথা শুনলেই শুরু হয়ে যাচ্ছে আফসোস। কোনো কোনো মানি চেঞ্জারের দরজা একেবারেই বন্ধ।

বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে দেখা যায়, ডলার কেনার ক্ষেত্রে ১০৭ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১০৮.৫০ টাকার সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে অধিকাংশ এক্সচেঞ্জ হাউস। কিন্তু তাদের কাছে কোনো ডলার নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ফকিরাপুলের মনডিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের এক প্রতিনিধি জানান ডলার পাওয়া যাবে, তবে অন্য হাউস থেকে এনে দিতে হবে। এর জন্য গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

সোহেল হোসেন নামে ওই প্রতিনিধি বলেন, ‘আজ আমরা ১১২.৫০ টাকায় ডলার কিনছি এবং বিক্রি করছি ১১৩.৪০ টাকা দরে।’ পল্টনের বায়তুল মোকাররম মার্কেট এবং গুলশানসহ বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১১৪ থেকে ১৬ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো। তবে তার পরিমাণও অতি নগণ্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, ‘আজ আমরা ১০৭ টাকায় কিনছি এবং ১০৮.৫০ টাকায় বিক্রি করছি। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যাতায়াত কমে যাওয়ার কারণে খোলাবাজারে ডলার লেনদেনের অবস্থা খুবই খারাপ। গত এক সপ্তাহ ধরে খোলাবাজারে ডলার কেনাবেচা নেই বললেই চলে।’

যেসব মানি এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে তাদের বিষয়ে সংগঠনের পদক্ষেপ জানতে চাইলে হেলাল বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা পাঁচটি মানি এক্সচেঞ্জকে সতর্ক করেছি। যারা নির্ধারিত রেটের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে তাদের জানিয়েছি এ রকমটা চলতে থাকলে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংগঠনিকভাবে লিখিত অভিযোগ করব। পাশাপাশি সাংগঠনিক কোনো ধরনের সহযোগিতা পাবে না অবৈধ ডলার ব্যবসায়ীরা।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না ডলারের বাজারে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চলমান সঙ্কট কাটাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তাতে সুফল মিলছে না। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশে ডলার কেনার সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলো।

ডলার সঙ্কটের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘ডলার সঙ্কট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখছে। এরপরও কিছু সঙ্কট থেকেই যাচ্ছে। এগুলোও ধীরে ধীরে কেটে যাবে। তবে, এরমধ্যে কেউ যদি অসৎ উদ্দেশ্যে ডলার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে তবে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

গেল রোববার রেমিট্যান্সে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা এবং রফতানি বিল নগদায়নে ৯৯ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়। আর রফতানি বিল নগদায়ন ও রেমিট্যান্সের যে গড় দর দাঁড়াবে, তার সঙ্গে ১ টাকা যোগ করে আমদানি দায় নিষ্পত্তি করবে ব্যাংক। এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করলে রফতানি বিল ও রেমিট্যান্সে দেওয়া গড় দরের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ পয়সা বেশি নেবে।

জানা গেছে, ডলারের দরে ব্যাপক পার্থক্যের ফলে আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন। একই দরে পণ্য আমদানি করলেও শুধু ব্যাংক ভিন্ন হওয়ায় আমদানিকারক ভেদে খরচের বড় তারতম্য হচ্ছে। এ ব্যবধানের ফলে বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র্র্র্র্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক আমদানি দায় নিষ্পত্তিতে প্রতি ডলারে ১০৭.৪৫ টাকা নিয়েছে। অথচ অগ্রণী ব্যাংক নিয়েছে ১০৫.৪০ টাকা। আবার বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়েছে ১০১.৩৭ টাকা। সিটি ব্যাংকে যেখানে আমদানি দায় নিষ্পত্তিতে প্রতি ডলারের দর নেওয়া হয়েছে ১০৭.৫০ টাকা, প্রাইম ব্যাংক নিয়েছে ১০২.৪১ টাকা। ইউসিবিএলের দর ছিল ১০৫.৭৫ টাকা। ইস্টার্ন ব্যাংক ১০৩ টাকা নিলেও ঢাকা ব্যাংক নিয়েছে ১০৫.৭৮ টাকা।

ব্যাংকের ডলার কেনার গড় খরচের ভিত্তিতে এ দর ঠিক করা হয়েছে। গড় দরের ভিত্তিতে আন্তঃব্যাংকে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে। আন্তঃব্যাংকে সর্বনিম্ন ১০২.৩৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০৬.৯০ টাকায় লেনদেন হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে ৯৬ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে।

সাধারণভাবে ব্যাংক ভিন্ন হলেও প্রায় একই রকম দরে পণ্য আমদানির দায় নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। মাঝে কিছুদিন ধরে ব্যাংকভেদে ডলারের দরে পার্থক্য ছিল। এখন রফতানি ও রেমিট্যান্সের ডলারের দরে বড় পার্থক্যের কারণে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। নতুন পদ্ধতির কারণে পণ্য আমদানিতে ভিন্ন ভিন্ন দর হবে। বিশেষ করে রফতানি আয় বেশি থাকা ব্যাংকে ডলারপ্রতি যে দর হবে, রেমিট্যান্স বেশি থাকা ব্যাংকে দর হবে তার চেয়ে অনেক বেশি। আবার আন্তঃব্যাংক থেকে কিনে চাহিদা মেটাতেও অনেক ব্যবধান তৈরি হবে। এসব কারণে রফতানি ও রেমিট্যান্সে ডলারের দর কাছাকাছি রাখা দরকার বলে অভিমত ব্যাংকারদের।

এর আগে মঙ্গলবার দেশের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ডলারে দাম বেড়ে যায়, এর বিপরীতে মান হারায় টাকা। এক লাফে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০৬.১৫ টাকা দরে বিক্রয় করে এবং তাদের ক্রয়মূল্য ছিল ১০১.৬৭ টাকা। যা তার আগের দিন ৯৬ টাকা ডলারের দাম ছিল। ডলারের নতুন দাম এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দর নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাফেদার নির্ধারিত দরে ব্যাংকগুলো নিজেরা লেনদেন করবে এবং সেটি আন্তঃব্যাংক লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের মতো প্রতিদিন ডলার বিক্রি করবে না, তবে প্রয়োজন হলে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করবে। কিন্তু আন্তঃব্যাংকের রেট বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রয়ের রেট হবে না।

Tag :

সেনবাগে কিশোর গ্যাংয়ের ২৩ সদস্য আটক

ডলার নেই খোলাবাজারে

প্রকাশের সময় : ১১:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

ডলারের সঙ্কট আবার চরমে পৌঁছেছে। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে না কোনো অঙ্কের নগদ ডলার। বাজারে এমন ডলার সঙ্কটের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেটের আভাস পাচ্ছেন। এখনই বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের অন্য সংস্থাগুলোকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

নগদ ডলারের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে খোলাবাজারে। বাড়তি দামেও পাওয়া যাচ্ছে না আন্তর্জাতিক এই মুদ্রা। মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে গেলেই জিজ্ঞেস করছে কত ডলারে বিক্রি করবেন। কেনার কথা শুনলেই শুরু হয়ে যাচ্ছে আফসোস। কোনো কোনো মানি চেঞ্জারের দরজা একেবারেই বন্ধ।

বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে দেখা যায়, ডলার কেনার ক্ষেত্রে ১০৭ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১০৮.৫০ টাকার সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে অধিকাংশ এক্সচেঞ্জ হাউস। কিন্তু তাদের কাছে কোনো ডলার নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ফকিরাপুলের মনডিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের এক প্রতিনিধি জানান ডলার পাওয়া যাবে, তবে অন্য হাউস থেকে এনে দিতে হবে। এর জন্য গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

সোহেল হোসেন নামে ওই প্রতিনিধি বলেন, ‘আজ আমরা ১১২.৫০ টাকায় ডলার কিনছি এবং বিক্রি করছি ১১৩.৪০ টাকা দরে।’ পল্টনের বায়তুল মোকাররম মার্কেট এবং গুলশানসহ বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১১৪ থেকে ১৬ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো। তবে তার পরিমাণও অতি নগণ্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, ‘আজ আমরা ১০৭ টাকায় কিনছি এবং ১০৮.৫০ টাকায় বিক্রি করছি। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যাতায়াত কমে যাওয়ার কারণে খোলাবাজারে ডলার লেনদেনের অবস্থা খুবই খারাপ। গত এক সপ্তাহ ধরে খোলাবাজারে ডলার কেনাবেচা নেই বললেই চলে।’

যেসব মানি এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে তাদের বিষয়ে সংগঠনের পদক্ষেপ জানতে চাইলে হেলাল বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা পাঁচটি মানি এক্সচেঞ্জকে সতর্ক করেছি। যারা নির্ধারিত রেটের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে তাদের জানিয়েছি এ রকমটা চলতে থাকলে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংগঠনিকভাবে লিখিত অভিযোগ করব। পাশাপাশি সাংগঠনিক কোনো ধরনের সহযোগিতা পাবে না অবৈধ ডলার ব্যবসায়ীরা।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না ডলারের বাজারে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চলমান সঙ্কট কাটাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তাতে সুফল মিলছে না। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশে ডলার কেনার সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলো।

ডলার সঙ্কটের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘ডলার সঙ্কট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখছে। এরপরও কিছু সঙ্কট থেকেই যাচ্ছে। এগুলোও ধীরে ধীরে কেটে যাবে। তবে, এরমধ্যে কেউ যদি অসৎ উদ্দেশ্যে ডলার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে তবে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

গেল রোববার রেমিট্যান্সে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা এবং রফতানি বিল নগদায়নে ৯৯ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়। আর রফতানি বিল নগদায়ন ও রেমিট্যান্সের যে গড় দর দাঁড়াবে, তার সঙ্গে ১ টাকা যোগ করে আমদানি দায় নিষ্পত্তি করবে ব্যাংক। এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করলে রফতানি বিল ও রেমিট্যান্সে দেওয়া গড় দরের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ পয়সা বেশি নেবে।

জানা গেছে, ডলারের দরে ব্যাপক পার্থক্যের ফলে আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন। একই দরে পণ্য আমদানি করলেও শুধু ব্যাংক ভিন্ন হওয়ায় আমদানিকারক ভেদে খরচের বড় তারতম্য হচ্ছে। এ ব্যবধানের ফলে বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র্র্র্র্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক আমদানি দায় নিষ্পত্তিতে প্রতি ডলারে ১০৭.৪৫ টাকা নিয়েছে। অথচ অগ্রণী ব্যাংক নিয়েছে ১০৫.৪০ টাকা। আবার বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়েছে ১০১.৩৭ টাকা। সিটি ব্যাংকে যেখানে আমদানি দায় নিষ্পত্তিতে প্রতি ডলারের দর নেওয়া হয়েছে ১০৭.৫০ টাকা, প্রাইম ব্যাংক নিয়েছে ১০২.৪১ টাকা। ইউসিবিএলের দর ছিল ১০৫.৭৫ টাকা। ইস্টার্ন ব্যাংক ১০৩ টাকা নিলেও ঢাকা ব্যাংক নিয়েছে ১০৫.৭৮ টাকা।

ব্যাংকের ডলার কেনার গড় খরচের ভিত্তিতে এ দর ঠিক করা হয়েছে। গড় দরের ভিত্তিতে আন্তঃব্যাংকে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে। আন্তঃব্যাংকে সর্বনিম্ন ১০২.৩৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০৬.৯০ টাকায় লেনদেন হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে ৯৬ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে।

সাধারণভাবে ব্যাংক ভিন্ন হলেও প্রায় একই রকম দরে পণ্য আমদানির দায় নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। মাঝে কিছুদিন ধরে ব্যাংকভেদে ডলারের দরে পার্থক্য ছিল। এখন রফতানি ও রেমিট্যান্সের ডলারের দরে বড় পার্থক্যের কারণে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। নতুন পদ্ধতির কারণে পণ্য আমদানিতে ভিন্ন ভিন্ন দর হবে। বিশেষ করে রফতানি আয় বেশি থাকা ব্যাংকে ডলারপ্রতি যে দর হবে, রেমিট্যান্স বেশি থাকা ব্যাংকে দর হবে তার চেয়ে অনেক বেশি। আবার আন্তঃব্যাংক থেকে কিনে চাহিদা মেটাতেও অনেক ব্যবধান তৈরি হবে। এসব কারণে রফতানি ও রেমিট্যান্সে ডলারের দর কাছাকাছি রাখা দরকার বলে অভিমত ব্যাংকারদের।

এর আগে মঙ্গলবার দেশের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ডলারে দাম বেড়ে যায়, এর বিপরীতে মান হারায় টাকা। এক লাফে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০৬.১৫ টাকা দরে বিক্রয় করে এবং তাদের ক্রয়মূল্য ছিল ১০১.৬৭ টাকা। যা তার আগের দিন ৯৬ টাকা ডলারের দাম ছিল। ডলারের নতুন দাম এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দর নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাফেদার নির্ধারিত দরে ব্যাংকগুলো নিজেরা লেনদেন করবে এবং সেটি আন্তঃব্যাংক লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের মতো প্রতিদিন ডলার বিক্রি করবে না, তবে প্রয়োজন হলে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করবে। কিন্তু আন্তঃব্যাংকের রেট বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রয়ের রেট হবে না।