ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চালে চালবাজি ঠেকাতে যে উদ্যোগ নিল সরকার

চালের বাজারে সংকটকে পুঁজি করে কেউ যেন চালবাজি করতে না পারে সেজন্য বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য পাঁচটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই চাল নিয়ে অসাধুচক্র যেন সিন্ডিকেট করতে না পারে সে জন্য বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ অভ্যন্তরীণ সংকট বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় ভারত থেকে এক লাখ মেট্রিক টন, মিয়ানমার থেকে দুই লাখ, ভিয়েতনাম থেকে দুই লাখ ৩০ হাজার, থাইল্যান্ড থেকে দুই লাখ ও কম্বোডিয়া থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মোট পরিমাণ নয় লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে চাল মজুদ আছে ১৬. ৮৯ লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন একজন মানুষের গড়ে ৪৬৩ গ্রাম চাল প্রয়োজন। সে হিসেবে দেশের ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জনের জন্য বছরে ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ১১২ মেট্রিক টন চাল প্রয়োজন। প্রতিদিন প্রয়োজন ২৬ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চাল। এই তথ্য অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে মোট চাল প্রয়োজন ২৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন। সরকারি গুদামে থাকা চাল এবং বছরের বাকি দিনগুলোর চালের চাহিদার হিসাব করলে ঘাটতি থাকে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘাটতি পূরণের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে আমদানি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টনসহ নয় লাখ টন চাল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয় খাদ্য মন্ত্রণালয়কে।

এদিকে সংকটকে কাজে লাগিয়ে চাল সিন্ডিকেট যেন বাজারে বড় ধরনের কারসাজি করতে না পারে সেজন্য একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তৎপরতা শুরু করেছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘চালের মজুদ পর্যাপ্ত করতে চাল আমদানি করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

চালের যেকোনো ধরনের সংকট কাটাতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা তথা চালের রিজার্ভের (মজুদ) বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাজারে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এরই মধ্যে সংকট সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

সম্প্রতি দেশে বোরো সংগ্রহ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরে আমন ধান ঘরে উঠতে শুরু করবে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর- এই তিন মাস বাজারে চালের দাম বাড়ার একটা প্রবণতা থাকে। এই তিন মাসে ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও টিসিবির কার্ডের জন্য সরকারের গুদাম থেকে নয় লাখ টনের ওপরে চাল বের হয়ে যাবে। এই ঘাটতি পূরণে আমদানিতে জোর দিচ্ছে সরকার।

খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করেছে মন্ত্রণালয়। আরও তিন লাখ ৭০ হাজার টন চাল আমদানির চেষ্টা চলছে।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বোরোর ফলন কম হয়েছে। আমনের ফলনেও আশানুরূপ চাল পাওয়া যাবে না। এমনটা ধরে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাল আমদানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি (গভ. টু গভ.) পদ্ধতিতে দুই লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে দুই লাখ টন সেদ্ধ আর ৩০ হাজার টন আতপ চাল। ভিয়েতনাম দুই লাখ টন সেদ্ধ চাল থাইল্যান্ড থেকে কিনে বাংলাদেশে সরবরাহ করবে।

মিয়ানমার থেকেও জিটুজি পদ্ধতিতে দুই লাখ টন আতপ চাল কেনার চুক্তি হয়েছে। ভারত থেকে দুই লাখ টন সেদ্ধ চাল আনার চেষ্টা করলেও আপাতত ১ লাখ টন চাল আসছে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া থাইল্যান্ড থেকে প্রথম দফায় চাল আনা সম্ভব না হলেও দ্বিতীয় দফায় আবারও চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে কম্বোডিয়া। এ দুটি দেশ থেকে দুই লাখ টন করে মোট চার লাখ টন চাল আমদানির চেষ্টা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে ১৭ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে ছয় লাখ ৮৩ হাজার মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে তিন লাখ চার হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়। চলতি বছরের ১১ আগস্ট পর্যন্ত সরকার কোনো চাল আমদানি করেনি। বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে ১৯.২ হাজার মেট্রিক টন।

চালের মজুদ বাড়ানোর বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘চালের বাজারে যে কোনো ধরনের সংকট মোকাবেলায় এবং আগামী দিনগুলোর কথা বিবেচনায় নিয়ে মজুদ পর্যাপ্ত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

চাল সংকটের বিষয়ে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘সারাদেশে সরকারি হিসাবে যে মজুদের কথা বলা হচ্ছে- তার চেয়েও বেশি মজুদ থাকার কথা। তারপরেও কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য সরকার চাল আমদানি করছে।’

সিন্ডিকেট যেন কোনো কারসাজি করতে না পারে সেজন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে বলে মনে করেন গোলাম রহমান। তিনি বলেন, ‘তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আর আপৎকালীন মজুদও পর্যাপ্ত রাখতে হবে।’

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, ‘কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার যে লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।’

Tag :

আবদুল্লা আল মামুন নোয়াখালীর শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক  

চালে চালবাজি ঠেকাতে যে উদ্যোগ নিল সরকার

প্রকাশের সময় : ১১:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

চালের বাজারে সংকটকে পুঁজি করে কেউ যেন চালবাজি করতে না পারে সেজন্য বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য পাঁচটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই চাল নিয়ে অসাধুচক্র যেন সিন্ডিকেট করতে না পারে সে জন্য বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ অভ্যন্তরীণ সংকট বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় ভারত থেকে এক লাখ মেট্রিক টন, মিয়ানমার থেকে দুই লাখ, ভিয়েতনাম থেকে দুই লাখ ৩০ হাজার, থাইল্যান্ড থেকে দুই লাখ ও কম্বোডিয়া থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মোট পরিমাণ নয় লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে চাল মজুদ আছে ১৬. ৮৯ লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন একজন মানুষের গড়ে ৪৬৩ গ্রাম চাল প্রয়োজন। সে হিসেবে দেশের ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জনের জন্য বছরে ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ১১২ মেট্রিক টন চাল প্রয়োজন। প্রতিদিন প্রয়োজন ২৬ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চাল। এই তথ্য অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে মোট চাল প্রয়োজন ২৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন। সরকারি গুদামে থাকা চাল এবং বছরের বাকি দিনগুলোর চালের চাহিদার হিসাব করলে ঘাটতি থাকে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘাটতি পূরণের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে আমদানি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টনসহ নয় লাখ টন চাল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয় খাদ্য মন্ত্রণালয়কে।

এদিকে সংকটকে কাজে লাগিয়ে চাল সিন্ডিকেট যেন বাজারে বড় ধরনের কারসাজি করতে না পারে সেজন্য একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তৎপরতা শুরু করেছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘চালের মজুদ পর্যাপ্ত করতে চাল আমদানি করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

চালের যেকোনো ধরনের সংকট কাটাতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা তথা চালের রিজার্ভের (মজুদ) বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাজারে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এরই মধ্যে সংকট সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

সম্প্রতি দেশে বোরো সংগ্রহ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরে আমন ধান ঘরে উঠতে শুরু করবে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর- এই তিন মাস বাজারে চালের দাম বাড়ার একটা প্রবণতা থাকে। এই তিন মাসে ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও টিসিবির কার্ডের জন্য সরকারের গুদাম থেকে নয় লাখ টনের ওপরে চাল বের হয়ে যাবে। এই ঘাটতি পূরণে আমদানিতে জোর দিচ্ছে সরকার।

খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করেছে মন্ত্রণালয়। আরও তিন লাখ ৭০ হাজার টন চাল আমদানির চেষ্টা চলছে।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বোরোর ফলন কম হয়েছে। আমনের ফলনেও আশানুরূপ চাল পাওয়া যাবে না। এমনটা ধরে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাল আমদানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি (গভ. টু গভ.) পদ্ধতিতে দুই লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে দুই লাখ টন সেদ্ধ আর ৩০ হাজার টন আতপ চাল। ভিয়েতনাম দুই লাখ টন সেদ্ধ চাল থাইল্যান্ড থেকে কিনে বাংলাদেশে সরবরাহ করবে।

মিয়ানমার থেকেও জিটুজি পদ্ধতিতে দুই লাখ টন আতপ চাল কেনার চুক্তি হয়েছে। ভারত থেকে দুই লাখ টন সেদ্ধ চাল আনার চেষ্টা করলেও আপাতত ১ লাখ টন চাল আসছে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া থাইল্যান্ড থেকে প্রথম দফায় চাল আনা সম্ভব না হলেও দ্বিতীয় দফায় আবারও চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে কম্বোডিয়া। এ দুটি দেশ থেকে দুই লাখ টন করে মোট চার লাখ টন চাল আমদানির চেষ্টা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে ১৭ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে ছয় লাখ ৮৩ হাজার মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে তিন লাখ চার হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়। চলতি বছরের ১১ আগস্ট পর্যন্ত সরকার কোনো চাল আমদানি করেনি। বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে ১৯.২ হাজার মেট্রিক টন।

চালের মজুদ বাড়ানোর বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘চালের বাজারে যে কোনো ধরনের সংকট মোকাবেলায় এবং আগামী দিনগুলোর কথা বিবেচনায় নিয়ে মজুদ পর্যাপ্ত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

চাল সংকটের বিষয়ে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘সারাদেশে সরকারি হিসাবে যে মজুদের কথা বলা হচ্ছে- তার চেয়েও বেশি মজুদ থাকার কথা। তারপরেও কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য সরকার চাল আমদানি করছে।’

সিন্ডিকেট যেন কোনো কারসাজি করতে না পারে সেজন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে বলে মনে করেন গোলাম রহমান। তিনি বলেন, ‘তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আর আপৎকালীন মজুদও পর্যাপ্ত রাখতে হবে।’

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, ‘কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার যে লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।’