ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কেমন হওয়া উচিত তরুণ প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনা

ক্যারিয়ার সবারই থাকে, কারো উজ্জ্বল আর কারো অন্ধকার। বর্তমানে বেশির ভাগ তরুণ শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার মানে সরকারি চাকরি, বিসিএস ক্যাডার হওয়া অথবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়াকে ধারণ করে। আসলেই কি তাই? একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই ক্যারিয়ার ভাবনা থাকা উচিত। তবে এর মানে এই নয় যে, তাকে সরকারি চাকরি বা বিসিএস ক্যাডার হতে হবে।

বর্তমানে বেশির ভাগ তরুণ ক্যারিয়ার সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কারণ তারা ক্যারিয়ার পছন্দ করতে ব্যর্থ হয়। কারণ তারা জানে না ক্যারিয়ার পছন্দ কখন কীভাবে করতে হয়। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তাভাবনার জন্য মূলত তিনটি স্তর থাকে।

১. প্রাথমিক ২. মাধ্যমিক ৩. চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্যারিয়ার পছন্দ। প্রথম স্তরের ক্যারিয়ার বলতে নিম্ন মাধ্যমিক শেষ করার পর অর্থাৎ জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরিক্ষা শেষ করার পর প্রাথমিক ক্যারিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় একজন শিক্ষার্থীকে। যেমন সে ভবিষ্যতে কী হতে চায়? ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার? নাকি জেনারেল লাইনের কিছু? সে অনুযায়ী তাকে বিভাগ পছন্দ করতে হয়। তাই ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করার প্রাথমিক স্তর মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখার শুরুতে। এই পর্যায়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর পরিবার ও শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দ্বিতীয় স্তরের ক্যারিয়ার চিন্তা শুরু করতে হয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর যখন একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যায়, যা মাধ্যমিক স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্যারিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই স্তরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যারিয়ার চিন্তার ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষকের মতামত বেশি প্রাধান্য পেলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী নিজের পছন্দের বিষয় নিতে ক্যারিয়ার চিন্তা শুরু করতে পারে। তৃতীয় স্তরের ক্যারিয়ার ভাবনা শুরু করতে হয় আমার মতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা চলাকালীন, যা চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্যারিয়ার চিন্তা বলে আমার মনে হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই স্তরে এসে ক্যারিয়ার চিন্তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। বর্তমানে অনার্স-মাস্টার্স করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকার হয়ে পড়েছে শুধু এই চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্যারিয়ার চিন্তা সঠিকভাবে না করার কারণে। এখন প্রশ্ন? এই স্তরে শিক্ষার্থীদের কী কী বিষয় নিয়ে চিন্তা করা উচিত আর কী কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত? প্রথমত, একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞান অনুসন্ধানে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।

একজন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষণা করে ঠিকই, কিন্তু ওই বিষয় নিয়েই পড়ে থাকলে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো কিছু করতে চাইলে অবশ্যই অনুসন্ধানী বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে জ্ঞানী করে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্বে টিকে থাকার লক্ষ্যে প্রযুক্তিজ্ঞান রাখা আবশ্যক। বিভিন্ন ট্রেনিং সেশনে অংশগ্রহণ করে নিজেকে প্রযুক্তিদক্ষ করে তৈরি করা উচিত। কম্পিউটারে দক্ষতা অর্জন যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক।

তৃতীয়ত, নিজেকে যাচাই করার মনমানসিকতা তৈরি করতে হবে। তার জন্য আপনাকে যাচাইমূলক প্লাটফর্মে যুক্ত হতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্যারিয়ার অলিম্পিয়াডের মতো বড় প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে। যেখানে যুক্ত হয়ে আপনি নিজেকে যেমন যাচাই করতে পারবেন, একই সঙ্গে দক্ষ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক সমাধান পাবেন। এমন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মগুলো বাছাই করে নিজেকে যাচাইয়ের সুযোগ নিতে পারেন। চতুর্থত, বর্তমান প্রতিযোগিতাশীল বিশ্বে নিজেকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে আপনাকে আরও বেশকিছু দিকে নিজেকে দক্ষ গড়ে তুলতে হবে। যেমন-কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানো, নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি, মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা, হাল না ছাড়ার দক্ষতাসহ আরও ভিন্নধর্মী বিভিন্ন কৌশল শিখে নিতে হবে।

যার জন্য প্রয়োজন প্রচেষ্টা আর উদ্যমী। পঞ্চমত, বর্তমানে বেশির তরুণ শিক্ষার্থীই মনে করে থাকে সরকারি চাকরি আর বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই ক্যারিয়ার গঠন হয়ে যায়। সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। হ্যাঁ, সরকারি চাকরি আর বিসিএস ক্যাডার হওয়া ক্যারিয়ার গঠনের অনেক অপশনের মধ্যে একটি, অবশ্যই ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখা উচিত। তার মানে এই নয় যে, ক্যাডার হতেই হবে-এটাই একমাত্র লক্ষ্য।

ষষ্ঠত, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী সায়েন্স নিয়ে পড়ালেখা করেছে বলে সে উদ্যোক্তা হতে পারবে না কিংবা আর্টস নিয়ে পড়ালেখা করেছে বলে বিজনেসম্যান হতে পারবে না, ব্যাপারটা এমন নয়। যেকোনো বিষয় নিয়ে পড়ে আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন। বর্তমান শিল্প বিপ্লবের যুগে এসে শিক্ষার্থীরা শিল্প উদ্যোক্তা হবে বা ব্যবসায়ী হবে এমন চিন্তা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যাবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে উদ্যোক্তা হওয়ার বিকল্প নেই। আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ভাবনায় উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা ১ নম্বরে রাখলেও মন্দ হবে না।

সর্বশেষে বলা যায় লক্ষ্যহীন নৌকা গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। জীবনের মোড়ে মোড়ে আপনার লক্ষ্য পরিবর্তন হতেই পারে, তবে পরিবর্তিত লক্ষ্য পূর্বের লক্ষ্য থেকে উচ্চ হতে হবে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার ভাবনা ভাবা দরকার। ক্যারিয়ার ভাবনায় শতভাগ সফল হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আপনি যখন একটি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবেন, আপনার উদ্দেশ্যই থাকবে সফল হওয়া আর এই সফল হওয়ার প্রবল ইচ্ছাই আপনার ভবিষ্যৎকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ফেনী সরকারি কলেজ

Tag :

মধ্যনগরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৩৩টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ প্রদান করেন, এমপি রতন

কেমন হওয়া উচিত তরুণ প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনা

প্রকাশের সময় : ১০:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

ক্যারিয়ার সবারই থাকে, কারো উজ্জ্বল আর কারো অন্ধকার। বর্তমানে বেশির ভাগ তরুণ শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার মানে সরকারি চাকরি, বিসিএস ক্যাডার হওয়া অথবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়াকে ধারণ করে। আসলেই কি তাই? একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই ক্যারিয়ার ভাবনা থাকা উচিত। তবে এর মানে এই নয় যে, তাকে সরকারি চাকরি বা বিসিএস ক্যাডার হতে হবে।

বর্তমানে বেশির ভাগ তরুণ ক্যারিয়ার সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কারণ তারা ক্যারিয়ার পছন্দ করতে ব্যর্থ হয়। কারণ তারা জানে না ক্যারিয়ার পছন্দ কখন কীভাবে করতে হয়। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তাভাবনার জন্য মূলত তিনটি স্তর থাকে।

১. প্রাথমিক ২. মাধ্যমিক ৩. চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্যারিয়ার পছন্দ। প্রথম স্তরের ক্যারিয়ার বলতে নিম্ন মাধ্যমিক শেষ করার পর অর্থাৎ জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরিক্ষা শেষ করার পর প্রাথমিক ক্যারিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় একজন শিক্ষার্থীকে। যেমন সে ভবিষ্যতে কী হতে চায়? ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার? নাকি জেনারেল লাইনের কিছু? সে অনুযায়ী তাকে বিভাগ পছন্দ করতে হয়। তাই ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করার প্রাথমিক স্তর মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখার শুরুতে। এই পর্যায়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর পরিবার ও শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দ্বিতীয় স্তরের ক্যারিয়ার চিন্তা শুরু করতে হয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর যখন একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যায়, যা মাধ্যমিক স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্যারিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই স্তরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যারিয়ার চিন্তার ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষকের মতামত বেশি প্রাধান্য পেলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী নিজের পছন্দের বিষয় নিতে ক্যারিয়ার চিন্তা শুরু করতে পারে। তৃতীয় স্তরের ক্যারিয়ার ভাবনা শুরু করতে হয় আমার মতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা চলাকালীন, যা চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্যারিয়ার চিন্তা বলে আমার মনে হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই স্তরে এসে ক্যারিয়ার চিন্তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। বর্তমানে অনার্স-মাস্টার্স করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকার হয়ে পড়েছে শুধু এই চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্যারিয়ার চিন্তা সঠিকভাবে না করার কারণে। এখন প্রশ্ন? এই স্তরে শিক্ষার্থীদের কী কী বিষয় নিয়ে চিন্তা করা উচিত আর কী কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত? প্রথমত, একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞান অনুসন্ধানে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।

একজন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষণা করে ঠিকই, কিন্তু ওই বিষয় নিয়েই পড়ে থাকলে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো কিছু করতে চাইলে অবশ্যই অনুসন্ধানী বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে জ্ঞানী করে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্বে টিকে থাকার লক্ষ্যে প্রযুক্তিজ্ঞান রাখা আবশ্যক। বিভিন্ন ট্রেনিং সেশনে অংশগ্রহণ করে নিজেকে প্রযুক্তিদক্ষ করে তৈরি করা উচিত। কম্পিউটারে দক্ষতা অর্জন যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক।

তৃতীয়ত, নিজেকে যাচাই করার মনমানসিকতা তৈরি করতে হবে। তার জন্য আপনাকে যাচাইমূলক প্লাটফর্মে যুক্ত হতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্যারিয়ার অলিম্পিয়াডের মতো বড় প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে। যেখানে যুক্ত হয়ে আপনি নিজেকে যেমন যাচাই করতে পারবেন, একই সঙ্গে দক্ষ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক সমাধান পাবেন। এমন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মগুলো বাছাই করে নিজেকে যাচাইয়ের সুযোগ নিতে পারেন। চতুর্থত, বর্তমান প্রতিযোগিতাশীল বিশ্বে নিজেকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে আপনাকে আরও বেশকিছু দিকে নিজেকে দক্ষ গড়ে তুলতে হবে। যেমন-কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানো, নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি, মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা, হাল না ছাড়ার দক্ষতাসহ আরও ভিন্নধর্মী বিভিন্ন কৌশল শিখে নিতে হবে।

যার জন্য প্রয়োজন প্রচেষ্টা আর উদ্যমী। পঞ্চমত, বর্তমানে বেশির তরুণ শিক্ষার্থীই মনে করে থাকে সরকারি চাকরি আর বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই ক্যারিয়ার গঠন হয়ে যায়। সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। হ্যাঁ, সরকারি চাকরি আর বিসিএস ক্যাডার হওয়া ক্যারিয়ার গঠনের অনেক অপশনের মধ্যে একটি, অবশ্যই ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখা উচিত। তার মানে এই নয় যে, ক্যাডার হতেই হবে-এটাই একমাত্র লক্ষ্য।

ষষ্ঠত, উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী সায়েন্স নিয়ে পড়ালেখা করেছে বলে সে উদ্যোক্তা হতে পারবে না কিংবা আর্টস নিয়ে পড়ালেখা করেছে বলে বিজনেসম্যান হতে পারবে না, ব্যাপারটা এমন নয়। যেকোনো বিষয় নিয়ে পড়ে আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন। বর্তমান শিল্প বিপ্লবের যুগে এসে শিক্ষার্থীরা শিল্প উদ্যোক্তা হবে বা ব্যবসায়ী হবে এমন চিন্তা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যাবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে উদ্যোক্তা হওয়ার বিকল্প নেই। আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ভাবনায় উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা ১ নম্বরে রাখলেও মন্দ হবে না।

সর্বশেষে বলা যায় লক্ষ্যহীন নৌকা গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। জীবনের মোড়ে মোড়ে আপনার লক্ষ্য পরিবর্তন হতেই পারে, তবে পরিবর্তিত লক্ষ্য পূর্বের লক্ষ্য থেকে উচ্চ হতে হবে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার ভাবনা ভাবা দরকার। ক্যারিয়ার ভাবনায় শতভাগ সফল হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আপনি যখন একটি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবেন, আপনার উদ্দেশ্যই থাকবে সফল হওয়া আর এই সফল হওয়ার প্রবল ইচ্ছাই আপনার ভবিষ্যৎকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ফেনী সরকারি কলেজ