ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ক্রমশ উজ্জ্বল সালমা

সেই যে ২০০৬ সালে এনটিভিতে রিয়েলিটি শো ‘ক্লোজআপ- তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ নামের দ্বিতীয় সিরিজের প্রতিযোগিতায় মৌসুমী আক্তার সালমা প্রথম হয়েছিলেন এরপর আর কখনোই প্রথম থেকে দ্বিতীয়তে ছিটকে পড়তে হয়নি তাকে। বরং নিজেকে ক্রমাগত ছাড়িয়ে আজ তিনি এই সময়ের প্রথম সারির কণ্ঠশিল্পী। প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিভা আর নিজের অধ্যবসায় এই দুইয়ের যোগফলে আজ তিনি দেশের ব্যস্ততম কণ্ঠশিল্পী। সেই প্রতিযোগিতার অন্যতম বিচারক প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তাকে নিয়ে বলেছিলেন ‘সে আসলেই একজন প্রাকৃতিক গায়িকা। আমি সব সময় তার কণ্ঠে বাংলাদেশের গন্ধ পাই। আমি কিছুতেই অবাক হইনি তার প্রথম হওয়ার পুরস্কার পাওয়ার পর।’ এ বিষয়ে সোমবার তারার মেলার পক্ষ থেকে এই প্রাকৃতিক প্রতিভা সালমা আক্তারের বর্তমান কাজের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদিনই রেকর্ডিং থাকে। এগুলোর বেশির ভাগই বিভিন্ন কোম্পানির জন্য করা হয়। কিছু নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্যও করি।’

এ দেশে রিয়েলিটি শো’য়ের মাধ্যমে নোলক বাবু, সালমার পর আরও বহু শিল্পী প্রথম, দ্বিতীয় হয়ে এসেছেন। কিন্তু তাদের বেশির ভাগই ঝরে গেছেন। কেউ টিকে থাকলেও নিজের সুনাম পরবর্তী সময়ে ধরে রাখতে পারেননি। সেক্ষেত্রে সালমা ব্যতিক্রম। প্রফেশনাল জীবনে সফল হলেও সালমার অবশ্য ব্যক্তিগত জীবন তেমন কুসুমাস্তীর্ণ নয়। সাংসারিক জীবনে এসেছে নানা জটিলতা। এত কিছুর পরও পথ হারাননি। নিজের পথে আপন মহিমাতেই উদ্ভাসিত থেকেছেন। এ দেশের লোকগীতিতে ফরিদা পারভীন আগে থেকেই বিশিষ্ট ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লোকগীতিতে ন্যাচারাল (সহজাত) শিল্পীর অভাব ছিলই। সালমা আক্তার লালন শাহ ও লোকগানের তীর্থভূমি কুষ্টিয়ার মেয়ে। লোকগানের জন্য উপযোগী কণ্ঠটি পেয়েছেন সেখানকার মাটি ও প্রকৃতি থেকেই। লোকগান গাইতে এলে প্রাকৃতিক কণ্ঠও লাগে। সেই কণ্ঠটিই পাওয়া যায় সালমার গায়কি ঢংয়ে। প্রকৃতি প্রদত্ত এই প্রতিভাবলে এখন তিনি বিরতিহীনভাবে নিত্যনতুন গান রেকর্ডিং করে চলেছেন। পাশাপাশি মাতিয়ে চলেছেন স্টেজ শোও। এই স্টেজ শো সম্পর্কে সালমা বলেন, ‘এখন তো প্রায় প্রতিদিনই শো করছি। যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই দর্শকও প্রচুর হচ্ছে। গানপাগল দর্শক-শ্রোতার মাঝে থাকতে সব সময়েই ভালো লাগে আমার। আমার গান দর্শক-শ্রোতারা কী যে পছন্দ করে সেটা স্টেজে না গেলে বুঝবেন না।’

সালমা আক্তার শুধু লোকগানের জন্যই খ্যাত নয়। আধুনিক, দেশাত্মবোধক সব ধরনের গানই চমৎকারভাবে মানিয়ে যায় তার কণ্ঠে। দর্শক-শ্রোতারা কোন ধরনের গান গাইতে বেশি বলেন এমন প্রশ্নে সালমা বলেন, ‘সব ধরনের গানই গাইতে বলেন। ফোক, আধুনিক- আমাকে সব গানই গাইতে বলেন। শুধু দর্শকের আবদারের গানই নয়, আবার যেসব নতুন-পুরাতন গান নিজে থেকে গাই সে গান শোনেও দর্শক প্রচন্ড প্রাণচঞ্চল হয়ে পড়েন। আমার গাওয়া সব গানই দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এই তো কয়দিন আগে ঢাকার বাইরে এক স্টেজ শো’তে ‘আমি চাইলাম যারে তবে পাইলাম না তারে’ গানটি গাওয়ার সময় দর্শক-শ্রোতারাও গানটির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে নেচে গেয়ে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে।’

কিন্তু একটা কথা এখন বেশি প্রচার পাচ্ছে- বর্তমানের গান আর আগের মতো জনপ্রিয় হচ্ছে না। আলোচিত হচ্ছে না। এমন কথায় সালমা বলেন- ‘আমার সব গানই হিট হয়। অন্যদের কথা বলতে পারব না। কিন্তু আমি দেখি, যে গানই গাই সব গানেই ভীষণ সাড়া পাই। তবে এটা ঠিক এখন আগের মতো বাইরে আসা-যাওয়ার পথে মাইকে, সিডিতে, ক্যাসেট পেস্নয়ারে গান শোনা যায় না- গান এখন সব হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, হেডফোনে, ইউটিউবে চলে এসেছে। সেখানে কে কার গান শুনছে তাতো আলাদাভাবে বোঝার উপায় নেই। কোন গান জনপ্রিয় হচ্ছে সেটাও বোঝার উপায় নেই। এখন ভিউ দেখেই সব আন্দাজ করে নিতে হয়। কিন্তু এই ভিউ দেখেও সেই গান শুনে কতজন বিরক্ত হয়ে সেটা ছেড়ে গেল সেটাও তো বোঝার উপায় নেই।’

সালমা আক্তার তার তৃতীয় স্বামীর সঙ্গে বিবাহিত জীবন গড়ার মধ্য দিয়ে নিজের কাজে ও পরিচয়েও এনেছেন ভিন্নতা। ব্যারিস্টার স্বামী সানাউলস্নাহ নূরের অনুপ্রেরণায় নিজেও পড়াশোনা করছেন আইন বিষয়ে। ফলে এই বিয়ে এবং স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসাটাও অন্যরকম। কাজ করছেন সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নমূলক। গড়েছেন শ্বশুরবাড়ি এলাকা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ছয় একর জায়গা জুড়ে বিনোদনমূলক ইউরোপিয়ান পার্ক।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

ক্রমশ উজ্জ্বল সালমা

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

সেই যে ২০০৬ সালে এনটিভিতে রিয়েলিটি শো ‘ক্লোজআপ- তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ নামের দ্বিতীয় সিরিজের প্রতিযোগিতায় মৌসুমী আক্তার সালমা প্রথম হয়েছিলেন এরপর আর কখনোই প্রথম থেকে দ্বিতীয়তে ছিটকে পড়তে হয়নি তাকে। বরং নিজেকে ক্রমাগত ছাড়িয়ে আজ তিনি এই সময়ের প্রথম সারির কণ্ঠশিল্পী। প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিভা আর নিজের অধ্যবসায় এই দুইয়ের যোগফলে আজ তিনি দেশের ব্যস্ততম কণ্ঠশিল্পী। সেই প্রতিযোগিতার অন্যতম বিচারক প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তাকে নিয়ে বলেছিলেন ‘সে আসলেই একজন প্রাকৃতিক গায়িকা। আমি সব সময় তার কণ্ঠে বাংলাদেশের গন্ধ পাই। আমি কিছুতেই অবাক হইনি তার প্রথম হওয়ার পুরস্কার পাওয়ার পর।’ এ বিষয়ে সোমবার তারার মেলার পক্ষ থেকে এই প্রাকৃতিক প্রতিভা সালমা আক্তারের বর্তমান কাজের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদিনই রেকর্ডিং থাকে। এগুলোর বেশির ভাগই বিভিন্ন কোম্পানির জন্য করা হয়। কিছু নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্যও করি।’

এ দেশে রিয়েলিটি শো’য়ের মাধ্যমে নোলক বাবু, সালমার পর আরও বহু শিল্পী প্রথম, দ্বিতীয় হয়ে এসেছেন। কিন্তু তাদের বেশির ভাগই ঝরে গেছেন। কেউ টিকে থাকলেও নিজের সুনাম পরবর্তী সময়ে ধরে রাখতে পারেননি। সেক্ষেত্রে সালমা ব্যতিক্রম। প্রফেশনাল জীবনে সফল হলেও সালমার অবশ্য ব্যক্তিগত জীবন তেমন কুসুমাস্তীর্ণ নয়। সাংসারিক জীবনে এসেছে নানা জটিলতা। এত কিছুর পরও পথ হারাননি। নিজের পথে আপন মহিমাতেই উদ্ভাসিত থেকেছেন। এ দেশের লোকগীতিতে ফরিদা পারভীন আগে থেকেই বিশিষ্ট ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লোকগীতিতে ন্যাচারাল (সহজাত) শিল্পীর অভাব ছিলই। সালমা আক্তার লালন শাহ ও লোকগানের তীর্থভূমি কুষ্টিয়ার মেয়ে। লোকগানের জন্য উপযোগী কণ্ঠটি পেয়েছেন সেখানকার মাটি ও প্রকৃতি থেকেই। লোকগান গাইতে এলে প্রাকৃতিক কণ্ঠও লাগে। সেই কণ্ঠটিই পাওয়া যায় সালমার গায়কি ঢংয়ে। প্রকৃতি প্রদত্ত এই প্রতিভাবলে এখন তিনি বিরতিহীনভাবে নিত্যনতুন গান রেকর্ডিং করে চলেছেন। পাশাপাশি মাতিয়ে চলেছেন স্টেজ শোও। এই স্টেজ শো সম্পর্কে সালমা বলেন, ‘এখন তো প্রায় প্রতিদিনই শো করছি। যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই দর্শকও প্রচুর হচ্ছে। গানপাগল দর্শক-শ্রোতার মাঝে থাকতে সব সময়েই ভালো লাগে আমার। আমার গান দর্শক-শ্রোতারা কী যে পছন্দ করে সেটা স্টেজে না গেলে বুঝবেন না।’

সালমা আক্তার শুধু লোকগানের জন্যই খ্যাত নয়। আধুনিক, দেশাত্মবোধক সব ধরনের গানই চমৎকারভাবে মানিয়ে যায় তার কণ্ঠে। দর্শক-শ্রোতারা কোন ধরনের গান গাইতে বেশি বলেন এমন প্রশ্নে সালমা বলেন, ‘সব ধরনের গানই গাইতে বলেন। ফোক, আধুনিক- আমাকে সব গানই গাইতে বলেন। শুধু দর্শকের আবদারের গানই নয়, আবার যেসব নতুন-পুরাতন গান নিজে থেকে গাই সে গান শোনেও দর্শক প্রচন্ড প্রাণচঞ্চল হয়ে পড়েন। আমার গাওয়া সব গানই দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এই তো কয়দিন আগে ঢাকার বাইরে এক স্টেজ শো’তে ‘আমি চাইলাম যারে তবে পাইলাম না তারে’ গানটি গাওয়ার সময় দর্শক-শ্রোতারাও গানটির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে নেচে গেয়ে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে।’

কিন্তু একটা কথা এখন বেশি প্রচার পাচ্ছে- বর্তমানের গান আর আগের মতো জনপ্রিয় হচ্ছে না। আলোচিত হচ্ছে না। এমন কথায় সালমা বলেন- ‘আমার সব গানই হিট হয়। অন্যদের কথা বলতে পারব না। কিন্তু আমি দেখি, যে গানই গাই সব গানেই ভীষণ সাড়া পাই। তবে এটা ঠিক এখন আগের মতো বাইরে আসা-যাওয়ার পথে মাইকে, সিডিতে, ক্যাসেট পেস্নয়ারে গান শোনা যায় না- গান এখন সব হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, হেডফোনে, ইউটিউবে চলে এসেছে। সেখানে কে কার গান শুনছে তাতো আলাদাভাবে বোঝার উপায় নেই। কোন গান জনপ্রিয় হচ্ছে সেটাও বোঝার উপায় নেই। এখন ভিউ দেখেই সব আন্দাজ করে নিতে হয়। কিন্তু এই ভিউ দেখেও সেই গান শুনে কতজন বিরক্ত হয়ে সেটা ছেড়ে গেল সেটাও তো বোঝার উপায় নেই।’

সালমা আক্তার তার তৃতীয় স্বামীর সঙ্গে বিবাহিত জীবন গড়ার মধ্য দিয়ে নিজের কাজে ও পরিচয়েও এনেছেন ভিন্নতা। ব্যারিস্টার স্বামী সানাউলস্নাহ নূরের অনুপ্রেরণায় নিজেও পড়াশোনা করছেন আইন বিষয়ে। ফলে এই বিয়ে এবং স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসাটাও অন্যরকম। কাজ করছেন সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নমূলক। গড়েছেন শ্বশুরবাড়ি এলাকা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ছয় একর জায়গা জুড়ে বিনোদনমূলক ইউরোপিয়ান পার্ক।