ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভোটের আগেই উত্তপ্ত হবে মাঠ: বিশেষজ্ঞদের মতামত

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নির্বাচনি রোডম্যাপ কোনো কাজে আসবে না। বরং এতে ভোটের আগে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত হবে বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। এদিকে দলীয় সরকারের অধীনে রোডম্যাপের মাধ্যমে ভালো কিছু হবে না, উপরন্তু ইসির প্রতি ভোটারদের আস্থাহীনতা বাড়বে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও নির্বাচন বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার। বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোডম্যাপ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে এ মন্তব্য করেন তারা।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোডম্যাপের মধ্যে ব্যালট ও ইভিএম দুটোই আছে। এতে ভোটের আগে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্তই হবে বলে মনে হয়। আর কয়েক দিন না গেলে এগুলো ক্লিয়ার হবে না।’ সাবেক এ কমিশনার আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এগুলো মোকাবিলা করা কোনো দিনই সম্ভব নয়। কারণ সরকার ও বিরোধীদল যদি সমঝোতায় না আসে তাহলে শৃঙ্খলায় আসবে না।’

রোডম্যাপ ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতায় অসুস্থতার জন্য অনুপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকেই ঘোষণা করা উচিত ছিল।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটি একটি ব্যর্থ নির্বাচনের রোডম্যাপ মনে হচ্ছে। দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সবগুলো ব্যর্থ নির্বাচন হয়েছে।’ সুজন সম্পাদক বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে দমন-পীড়নের কারণে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ রোডম্যাপের মাধ্যমে ভালো কিছু হবে না বরং ইসির প্রতি আস্থাহীনতা বাড়বে। এখন অস্থার সঙ্কট কাটানোর রোডম্যাপ দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে ১১টি নির্বাচন হয়েছে এর মধ্যে চারটা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, এগুলো ছিল গ্রহণযোগ্য। দুটো হয়েছে একতরফা নির্বাচন যেগুলো কোনো নির্বাচনই নয়, আর পাঁচটা হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে এগুলোই অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল। আগামীতেও দলীয় সরকারের অধীনে একটা ব্যর্থ নির্বাচন হবে। তাই এটা ব্যর্থ নির্বাচনের রোডম্যাপ। রোডম্যাপ দরকার ইভিএম নিয়ে। ইভিএম দিয়ে মানুষের চোখে ধুলা দেওয়া হচ্ছে। বিশিষ্ট নাগরিক ও বিশেষজ্ঞরা ইভিএমের বিপক্ষে বলছেন, এরপরও তারা দেখেও দেখে না, বুঝেও বোঝে না। এগুলোর বিরোধিতা করলেই একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।’

তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, ‘আমি এ রোডম্যাপকে স্বাগত জানাই। কিন্তু দেখতে হবে কাজগুলো ঠিকঠাক মতো হয় কি না। সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলোকে ওভারকাম করতে হবে।’

সাবেক এ কমিশনার বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে হলে ইসিকে ইভিএমের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ইভিএম যদি ব্যর্থ হয় তাহলে মহামুশকিল। জনতাকে থামাবে কী করে? তারপরে আর একটা বিষয় হলো ১৫০ কেন? কেন ১৫০ বা ২০০ নয়? এভাবে করলে তো কোনো প্রিন্সিপাল এলো না। কেন করছে সেটির ব্যাখ্যা দরকার।’

ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হবে ভোটগ্রহণ। আর তফসিল ঘোষণা হবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

Tag :

নোয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের চেক বিতরণ

ভোটের আগেই উত্তপ্ত হবে মাঠ: বিশেষজ্ঞদের মতামত

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নির্বাচনি রোডম্যাপ কোনো কাজে আসবে না। বরং এতে ভোটের আগে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত হবে বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। এদিকে দলীয় সরকারের অধীনে রোডম্যাপের মাধ্যমে ভালো কিছু হবে না, উপরন্তু ইসির প্রতি ভোটারদের আস্থাহীনতা বাড়বে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও নির্বাচন বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার। বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোডম্যাপ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে এ মন্তব্য করেন তারা।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোডম্যাপের মধ্যে ব্যালট ও ইভিএম দুটোই আছে। এতে ভোটের আগে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্তই হবে বলে মনে হয়। আর কয়েক দিন না গেলে এগুলো ক্লিয়ার হবে না।’ সাবেক এ কমিশনার আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এগুলো মোকাবিলা করা কোনো দিনই সম্ভব নয়। কারণ সরকার ও বিরোধীদল যদি সমঝোতায় না আসে তাহলে শৃঙ্খলায় আসবে না।’

রোডম্যাপ ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতায় অসুস্থতার জন্য অনুপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকেই ঘোষণা করা উচিত ছিল।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটি একটি ব্যর্থ নির্বাচনের রোডম্যাপ মনে হচ্ছে। দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সবগুলো ব্যর্থ নির্বাচন হয়েছে।’ সুজন সম্পাদক বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে দমন-পীড়নের কারণে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ রোডম্যাপের মাধ্যমে ভালো কিছু হবে না বরং ইসির প্রতি আস্থাহীনতা বাড়বে। এখন অস্থার সঙ্কট কাটানোর রোডম্যাপ দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে ১১টি নির্বাচন হয়েছে এর মধ্যে চারটা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, এগুলো ছিল গ্রহণযোগ্য। দুটো হয়েছে একতরফা নির্বাচন যেগুলো কোনো নির্বাচনই নয়, আর পাঁচটা হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে এগুলোই অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল। আগামীতেও দলীয় সরকারের অধীনে একটা ব্যর্থ নির্বাচন হবে। তাই এটা ব্যর্থ নির্বাচনের রোডম্যাপ। রোডম্যাপ দরকার ইভিএম নিয়ে। ইভিএম দিয়ে মানুষের চোখে ধুলা দেওয়া হচ্ছে। বিশিষ্ট নাগরিক ও বিশেষজ্ঞরা ইভিএমের বিপক্ষে বলছেন, এরপরও তারা দেখেও দেখে না, বুঝেও বোঝে না। এগুলোর বিরোধিতা করলেই একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।’

তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, ‘আমি এ রোডম্যাপকে স্বাগত জানাই। কিন্তু দেখতে হবে কাজগুলো ঠিকঠাক মতো হয় কি না। সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলোকে ওভারকাম করতে হবে।’

সাবেক এ কমিশনার বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে হলে ইসিকে ইভিএমের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ইভিএম যদি ব্যর্থ হয় তাহলে মহামুশকিল। জনতাকে থামাবে কী করে? তারপরে আর একটা বিষয় হলো ১৫০ কেন? কেন ১৫০ বা ২০০ নয়? এভাবে করলে তো কোনো প্রিন্সিপাল এলো না। কেন করছে সেটির ব্যাখ্যা দরকার।’

ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হবে ভোটগ্রহণ। আর তফসিল ঘোষণা হবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।