ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে বিমানের তেল চুরি!

পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপোকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের বার্মাশীল ও এসও রোড এলাকায় গড়ে উঠেছে চোরাই তেল সিন্ডিকেট চক্র। বিমানের জ্বালানি তেল জেট-ওয়ান, অকটেন, পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেশ ও জিওবি তেল প্রকাশ্যে চুরি করে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার জ্বালানি তেল খোলাবাজারে চুরি করলেও পুলিশ রয়েছে নীরব। এই তেল চুরির ব্যবসা করে বার্মাশীল ও এসও রোড এলাকার অর্ধশত লোক কোটিপতি হয়েছেন। মেঘনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির এজেন্টশিপ নিয়ে এখনো অনেকেই বৈধ ব্যবসার আড়ালে করছে চোরাই তেলের ব্যবসা। এই তেল চুরিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘাত-সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। ডিপো দুটির প্রবেশদ্বার সড়কটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ। সড়কটি পদ্মা ও মেঘনা ডিপোর নিজস্ব। ডিপো থেকে ট্যাংকলরি তেলবোঝাই করে গন্তব্যে যাওয়ার পথে ওই এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ঘুন্টি ঘরের সামনে লরি থামিয়ে অবাধে তেল চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় থানা পুলিশ ঘুন্টি ঘরে বসে চা, পান, সিগারেট পান করে বকশিশ নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

পদ্মা ডিপোর ম্যানেজার আসিফ মালিক জানান, গড়ে দৈনিক ১২ লক্ষাধিক লিটার বিমানের জ্বালানি তেল জেট-ওয়ান সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। এছাড়া এ ডিপো থেকে দৈনিক (শুক্রবার ব্যতীত) ১৪-১৫ লাখ লিটার পেট্রল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেশ ও জেবিও সরবরাহ করা হচ্ছে।

মেঘনা ডিপো থেকে শতাধিক লরি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি লরি থামিয়ে সর্বনিম্ন চারটি (৮০ লিটার) করে দৈনিক আট হাজার লিটার মাসে ২ লাখ ৮০ হাজার লিটার এবং বছরে ২৪ লাখ ৯৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

পদ্মা ডিপো থেকে ১২৭টি ট্যাংকলরির মাধ্যমে বিমানের তেল নিয়ে ডিপো থেকে বের হওয়ার পর ঘুন্টি ঘরের সামনে লরি থামিয়ে প্রতিটি লরি থেকে সর্বনিম্ন চারটি করে (৮০ লিটার) করে তেল চুরি করে বিক্রি করছে। দৈনিক ১০ হাজার ১৬০ লিটার যা বছরে দাঁড়ায় ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ লিটার। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। ডিজেল অকটেন, কেরোসিন, পেট্রল সরবরাহ করছে ১৫০ ট্যাংকলরির মাধ্যমে। প্রতিটি লরি থামিয়ে চারটি (৮০ লিটার) করে (শুক্রবার ব্যতীত) দৈনিক ১২ হাজার লিটার তেল চুরি হচ্ছে, যা বছরে দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার লিটার। ট্যাংকলরি চালকদের তথ্য মতে লরি থেকে চুরি করে তেল বিক্রির বিনিময়ে কুর্মিটোলা ডিপো কর্মকর্তাদের লরিপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ করে টাকা ও তেল পরিমাপককে ৫০০ করে টাকা দিতে হচ্ছে। ওই টাকার বিনিময়ে পথে তেল চুরি করে বিক্রি পরিমাপে কম না দেখিয়ে চালান বুঝে রাখে। কুর্মিটোলা ডিপোতে টাকা না দিলে পরিমাপের সময় তেল শর্ট দেখানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও এসওরোড এলাকার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম (মন্ডল) বলেন, আমিও তেলের ব্যবসা করছি। তবে তা বৈধভাবে। পদ্মা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডিলারশিপের মাধ্যমে। এলাকার অনেকেই মেঘনা ও পদ্মা ডিপো থেকে এজেন্টশিপ নিয়ে বৈধভাবে তেলের ব্যবসা করছেন বলে সাবেক কাউন্সিলর জানান। এরপরও যদি কেউ অবৈধ ব্যবসা করে থাকে তাহলে তা প্রশাসন দেখবে বলে সিরাজুল ইসলাম জানান।

এদিকে মেঘনা ডিপোর ম্যানেজার লুৎফর রহমান বলেন ডিপোতে তেল চুরির কোনো সুযোগ নেই, ডিপোর বাইরে তেল চুরির বিষয়ে বলেন, এটা আমার দেখার বিষয় নয়, থানা পুলিশ দেখবে।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, তেল চুরির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন হচ্ছে অকিলউদ্দিন ভূঁইয়া, শাহজালাল, মো. মাসুম, সাইজুদ্দিন, মেহেদী, ফজলুর রহমান, মনির, রিপন কাজী, আক্তার, মিজান, রহমত, ওয়াশিম, জাহাঙ্গীর, আরমান, বাদল, হাবিব, মিজান, আমির প্রধান, শহিদ, আলম, আসলাম, সাইফুল, শাহজামান, জাহাঙ্গীর, সালাউদ্দিন, জসিম, আলাউদ্দিন, ইকবাল, নুরু, কামাল, মনির, মোবারক, আলমগীর, রাজ্জাক, কালু, শামীম, তানজিল, ইস্রাফিল, বলনুরা, সোহাগ, মনির, রিপন, আলাউদ্দিন, মিন্টু, রবিউল, সজিব, হাসান, আশরাফ, বাচ্চু, হাফেজ, আজিম, আরিফ, সালেহ আহম্মদ, মোক্তার, নূর আলম, আলামিন ভূঁইয়া, শহিদ ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর, শাজাহান, আমির হোসেন প্রধান, কবির ভূঁইয়া রিপন, জুয়েল, জাহাঙ্গীর (২), সায়েদ আলী, মানিক, কাশেম, বুইট্টা ফারুক, জালাল, ফয়সাল, দুইক্ষ্যা বাবুল, অহিদ, মাই¹া শাহিন, নাইম, নাসির, জাহাঙ্গীর, টিটু, আকরাম, আবীর, হিন্দু বাচ্চু, নাছির উদ্দিন, মোস্তান ও রনির আস্তানা। মেঘনা ডিপোকে ঘিরে চোরাই সিন্ডিকেট হচ্ছে ফিরোজ, মনির, বাচ্চু, ইকবাল, ফারুক, কালাম, রিপন, মনির, ওরফে তেল চোর ইকবাল, ল্যাংড়া রবিউল ওরফে লোহা রবিউল, মানিক, মাহাবুব, সিরাজউদ্দিন সিরাজুল, বাচ্চু, রাসেদ মাহাজন, শরীফ, আফজাল, আজিজ, ইবনে সাউদ, নীরব, আলমগীর, স্বপন।

পদ্মা ডিপোর ম্যানেজার আসিফ মালিক জানান, জাহাজ থেকে তেল পরিমাপ করে ডিপোতে ওঠানো হয়, মোট তেলের মধ্যে শূন্য দশমিক ১৭ পারসেন্ট ট্রানজিট লস দেখানো নিয়ম রয়েছে, এর বেশি দেখালে আমরা জাহাজের ভাড়া টাকা থেকে তেলের টাকা কেটে রাখি, ডিপো থেকে তেল চুরির কোনো সুযোগ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডিপো দুটিতে স্থানীয় তেল চোর সিন্ডিকেট চক্র ডিপোর মেইন গেটে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে আঁতাত করে অবাধে ডিপোর মধ্যে অনায়াসে প্রবেশ করছে বিনা বাধায়। এদিকে বার্মাশীল এলাকার ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাহিদ জানায়, পদ্মা ডিপো থেকে বিমানের জ্বালানি তেল কুর্মিটোলা নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তেল পরিমাপ করে রাখে, তেল কম হলে তা লগ বইতে শর্ট লিখে দেয়, লরির ভাড়া টাকা থেকে তা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

জাহিদ স্বীকার করেন অন্যান্য তেল পেট্রল পাম্পে সরবরাহ করার সময় লরি চালকরা পাম্পের লোকদের সঙ্গে আঁতাত করে কিছু তেল চুরি করে নিজের খরচের জন্য। যারা তেল চুরির সঙ্গে জড়িত তারা ডিপোত প্রবেশ করতে গেটে নিরাপত্তারক্ষীদের রেজিস্ট্রার খাতায় তাদের নাম লিপিবদ্ধ করতে হয় না। তেল চুরি সিন্ডিকেটের ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, তেল চুরির ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আবদুল্লা আল মামুন নোয়াখালীর শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক  

নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে বিমানের তেল চুরি!

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপোকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের বার্মাশীল ও এসও রোড এলাকায় গড়ে উঠেছে চোরাই তেল সিন্ডিকেট চক্র। বিমানের জ্বালানি তেল জেট-ওয়ান, অকটেন, পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেশ ও জিওবি তেল প্রকাশ্যে চুরি করে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার জ্বালানি তেল খোলাবাজারে চুরি করলেও পুলিশ রয়েছে নীরব। এই তেল চুরির ব্যবসা করে বার্মাশীল ও এসও রোড এলাকার অর্ধশত লোক কোটিপতি হয়েছেন। মেঘনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির এজেন্টশিপ নিয়ে এখনো অনেকেই বৈধ ব্যবসার আড়ালে করছে চোরাই তেলের ব্যবসা। এই তেল চুরিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘাত-সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। ডিপো দুটির প্রবেশদ্বার সড়কটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ। সড়কটি পদ্মা ও মেঘনা ডিপোর নিজস্ব। ডিপো থেকে ট্যাংকলরি তেলবোঝাই করে গন্তব্যে যাওয়ার পথে ওই এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ঘুন্টি ঘরের সামনে লরি থামিয়ে অবাধে তেল চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় থানা পুলিশ ঘুন্টি ঘরে বসে চা, পান, সিগারেট পান করে বকশিশ নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

পদ্মা ডিপোর ম্যানেজার আসিফ মালিক জানান, গড়ে দৈনিক ১২ লক্ষাধিক লিটার বিমানের জ্বালানি তেল জেট-ওয়ান সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। এছাড়া এ ডিপো থেকে দৈনিক (শুক্রবার ব্যতীত) ১৪-১৫ লাখ লিটার পেট্রল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেশ ও জেবিও সরবরাহ করা হচ্ছে।

মেঘনা ডিপো থেকে শতাধিক লরি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি লরি থামিয়ে সর্বনিম্ন চারটি (৮০ লিটার) করে দৈনিক আট হাজার লিটার মাসে ২ লাখ ৮০ হাজার লিটার এবং বছরে ২৪ লাখ ৯৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

পদ্মা ডিপো থেকে ১২৭টি ট্যাংকলরির মাধ্যমে বিমানের তেল নিয়ে ডিপো থেকে বের হওয়ার পর ঘুন্টি ঘরের সামনে লরি থামিয়ে প্রতিটি লরি থেকে সর্বনিম্ন চারটি করে (৮০ লিটার) করে তেল চুরি করে বিক্রি করছে। দৈনিক ১০ হাজার ১৬০ লিটার যা বছরে দাঁড়ায় ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ লিটার। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। ডিজেল অকটেন, কেরোসিন, পেট্রল সরবরাহ করছে ১৫০ ট্যাংকলরির মাধ্যমে। প্রতিটি লরি থামিয়ে চারটি (৮০ লিটার) করে (শুক্রবার ব্যতীত) দৈনিক ১২ হাজার লিটার তেল চুরি হচ্ছে, যা বছরে দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার লিটার। ট্যাংকলরি চালকদের তথ্য মতে লরি থেকে চুরি করে তেল বিক্রির বিনিময়ে কুর্মিটোলা ডিপো কর্মকর্তাদের লরিপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ করে টাকা ও তেল পরিমাপককে ৫০০ করে টাকা দিতে হচ্ছে। ওই টাকার বিনিময়ে পথে তেল চুরি করে বিক্রি পরিমাপে কম না দেখিয়ে চালান বুঝে রাখে। কুর্মিটোলা ডিপোতে টাকা না দিলে পরিমাপের সময় তেল শর্ট দেখানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও এসওরোড এলাকার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম (মন্ডল) বলেন, আমিও তেলের ব্যবসা করছি। তবে তা বৈধভাবে। পদ্মা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডিলারশিপের মাধ্যমে। এলাকার অনেকেই মেঘনা ও পদ্মা ডিপো থেকে এজেন্টশিপ নিয়ে বৈধভাবে তেলের ব্যবসা করছেন বলে সাবেক কাউন্সিলর জানান। এরপরও যদি কেউ অবৈধ ব্যবসা করে থাকে তাহলে তা প্রশাসন দেখবে বলে সিরাজুল ইসলাম জানান।

এদিকে মেঘনা ডিপোর ম্যানেজার লুৎফর রহমান বলেন ডিপোতে তেল চুরির কোনো সুযোগ নেই, ডিপোর বাইরে তেল চুরির বিষয়ে বলেন, এটা আমার দেখার বিষয় নয়, থানা পুলিশ দেখবে।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, তেল চুরির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন হচ্ছে অকিলউদ্দিন ভূঁইয়া, শাহজালাল, মো. মাসুম, সাইজুদ্দিন, মেহেদী, ফজলুর রহমান, মনির, রিপন কাজী, আক্তার, মিজান, রহমত, ওয়াশিম, জাহাঙ্গীর, আরমান, বাদল, হাবিব, মিজান, আমির প্রধান, শহিদ, আলম, আসলাম, সাইফুল, শাহজামান, জাহাঙ্গীর, সালাউদ্দিন, জসিম, আলাউদ্দিন, ইকবাল, নুরু, কামাল, মনির, মোবারক, আলমগীর, রাজ্জাক, কালু, শামীম, তানজিল, ইস্রাফিল, বলনুরা, সোহাগ, মনির, রিপন, আলাউদ্দিন, মিন্টু, রবিউল, সজিব, হাসান, আশরাফ, বাচ্চু, হাফেজ, আজিম, আরিফ, সালেহ আহম্মদ, মোক্তার, নূর আলম, আলামিন ভূঁইয়া, শহিদ ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর, শাজাহান, আমির হোসেন প্রধান, কবির ভূঁইয়া রিপন, জুয়েল, জাহাঙ্গীর (২), সায়েদ আলী, মানিক, কাশেম, বুইট্টা ফারুক, জালাল, ফয়সাল, দুইক্ষ্যা বাবুল, অহিদ, মাই¹া শাহিন, নাইম, নাসির, জাহাঙ্গীর, টিটু, আকরাম, আবীর, হিন্দু বাচ্চু, নাছির উদ্দিন, মোস্তান ও রনির আস্তানা। মেঘনা ডিপোকে ঘিরে চোরাই সিন্ডিকেট হচ্ছে ফিরোজ, মনির, বাচ্চু, ইকবাল, ফারুক, কালাম, রিপন, মনির, ওরফে তেল চোর ইকবাল, ল্যাংড়া রবিউল ওরফে লোহা রবিউল, মানিক, মাহাবুব, সিরাজউদ্দিন সিরাজুল, বাচ্চু, রাসেদ মাহাজন, শরীফ, আফজাল, আজিজ, ইবনে সাউদ, নীরব, আলমগীর, স্বপন।

পদ্মা ডিপোর ম্যানেজার আসিফ মালিক জানান, জাহাজ থেকে তেল পরিমাপ করে ডিপোতে ওঠানো হয়, মোট তেলের মধ্যে শূন্য দশমিক ১৭ পারসেন্ট ট্রানজিট লস দেখানো নিয়ম রয়েছে, এর বেশি দেখালে আমরা জাহাজের ভাড়া টাকা থেকে তেলের টাকা কেটে রাখি, ডিপো থেকে তেল চুরির কোনো সুযোগ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডিপো দুটিতে স্থানীয় তেল চোর সিন্ডিকেট চক্র ডিপোর মেইন গেটে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে আঁতাত করে অবাধে ডিপোর মধ্যে অনায়াসে প্রবেশ করছে বিনা বাধায়। এদিকে বার্মাশীল এলাকার ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাহিদ জানায়, পদ্মা ডিপো থেকে বিমানের জ্বালানি তেল কুর্মিটোলা নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তেল পরিমাপ করে রাখে, তেল কম হলে তা লগ বইতে শর্ট লিখে দেয়, লরির ভাড়া টাকা থেকে তা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

জাহিদ স্বীকার করেন অন্যান্য তেল পেট্রল পাম্পে সরবরাহ করার সময় লরি চালকরা পাম্পের লোকদের সঙ্গে আঁতাত করে কিছু তেল চুরি করে নিজের খরচের জন্য। যারা তেল চুরির সঙ্গে জড়িত তারা ডিপোত প্রবেশ করতে গেটে নিরাপত্তারক্ষীদের রেজিস্ট্রার খাতায় তাদের নাম লিপিবদ্ধ করতে হয় না। তেল চুরি সিন্ডিকেটের ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, তেল চুরির ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।