ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জেলের হাতে ৩৪ কেজির পোয়া, দাম হাঁকাচ্ছে পাঁচ লাখ

কক্সবাজারের টেকনাফে এক জেলের জালে ৩৪ কেজি ওজনের একটি পোয়া মাছ ধরা পড়েছে। দাম হাঁকানো হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। বুধবার (১৪ আগস্ট) ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে সেন্টমার্টিনের উত্তর-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছটি ধরা পড়ে বলে জানান ইশতিয়াক আহমদ নামে ফিশিং ট্রলারে মাঝি আমিন উল্লাহ।

বুধবার সকালে দিকে ট্রলারটি মিস্ত্রিপাড়া ঘাটে এসে পৌঁছলে স্থানীয়রা পোয়া মাছটি দেখতে ভিড় জমায়। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় স্থানীয়রা মাছটিকে ‘লাল পোয়া’ বলে থাকে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পোয়া মাছের আকর্ষণ হলো পেটের ভেতর থাকা পটকা বা বায়ুথলি। এ বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়। এ কারণেই মাছটির দাম সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাঁকানো হয়েছে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বাজার পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসলামের মালিকানাধীন ইশতিয়াক আহমদ নামে একটি ফিশিং বোট নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান। বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন উত্তর-দক্ষিণে এলাকায় মঙ্গলবার রাতে জাল পাতেন। রাতে পোয়া মাছটি ধরা পড়ে। এটির ওজন ৩৪ কেজি।

ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, মঙ্গলবার সকালের দিকে মাঝি-মাল্লাসহ ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়। রাতে সেন্টমার্টিনের দ্বীপের দক্ষিণে সাগরে জাল ফেলেন জেলেরা। এর মধ্যে বুধবার রাত তিনটার দিকে জেলেরা জাল টেনে দেখেন অন্যান্য মাছসহ বড় একটি ‘পোপা মাছ’ আটকা পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাছটি ট্রলারে তোলার পর আমাকে জানালে দ্রুত ঘাটে চলে আসতে বলি। এই দামি মাছ পেয়ে জেলেরাসহ আমি খুব খুশি।

ইসমাইল জানিয়েছেন, পোপা মাছটি ছাড়াও এ আর-ও অন্যান্য মাছ ধরা পড়েছে। একসঙ্গে সবগুলো মাছের দাম হাঁকানো হয়েছিল সাড়ে ছয় লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। কিন্তু ভালো দামে বিক্রয়ের আশায় মাছটি ফ্রিজিং করে কক্সবাজার শহরে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাগরে ৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধের কারণে মাছ বড় হওয়ার সুযোগ হয়েছে,গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে সে মাছগুলো গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়েছে তাই এত বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

এ মাছের এত দাম কেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, এই পোয়া মাছের ভেতরে যে বিশেষ বেলুনটি রয়েছে তার নাম এয়ার ব্লেজার। এই এয়ার ব্লেজার দিয়ে সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

জেলের হাতে ৩৪ কেজির পোয়া, দাম হাঁকাচ্ছে পাঁচ লাখ

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

কক্সবাজারের টেকনাফে এক জেলের জালে ৩৪ কেজি ওজনের একটি পোয়া মাছ ধরা পড়েছে। দাম হাঁকানো হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। বুধবার (১৪ আগস্ট) ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে সেন্টমার্টিনের উত্তর-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছটি ধরা পড়ে বলে জানান ইশতিয়াক আহমদ নামে ফিশিং ট্রলারে মাঝি আমিন উল্লাহ।

বুধবার সকালে দিকে ট্রলারটি মিস্ত্রিপাড়া ঘাটে এসে পৌঁছলে স্থানীয়রা পোয়া মাছটি দেখতে ভিড় জমায়। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় স্থানীয়রা মাছটিকে ‘লাল পোয়া’ বলে থাকে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পোয়া মাছের আকর্ষণ হলো পেটের ভেতর থাকা পটকা বা বায়ুথলি। এ বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়। এ কারণেই মাছটির দাম সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাঁকানো হয়েছে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বাজার পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসলামের মালিকানাধীন ইশতিয়াক আহমদ নামে একটি ফিশিং বোট নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান। বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন উত্তর-দক্ষিণে এলাকায় মঙ্গলবার রাতে জাল পাতেন। রাতে পোয়া মাছটি ধরা পড়ে। এটির ওজন ৩৪ কেজি।

ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, মঙ্গলবার সকালের দিকে মাঝি-মাল্লাসহ ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়। রাতে সেন্টমার্টিনের দ্বীপের দক্ষিণে সাগরে জাল ফেলেন জেলেরা। এর মধ্যে বুধবার রাত তিনটার দিকে জেলেরা জাল টেনে দেখেন অন্যান্য মাছসহ বড় একটি ‘পোপা মাছ’ আটকা পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাছটি ট্রলারে তোলার পর আমাকে জানালে দ্রুত ঘাটে চলে আসতে বলি। এই দামি মাছ পেয়ে জেলেরাসহ আমি খুব খুশি।

ইসমাইল জানিয়েছেন, পোপা মাছটি ছাড়াও এ আর-ও অন্যান্য মাছ ধরা পড়েছে। একসঙ্গে সবগুলো মাছের দাম হাঁকানো হয়েছিল সাড়ে ছয় লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। কিন্তু ভালো দামে বিক্রয়ের আশায় মাছটি ফ্রিজিং করে কক্সবাজার শহরে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাগরে ৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধের কারণে মাছ বড় হওয়ার সুযোগ হয়েছে,গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে সে মাছগুলো গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়েছে তাই এত বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

এ মাছের এত দাম কেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, এই পোয়া মাছের ভেতরে যে বিশেষ বেলুনটি রয়েছে তার নাম এয়ার ব্লেজার। এই এয়ার ব্লেজার দিয়ে সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়।