ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি বাংলাদেশের যে গ্রামে

বান্দরবান সাইরু রিসোর্টে পরদিন ১২ টায় চেক আউট করি আমারা। আগের দিনের সিএনজি ওয়ালাকে বলে রেখেছিলাম পরেরদিন এই সময়ে এসে আমাদের রুমা, মুনলাইতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কারণ সাইরু রিসোর্ট রাস্তায় পড়ে। সেখানে খালি সিএনজি পাওয়া যায় না।

সাইরু থেকে মুনলাই যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। সিএনজি ভাড়া ২০০০ টাকা। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। বান্দরবানের ভেতরে যেতে বিভিন্ন চেকপোস্টে এন্ট্রি করে যেতে হয়। তাই অবশ্যই সবাই এনআইডি সঙ্গে রাখবেন।

২টায় আমরা পৌঁছে যাই মুনলাইতে। মুনলাই গ্রামকে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিষ্কার গ্রাম বলা হয়। ১৯৮৩ সালে ৩০টি বম পরিবার নিয়ে গড়ে উঠে গ্রামটি। মজার ব্যাপার হলো, এখানে কখনও চুরির ঘটনা ঘটেনি।

গ্রামের কেউ কখনও ঘরে তালা লাগায় না। আমরাও আমাদের রুমে তালা না দিয়েই ব্যাগ লাগেজ রেখে ঘুরে বেড়িয়েছি। একটা জিনিসও এদিক সেদিক হয়নি। ওরা আসলে জানেই না চুরি কী জিনিস।

মুনলাই গ্রামটা বেশ ছোট,গোছালো। সবার বাসা পরিপাটি, বাসার সামনে ফুল গাছ। মুনলাইতে বর্তমানে ৬০টি বম উপজাতি পরিবার বাস করে। সবাই খুব মিশুক এবং বাংলা কথাও জানে। মুনলাইতে গেলে বম উপজাতিদের বাসার সঙ্গে শেয়ার করা টুরিস্টদের জন্য রাখা রুমে থাকতে হবে।

এই রুমগুলো সাধারণ বাঁশের করা। অনেকটা ওরা যেভাবে থাকে তেমনই। তবে গোছালো এবং পরিষ্কার। ওয়াশরুম প্রতি রুমের জন্য আলাদা আছে, কমোড আছে। তবে ওখানে বিলাসবহুল কিছু আশা করা যাবে না। একদম বিশুদ্ধ প্রকৃতি চাইলে অবশ্যই যাওয়া উচিত এখানে।

যাই হোক প্রথম দিন হালকা বৃষ্টি থাকায় আমরা গ্রামটি ঘুরে সেদিন কাটালাম। পরদিন সকালে নাস্তার পরে আমরা একটিভিটিস করতে চলে যাই। টুরিস্ট কার্যক্রম এবং একটিভিটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ বেস ক্যাম্প। ওনাদের প্রতিনিধি মুনলাই পাড়াতে থাকে, ওরা সব দেখাশুনা করে। নিরাপত্তা শতভাগ।

একটিভিটিতে আমরা জিপলাইন এবং কায়াকিং করেছিলাম। ওদের জিপলাইন বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম। আমার ভীষণ মজা লেগেছে। দুবার জিপলাইন করেছি। জিপলাইন জনপ্রতি ৩৫০টাকা এবং কায়াকিং ৩০০টাকা। ওদের আরও কিছু একটিভিটিস আছে। আমরা আর কিছু করি নাই।

মুনলাইতে বেস ক্যাম্পের থাকা, খাওয়া এবং গাইডসহ প্যাকেজ করা। শুধু একটিভিটিস আলাদা। খাবার যথেষ্ট মজার। মাছ বারবিকিউ, ব্যাম্বু চিকেন, শুটকি, সালাদ, ডাল, সবজি ছিল মেন্যুতে। অনেক বেশি খাবার সার্ভ করে। সব ভীষণ ফ্রেশ। সকালের ডিম ভাজি, আলু ভাজি, পরোটা এখনও আমার মুখে লেগে আছে।

আমাদের এক রাত থাকা এবং মোট পাঁচটা খাবার মিল এবং গাইডসহ ৭২০০ পার পারসন ছিল। ডিসকাউন্টে ৬৫০০ করে দিয়েছিল। দুজনের ১৩০০০ টাকা টোটাল। আমার বাবু কমপ্লিমেন্টারি ছিল।

পাহাড়ের মধ্যে সুন্দর একটি গ্রাম। শহর থেকে দূরে একদম পিওর ন্যাচারাল ফিল পাবেন। পরদিন লাঞ্চ সেরে আমরা বান্দরবান শহরের উদ্দেশ্যে রওনা নেই। ওখান থেকে শহরে আসতে ২ থেকে আড়াই সময় লাগে। সিএনজি ভাড়া ২৫০০-৩০০০ টাকা।

বিকেলে শহরে এসে আমরা ৪ ঘণ্টার জন্য নরমাল একটা হোটেল নিয়েছিলাম যেহেতু বাস রাত সাড়ে ৯টায়। এরপর আবার হানিফ ভলভো বাসে আমরা ঢাকায় চলে আসলাম। খুব সুন্দর একটি ভ্রমণ ছিল এটি।

Tag :

ভ্রাম্যমান আদালতে গাঁজা সেবনকারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি বাংলাদেশের যে গ্রামে

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

বান্দরবান সাইরু রিসোর্টে পরদিন ১২ টায় চেক আউট করি আমারা। আগের দিনের সিএনজি ওয়ালাকে বলে রেখেছিলাম পরেরদিন এই সময়ে এসে আমাদের রুমা, মুনলাইতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কারণ সাইরু রিসোর্ট রাস্তায় পড়ে। সেখানে খালি সিএনজি পাওয়া যায় না।

সাইরু থেকে মুনলাই যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। সিএনজি ভাড়া ২০০০ টাকা। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। বান্দরবানের ভেতরে যেতে বিভিন্ন চেকপোস্টে এন্ট্রি করে যেতে হয়। তাই অবশ্যই সবাই এনআইডি সঙ্গে রাখবেন।

২টায় আমরা পৌঁছে যাই মুনলাইতে। মুনলাই গ্রামকে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিষ্কার গ্রাম বলা হয়। ১৯৮৩ সালে ৩০টি বম পরিবার নিয়ে গড়ে উঠে গ্রামটি। মজার ব্যাপার হলো, এখানে কখনও চুরির ঘটনা ঘটেনি।

গ্রামের কেউ কখনও ঘরে তালা লাগায় না। আমরাও আমাদের রুমে তালা না দিয়েই ব্যাগ লাগেজ রেখে ঘুরে বেড়িয়েছি। একটা জিনিসও এদিক সেদিক হয়নি। ওরা আসলে জানেই না চুরি কী জিনিস।

মুনলাই গ্রামটা বেশ ছোট,গোছালো। সবার বাসা পরিপাটি, বাসার সামনে ফুল গাছ। মুনলাইতে বর্তমানে ৬০টি বম উপজাতি পরিবার বাস করে। সবাই খুব মিশুক এবং বাংলা কথাও জানে। মুনলাইতে গেলে বম উপজাতিদের বাসার সঙ্গে শেয়ার করা টুরিস্টদের জন্য রাখা রুমে থাকতে হবে।

এই রুমগুলো সাধারণ বাঁশের করা। অনেকটা ওরা যেভাবে থাকে তেমনই। তবে গোছালো এবং পরিষ্কার। ওয়াশরুম প্রতি রুমের জন্য আলাদা আছে, কমোড আছে। তবে ওখানে বিলাসবহুল কিছু আশা করা যাবে না। একদম বিশুদ্ধ প্রকৃতি চাইলে অবশ্যই যাওয়া উচিত এখানে।

যাই হোক প্রথম দিন হালকা বৃষ্টি থাকায় আমরা গ্রামটি ঘুরে সেদিন কাটালাম। পরদিন সকালে নাস্তার পরে আমরা একটিভিটিস করতে চলে যাই। টুরিস্ট কার্যক্রম এবং একটিভিটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ বেস ক্যাম্প। ওনাদের প্রতিনিধি মুনলাই পাড়াতে থাকে, ওরা সব দেখাশুনা করে। নিরাপত্তা শতভাগ।

একটিভিটিতে আমরা জিপলাইন এবং কায়াকিং করেছিলাম। ওদের জিপলাইন বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম। আমার ভীষণ মজা লেগেছে। দুবার জিপলাইন করেছি। জিপলাইন জনপ্রতি ৩৫০টাকা এবং কায়াকিং ৩০০টাকা। ওদের আরও কিছু একটিভিটিস আছে। আমরা আর কিছু করি নাই।

মুনলাইতে বেস ক্যাম্পের থাকা, খাওয়া এবং গাইডসহ প্যাকেজ করা। শুধু একটিভিটিস আলাদা। খাবার যথেষ্ট মজার। মাছ বারবিকিউ, ব্যাম্বু চিকেন, শুটকি, সালাদ, ডাল, সবজি ছিল মেন্যুতে। অনেক বেশি খাবার সার্ভ করে। সব ভীষণ ফ্রেশ। সকালের ডিম ভাজি, আলু ভাজি, পরোটা এখনও আমার মুখে লেগে আছে।

আমাদের এক রাত থাকা এবং মোট পাঁচটা খাবার মিল এবং গাইডসহ ৭২০০ পার পারসন ছিল। ডিসকাউন্টে ৬৫০০ করে দিয়েছিল। দুজনের ১৩০০০ টাকা টোটাল। আমার বাবু কমপ্লিমেন্টারি ছিল।

পাহাড়ের মধ্যে সুন্দর একটি গ্রাম। শহর থেকে দূরে একদম পিওর ন্যাচারাল ফিল পাবেন। পরদিন লাঞ্চ সেরে আমরা বান্দরবান শহরের উদ্দেশ্যে রওনা নেই। ওখান থেকে শহরে আসতে ২ থেকে আড়াই সময় লাগে। সিএনজি ভাড়া ২৫০০-৩০০০ টাকা।

বিকেলে শহরে এসে আমরা ৪ ঘণ্টার জন্য নরমাল একটা হোটেল নিয়েছিলাম যেহেতু বাস রাত সাড়ে ৯টায়। এরপর আবার হানিফ ভলভো বাসে আমরা ঢাকায় চলে আসলাম। খুব সুন্দর একটি ভ্রমণ ছিল এটি।