ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভতিষ্যৎ নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে সেটা সময়ই বলে দেবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ একটানা ক্ষমতায় আছে বলেই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর একের পর এক ক্যু হলো, স্বৈরশাসক বা তার স্ত্রী ক্ষমতা নিয়ে গেল ক্যান্টনমেন্টে। জনগণের কি আদৌ কোনো অধিকার ছিল তখন? সারারাত কারফিউ, কথা বলার অধিকার নেই। সাদা মাইক্রোবাস হলেই কে কখন গায়েব হয়ে যাচ্ছে তার ঠিক নাই।

তিনি বলেন, এখন টকশো করেন, যে যার মতো কথা বলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে কে এমন সুযোগ পেয়েছে? এখন সব বলার পরও বলে, কথা বলার অধিকার নাই।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভারত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, এখন যারা তত্ত্বাবধায়ক বা ইত্যাদি বলে চিৎকার করছে, তারা ওয়ান ইলেভেনের কথা কি ভুলে গেছে? সেখান থেকে তো অন্তত সবাই মুক্তি পেয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কথা বলার যে অধিকার, চলার অধিকার, সমালোচনার অধিকার, প্রশংসা করা অধিকার, সবই তো পাচ্ছেন। কারো মুখ তো বন্ধ করে রাখছি না। বাধা দিচ্ছি না। মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। সেটা তো স্বীকার করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চৌদ্দ দল করেছি, জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছি। জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করেছে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে একটা সমঝোতা ছিল। নির্বাচনে যারা সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল, তারা থাকবে। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। ভতিষ্যৎ নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো নির্বাচনে নমিনেশনে পরিবর্তন, এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ক্ষেত্রমতে আমরা যাচাই করে দেখব, কার জেতার সম্ভাবনা আছে। এখনও নির্বাচনের এক বছর সময় আছে। সময় যত যাবে, বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। আমাদের সঙ্গে কে থাকবে না থাকবে বা নতুন জোট হবে? হোক, অসুবিধা নেই তো। সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক, এটাই আমরা চাই। কেউ না করলে সেটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত। সেজন্য আমরা তো সংবিধান বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকুক।

এ সময় এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ভুটান, নেপাল, ভারত এবং বাংলাদেশ এই চারটি দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক রয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর এবং বিমানবন্দর তারা ব্যবহার করতে পারবে। ত্রিপুরাকে বলেছি তারা আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। সিলেটে ভারতের যেই অঞ্চল আছে সেখানে বিমানবন্দর ব্যবহার করার সুযোগ আছে। সঙ্গে সঙ্গে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আমরা একটা আঞ্চলিক হাব হিসেবে তৈরি করতে চাচ্ছি। যাতে ভারত, নেপাল ও ভুটান এটা ব্যবহার করতে পারে। সঙ্গে পণ্য পরিবহনে যাতে ট্রানজিট সুবিধা আসে, এটা সহ সার্বিক বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ হবে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে আর ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে নিয়ে আমরা কাজ করছি। সে বিষয়েও একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে। সব দেশই লাভবান হবে। দরজা বন্ধ করে রাখলে তো লাভবান হয় না।

গত ৫ সেপ্টেম্বর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্পর্ক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার রোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। স্মারক সই শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ বিবৃতি দেন। সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ৮ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরেন।

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

ভতিষ্যৎ নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে সেটা সময়ই বলে দেবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রকাশের সময় : ০২:১১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আওয়ামী লীগ একটানা ক্ষমতায় আছে বলেই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর একের পর এক ক্যু হলো, স্বৈরশাসক বা তার স্ত্রী ক্ষমতা নিয়ে গেল ক্যান্টনমেন্টে। জনগণের কি আদৌ কোনো অধিকার ছিল তখন? সারারাত কারফিউ, কথা বলার অধিকার নেই। সাদা মাইক্রোবাস হলেই কে কখন গায়েব হয়ে যাচ্ছে তার ঠিক নাই।

তিনি বলেন, এখন টকশো করেন, যে যার মতো কথা বলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে কে এমন সুযোগ পেয়েছে? এখন সব বলার পরও বলে, কথা বলার অধিকার নাই।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভারত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, এখন যারা তত্ত্বাবধায়ক বা ইত্যাদি বলে চিৎকার করছে, তারা ওয়ান ইলেভেনের কথা কি ভুলে গেছে? সেখান থেকে তো অন্তত সবাই মুক্তি পেয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কথা বলার যে অধিকার, চলার অধিকার, সমালোচনার অধিকার, প্রশংসা করা অধিকার, সবই তো পাচ্ছেন। কারো মুখ তো বন্ধ করে রাখছি না। বাধা দিচ্ছি না। মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। সেটা তো স্বীকার করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চৌদ্দ দল করেছি, জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছি। জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করেছে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে একটা সমঝোতা ছিল। নির্বাচনে যারা সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল, তারা থাকবে। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। ভতিষ্যৎ নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো নির্বাচনে নমিনেশনে পরিবর্তন, এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ক্ষেত্রমতে আমরা যাচাই করে দেখব, কার জেতার সম্ভাবনা আছে। এখনও নির্বাচনের এক বছর সময় আছে। সময় যত যাবে, বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। আমাদের সঙ্গে কে থাকবে না থাকবে বা নতুন জোট হবে? হোক, অসুবিধা নেই তো। সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক, এটাই আমরা চাই। কেউ না করলে সেটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত। সেজন্য আমরা তো সংবিধান বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকুক।

এ সময় এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ভুটান, নেপাল, ভারত এবং বাংলাদেশ এই চারটি দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক রয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর এবং বিমানবন্দর তারা ব্যবহার করতে পারবে। ত্রিপুরাকে বলেছি তারা আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। সিলেটে ভারতের যেই অঞ্চল আছে সেখানে বিমানবন্দর ব্যবহার করার সুযোগ আছে। সঙ্গে সঙ্গে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আমরা একটা আঞ্চলিক হাব হিসেবে তৈরি করতে চাচ্ছি। যাতে ভারত, নেপাল ও ভুটান এটা ব্যবহার করতে পারে। সঙ্গে পণ্য পরিবহনে যাতে ট্রানজিট সুবিধা আসে, এটা সহ সার্বিক বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ হবে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে আর ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে নিয়ে আমরা কাজ করছি। সে বিষয়েও একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে। সব দেশই লাভবান হবে। দরজা বন্ধ করে রাখলে তো লাভবান হয় না।

গত ৫ সেপ্টেম্বর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্পর্ক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার রোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। স্মারক সই শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ বিবৃতি দেন। সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ৮ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরেন।