ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চালের বাজারে ফের সক্রিয় পুরনো সিন্ডিকেট

কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর আবার অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। দেশে নতুন করে চালের দাম বাড়িয়েছেন মিলাররা। পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিলারদের পুরনো সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়াতে ভাঙা চাল (খুদ) রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। সেই সঙ্গে বাসমতি ও সিদ্ধ চাল ছাড়া অন্য চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে দেশটি। মূলত আতপ চাল রপ্তানিতে এই শুল্ক বসিয়েছে ভারত। অথচ দেশের বাজারে সব চালের দামই বাড়িয়ে দিয়েছেন মিলাররা। এদিকে সচিবালয়ে এক সংলাপে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চাল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা চলছে। অস্থির ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কারসাজি মোকাবিলা করা হবে।

গেল দুই সপ্তাহ নিম্নমুখী ছিল চালের বাজার। ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি দাম কমেছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এবার ভারতের নতুন শুল্ক আরোপের খবরে বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী। কৃত্রিম সংকট ও কারসাজিতে চিহ্নিত কয়েকজন মিলার কলকাঠি নাড়ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের পাইকাররা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে চালের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়তে মাঝারি মানের সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বাজারে ১০-১৫ ধরনের আতপ চালের চাহিদা বেশি। ভারত থেকে আমদানি হয় শুধু বেতি আতপ চাল, এর চাহিদাও কম। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, এক চালের শুল্কে সব চালের দাম বাড়ছে কেন?

পাইকারদের দাবি, এলসি থেকে শুরু করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও বগুড়ার ৮ থেকে ১০ জন মিল মালিক। তারাই দাম বাড়ানোর কলকাঠি নাড়ছেন।

বগুড়ার কেএন রাইস মিল অ্যান্ড এজেন্সির মালিক আবু কালাম আজাদ বলেন, ‘গত ৭ দিনে সব ধরনের চালে মণপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বেড়েছে। ভারত থেকে রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে এই দাম বৃদ্ধি।’

বগুড়া জেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমদানি কম হচ্ছে। কেজিপ্রতি চালের দাম ১ টাকা করে বেড়েছে। চাল আরো বেশি আমদানি করা উচিত। তা না হলে চালের বাজার আরো বাড়তে পারে।’

শাহ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সরকারিভাবে ওএমএস ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কম দামে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু চাল উত্তোলন ও বণ্টন সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তার মনিটরিং নেই। এছাড়া অধিকাংশ মানুষ এ চাল খায় না। যে কারণে চালগুলো গুদামেই ফিরে যাচ্ছে। এ কারণে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পরিকল্পনা কার্যকর হচ্ছে না।’

সরকার যদি মিলারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দামে মাঝারি মানের বা চিকন চাল কেনে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান যদি সরকার নিজেই মজুদ করে, তাহলে সংকটের সময় তা বাজারে ছেড়ে দিয়ে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতির যেমন স্থিরতা নেই, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদেরও স্থিরতা নেই। অস্থির ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কারসাজি মোকাবিলা করব।’ চাল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটও ভাঙার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বাজারে চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত। কিন্তু সম্প্রতি ভারত চাল রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর থেকেই দেশে নতুন করে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিসহ সার্বিক বিবেচনায় চালের দাম বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।’

Tag :
জনপ্রিয়

গোমস্তাপুরে অধ্যক্ষের অফিস ভাংচুর আহত-৪

চালের বাজারে ফের সক্রিয় পুরনো সিন্ডিকেট

প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর আবার অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। দেশে নতুন করে চালের দাম বাড়িয়েছেন মিলাররা। পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিলারদের পুরনো সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়াতে ভাঙা চাল (খুদ) রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। সেই সঙ্গে বাসমতি ও সিদ্ধ চাল ছাড়া অন্য চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে দেশটি। মূলত আতপ চাল রপ্তানিতে এই শুল্ক বসিয়েছে ভারত। অথচ দেশের বাজারে সব চালের দামই বাড়িয়ে দিয়েছেন মিলাররা। এদিকে সচিবালয়ে এক সংলাপে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চাল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা চলছে। অস্থির ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কারসাজি মোকাবিলা করা হবে।

গেল দুই সপ্তাহ নিম্নমুখী ছিল চালের বাজার। ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি দাম কমেছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এবার ভারতের নতুন শুল্ক আরোপের খবরে বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী। কৃত্রিম সংকট ও কারসাজিতে চিহ্নিত কয়েকজন মিলার কলকাঠি নাড়ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের পাইকাররা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে চালের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়তে মাঝারি মানের সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বাজারে ১০-১৫ ধরনের আতপ চালের চাহিদা বেশি। ভারত থেকে আমদানি হয় শুধু বেতি আতপ চাল, এর চাহিদাও কম। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, এক চালের শুল্কে সব চালের দাম বাড়ছে কেন?

পাইকারদের দাবি, এলসি থেকে শুরু করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও বগুড়ার ৮ থেকে ১০ জন মিল মালিক। তারাই দাম বাড়ানোর কলকাঠি নাড়ছেন।

বগুড়ার কেএন রাইস মিল অ্যান্ড এজেন্সির মালিক আবু কালাম আজাদ বলেন, ‘গত ৭ দিনে সব ধরনের চালে মণপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বেড়েছে। ভারত থেকে রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে এই দাম বৃদ্ধি।’

বগুড়া জেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমদানি কম হচ্ছে। কেজিপ্রতি চালের দাম ১ টাকা করে বেড়েছে। চাল আরো বেশি আমদানি করা উচিত। তা না হলে চালের বাজার আরো বাড়তে পারে।’

শাহ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সরকারিভাবে ওএমএস ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কম দামে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু চাল উত্তোলন ও বণ্টন সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তার মনিটরিং নেই। এছাড়া অধিকাংশ মানুষ এ চাল খায় না। যে কারণে চালগুলো গুদামেই ফিরে যাচ্ছে। এ কারণে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পরিকল্পনা কার্যকর হচ্ছে না।’

সরকার যদি মিলারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দামে মাঝারি মানের বা চিকন চাল কেনে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান যদি সরকার নিজেই মজুদ করে, তাহলে সংকটের সময় তা বাজারে ছেড়ে দিয়ে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতির যেমন স্থিরতা নেই, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদেরও স্থিরতা নেই। অস্থির ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কারসাজি মোকাবিলা করব।’ চাল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটও ভাঙার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বাজারে চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত। কিন্তু সম্প্রতি ভারত চাল রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর থেকেই দেশে নতুন করে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিসহ সার্বিক বিবেচনায় চালের দাম বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।’