ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কোন পথে জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এরশাদপত্নী রওশন এরশাদকে ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে দলে। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে তার দ্বৈরথ বাড়ছে দিন দিন। গুরুতর অসুস্থ রওশন এরশাদ বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার নামে বিভিন্ন বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার নামে দলের জাতীয় কাউন্সিলও ডাকা হয়ে গেছে।

জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের পক্ষ থেকেও তার অনুসারীরা দিচ্ছেন জবাব। এর মধ্য দিয়ে দলের টানাপোড়েন দৃশ্যমান হচ্ছে নানাভাবে। যদিও বিরোধের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান, কিন্তু সিনিয়র একাধিক নেতা দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব-কোন্দলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন বরাবরই।

মহাজোটের সঙ্গে জাতীয় পার্টির থাকা না থাকা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। জিএম কাদেরের তরফ থেকে বলা হচ্ছে- জাতীয় পার্টি জনগণের পাশে থাকতে চায়। মানুষ যে দুর্ভোগ-দুর্গতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে একাত্ম হতে চায়। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কর্মসূচি পালন করার চিন্তা করছে। এর অংশ হিসেবে বিএনপি বা সমমনা দলের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ হচ্ছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে অতীতের মতো রাজনীতিতে তত ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে জাতীয় পার্টি। চলছে নানা গুঞ্জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সঙ্গে জাতীয পার্টির জোট হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে জাতীয় পার্টি নির্বাচনের আগে ডিগবাজি দিয়ে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থেকে যায় কি না সেটাও দেখার বিষয়।

যদিও কেউ বলছেন, দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে এরশাদপত্নী রওশন এরশাদের স্নায়ুযুদ্ধে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে। অন্যদিকে সম্প্রতি দলটির চেয়ারম্যানের গাড়িতে বাসের ধাক্কা, মোবাইল ছিনতাইসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা। সব মিলিয়ে কোন পথে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি, সে প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে। দলটির ভেতরে কী হচ্ছে, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।

জাতীয় পার্টিতে টানাপোড়েন সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির সাবেক মহাসচিব ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘দলে যা চলছে, আমি সেটাকে মনোমালিন্য বলব।’ তিনি বলেন, ‘এরশাদের মৃত্যুর পর দলটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। বিবাদ মেটানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফল হয়নি।’

জিএম কাদেরের গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়া ও মোবাইল ফোন ছিনতাই প্রসঙ্গে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এটি কো-ইনসিডেন্ট। তবে যেহেতু দলের ভেতর একটা প্রবলেম বা মনোমালিন্য আছে, সেক্ষেত্রে তার (জিএম কাদের) আরও সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার।’ এসব ঘটনাকে ‘সাবোটাজ’ উল্লেখ করলেও এই সিনিয়র নেতা মনে করেন, দলের ভেতরকার মনোমালিন্য বৃদ্ধি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে তৃতীয় কোনো পক্ষ এসব ঘটানোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

দলের ভেতরে যে দ্বন্দ্ব চলছে তা দলটিকে ফের ভাঙনের মুখে নিয়ে যাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ বিষয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এখনও বলছি, শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে জাতীয় পার্টিকে আর ভাঙতে দেব না।’

জাপা-বিএনপির জোট বাঁধা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে, সে বিষয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘বিএনপি ২০০১ সালে আমার ছেলেকে পর্যন্ত কিডন্যাপ (অপহরণ) করে।’ পার্টির চেয়ারম্যান বিভিন্ন ইস্যুতে যে সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন তার মধ্যে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু ইস্যুর সাথে একমত বলেও জানান এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমাকে রওশন এরশাদের লোক বলা হয়। আমাকে জিএম কাদেরের রাইভাল (প্রতিদ্বন্দ্বী) ভাবা হয়। আসলে আমি রাইভাল নই।’

এসব বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করছে। কোনো বিভক্তি দেখছি না। আর জিএম কাদেরের মোবাইল ফোন ছিনতাই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

হঠাৎ জাপার সরকারবিরোধী অবস্থান সম্পর্কে চুন্নু বলেন, ‘হঠাৎ করে নয়। আমরা বিরোধী দল এর আগেও পার্লামেন্টে কনস্ট্রাকটিভ (গঠনমূলক) কথাবার্তা বলেছি। কিছু কিছু বিষয় আছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতে জাতীয় পার্টি মনে করেছে যে, এখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে কথা বলা উচিত। তাই তা বলা হচ্ছে।’

দলের মধ্যে কোনো বিভক্তি দেখছেন না জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বরং বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো- দল এতটা ঐক্যবদ্ধ এর আগে কখনো ছিল কি না এটাও বিবেচনার বিষয়।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তার দলের চেয়ারম্যান হওয়া এবং সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা হওয়ার বিষয় নিয়ে যতগুলো দলীয় সভা বা প্রেসিডিয়াম বৈঠক হয়েছে, এর প্রত্যেকটি বৈঠকে দলের সব নেতা তার পক্ষে একমত ছিলেন। কোনো বিভক্ত মতামতও আসেনি ওই সব সভায়।

জিএম কাদের বলেন, যদি কেউ ওই ধরনের পদক্ষেপের (অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব) সঙ্গে নিজেকে জড়িত করে বা পার্টির ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত প্রেসিডিয়াম বৈঠকেই নেওয়া ছিল।

গাড়িতে বাসের ধাক্কা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই প্রসঙ্গে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নিজেকে অনিরাপদ মনে করছি না। ঘটনাগুলো (গাড়িতে ধাক্কা, মোবাইল ছিনতাই) আমার চোখে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা মনে হয়েছে। যেহেতু একটার পর একটা ঘটনা ঘটেছে, সে কারণে অনেকে ওইভাবে গ্রহণ করতে চাচ্ছেন না। আমার পরিবার বা বন্ধুবান্ধবরা ধারণা করছেন, এটা কোনো প্ল্যান করে করা হয়েছে। তবে এর কোনো প্রমাণ আমি পাইনি।’

মোবাইল ফেরত পাওয়ার বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘মোবাইলের কিছু কিছু জিনিস ইরেজ (মুছে) করা হয়েছে। হারিয়ে গেলে অসুবিধা হবে এমন কোনো গোপন বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল না তাতে।’ বিএনপির সাথে তার দলের জোট বাঁধার বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে ছোট ছোট দলগুলো দুটি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তবে আমরা কোথায় যাব তা এখনো ঠিক করিনি। আমরা চাই একটি জবাবদিহিমূলক সরকার।’

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

কোন পথে জাতীয় পার্টি

প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এরশাদপত্নী রওশন এরশাদকে ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে দলে। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে তার দ্বৈরথ বাড়ছে দিন দিন। গুরুতর অসুস্থ রওশন এরশাদ বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার নামে বিভিন্ন বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার নামে দলের জাতীয় কাউন্সিলও ডাকা হয়ে গেছে।

জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের পক্ষ থেকেও তার অনুসারীরা দিচ্ছেন জবাব। এর মধ্য দিয়ে দলের টানাপোড়েন দৃশ্যমান হচ্ছে নানাভাবে। যদিও বিরোধের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান, কিন্তু সিনিয়র একাধিক নেতা দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব-কোন্দলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন বরাবরই।

মহাজোটের সঙ্গে জাতীয় পার্টির থাকা না থাকা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। জিএম কাদেরের তরফ থেকে বলা হচ্ছে- জাতীয় পার্টি জনগণের পাশে থাকতে চায়। মানুষ যে দুর্ভোগ-দুর্গতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে একাত্ম হতে চায়। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কর্মসূচি পালন করার চিন্তা করছে। এর অংশ হিসেবে বিএনপি বা সমমনা দলের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ হচ্ছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে অতীতের মতো রাজনীতিতে তত ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে জাতীয় পার্টি। চলছে নানা গুঞ্জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সঙ্গে জাতীয পার্টির জোট হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে জাতীয় পার্টি নির্বাচনের আগে ডিগবাজি দিয়ে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থেকে যায় কি না সেটাও দেখার বিষয়।

যদিও কেউ বলছেন, দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে এরশাদপত্নী রওশন এরশাদের স্নায়ুযুদ্ধে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে। অন্যদিকে সম্প্রতি দলটির চেয়ারম্যানের গাড়িতে বাসের ধাক্কা, মোবাইল ছিনতাইসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা। সব মিলিয়ে কোন পথে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি, সে প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে। দলটির ভেতরে কী হচ্ছে, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।

জাতীয় পার্টিতে টানাপোড়েন সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির সাবেক মহাসচিব ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘দলে যা চলছে, আমি সেটাকে মনোমালিন্য বলব।’ তিনি বলেন, ‘এরশাদের মৃত্যুর পর দলটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। বিবাদ মেটানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফল হয়নি।’

জিএম কাদেরের গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়া ও মোবাইল ফোন ছিনতাই প্রসঙ্গে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এটি কো-ইনসিডেন্ট। তবে যেহেতু দলের ভেতর একটা প্রবলেম বা মনোমালিন্য আছে, সেক্ষেত্রে তার (জিএম কাদের) আরও সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার।’ এসব ঘটনাকে ‘সাবোটাজ’ উল্লেখ করলেও এই সিনিয়র নেতা মনে করেন, দলের ভেতরকার মনোমালিন্য বৃদ্ধি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে তৃতীয় কোনো পক্ষ এসব ঘটানোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

দলের ভেতরে যে দ্বন্দ্ব চলছে তা দলটিকে ফের ভাঙনের মুখে নিয়ে যাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ বিষয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এখনও বলছি, শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে জাতীয় পার্টিকে আর ভাঙতে দেব না।’

জাপা-বিএনপির জোট বাঁধা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে, সে বিষয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘বিএনপি ২০০১ সালে আমার ছেলেকে পর্যন্ত কিডন্যাপ (অপহরণ) করে।’ পার্টির চেয়ারম্যান বিভিন্ন ইস্যুতে যে সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন তার মধ্যে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু ইস্যুর সাথে একমত বলেও জানান এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমাকে রওশন এরশাদের লোক বলা হয়। আমাকে জিএম কাদেরের রাইভাল (প্রতিদ্বন্দ্বী) ভাবা হয়। আসলে আমি রাইভাল নই।’

এসব বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করছে। কোনো বিভক্তি দেখছি না। আর জিএম কাদেরের মোবাইল ফোন ছিনতাই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

হঠাৎ জাপার সরকারবিরোধী অবস্থান সম্পর্কে চুন্নু বলেন, ‘হঠাৎ করে নয়। আমরা বিরোধী দল এর আগেও পার্লামেন্টে কনস্ট্রাকটিভ (গঠনমূলক) কথাবার্তা বলেছি। কিছু কিছু বিষয় আছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতে জাতীয় পার্টি মনে করেছে যে, এখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে কথা বলা উচিত। তাই তা বলা হচ্ছে।’

দলের মধ্যে কোনো বিভক্তি দেখছেন না জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বরং বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো- দল এতটা ঐক্যবদ্ধ এর আগে কখনো ছিল কি না এটাও বিবেচনার বিষয়।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তার দলের চেয়ারম্যান হওয়া এবং সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা হওয়ার বিষয় নিয়ে যতগুলো দলীয় সভা বা প্রেসিডিয়াম বৈঠক হয়েছে, এর প্রত্যেকটি বৈঠকে দলের সব নেতা তার পক্ষে একমত ছিলেন। কোনো বিভক্ত মতামতও আসেনি ওই সব সভায়।

জিএম কাদের বলেন, যদি কেউ ওই ধরনের পদক্ষেপের (অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব) সঙ্গে নিজেকে জড়িত করে বা পার্টির ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত প্রেসিডিয়াম বৈঠকেই নেওয়া ছিল।

গাড়িতে বাসের ধাক্কা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই প্রসঙ্গে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নিজেকে অনিরাপদ মনে করছি না। ঘটনাগুলো (গাড়িতে ধাক্কা, মোবাইল ছিনতাই) আমার চোখে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা মনে হয়েছে। যেহেতু একটার পর একটা ঘটনা ঘটেছে, সে কারণে অনেকে ওইভাবে গ্রহণ করতে চাচ্ছেন না। আমার পরিবার বা বন্ধুবান্ধবরা ধারণা করছেন, এটা কোনো প্ল্যান করে করা হয়েছে। তবে এর কোনো প্রমাণ আমি পাইনি।’

মোবাইল ফেরত পাওয়ার বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘মোবাইলের কিছু কিছু জিনিস ইরেজ (মুছে) করা হয়েছে। হারিয়ে গেলে অসুবিধা হবে এমন কোনো গোপন বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল না তাতে।’ বিএনপির সাথে তার দলের জোট বাঁধার বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে ছোট ছোট দলগুলো দুটি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তবে আমরা কোথায় যাব তা এখনো ঠিক করিনি। আমরা চাই একটি জবাবদিহিমূলক সরকার।’