ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ

ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সম্ভাবনা বাড়লো

ইংল্যান্ডে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ২ নম্বরে নেমে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। ২০২৩-এর শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে জায়গা করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ৬ দলেরই। ইংল্যান্ড (৩৮.৬%), বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড (২৫.৯৩%) ও বাংলাদেশের (১৩.৩৩%) কোনো চান্স নেই ফাইনালে যাওয়ার।

অস্ট্রেলিয়া (৭০% জয়) সিরিজ বাকি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (হোম, ২ টেস্ট), দক্ষিণ আফ্রিকা (হোম, ৩ টেস্ট), ভারত (অ্যাওয়ে, ৪ টেস্ট) ৭০% জয় নিয়ে আপাতত পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। হাতে রয়েছে ৯ ম্যাচ। এরপর মধ্যে ৫টিই তারা খেলবে ঘরের মাঠে। পূর্ব পরিসংখ্যান আর বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় হোম ম্যাচগুলোয় ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ভারতের মাটিতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে প্যাট কামিন্সের দলকে। ২০০৪ সালের পর ভারতে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এ সিরিজে যদি ইতিবাচক ফল আসে, তাহলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যেতে কোনো অসুবিধা হবে না তাদের।

দক্ষিণ আফ্রিকা (৬০% জয়) সিরিজ বাকি: অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে, ৩ টেস্ট), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (হোম, ২ টেস্ট) ৭১% জয় নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

২ টেস্ট হেরে সেটি নেমে গেছে ৬০%-এ। প্রোটিয়াদের হাতে ৫টি ম্যাচ বাকি। কোনো সন্দেহ নেই যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩টি টেস্ট ব্যবধান গড়ে দেবে। দু’দলের জন্যই সিরিজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর নিজেদের ডেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ ম্যাচের মধ্য দিয়ে ফাইনাল স্পট নির্ধারিত হতে পারে তাদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৯২ সালের পর থেকে কোনো সিরিজ হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

শ্রীলঙ্কা (৫৩.৩৩% জয়) সিরিজ বাকি: নিউজিল্যান্ড (অ্যাওয়ে, ২ টেস্ট) পয়েন্ট তালিকায় ৩ নম্বরে থাকলেও শ্রীলঙ্কার জন্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়া কঠিন হবে। দিমুথ করুণারত্নের দলের বাকি মাত্র একটি সিরিজ। সেটিও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। যেখানে ১৯ টেস্টে মাত্র দু’বার জিততে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। তবে লঙ্কানরা যদি অভাবনীয়ভাবে ২-০তে সিরিজ জিতে যায়, তাহলে তাদের জয়ের শতকরা হার হবে ৬১.১%। তখন অন্য দলগুলোর শতকরা হার সাপেক্ষে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে শ্রীলঙ্কার।

ভারত (৫২.০৮% জয়) সিরিজ বাকি: বাংলাদেশ (অ্যাওয়ে, ২ টেস্ট), অস্ট্রেলিয়া (হোম, ৪ টেস্ট) গতবারের রানার্সআপরা এবার খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। তবুও ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা অটুট রয়েছে তাদের। চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারত। রোহিত শর্মার দল ২টি টেস্ট খেলবে। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে আতিথ্য দেবে। ফাইনালে যেতে হলে ৬টি ম্যাচই জিততে হবে ভারতকে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজের ফল তাদের অনুকূলে যাওয়া চাই।

পাকিস্তান (৫১.৮৫% জয়) সিরিজ বাকি: ইংল্যান্ড (হোম, ৩ টেস্ট), নিউজিল্যান্ড (হোম, ২ টেস্ট) পয়েন্ট তালিকায় ৫ নম্বরে থাকলেও পাকিস্তানের হাতে বাকি ৫ ম্যাচ। সব ম্যাচই যেহেতু তারা খেলবে ঘরে, তাই ফাইনালে জায়গা করে নেয়ার দারুণ সুযোগ থাকছে বাবর আজমদের। ৫টি টেস্টেই জিতলে পাকিস্তানের জয়ের হার ৬৯.০৫%-এ উন্নীত হবে। যা তাদের ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজে ১-০তে হেরেছে পাকিস্তান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫০% জয়) সিরিজ বাকি: অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে, ২ টেস্ট), দক্ষিণ আফ্রিকা (অ্যাওয়ে, ২ টেস্ট) ৬ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজও চমক দেখাতে পারে। বাকি ৪ ম্যাচে জিতলে তাদের জয়ের শতকরা হার হবে ৬৫.৩৮%। কিন্তু ৪টি ম্যাচই আবার বিদেশে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় জিততে হলে সেই সোনালি যুগের ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে হবে ক্যারিবিয়ানদের। ১৯৯২-৯৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় তো বটেই ঘরের মাঠেও অজিদের বিপক্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ১৯৯৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরে-বাইরে মিলিয়ে টানা ৮টি সিরিজ হেরেছে তারা।

Tag :

পূজা চেরিকে হাতেনাতে কার বাসায় ধরলো বুবলী?

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ

ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সম্ভাবনা বাড়লো

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

ইংল্যান্ডে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ২ নম্বরে নেমে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। ২০২৩-এর শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে জায়গা করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ৬ দলেরই। ইংল্যান্ড (৩৮.৬%), বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড (২৫.৯৩%) ও বাংলাদেশের (১৩.৩৩%) কোনো চান্স নেই ফাইনালে যাওয়ার।

অস্ট্রেলিয়া (৭০% জয়) সিরিজ বাকি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (হোম, ২ টেস্ট), দক্ষিণ আফ্রিকা (হোম, ৩ টেস্ট), ভারত (অ্যাওয়ে, ৪ টেস্ট) ৭০% জয় নিয়ে আপাতত পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। হাতে রয়েছে ৯ ম্যাচ। এরপর মধ্যে ৫টিই তারা খেলবে ঘরের মাঠে। পূর্ব পরিসংখ্যান আর বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় হোম ম্যাচগুলোয় ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ভারতের মাটিতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে প্যাট কামিন্সের দলকে। ২০০৪ সালের পর ভারতে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এ সিরিজে যদি ইতিবাচক ফল আসে, তাহলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যেতে কোনো অসুবিধা হবে না তাদের।

দক্ষিণ আফ্রিকা (৬০% জয়) সিরিজ বাকি: অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে, ৩ টেস্ট), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (হোম, ২ টেস্ট) ৭১% জয় নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

২ টেস্ট হেরে সেটি নেমে গেছে ৬০%-এ। প্রোটিয়াদের হাতে ৫টি ম্যাচ বাকি। কোনো সন্দেহ নেই যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩টি টেস্ট ব্যবধান গড়ে দেবে। দু’দলের জন্যই সিরিজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর নিজেদের ডেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ ম্যাচের মধ্য দিয়ে ফাইনাল স্পট নির্ধারিত হতে পারে তাদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৯২ সালের পর থেকে কোনো সিরিজ হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

শ্রীলঙ্কা (৫৩.৩৩% জয়) সিরিজ বাকি: নিউজিল্যান্ড (অ্যাওয়ে, ২ টেস্ট) পয়েন্ট তালিকায় ৩ নম্বরে থাকলেও শ্রীলঙ্কার জন্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়া কঠিন হবে। দিমুথ করুণারত্নের দলের বাকি মাত্র একটি সিরিজ। সেটিও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। যেখানে ১৯ টেস্টে মাত্র দু’বার জিততে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। তবে লঙ্কানরা যদি অভাবনীয়ভাবে ২-০তে সিরিজ জিতে যায়, তাহলে তাদের জয়ের শতকরা হার হবে ৬১.১%। তখন অন্য দলগুলোর শতকরা হার সাপেক্ষে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে শ্রীলঙ্কার।

ভারত (৫২.০৮% জয়) সিরিজ বাকি: বাংলাদেশ (অ্যাওয়ে, ২ টেস্ট), অস্ট্রেলিয়া (হোম, ৪ টেস্ট) গতবারের রানার্সআপরা এবার খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। তবুও ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা অটুট রয়েছে তাদের। চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারত। রোহিত শর্মার দল ২টি টেস্ট খেলবে। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে আতিথ্য দেবে। ফাইনালে যেতে হলে ৬টি ম্যাচই জিততে হবে ভারতকে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজের ফল তাদের অনুকূলে যাওয়া চাই।

পাকিস্তান (৫১.৮৫% জয়) সিরিজ বাকি: ইংল্যান্ড (হোম, ৩ টেস্ট), নিউজিল্যান্ড (হোম, ২ টেস্ট) পয়েন্ট তালিকায় ৫ নম্বরে থাকলেও পাকিস্তানের হাতে বাকি ৫ ম্যাচ। সব ম্যাচই যেহেতু তারা খেলবে ঘরে, তাই ফাইনালে জায়গা করে নেয়ার দারুণ সুযোগ থাকছে বাবর আজমদের। ৫টি টেস্টেই জিতলে পাকিস্তানের জয়ের হার ৬৯.০৫%-এ উন্নীত হবে। যা তাদের ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজে ১-০তে হেরেছে পাকিস্তান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫০% জয়) সিরিজ বাকি: অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে, ২ টেস্ট), দক্ষিণ আফ্রিকা (অ্যাওয়ে, ২ টেস্ট) ৬ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজও চমক দেখাতে পারে। বাকি ৪ ম্যাচে জিতলে তাদের জয়ের শতকরা হার হবে ৬৫.৩৮%। কিন্তু ৪টি ম্যাচই আবার বিদেশে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় জিততে হলে সেই সোনালি যুগের ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে হবে ক্যারিবিয়ানদের। ১৯৯২-৯৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় তো বটেই ঘরের মাঠেও অজিদের বিপক্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ১৯৯৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরে-বাইরে মিলিয়ে টানা ৮টি সিরিজ হেরেছে তারা।