ঢাকা ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশে দামের মিল নেই

বৈশ্বিক বাজারে ডাল, চিনি ও রডের দাম কমেছে। তবে তার প্রভাব দেশের বাজারে নেই। বরং দেশের বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে চাল, গম/আটা ও সিমেন্টের দাম বিশ্ববাজারে যতটা বেড়েছে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে দেশে বাজারে।
তবে পেঁয়াজের দাম বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে কম বেড়েছে। গত ৩০ আগস্ট প্রকাশিত বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে চলতি বছরের ২৮ আগস্টের সঙ্গে গত বছরের একই দিনের নিত্যপণ্যের দামের তুলনা করা হয়েছে। সেই বিশ্লেষণে এই এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, মসুর ডাল, চিনি, আটা, পেঁয়াজ, রড ও সিমেন্টের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের দামের এই তুলনা করা হয়েছে।

মসুর ডালের দর প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে; কিন্তু দেশের বাজারে গড় দাম বেড়েছে ৩৮.৭১ শতাংশ। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট বিশ্ববাজারে প্রতি টন ডালের মূল্য ছিল ৫০৯ ডলার। ২০২১ সালের একই সময়ে সময়ে ছিল ৫৯০.৬৪ ডলার। গত রবিবার স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। আর গত বছরের এই সময়ে দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা পাঁচ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় দুই লাখ ৫৮ হাজার টন, বার্ষিক আমদানি তিন লাখ ৭০ হাজার টন। মসুর ডালের আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হয় না।

নিত্যপণ্যের দাম না কমার কারণে ৩০ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ৯ নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এটা কার্যকর করা হবে। অত্যাবশকীয় পণ্য বিপণন এবং কৃষি বিপণন আইন অনুসারে ট্যারিফ কমিশন আমদানীকৃত পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিতে পারে।

যদিও গত বছরে আলু ও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ডিএএম) এ দুটি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল। নানা কারণে সেটি কার্যকর করা যায়নি।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বেঁধে দেওয়া দর কার্যকর করতে হলে কৃষি, খাদ্য, শিল্প, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্ত সমন্বয় করতে হবে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে হবে।

কমিশনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসুর ডালের মতো গত এক বছরে বিশ্ববাজারে চিনির দাম কমেছে ১০.৭৮ শতাংশ; স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ১৪.৮৪ শতাংশ। গত রবিবার স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। দেশে পরিশোধিত চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। আখ থেকে চিনির স্থানীয় উৎপাদন ৩০ হাজার টন। অপরিশোধিত চিনি আমদানি ২০ থেকে ২২ লাখ টন। প্রক্রিয়াজাত করার সময় ৬ শতাংশ লোকসান হয়।

এদিকে এই সময়ে বিশ্ববাজারে চালের দর বেড়েছে ৬.৮৬ থেকে ৭.২১ শতাংশ। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে চালের দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ১৯ শতাংশ। আটার দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে ৮ শতাংশ আর স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত। বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৭.৭১ শতাংশ আর স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৯.২০ শতাংশ (দেশি)। আমদানি করা পেঁয়াজে বেড়েছে ১৩.৩৩ শতাংশ।

এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে রডের দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশ, এই সময়ে বিশ্ববাজারে কমেছে ১৪.২৯ শতাংশ। আর সিমেন্টের দাম স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৩১ শতাংশ; আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে ১৯.৫৭ শতাংশ।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘বাজারে যখন অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, তখন অন্যায্য মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়। এ সময় সরকার সরবরাহ লাইনের পণ্যমূল্য পর্যালোচনা করে দর নির্ধারণ করে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ভাঙতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ দরকার। সেই সক্ষমতা সরকারের বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় কৃষিমূল্য কমিশন করা দরকার। ’

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশে দামের মিল নেই

প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

বৈশ্বিক বাজারে ডাল, চিনি ও রডের দাম কমেছে। তবে তার প্রভাব দেশের বাজারে নেই। বরং দেশের বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে চাল, গম/আটা ও সিমেন্টের দাম বিশ্ববাজারে যতটা বেড়েছে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে দেশে বাজারে।
তবে পেঁয়াজের দাম বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে কম বেড়েছে। গত ৩০ আগস্ট প্রকাশিত বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে চলতি বছরের ২৮ আগস্টের সঙ্গে গত বছরের একই দিনের নিত্যপণ্যের দামের তুলনা করা হয়েছে। সেই বিশ্লেষণে এই এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, মসুর ডাল, চিনি, আটা, পেঁয়াজ, রড ও সিমেন্টের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের দামের এই তুলনা করা হয়েছে।

মসুর ডালের দর প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে; কিন্তু দেশের বাজারে গড় দাম বেড়েছে ৩৮.৭১ শতাংশ। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট বিশ্ববাজারে প্রতি টন ডালের মূল্য ছিল ৫০৯ ডলার। ২০২১ সালের একই সময়ে সময়ে ছিল ৫৯০.৬৪ ডলার। গত রবিবার স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। আর গত বছরের এই সময়ে দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা পাঁচ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় দুই লাখ ৫৮ হাজার টন, বার্ষিক আমদানি তিন লাখ ৭০ হাজার টন। মসুর ডালের আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হয় না।

নিত্যপণ্যের দাম না কমার কারণে ৩০ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ৯ নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এটা কার্যকর করা হবে। অত্যাবশকীয় পণ্য বিপণন এবং কৃষি বিপণন আইন অনুসারে ট্যারিফ কমিশন আমদানীকৃত পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিতে পারে।

যদিও গত বছরে আলু ও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ডিএএম) এ দুটি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল। নানা কারণে সেটি কার্যকর করা যায়নি।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বেঁধে দেওয়া দর কার্যকর করতে হলে কৃষি, খাদ্য, শিল্প, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্ত সমন্বয় করতে হবে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে হবে।

কমিশনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসুর ডালের মতো গত এক বছরে বিশ্ববাজারে চিনির দাম কমেছে ১০.৭৮ শতাংশ; স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ১৪.৮৪ শতাংশ। গত রবিবার স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। দেশে পরিশোধিত চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। আখ থেকে চিনির স্থানীয় উৎপাদন ৩০ হাজার টন। অপরিশোধিত চিনি আমদানি ২০ থেকে ২২ লাখ টন। প্রক্রিয়াজাত করার সময় ৬ শতাংশ লোকসান হয়।

এদিকে এই সময়ে বিশ্ববাজারে চালের দর বেড়েছে ৬.৮৬ থেকে ৭.২১ শতাংশ। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে চালের দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ১৯ শতাংশ। আটার দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে ৮ শতাংশ আর স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত। বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৭.৭১ শতাংশ আর স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৯.২০ শতাংশ (দেশি)। আমদানি করা পেঁয়াজে বেড়েছে ১৩.৩৩ শতাংশ।

এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে রডের দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশ, এই সময়ে বিশ্ববাজারে কমেছে ১৪.২৯ শতাংশ। আর সিমেন্টের দাম স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৩১ শতাংশ; আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে ১৯.৫৭ শতাংশ।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘বাজারে যখন অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, তখন অন্যায্য মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়। এ সময় সরকার সরবরাহ লাইনের পণ্যমূল্য পর্যালোচনা করে দর নির্ধারণ করে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ভাঙতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ দরকার। সেই সক্ষমতা সরকারের বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় কৃষিমূল্য কমিশন করা দরকার। ’