ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পদ্মা ছাড়া সব নদীর পানি কমছে

দেশের প্রায় সব নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি বাড়ছে পদ্মা ও যমুনায়। আগামী ২৪ ঘণ্টা পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমতে শুরু করেছে। অপরদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উভয় নদীর পানি কমতে পারে। অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুশিয়ারা নদী ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে গোপালগঞ্জের হরিদাসপুরে ৭৭ মিলিমিটার। এছাড়া পটুয়াখালীতে ৭৪, বরিশালে ৭১, বরগুনায় ৬৪, সাতক্ষীরায় ৬৩, কক্সবাজারে ৫৪, সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ৫২, মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভারতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে আসামের সিলচরে ৫৬ মিলিমিটার। এছাড়া চেরাপুঞ্জিতে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে কেন্দ্র জানায়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, দেশের ভেতরে বেশিরভাগ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। শুধু পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা তা অব্যাহত থাকতে পারে।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে ভারতের নদীগুলোতে যেমন পানি বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আমাদের নদীগুলোর পানি। তবে এখন পর্যন্ত কোনও নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়নি। কোথাও কোথাও নিচু এলাকা প্লাবিত হলেও বড় আকারে কোনও ক্ষতি হয়নি এখন পর্যন্ত।

তবে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ সময় তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে আমন ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে। এতে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল।

Tag :
জনপ্রিয়

গোমস্তাপুরে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলো উপজেলা প্রশাসন

পদ্মা ছাড়া সব নদীর পানি কমছে

প্রকাশের সময় : ১১:০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশের প্রায় সব নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি বাড়ছে পদ্মা ও যমুনায়। আগামী ২৪ ঘণ্টা পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমতে শুরু করেছে। অপরদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উভয় নদীর পানি কমতে পারে। অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুশিয়ারা নদী ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে গোপালগঞ্জের হরিদাসপুরে ৭৭ মিলিমিটার। এছাড়া পটুয়াখালীতে ৭৪, বরিশালে ৭১, বরগুনায় ৬৪, সাতক্ষীরায় ৬৩, কক্সবাজারে ৫৪, সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ৫২, মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভারতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে আসামের সিলচরে ৫৬ মিলিমিটার। এছাড়া চেরাপুঞ্জিতে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে কেন্দ্র জানায়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, দেশের ভেতরে বেশিরভাগ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। শুধু পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা তা অব্যাহত থাকতে পারে।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে ভারতের নদীগুলোতে যেমন পানি বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আমাদের নদীগুলোর পানি। তবে এখন পর্যন্ত কোনও নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়নি। কোথাও কোথাও নিচু এলাকা প্লাবিত হলেও বড় আকারে কোনও ক্ষতি হয়নি এখন পর্যন্ত।

তবে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ সময় তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে আমন ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে। এতে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল।