ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শোকে ক্ষোভে জ্বলে ওঠা শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা

কত মায়ের বুক খালি হলে নিরাপদ হবে সড়ক

রাজধানীর সড়কে আবার বিক্ষোভ ফেটে পড়ল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ জানাল সড়ক দুর্ঘটনায় সহপাঠী নিহত হওয়ার ঘটনার। তাদের দাবি নিরাপদ সড়ক। ২০১৮ সালেও একই দাবিতে সড়কে নেমেছিল তারা। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমেনি, বরং বেড়েছে। এখনও প্রতিদিনই সড়কে ছোপছোপ রক্তের দাগ। অকালে ঝরছে প্রাণ। আর কত মায়ের বুক খালি হলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে, এ জিজ্ঞাসা সহপাঠী হারানোর শোকে ক্ষোভে জ্বলে ওঠা শিক্ষার্থীদের।

রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহত হয় সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্র আলী হোসেন। প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে ফার্মগেট মূল সড়কে নেমে এই মৃত্যুর বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ করেতেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান স্কুল ও কলেজ, তেজগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পুলিশের আশ্বাসে একপর্যায়ে সড়ক ছাড়লেও মঙ্গলবার আবার তারা সড়কে নামার ঘোষণা দেয়।

আর কতজন আলী হোসেন মারা গেলে নিরাপদে রাস্তায় চলাফেরা করা যাবে, সরকারের কাছে এমন প্রশ্ন রেখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শুধু আলী হোসেনের বিচারের দাবিতে নয়, দেশের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে আবার বিক্ষোভ শুরু করা হবে।’

২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ পাস হয়। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬দফা নির্দেশনা দেন। আর ওই আইনটি ২০১৯ সালে গেজেট আকারে প্রকাশ হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সড়ক পরিবহন আইনের কোন বাস্তবায়ন তারা দেখছেন না। তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেখতে চান। প্রদানমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান এবং আইন প্রনয়ণের চার বছর পরও কেন তা বাস্তবায়ন হলো না- এ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক গাইডলাইন প্রস্তুতকরন, রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা ও বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ না করলে সড়কে মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই যোগ হবে নতুন নতুন নাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় সরকারি কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দায় নিচ্ছে না কেউ। কোন না কোন কর্তৃপক্ষকে বা সরকারকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। কমাতে হবে দুর্নীতি। তাহলেই শৃঙ্খলা ফিরতে পারে সড়কে।

দেশে সরকারি কোন দপ্তর সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করে না। তবে সড়ক দুর্ঘটনারোধ ও নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪, ৬৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে হিসেবে এ বছর প্রতি মাসে গড়ে ৫৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এর মধ্যে আগস্ট মাসে মৃত্যু হয়েছে ৫১৯ জনের, যার মধ্যে ৭৩ জন শিক্ষার্থী। আর এর আগের মাস জুলাইয়ে সড়কে মৃত্যু হয়েছে ৭৩৯ জনের। যার মধ্যে ১০৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

সংগঠনটি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৩১ জনের মৃত্যু হয়। যার মধ্যে ৭০৬ জন শিক্ষার্থী। আর ২০২১ সালে ৬২৮৪ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০৪ জন। সংগঠনটি বলছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছে।

তাদের তথ্য মতে, চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত গত ৩২ মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছে ১৬, ৪০০ জন। সে হিসেবে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়কে প্রাণহানি ৪.২২ শতাংশ এবং ২০২০ সালের চেয়ে ২০২১ সালে প্রাণহানি ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘পলিটিশিয়ানরা যতদিনে স্মার্ট না হবে, তাদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনারোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা যতদিনে না আসে ততদিনে এই মৃত্যু, সড়কে এই নৈরাজ্য থামবে না।’ তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব নিতে হবে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিছুদিন আইনের কথা বলেন তারা, পরে এর বাস্তবায়ন ঘটে না।’

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ সড়ক দুর্ঘটনারোধে সড়কে ইেফটি ইন্সপেকশন, আনফিট গাড়ি চলতে না দেওয়া, স্পিড লিমিট গাইডলাইন প্রস্তুত, সড়কে বিভিন্ন ধরনের মার্কিং ও সাইন লাগানো, ঢাকায় গাড়ি ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে না চলা, বেতনভুক্ত চালক নিয়োগ, চালকদের নিয়োগপত্র প্রদান, আনফিট গাড়ি রাস্তা থেকে তুলে দিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুসহ দুর্ঘটনারোধে যে ১১১টি সুপারিশ ২০১৮ সালে নেওয়া হয়েছিল তা বাস্তায়নের কথা জানান।

এদিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পরিচালক (সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দুর্ঘটনায় মৃত্যু এড়াতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক ও সেভ দ্য রোড’র মহাসচিব শান্তা ফারজানা বলেন, এ ধরণের মৃত্যু থামাতেই হবে। এর জন্য সড়ক পরিবহন আইন ও প্রধানমন্ত্রীর সেই ৬ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দুর্নীতি কমাতে হবে সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি অন্যতম।

২০১৮ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল তার পরেও পরিস্থিতির কোন বদল হয়নি। সে বিক্ষোভ শান্ত করতে সরকারের দিক থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট’-এর সভায় সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। সভায় ২০ দফা সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এসব নির্দেশনার কোন কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।

Tag :
জনপ্রিয়

সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিকসহ ৫জনের নামে চোরাকারবারির মামলা

শোকে ক্ষোভে জ্বলে ওঠা শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা

কত মায়ের বুক খালি হলে নিরাপদ হবে সড়ক

প্রকাশের সময় : ১০:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজধানীর সড়কে আবার বিক্ষোভ ফেটে পড়ল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ জানাল সড়ক দুর্ঘটনায় সহপাঠী নিহত হওয়ার ঘটনার। তাদের দাবি নিরাপদ সড়ক। ২০১৮ সালেও একই দাবিতে সড়কে নেমেছিল তারা। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমেনি, বরং বেড়েছে। এখনও প্রতিদিনই সড়কে ছোপছোপ রক্তের দাগ। অকালে ঝরছে প্রাণ। আর কত মায়ের বুক খালি হলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে, এ জিজ্ঞাসা সহপাঠী হারানোর শোকে ক্ষোভে জ্বলে ওঠা শিক্ষার্থীদের।

রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহত হয় সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্র আলী হোসেন। প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে ফার্মগেট মূল সড়কে নেমে এই মৃত্যুর বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ করেতেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান স্কুল ও কলেজ, তেজগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পুলিশের আশ্বাসে একপর্যায়ে সড়ক ছাড়লেও মঙ্গলবার আবার তারা সড়কে নামার ঘোষণা দেয়।

আর কতজন আলী হোসেন মারা গেলে নিরাপদে রাস্তায় চলাফেরা করা যাবে, সরকারের কাছে এমন প্রশ্ন রেখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শুধু আলী হোসেনের বিচারের দাবিতে নয়, দেশের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে আবার বিক্ষোভ শুরু করা হবে।’

২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ পাস হয়। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬দফা নির্দেশনা দেন। আর ওই আইনটি ২০১৯ সালে গেজেট আকারে প্রকাশ হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সড়ক পরিবহন আইনের কোন বাস্তবায়ন তারা দেখছেন না। তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেখতে চান। প্রদানমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান এবং আইন প্রনয়ণের চার বছর পরও কেন তা বাস্তবায়ন হলো না- এ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক গাইডলাইন প্রস্তুতকরন, রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা ও বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ না করলে সড়কে মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই যোগ হবে নতুন নতুন নাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় সরকারি কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দায় নিচ্ছে না কেউ। কোন না কোন কর্তৃপক্ষকে বা সরকারকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। কমাতে হবে দুর্নীতি। তাহলেই শৃঙ্খলা ফিরতে পারে সড়কে।

দেশে সরকারি কোন দপ্তর সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করে না। তবে সড়ক দুর্ঘটনারোধ ও নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪, ৬৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে হিসেবে এ বছর প্রতি মাসে গড়ে ৫৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এর মধ্যে আগস্ট মাসে মৃত্যু হয়েছে ৫১৯ জনের, যার মধ্যে ৭৩ জন শিক্ষার্থী। আর এর আগের মাস জুলাইয়ে সড়কে মৃত্যু হয়েছে ৭৩৯ জনের। যার মধ্যে ১০৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

সংগঠনটি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৩১ জনের মৃত্যু হয়। যার মধ্যে ৭০৬ জন শিক্ষার্থী। আর ২০২১ সালে ৬২৮৪ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০৪ জন। সংগঠনটি বলছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছে।

তাদের তথ্য মতে, চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত গত ৩২ মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছে ১৬, ৪০০ জন। সে হিসেবে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়কে প্রাণহানি ৪.২২ শতাংশ এবং ২০২০ সালের চেয়ে ২০২১ সালে প্রাণহানি ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘পলিটিশিয়ানরা যতদিনে স্মার্ট না হবে, তাদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনারোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা যতদিনে না আসে ততদিনে এই মৃত্যু, সড়কে এই নৈরাজ্য থামবে না।’ তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব নিতে হবে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিছুদিন আইনের কথা বলেন তারা, পরে এর বাস্তবায়ন ঘটে না।’

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ সড়ক দুর্ঘটনারোধে সড়কে ইেফটি ইন্সপেকশন, আনফিট গাড়ি চলতে না দেওয়া, স্পিড লিমিট গাইডলাইন প্রস্তুত, সড়কে বিভিন্ন ধরনের মার্কিং ও সাইন লাগানো, ঢাকায় গাড়ি ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে না চলা, বেতনভুক্ত চালক নিয়োগ, চালকদের নিয়োগপত্র প্রদান, আনফিট গাড়ি রাস্তা থেকে তুলে দিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুসহ দুর্ঘটনারোধে যে ১১১টি সুপারিশ ২০১৮ সালে নেওয়া হয়েছিল তা বাস্তায়নের কথা জানান।

এদিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পরিচালক (সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দুর্ঘটনায় মৃত্যু এড়াতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক ও সেভ দ্য রোড’র মহাসচিব শান্তা ফারজানা বলেন, এ ধরণের মৃত্যু থামাতেই হবে। এর জন্য সড়ক পরিবহন আইন ও প্রধানমন্ত্রীর সেই ৬ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দুর্নীতি কমাতে হবে সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি অন্যতম।

২০১৮ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল তার পরেও পরিস্থিতির কোন বদল হয়নি। সে বিক্ষোভ শান্ত করতে সরকারের দিক থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট’-এর সভায় সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। সভায় ২০ দফা সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এসব নির্দেশনার কোন কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।