ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
রাজপথে কর্মসূচি পালন

কীভাবে হামলা-মামলার চাপ সামলাবে বিএনপি

মাঠে থাকতে গেলে নানামুখী চাপ বাড়বে- বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েই এগোতে চায় বিএনপি। দলটি সম্প্রতি রাজপথে টানা কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে। তবে নীতিনির্ধারকরা এতে তেমন চিন্তিত নন। তারা রাজনৈতিক চাপকে অনেকটা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

সারা দেশে মাঠে কর্মসূচি সফলভাবে পালন করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। এ চাপ সামাল দিতে কর্মসূচির ধরনে এখনই কোনো পরিবর্তন আনতে চায় না বিএনপি। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে যুগপৎ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হলে আন্দোলনের গতি বদলাবে দলটি।

জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং গুলিতে ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি ২২ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে টানা সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে। এ কর্মসূচি ইউনিয়ন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গত শনিবার থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ১৪ দিনের টানা কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণে কয়েকটি সমাবেশ করে বিএনপি।

ঢাকার কর্মসূচিতে তেমন হামলা না হলেও বাইরে বিভিন্ন জেলায় হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মামলা ও ১৪৪ ধারা জারির ঘটনা ঘটছে। দুয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়াও হয়েছে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে যথারীতি পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।

এতে দেখা গেছে, বিএনপির ওয়ার্ড কমিটিতেও নেই, সমর্থকও নন এমন লোকজনের নাম এসেছে মামলার এজাহারে। উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের দিনমজুর হেলাল উদ্দিনের নামেও মামলা হয়েছে। এর ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তার পরিবারে।

বিএনপির অভিযোগ, তাদের টানা কর্মসূচির পর থেকে অনেক গ্রামেই এমন ঘটনা ঘটছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এমনটা হচ্ছে। তাদের মাইম্যান না হলেই সাধারণ লোকদের বিএনপি বলে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে। কারণ তারা সরকারের ফাঁদে পড়ছে না। সরকার বিএনপিকে উসকে দিচ্ছে। মাঠের কর্মীদের প্রলুব্ধ করছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো জায়গায় সহিংসতায় জড়ায়নি বিএনপি। এটি হলে সরকার আন্তর্জাতিকভাবে ক্যাশ করবে। বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করবে। তারা বলছেন, পুলিশ যেভাবে গুলি ছুড়ছে এতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে সুবিধা পেতে পারে বিএনপি। র‌্যাবের ওপর যেমন নিষেধাজ্ঞা এসেছে, সংযত না হলে পুলিশের ওপরও তেমন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। যদি আইন না মেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে থাকে, তাহলে বিষয়টি বিএনপির অনুকূলেই যাবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘চাপ থাকা স্বাভাবিক। পরে তা আরও বাড়বে। এসব মোকাবিলায় এবার প্রস্তুতিও আছে আমাদের। মামলার জন্য আইনি পদক্ষেপ জোরালো করা হবে। আর সরকারের ফাঁদে পা না দিতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অভিযোগ করেন, ‘সম্প্রতি বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ তালিকা করছে। তারা ভয় সৃষ্টি করছে যাতে আন্দোলনের মাঠ থেকে সরে যান নেতাকর্মীরা। সমাবেশে বিপুল পরিমাণ উপস্থিতি দেখে তাদের কৌশলে দমন করতে চাচ্ছে সরকার।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কেউ গুলি করলে আমরা তাকে ছাড় দেব না। আন্দোলনে গুলি চালানো হলে আমাদের আন্দোলনও ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হবে। অবস্থা বুঝে আমরাও ব্যবস্থা নেব।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য খন্দকার মোশাররফ মনে করেন, সরকার আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সবশেষ অস্ত্র ব্যবহার করছে। বাড়িঘরে হামলা নতুন সংযোজন। এসব যে হবে তাতে আমরা বিচলিত বা চিন্তিত নই। রাজপথেই আমরা এসবের জবাব দিতে চাই। সরকার ও ক্ষমতাসীনরা যা করছে তা বিএনপি স্বাভাবিক মনে করে।
হামলা-মামলা সবই মোকাবিলা হবে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে। আন্দোলনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আমরা রাজপথেই সরকার পতনের ফয়সালা করে দেশে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।

Tag :
জনপ্রিয়

নিরব-আরিয়ানা জামানের ‘স্পর্শ’

রাজপথে কর্মসূচি পালন

কীভাবে হামলা-মামলার চাপ সামলাবে বিএনপি

প্রকাশের সময় : ১০:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

মাঠে থাকতে গেলে নানামুখী চাপ বাড়বে- বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েই এগোতে চায় বিএনপি। দলটি সম্প্রতি রাজপথে টানা কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে। তবে নীতিনির্ধারকরা এতে তেমন চিন্তিত নন। তারা রাজনৈতিক চাপকে অনেকটা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

সারা দেশে মাঠে কর্মসূচি সফলভাবে পালন করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। এ চাপ সামাল দিতে কর্মসূচির ধরনে এখনই কোনো পরিবর্তন আনতে চায় না বিএনপি। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে যুগপৎ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হলে আন্দোলনের গতি বদলাবে দলটি।

জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং গুলিতে ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি ২২ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে টানা সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে। এ কর্মসূচি ইউনিয়ন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গত শনিবার থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ১৪ দিনের টানা কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণে কয়েকটি সমাবেশ করে বিএনপি।

ঢাকার কর্মসূচিতে তেমন হামলা না হলেও বাইরে বিভিন্ন জেলায় হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মামলা ও ১৪৪ ধারা জারির ঘটনা ঘটছে। দুয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়াও হয়েছে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে যথারীতি পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।

এতে দেখা গেছে, বিএনপির ওয়ার্ড কমিটিতেও নেই, সমর্থকও নন এমন লোকজনের নাম এসেছে মামলার এজাহারে। উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের দিনমজুর হেলাল উদ্দিনের নামেও মামলা হয়েছে। এর ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তার পরিবারে।

বিএনপির অভিযোগ, তাদের টানা কর্মসূচির পর থেকে অনেক গ্রামেই এমন ঘটনা ঘটছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এমনটা হচ্ছে। তাদের মাইম্যান না হলেই সাধারণ লোকদের বিএনপি বলে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে। কারণ তারা সরকারের ফাঁদে পড়ছে না। সরকার বিএনপিকে উসকে দিচ্ছে। মাঠের কর্মীদের প্রলুব্ধ করছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো জায়গায় সহিংসতায় জড়ায়নি বিএনপি। এটি হলে সরকার আন্তর্জাতিকভাবে ক্যাশ করবে। বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করবে। তারা বলছেন, পুলিশ যেভাবে গুলি ছুড়ছে এতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে সুবিধা পেতে পারে বিএনপি। র‌্যাবের ওপর যেমন নিষেধাজ্ঞা এসেছে, সংযত না হলে পুলিশের ওপরও তেমন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। যদি আইন না মেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে থাকে, তাহলে বিষয়টি বিএনপির অনুকূলেই যাবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘চাপ থাকা স্বাভাবিক। পরে তা আরও বাড়বে। এসব মোকাবিলায় এবার প্রস্তুতিও আছে আমাদের। মামলার জন্য আইনি পদক্ষেপ জোরালো করা হবে। আর সরকারের ফাঁদে পা না দিতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অভিযোগ করেন, ‘সম্প্রতি বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ তালিকা করছে। তারা ভয় সৃষ্টি করছে যাতে আন্দোলনের মাঠ থেকে সরে যান নেতাকর্মীরা। সমাবেশে বিপুল পরিমাণ উপস্থিতি দেখে তাদের কৌশলে দমন করতে চাচ্ছে সরকার।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কেউ গুলি করলে আমরা তাকে ছাড় দেব না। আন্দোলনে গুলি চালানো হলে আমাদের আন্দোলনও ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হবে। অবস্থা বুঝে আমরাও ব্যবস্থা নেব।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য খন্দকার মোশাররফ মনে করেন, সরকার আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সবশেষ অস্ত্র ব্যবহার করছে। বাড়িঘরে হামলা নতুন সংযোজন। এসব যে হবে তাতে আমরা বিচলিত বা চিন্তিত নই। রাজপথেই আমরা এসবের জবাব দিতে চাই। সরকার ও ক্ষমতাসীনরা যা করছে তা বিএনপি স্বাভাবিক মনে করে।
হামলা-মামলা সবই মোকাবিলা হবে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে। আন্দোলনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আমরা রাজপথেই সরকার পতনের ফয়সালা করে দেশে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।