ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জোয়ারে প্লাবিত সুন্দরবন, হুমকিতে বন্যপ্রাণী

বঙ্গোপসাগরে নিম্ন চাপের প্রভাবে গত দুদিন থেমে থেমে বৃষ্টি আর জোয়ার পানিতে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার তিনটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে সুন্দরবনের প্রধান নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সুন্দরবন এলাকা ও করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্র তলিয়ে গেছে। সম্প্রতি নদীতে যে হারে পানি বাড়ছে এতে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলে জোয়ারের পানি উঠে উপকূলীয় জেলার সদর, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। জোয়ার ও বৃষ্টির পানি জমে ওইসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তারা ভৈরব নদের উপর টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

অপরদিকে জেলার চিংড়ি মাছের ঘেরগুলোতে পানি ছুঁইছুঁই করছে। বৃষ্টিপাত ও নদনদীতে জোয়ারের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে মৎস্য বিভাগ। এছাড়া উচ্চ জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা ও করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি তলিয়ে গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, গত দুদিন ধরে জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের বিস্তৃীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুন্দরবনের প্রধান প্রধান নদনদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। কমরজলে পানির উচ্চতা ছিল চার ফুট। সম্প্রতি সময়ে নদীতে যে হারে পানি বাড়ছে তাতে সুন্দরবনের বন্য প্রাণী হুমকির মুখে পড়ছে।

বনের বাঘ, শুকর, হরিণ, বানর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই প্রাণিকুল রক্ষায় সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন এই বন কর্মকর্তা।

বাগেরহাট কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় বাগেরহাট জেলাজুড়ে রবিবার সকাল থেকে থেমে থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত দুই দিনে জেলায় ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে ফকিরহাট উপজেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি জমে বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শীতকালিন সবজিক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই পানি নেমে না গেলে চাষিদের ক্ষতি হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরে লঘু চাপের প্রভাবে জোয়ার ও অব্যাহত বৃষ্টিতে বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ, রামপাল ও মোংলা উপজেলার নদীতীরবর্তি নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কয়েকশ পরিবার সাময়িকভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা তৈরি করতে স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, মোরেলগঞ্জের পৌরসভা অংশে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে উচ্চ জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে। ওই অংশে নদীতীর প্রতিরক্ষার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নদীতীর সংরক্ষণের কাজ চলতি অর্থ বছরে শুরু করা হবে। জোয়ারের পানি ওঠা রোধ করতে মোরেলগঞ্জ উপজেলার জন্য ৯৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর জন্য চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তার সমীক্ষা খুব শিগগির শুরু হবে। ওই বাঁধ নির্মিত হলে পার্শ্ববর্তী রামপাল ও মোংলা উপজেলারও জোয়ারের পানি প্রতিরোধ হবে। এছাড়া বাগেরহাট সদরের জোয়ারের পানি ঠেকাতে জাইকার অর্থায়নে নদীতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ খুবশিগগির শুরুর কথা জানান এই কর্মকর্তা।

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

জোয়ারে প্লাবিত সুন্দরবন, হুমকিতে বন্যপ্রাণী

প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

বঙ্গোপসাগরে নিম্ন চাপের প্রভাবে গত দুদিন থেমে থেমে বৃষ্টি আর জোয়ার পানিতে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার তিনটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে সুন্দরবনের প্রধান নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সুন্দরবন এলাকা ও করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্র তলিয়ে গেছে। সম্প্রতি নদীতে যে হারে পানি বাড়ছে এতে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলে জোয়ারের পানি উঠে উপকূলীয় জেলার সদর, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। জোয়ার ও বৃষ্টির পানি জমে ওইসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তারা ভৈরব নদের উপর টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

অপরদিকে জেলার চিংড়ি মাছের ঘেরগুলোতে পানি ছুঁইছুঁই করছে। বৃষ্টিপাত ও নদনদীতে জোয়ারের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে মৎস্য বিভাগ। এছাড়া উচ্চ জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা ও করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি তলিয়ে গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, গত দুদিন ধরে জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের বিস্তৃীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুন্দরবনের প্রধান প্রধান নদনদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। কমরজলে পানির উচ্চতা ছিল চার ফুট। সম্প্রতি সময়ে নদীতে যে হারে পানি বাড়ছে তাতে সুন্দরবনের বন্য প্রাণী হুমকির মুখে পড়ছে।

বনের বাঘ, শুকর, হরিণ, বানর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই প্রাণিকুল রক্ষায় সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন এই বন কর্মকর্তা।

বাগেরহাট কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় বাগেরহাট জেলাজুড়ে রবিবার সকাল থেকে থেমে থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত দুই দিনে জেলায় ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে ফকিরহাট উপজেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি জমে বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শীতকালিন সবজিক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই পানি নেমে না গেলে চাষিদের ক্ষতি হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরে লঘু চাপের প্রভাবে জোয়ার ও অব্যাহত বৃষ্টিতে বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ, রামপাল ও মোংলা উপজেলার নদীতীরবর্তি নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কয়েকশ পরিবার সাময়িকভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা তৈরি করতে স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, মোরেলগঞ্জের পৌরসভা অংশে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে উচ্চ জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে। ওই অংশে নদীতীর প্রতিরক্ষার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নদীতীর সংরক্ষণের কাজ চলতি অর্থ বছরে শুরু করা হবে। জোয়ারের পানি ওঠা রোধ করতে মোরেলগঞ্জ উপজেলার জন্য ৯৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর জন্য চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তার সমীক্ষা খুব শিগগির শুরু হবে। ওই বাঁধ নির্মিত হলে পার্শ্ববর্তী রামপাল ও মোংলা উপজেলারও জোয়ারের পানি প্রতিরোধ হবে। এছাড়া বাগেরহাট সদরের জোয়ারের পানি ঠেকাতে জাইকার অর্থায়নে নদীতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ খুবশিগগির শুরুর কথা জানান এই কর্মকর্তা।