ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মধুপুরের টিলাজুড়ে সারি সারি আনারস

টিলাজুড়ে শুধু আনারস গাছের সারি। প্রতিটি গাছের মাথা উঁচু করে আছে আনারস। সবুজ আর হলুদ আনারসের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা বাতাস। এখানকার বাতাসই যেন বয়ে বেড়াচ্ছে আনারস সুমিষ্ট সুভাস। এমন দৃশ্য মিলেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কৈয়ামধু গ্রামের হামিদুলের আনারস বাগানে।

২০২০ সালে হামিদুল আত্মীয় বাড়ি বেড়াতেন যান টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায়। যদিও আনারস চাষের রাজধানী খ্যাত মধুপুর। সারি সারি আনারস বাগান দেখে শখ জাগে বাগান করার। বাড়িতে এসে আলোচনা করে উদ্যোগ নেন বাগান তৈরির। মধুর থেকেই সংগ্রহ শুরু হয় আনারসের চারা। তবে আনারস চাষের কথা শুনে পরিবার ও এলাকাবাসীর তাচ্ছিল্য ছাড়া আর কোনো সহযোগিতা মেলেনি তার। পৈতৃক সম্পত্তি ৪ একর এবং নিকট আত্মীয় ২ একর জমি লিজ নিয়ে মোট ৬ একর জমিতে প্রথমে ঝুঁকি নিয়ে ৬০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করেন।

প্রথম বছরে বাম্পার ফলন হয়েছে। সবুজ আর হলুদ আনারসের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা পুরো এলাকা। বাগানের মনোরম দৃশ্য আর সুমিষ্ট আনারসের টানে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই ঢল নামে সেলফিবাজ পর্যটকদের ভিড়। এ বছর প্রায় ৬০ হাজার আনারস বাজার মূল্যে বিক্রি করে ৯ লক্ষ টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ।

স্থানীয় মাসুদ রানা বলেন, উপজেলাজুড়ে হামিদুলের বিষমুক্ত আনারস বাগানের সুনামও ছড়িয়ে পড়েছে। তার সাফল্য দেখে আমিও ভাবছি নিজেদের অনাবাদি টিলায় আনারসের বাগান করাব।

আনারস চাষী হামিদুল হক জানান, এ উপজেলায় আম, পেয়ারা, মালটা ও কাচা মরিচ (দাড়িয়াপুরের কাচামরিচ) চাষের জন্য সুনাম থাকলেও আমি আশা করছি, এবার বিষমুক্ত আনারস আবাদের জন্য সুনাম ছড়াবে। ৬০ হাজার আনারস চারা লাগাতে আমার সকল খরচ পড়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। প্রথমবারেই বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারে পাইকারি মূল্যে বিক্রি করলে আমার প্রায় ৯ লাখ টাকা লাভবান হব। কৃষি অফিস সহযোগিতা করলে আগামীতে আরো জমিতে আনারস চারা করব।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিয়ন্তা বর্মণ বলেন, এ উপজেলার মাটি ফল চাষের জন্য ব্যাপক উপযোগী। কলা, আম, মালটা, ড্রাগন আবাদের সঙ্গে এ উপজেলায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে আনারস চাষ। আমরা বিভিন্ন কৃষকদের আনাবাদি উঁচু জমিতে আনারস চাষে উৎসাহ দিচ্ছি। তবে আমার অনুসন্ধানে এ উপজেলায় হামিদুল প্রথম প্রায় ৬ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাংয়ান্ট কিউ জাতের আনারস চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে।

Tag :

ভ্রাম্যমান আদালতে গাঁজা সেবনকারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

মধুপুরের টিলাজুড়ে সারি সারি আনারস

প্রকাশের সময় : ১০:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

টিলাজুড়ে শুধু আনারস গাছের সারি। প্রতিটি গাছের মাথা উঁচু করে আছে আনারস। সবুজ আর হলুদ আনারসের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা বাতাস। এখানকার বাতাসই যেন বয়ে বেড়াচ্ছে আনারস সুমিষ্ট সুভাস। এমন দৃশ্য মিলেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কৈয়ামধু গ্রামের হামিদুলের আনারস বাগানে।

২০২০ সালে হামিদুল আত্মীয় বাড়ি বেড়াতেন যান টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায়। যদিও আনারস চাষের রাজধানী খ্যাত মধুপুর। সারি সারি আনারস বাগান দেখে শখ জাগে বাগান করার। বাড়িতে এসে আলোচনা করে উদ্যোগ নেন বাগান তৈরির। মধুর থেকেই সংগ্রহ শুরু হয় আনারসের চারা। তবে আনারস চাষের কথা শুনে পরিবার ও এলাকাবাসীর তাচ্ছিল্য ছাড়া আর কোনো সহযোগিতা মেলেনি তার। পৈতৃক সম্পত্তি ৪ একর এবং নিকট আত্মীয় ২ একর জমি লিজ নিয়ে মোট ৬ একর জমিতে প্রথমে ঝুঁকি নিয়ে ৬০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করেন।

প্রথম বছরে বাম্পার ফলন হয়েছে। সবুজ আর হলুদ আনারসের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা পুরো এলাকা। বাগানের মনোরম দৃশ্য আর সুমিষ্ট আনারসের টানে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই ঢল নামে সেলফিবাজ পর্যটকদের ভিড়। এ বছর প্রায় ৬০ হাজার আনারস বাজার মূল্যে বিক্রি করে ৯ লক্ষ টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ।

স্থানীয় মাসুদ রানা বলেন, উপজেলাজুড়ে হামিদুলের বিষমুক্ত আনারস বাগানের সুনামও ছড়িয়ে পড়েছে। তার সাফল্য দেখে আমিও ভাবছি নিজেদের অনাবাদি টিলায় আনারসের বাগান করাব।

আনারস চাষী হামিদুল হক জানান, এ উপজেলায় আম, পেয়ারা, মালটা ও কাচা মরিচ (দাড়িয়াপুরের কাচামরিচ) চাষের জন্য সুনাম থাকলেও আমি আশা করছি, এবার বিষমুক্ত আনারস আবাদের জন্য সুনাম ছড়াবে। ৬০ হাজার আনারস চারা লাগাতে আমার সকল খরচ পড়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। প্রথমবারেই বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারে পাইকারি মূল্যে বিক্রি করলে আমার প্রায় ৯ লাখ টাকা লাভবান হব। কৃষি অফিস সহযোগিতা করলে আগামীতে আরো জমিতে আনারস চারা করব।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিয়ন্তা বর্মণ বলেন, এ উপজেলার মাটি ফল চাষের জন্য ব্যাপক উপযোগী। কলা, আম, মালটা, ড্রাগন আবাদের সঙ্গে এ উপজেলায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে আনারস চাষ। আমরা বিভিন্ন কৃষকদের আনাবাদি উঁচু জমিতে আনারস চাষে উৎসাহ দিচ্ছি। তবে আমার অনুসন্ধানে এ উপজেলায় হামিদুল প্রথম প্রায় ৬ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাংয়ান্ট কিউ জাতের আনারস চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে।