ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রতিবেশী রোহিঙ্গা, উভয় সংকটে স্থানীয়রা

কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেষ্টনীর ভেতর জীবনযাপন করছেন প্রায় ৭ হাজার স্থানীয় নাগরিক। রোহিঙ্গাদের প্রতিবেশী হয়ে তারা এখন উভয় সংকটে পড়েছেন। দিন দিন রোহিঙ্গাদের অত্যাচার বাড়ছে।

উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত নুরুল ইসলাম বলেন, নানা সমস্যা নিয়ে আমাদের বসবাস করতে হয়। অথচ রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে কক্সবাজারসহ সারাদেশে। জোর করে তারা সব সুযোগ-সুবিধা ছিনিয়ে নিচ্ছে। পদে পদে আমাদের লাঞ্ছিত করছে। প্রতিবেশী রোহিঙ্গারা চোখের সামনে ইয়াবা পাচার, বেআইনি অস্ত্র প্রদর্শনসহ নানা অপরাধ করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, আমার ওয়ার্ডে ১৬টি ক্যাম্পে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। ক্যাম্পের ঘেরাওয়ের ভেতর রয়েছে সাড়ে তিন হাজার স্থানীয় বাসিন্দা। রোহিঙ্গাদের নানা অপকর্মের প্রত্যক্ষদর্শী তারা। অথচ তাদের হাত-পা বাঁধা।

ঐ এলাকায় বসবাসকারী নুরুল হক বলেন, আমাদের সন্তানরা রোহিঙ্গাদের কারণে বিপদগামী হচ্ছে। নেই পড়া-লেখার সুষ্ঠু পরিবেশ। কিছু বললেই রোহিঙ্গারা গায়ে পড়ে ঝগড়া করে। নানাভাবে আসে হুমকি।

পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা গ্রামের উপজাতি রূপায়ন চাকমা বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর আমরা চরমভাবে উপেক্ষিত। আমাদের রুটি-রুজির ঠিকানা পাহাড়ি অঞ্চল রোহিঙ্গারা দখল করেছে। ফলে আমাদের বেঁচে থাকা এখন কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার উপজাতিসহ তিন হাজার লোকের বসবাস রোহিঙ্গা কাম্পের কাঁটাতারের ঘেরাও এর ভেতর। তারা ভালো নেই। উভয় সংকটে স্থানীয়রা। ভিটেমাটি রোহিঙ্গাদের দিয়েও শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন না তারা।

Tag :

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ২ সহস্রাধিক, আক্রান্ত সাড়ে ৬ লাখ

প্রতিবেশী রোহিঙ্গা, উভয় সংকটে স্থানীয়রা

প্রকাশের সময় : ১০:৫১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেষ্টনীর ভেতর জীবনযাপন করছেন প্রায় ৭ হাজার স্থানীয় নাগরিক। রোহিঙ্গাদের প্রতিবেশী হয়ে তারা এখন উভয় সংকটে পড়েছেন। দিন দিন রোহিঙ্গাদের অত্যাচার বাড়ছে।

উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত নুরুল ইসলাম বলেন, নানা সমস্যা নিয়ে আমাদের বসবাস করতে হয়। অথচ রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে কক্সবাজারসহ সারাদেশে। জোর করে তারা সব সুযোগ-সুবিধা ছিনিয়ে নিচ্ছে। পদে পদে আমাদের লাঞ্ছিত করছে। প্রতিবেশী রোহিঙ্গারা চোখের সামনে ইয়াবা পাচার, বেআইনি অস্ত্র প্রদর্শনসহ নানা অপরাধ করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, আমার ওয়ার্ডে ১৬টি ক্যাম্পে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। ক্যাম্পের ঘেরাওয়ের ভেতর রয়েছে সাড়ে তিন হাজার স্থানীয় বাসিন্দা। রোহিঙ্গাদের নানা অপকর্মের প্রত্যক্ষদর্শী তারা। অথচ তাদের হাত-পা বাঁধা।

ঐ এলাকায় বসবাসকারী নুরুল হক বলেন, আমাদের সন্তানরা রোহিঙ্গাদের কারণে বিপদগামী হচ্ছে। নেই পড়া-লেখার সুষ্ঠু পরিবেশ। কিছু বললেই রোহিঙ্গারা গায়ে পড়ে ঝগড়া করে। নানাভাবে আসে হুমকি।

পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা গ্রামের উপজাতি রূপায়ন চাকমা বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর আমরা চরমভাবে উপেক্ষিত। আমাদের রুটি-রুজির ঠিকানা পাহাড়ি অঞ্চল রোহিঙ্গারা দখল করেছে। ফলে আমাদের বেঁচে থাকা এখন কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার উপজাতিসহ তিন হাজার লোকের বসবাস রোহিঙ্গা কাম্পের কাঁটাতারের ঘেরাও এর ভেতর। তারা ভালো নেই। উভয় সংকটে স্থানীয়রা। ভিটেমাটি রোহিঙ্গাদের দিয়েও শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন না তারা।