ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পঙ্কজ দেবনাথের পদ হারানোর নেপথ্যে কী?

ক্যাসিনোকাণ্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারানোর তিন বছরের মাথায় এবার আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো পঙ্কজ দেবনাথকে। বরিশাল-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নানা অভিযোগ ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। অন্যদিকে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকা, নিয়োগ বাণিজ্য, জমি দখলসহ অবৈধ উপায়ে বিপুল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে কাজ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব বিষয় আমলে নিয়েই দল থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি সম্প্রতি বরিশাল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সঙ্গেও তিনি বিরোধে জড়িয়েছেন। যেসব কারণেই তাকে দল থেকে অব্যাহতি মুখে পড়তে হয়েছে।

যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতাবলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদসহ অন্যান্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ।’

চিঠিতে উপরোক্ত বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতেও বলা হয়েছে পঙ্কজ দেবনাথকে।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যখন অব্যাহতি দিয়ে চিঠির বিষয়টি আলোচনায় আসে তখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছিলেন এই সংসদ সদস্য। প্রয়াত নেতা সাজেদা চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তিনি সেখানে ছিলেন।

এসময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তার কারণ তিনি খুঁজে দেখছেন।
গত চার বছরে মেহেন্দীগঞ্জে দলকে বিভক্ত করে নিজের বলয় সৃষ্টি করে পঙ্কজ দেবনাথ নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, পঙ্গু করে দেওয়া, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তালুকদার মো. ইউনুস, সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই পঙ্কজ দেবনাথের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের টানাপোড়েন চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। একটি পক্ষ পঙ্কজ নাথের আরেকটি ছিল বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর অনুসারী। দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সহিংসতাও ঘটেছে। পঙ্কজ দেবনাথের গাড়িতেও হামলা হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে উত্থান ঘটে পঙ্কজ দেবনাথের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদকের ওই সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয়তা বাড়ে।

পরে আওয়ামী লীগের সহযোগী স্বেচ্ছাসেবক লীগে যুক্ত হন। ২০০৩ সালে প্রথম সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। আর তার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন হয় ২০১২ সালে। ওই সম্মেলনে পঙ্কজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক পদে রয়ে যান। তার সঙ্গে সভাপতি হন মোল্লা মোহাম্মদ কাউছার।

দুর্দান্ত প্রতাপ নিয়ে রাজনীতিতে থাকা পঙ্কজ চাপে পড়েন ২০১৯ সালে। ওইসময়ে ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. কাউসারের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে অপসারণ করা হয়। সেইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের সব কার্যক্রম থেকেও তাকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

এদিকে ক্যাসিনোবিরোধী সেই অভিযানের পর বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে আসতে থাকে। সেসময় তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকা, নিয়োগ বাণিজ্য, জমিদখলসহ অবৈধ উপায়ে বিপুল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তদন্তও শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

শুধু তাই নয়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে তার যাবতীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিআইএফইউ) মহাব্যবস্থাপক বরাবর চিঠি পাঠায় সংস্থাটি। তার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

দুদকে যখন তাকে নিয়ে এসব নিয়ে ব্যস্ত তখনও কিছুদিন পরপরই পঙ্কজের আসনে আওয়ামী লীগের বিরোধের কথা সামনে আসতে থাকে। প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপকর্মের অভিযোগ করেন নিজ দলের কাজিরহাট আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সঞ্জয় চন্দ্র।

সঞ্জয় চন্দ্র সে সময় সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, জমি দখলসহ ১৬টি অভিযোগ তুলে ধরেন।

এরআগে ২০১৭ সালে মেহেন্দীগঞ্জের ৯টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে পঙ্কজ দেবনাথ ১৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বলে অভিযোগ এনে মামলা করেন পঙ্কজ দেবনাথ। মোট ৪১ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ দুদকে করা মামলাটির তদন্ত শুরু হয় ২০১৮ সালে।

আরও পড়ুন: সাবেক এমপির মাইক্রোফোন কেড়ে নিলেন বর্তমান এমপি!

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় চন্দ্রের অভিযোগ ছিল, পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে মামলা করায় তার লোকজন তার দুই পা, হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়। তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। যাতে ১৮ দিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল।

এদিকে সবশেষ গত ২৮ আগস্ট মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান একটি পক্ষ আরেক পক্ষকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এ সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

মাঝে গত জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে পঙ্কজ দেবনাথের ফোনালাপ ভাইরাল হয়। যেখানে কর্মসূচিতে হামলার ইঙ্গিত দেয়া হয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে। যা নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে তীব্র সমালোচনা হয়।

পঙ্কজ দেবনাথের অব্যাহতির বিষয় নিয়ে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, গত চার বছরে মেহেন্দীগঞ্জে দলকে বিভক্ত করে নিজের বলয় সৃষ্টি করে পঙ্কজ দেবনাথ নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, পঙ্গু করে দেওয়া, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Tag :

২ লাখ টাকার ফুলদানি নিলামে বিক্রি হলো ৯২ কোটি টাকায়

পঙ্কজ দেবনাথের পদ হারানোর নেপথ্যে কী?

প্রকাশের সময় : ১০:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

ক্যাসিনোকাণ্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারানোর তিন বছরের মাথায় এবার আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো পঙ্কজ দেবনাথকে। বরিশাল-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নানা অভিযোগ ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। অন্যদিকে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকা, নিয়োগ বাণিজ্য, জমি দখলসহ অবৈধ উপায়ে বিপুল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে কাজ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব বিষয় আমলে নিয়েই দল থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি সম্প্রতি বরিশাল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সঙ্গেও তিনি বিরোধে জড়িয়েছেন। যেসব কারণেই তাকে দল থেকে অব্যাহতি মুখে পড়তে হয়েছে।

যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতাবলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদসহ অন্যান্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ।’

চিঠিতে উপরোক্ত বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতেও বলা হয়েছে পঙ্কজ দেবনাথকে।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যখন অব্যাহতি দিয়ে চিঠির বিষয়টি আলোচনায় আসে তখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছিলেন এই সংসদ সদস্য। প্রয়াত নেতা সাজেদা চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তিনি সেখানে ছিলেন।

এসময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তার কারণ তিনি খুঁজে দেখছেন।
গত চার বছরে মেহেন্দীগঞ্জে দলকে বিভক্ত করে নিজের বলয় সৃষ্টি করে পঙ্কজ দেবনাথ নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, পঙ্গু করে দেওয়া, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তালুকদার মো. ইউনুস, সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই পঙ্কজ দেবনাথের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের টানাপোড়েন চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। একটি পক্ষ পঙ্কজ নাথের আরেকটি ছিল বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর অনুসারী। দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সহিংসতাও ঘটেছে। পঙ্কজ দেবনাথের গাড়িতেও হামলা হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে উত্থান ঘটে পঙ্কজ দেবনাথের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদকের ওই সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয়তা বাড়ে।

পরে আওয়ামী লীগের সহযোগী স্বেচ্ছাসেবক লীগে যুক্ত হন। ২০০৩ সালে প্রথম সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। আর তার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন হয় ২০১২ সালে। ওই সম্মেলনে পঙ্কজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক পদে রয়ে যান। তার সঙ্গে সভাপতি হন মোল্লা মোহাম্মদ কাউছার।

দুর্দান্ত প্রতাপ নিয়ে রাজনীতিতে থাকা পঙ্কজ চাপে পড়েন ২০১৯ সালে। ওইসময়ে ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. কাউসারের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে অপসারণ করা হয়। সেইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের সব কার্যক্রম থেকেও তাকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

এদিকে ক্যাসিনোবিরোধী সেই অভিযানের পর বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে আসতে থাকে। সেসময় তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকা, নিয়োগ বাণিজ্য, জমিদখলসহ অবৈধ উপায়ে বিপুল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তদন্তও শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

শুধু তাই নয়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে তার যাবতীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিআইএফইউ) মহাব্যবস্থাপক বরাবর চিঠি পাঠায় সংস্থাটি। তার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

দুদকে যখন তাকে নিয়ে এসব নিয়ে ব্যস্ত তখনও কিছুদিন পরপরই পঙ্কজের আসনে আওয়ামী লীগের বিরোধের কথা সামনে আসতে থাকে। প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপকর্মের অভিযোগ করেন নিজ দলের কাজিরহাট আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সঞ্জয় চন্দ্র।

সঞ্জয় চন্দ্র সে সময় সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, জমি দখলসহ ১৬টি অভিযোগ তুলে ধরেন।

এরআগে ২০১৭ সালে মেহেন্দীগঞ্জের ৯টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে পঙ্কজ দেবনাথ ১৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বলে অভিযোগ এনে মামলা করেন পঙ্কজ দেবনাথ। মোট ৪১ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ দুদকে করা মামলাটির তদন্ত শুরু হয় ২০১৮ সালে।

আরও পড়ুন: সাবেক এমপির মাইক্রোফোন কেড়ে নিলেন বর্তমান এমপি!

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় চন্দ্রের অভিযোগ ছিল, পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে মামলা করায় তার লোকজন তার দুই পা, হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়। তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। যাতে ১৮ দিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল।

এদিকে সবশেষ গত ২৮ আগস্ট মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান একটি পক্ষ আরেক পক্ষকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এ সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

মাঝে গত জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে পঙ্কজ দেবনাথের ফোনালাপ ভাইরাল হয়। যেখানে কর্মসূচিতে হামলার ইঙ্গিত দেয়া হয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে। যা নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে তীব্র সমালোচনা হয়।

পঙ্কজ দেবনাথের অব্যাহতির বিষয় নিয়ে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, গত চার বছরে মেহেন্দীগঞ্জে দলকে বিভক্ত করে নিজের বলয় সৃষ্টি করে পঙ্কজ দেবনাথ নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, পঙ্গু করে দেওয়া, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।