ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দৈনিক ২০০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। রোস্টারভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রদান, সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি কমিয়ে আনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুফল পেতে শুরু করেছে। জাতীয় গ্রিড থেকে দিনে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাপ কমে যাওয়ায় সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রাথমিকভাবে মোট চাহিদার ২ হাজার মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয় সরকার। শিডিউল করে লোডশেডিং ও জনসচেতনতা বাড়িয়ে এ ঘাটতি সমন্বয়ের কার্যক্রম হাতে নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

তবে দেড় মাসের কিছু বেশি সময়ের মাথায় লোডশেডিং কমে এসে ঠেকেছে প্রতিদিন পাঁচশ মেগাওয়াটে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বিদ্যুতের চাহিদা আরো কমে আসবে বলে ধারণা করছে বিপিডিবি। ফলে অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক হতে পারে রোস্টারভিত্তিক লোডশেডিং পরিস্থিতি।

বিপিডিবি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে লোডশেডিং কার্যক্রম শুরু করা হলে দেশে তখন দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট। প্রতিদিন ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার পরিকল্পনা নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

সেই অনুযায়ী, ১৫ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং লোডশেডিং ও গৃহীত উদ্যোগের মাধ্যমে বাকি দ্ইু হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রথম দিকে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় না করতে পারায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লোডশেডিং করা হয়। তবে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় বর্তমানে ২ হাজার মেগাওয়াট সাশ্রয় হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ থাকা বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ফের উৎপাদনে আসতে শুরু করেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ন্যাশনাল গ্রিডে বাড়ছে বিদ্যুতের পরিমাণ। অপরদিকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারতের আদানী পাওয়ারের বিদ্যুৎ যুক্ত হতে যাচ্ছে দেশের গ্রিডে। সামগ্রিকভাবে চলতি বছরেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিপিডিবি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বা তার বেশি সাশ্রয় করতে আমরা এক ঘণ্টার জায়গায় অতিরিক্ত লোডশেডিং করলাম। ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদার পিক টাইম রাত ৮টা থেকে ১০টা। কিন্তু রাত ৮টায় দোকান বন্ধ করার নিয়ম যখন চালু হলো, তখন সেই চাহিদা এসে দিনে বিকেল ৫টায় হয়ে গেল। অর্থাৎ যে ডিমান্ড (চাহিদা) রাত ৮টায় ছিল, সেটি নেমে ৫টায় আসলো।

তিনি বলেন, ‘যেখানে দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে অফিসের সময় কমিয়ে আনা, দোকানপাট আগে বন্ধ করা, শিল্পকারখানা শিডিউল করে বন্ধ রাখার ফলে চাহিদা কমে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বাকি ৫০০ মেগাওয়াট আমরা লোডশেডিং করছি।’

লোডশেডিংয়ের ফলে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হলো জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। প্রতিদিনের চাহিদার পূর্বাভাস অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে। ইতিবাচক দিক হলো চাহিদার পরিমাণ আগের চেয়ে কমে এসেছে।’

বিপিডিবি চেয়ারম্যান জানান, এই মুহূর্তে ডিজেলভিত্তিক কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ নেই। যেগুলো বন্ধ করা হয়েছিল, সেগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে গ্যাসভিত্তিক যেগুলো অর্ধেক চালু আর অর্ধেক বন্ধ রাখা হয়েছিল, সেগুলোও সেভাবেই চলছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে গত ২২ আগস্ট সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসের সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়। অফিসের সময়সীমা ৮টা থেকে ৩টা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করে সরকার।

গত ২০ জুলাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের পর্যায় থেকে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সেগুলো হলো- বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে সব মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নিরূপণ করা, সরকারি সব দপ্তরে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ ব্যবহার হ্রাস, জ্বালানি খাতের বাজেট বরাদ্দের ২০ শতাংশ কম ব্যবহারের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি, অনিবার্য না হলে শারীরিক উপস্থিতিতে সভা পরিহার করা এবং অধিকাংশ সভা অনলাইনে আয়োজন করা।

এছাড়া অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়।

Tag :

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ২ সহস্রাধিক, আক্রান্ত সাড়ে ৬ লাখ

দৈনিক ২০০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়

প্রকাশের সময় : ১১:০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। রোস্টারভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রদান, সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি কমিয়ে আনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুফল পেতে শুরু করেছে। জাতীয় গ্রিড থেকে দিনে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাপ কমে যাওয়ায় সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রাথমিকভাবে মোট চাহিদার ২ হাজার মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয় সরকার। শিডিউল করে লোডশেডিং ও জনসচেতনতা বাড়িয়ে এ ঘাটতি সমন্বয়ের কার্যক্রম হাতে নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

তবে দেড় মাসের কিছু বেশি সময়ের মাথায় লোডশেডিং কমে এসে ঠেকেছে প্রতিদিন পাঁচশ মেগাওয়াটে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বিদ্যুতের চাহিদা আরো কমে আসবে বলে ধারণা করছে বিপিডিবি। ফলে অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক হতে পারে রোস্টারভিত্তিক লোডশেডিং পরিস্থিতি।

বিপিডিবি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে লোডশেডিং কার্যক্রম শুরু করা হলে দেশে তখন দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট। প্রতিদিন ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার পরিকল্পনা নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

সেই অনুযায়ী, ১৫ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং লোডশেডিং ও গৃহীত উদ্যোগের মাধ্যমে বাকি দ্ইু হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রথম দিকে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় না করতে পারায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লোডশেডিং করা হয়। তবে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় বর্তমানে ২ হাজার মেগাওয়াট সাশ্রয় হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ থাকা বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ফের উৎপাদনে আসতে শুরু করেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ন্যাশনাল গ্রিডে বাড়ছে বিদ্যুতের পরিমাণ। অপরদিকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারতের আদানী পাওয়ারের বিদ্যুৎ যুক্ত হতে যাচ্ছে দেশের গ্রিডে। সামগ্রিকভাবে চলতি বছরেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিপিডিবি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বা তার বেশি সাশ্রয় করতে আমরা এক ঘণ্টার জায়গায় অতিরিক্ত লোডশেডিং করলাম। ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদার পিক টাইম রাত ৮টা থেকে ১০টা। কিন্তু রাত ৮টায় দোকান বন্ধ করার নিয়ম যখন চালু হলো, তখন সেই চাহিদা এসে দিনে বিকেল ৫টায় হয়ে গেল। অর্থাৎ যে ডিমান্ড (চাহিদা) রাত ৮টায় ছিল, সেটি নেমে ৫টায় আসলো।

তিনি বলেন, ‘যেখানে দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে অফিসের সময় কমিয়ে আনা, দোকানপাট আগে বন্ধ করা, শিল্পকারখানা শিডিউল করে বন্ধ রাখার ফলে চাহিদা কমে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বাকি ৫০০ মেগাওয়াট আমরা লোডশেডিং করছি।’

লোডশেডিংয়ের ফলে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হলো জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। প্রতিদিনের চাহিদার পূর্বাভাস অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে। ইতিবাচক দিক হলো চাহিদার পরিমাণ আগের চেয়ে কমে এসেছে।’

বিপিডিবি চেয়ারম্যান জানান, এই মুহূর্তে ডিজেলভিত্তিক কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ নেই। যেগুলো বন্ধ করা হয়েছিল, সেগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে গ্যাসভিত্তিক যেগুলো অর্ধেক চালু আর অর্ধেক বন্ধ রাখা হয়েছিল, সেগুলোও সেভাবেই চলছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে গত ২২ আগস্ট সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসের সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়। অফিসের সময়সীমা ৮টা থেকে ৩টা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করে সরকার।

গত ২০ জুলাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের পর্যায় থেকে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সেগুলো হলো- বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে সব মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নিরূপণ করা, সরকারি সব দপ্তরে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ ব্যবহার হ্রাস, জ্বালানি খাতের বাজেট বরাদ্দের ২০ শতাংশ কম ব্যবহারের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি, অনিবার্য না হলে শারীরিক উপস্থিতিতে সভা পরিহার করা এবং অধিকাংশ সভা অনলাইনে আয়োজন করা।

এছাড়া অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়।