ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কোহলির ফেরা, বাবরের পতন আর লঙ্কান সারপ্রাইজ

টুর্নামেন্ট শুরুর সময় দর্শক জরিপে শ্রীলঙ্কার কাপ জেতার সম্ভাবনা ছিল শূন্যের কোঠায়। ফেভারিটের ভোট সবচেয়ে বেশি পায় ভারত, এরপর পাকিস্তান। কিন্তু ভারত ফাইনালেই যেতে পারেনি। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচ হেরে সবার আগে বাড়ি ফেরে গত দুই আসরের রানার্সআপরা। ইয়াংস্টার নাসিম শাহ বাজিমাত করেছেন এবার। এশিয়া কাপের এমন পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা তুলে ধরা হলো

‘কিং’ কোহলির নব-উত্থান

শুরু হওয়ার আগে সব ফরম্যাটেই তুখোড় ফর্মে ছিলেন বাবর আজম। অন্যদিকে ধুঁকছিলেন বিরাট কোহলি। টুর্নামেন্ট শেষে দেখা গেল মোহাম্মদ রিজওয়ানের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক রান কোহলির। আর বাবরের অবস্থান তালানিতে।

অথচ কিছুদিন আগেই কোহলিকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বাবর টুইট করেছিলেন, ‘খারাপ সময় কেটে যাবে, ধৈর্য ধরুন।’ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টানা তিন ওয়ানডেতে ফিফটি হাঁকিয়ে আরব আমিরাতে আসেন বাবর আজম। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে করেন ১০ রান। হংকংয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও ব্যর্থ। ৮ বলে ৯ রান করে ফেরেন সাজঘরে। সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাবরের ব্যাটের দিকে তাকিয়েছিল পাকিস্তান। ওই ম্যাচেও ব্যর্থ হন দলীয় অধিনায়ক। আউট হন ১৪ রানে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে মারেন গোল্ডেন ডাক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বহীন ম্যাচে ৩০ রান করার পর অনেকেই ভেবেছিল ফাইনালে হয়তো বড় ইনিংস আসবে বাবরের ব্যাট থেকে। কিন্তু ব্যক্তিগত ৬ রানে প্রমোদ মদুশানের একটা বাজে বলে আউট হয়ে দলকে বিপদে ফেলে দেন তিনি। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে দুই ফিফটি এবং একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বিরাট কোহলি। ৯২.০০ ব্যটিং গড়ে তার সংগ্রহ ২৭৬ রান। এক ম্যাচ বেশি খেলা রিজওয়ান তিন ফিফটিতে করেছেন ২৮১ রান। কোহলি পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৫ ও ৬০, হংকংয়ের বিপক্ষে ৫৯*, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ০ এবং শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলেন ১২২* রানের ইনিংস। এতে তিন বছর পর সেঞ্চুরিখরা কাটে সাবেক অধিনায়কের।

নাসিমকে নিয়ে মাতামাতি

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক। প্রথম ম্যাচেই আগুনে বোলিং। নাসিম শাহ টুর্নামেন্টজুড়েই বজায় রেখেছেন সেটি। শাহীন শাহ আফ্রিদি ফিট থাকলে হয়তো খেলাই হতো না নাসিমের। ১৯ বছর বয়সী এই পেসার ৭ উইকেট নিয়েছেন আসরে। ব্যাট হাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে হয়ে যান নায়ক। ভারতীয় অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলার ইনস্টাগ্রাম রিলে জায়গা পাওয়ার পর নাসিমের নাম ছড়িয়ে পড়েছে বলিউডেও।

আফগান হুমকি

আফগানিস্তান হয়তো ফাইনালে জায়গা পায়নি। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে জয়েই সুপার ফোরে জায়গা করে নেয় মোহাম্মদ নবীর দল। পাকিস্তানকেও প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল তারা। আগামী বিশ^কাপে বড় দলগুলোকে আফগানিস্তান যে পরীক্ষায় ফেলবে কোনো সন্দেহ নেই তাতে। অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী বলেই রেখেছেন, ‘আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরবো।’

সাকিবদের দুর্দশা

এশিয়া কাপের আগে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে নাটক। একটি বেটিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। চুক্তি বাতিল করার পর তাকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু সাকিবের নেতৃত্ব দলে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি। এশিয়া কাপের গত দুই আসরের রানার্সআপরা এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায়। এশিয়া কাপের ব্যর্থতা যেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যতকে আরো অন্ধকারে ঠেলে দিলো।

শ্রীলঙ্কার বাজিমাত

আফগানদের কাছে ৮ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু। তারপর টানা ৫ জয়ে কাপটাই নিয়ে নিলো শ্রীলঙ্কা। ক্রিকেটবোদ্ধাদের ভবিষদ্বাণী, দুবাইয়ের টস ভাগ্যÑ সবকিছুকে ভুল প্রমাণিত করেছে দাসুন শানাকার দল। দুবাইয়ে লঙ্কান ক্রিকেটের সুদিন যেন ফিরলো। টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে সবশেষ এত ধারাবাহিকভাবে খেলতে দেখা গিয়েছিল ২০১৪ সালের বিশ^কাপে। সেবার গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেও টানা পাঁচ জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

Tag :

পূজা চেরিকে হাতেনাতে কার বাসায় ধরলো বুবলী?

কোহলির ফেরা, বাবরের পতন আর লঙ্কান সারপ্রাইজ

প্রকাশের সময় : ১০:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

টুর্নামেন্ট শুরুর সময় দর্শক জরিপে শ্রীলঙ্কার কাপ জেতার সম্ভাবনা ছিল শূন্যের কোঠায়। ফেভারিটের ভোট সবচেয়ে বেশি পায় ভারত, এরপর পাকিস্তান। কিন্তু ভারত ফাইনালেই যেতে পারেনি। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচ হেরে সবার আগে বাড়ি ফেরে গত দুই আসরের রানার্সআপরা। ইয়াংস্টার নাসিম শাহ বাজিমাত করেছেন এবার। এশিয়া কাপের এমন পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা তুলে ধরা হলো

‘কিং’ কোহলির নব-উত্থান

শুরু হওয়ার আগে সব ফরম্যাটেই তুখোড় ফর্মে ছিলেন বাবর আজম। অন্যদিকে ধুঁকছিলেন বিরাট কোহলি। টুর্নামেন্ট শেষে দেখা গেল মোহাম্মদ রিজওয়ানের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক রান কোহলির। আর বাবরের অবস্থান তালানিতে।

অথচ কিছুদিন আগেই কোহলিকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বাবর টুইট করেছিলেন, ‘খারাপ সময় কেটে যাবে, ধৈর্য ধরুন।’ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টানা তিন ওয়ানডেতে ফিফটি হাঁকিয়ে আরব আমিরাতে আসেন বাবর আজম। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে করেন ১০ রান। হংকংয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও ব্যর্থ। ৮ বলে ৯ রান করে ফেরেন সাজঘরে। সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাবরের ব্যাটের দিকে তাকিয়েছিল পাকিস্তান। ওই ম্যাচেও ব্যর্থ হন দলীয় অধিনায়ক। আউট হন ১৪ রানে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে মারেন গোল্ডেন ডাক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বহীন ম্যাচে ৩০ রান করার পর অনেকেই ভেবেছিল ফাইনালে হয়তো বড় ইনিংস আসবে বাবরের ব্যাট থেকে। কিন্তু ব্যক্তিগত ৬ রানে প্রমোদ মদুশানের একটা বাজে বলে আউট হয়ে দলকে বিপদে ফেলে দেন তিনি। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে দুই ফিফটি এবং একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বিরাট কোহলি। ৯২.০০ ব্যটিং গড়ে তার সংগ্রহ ২৭৬ রান। এক ম্যাচ বেশি খেলা রিজওয়ান তিন ফিফটিতে করেছেন ২৮১ রান। কোহলি পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৫ ও ৬০, হংকংয়ের বিপক্ষে ৫৯*, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ০ এবং শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলেন ১২২* রানের ইনিংস। এতে তিন বছর পর সেঞ্চুরিখরা কাটে সাবেক অধিনায়কের।

নাসিমকে নিয়ে মাতামাতি

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক। প্রথম ম্যাচেই আগুনে বোলিং। নাসিম শাহ টুর্নামেন্টজুড়েই বজায় রেখেছেন সেটি। শাহীন শাহ আফ্রিদি ফিট থাকলে হয়তো খেলাই হতো না নাসিমের। ১৯ বছর বয়সী এই পেসার ৭ উইকেট নিয়েছেন আসরে। ব্যাট হাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে হয়ে যান নায়ক। ভারতীয় অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলার ইনস্টাগ্রাম রিলে জায়গা পাওয়ার পর নাসিমের নাম ছড়িয়ে পড়েছে বলিউডেও।

আফগান হুমকি

আফগানিস্তান হয়তো ফাইনালে জায়গা পায়নি। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে জয়েই সুপার ফোরে জায়গা করে নেয় মোহাম্মদ নবীর দল। পাকিস্তানকেও প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল তারা। আগামী বিশ^কাপে বড় দলগুলোকে আফগানিস্তান যে পরীক্ষায় ফেলবে কোনো সন্দেহ নেই তাতে। অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী বলেই রেখেছেন, ‘আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরবো।’

সাকিবদের দুর্দশা

এশিয়া কাপের আগে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে নাটক। একটি বেটিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। চুক্তি বাতিল করার পর তাকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু সাকিবের নেতৃত্ব দলে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি। এশিয়া কাপের গত দুই আসরের রানার্সআপরা এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায়। এশিয়া কাপের ব্যর্থতা যেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যতকে আরো অন্ধকারে ঠেলে দিলো।

শ্রীলঙ্কার বাজিমাত

আফগানদের কাছে ৮ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু। তারপর টানা ৫ জয়ে কাপটাই নিয়ে নিলো শ্রীলঙ্কা। ক্রিকেটবোদ্ধাদের ভবিষদ্বাণী, দুবাইয়ের টস ভাগ্যÑ সবকিছুকে ভুল প্রমাণিত করেছে দাসুন শানাকার দল। দুবাইয়ে লঙ্কান ক্রিকেটের সুদিন যেন ফিরলো। টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে সবশেষ এত ধারাবাহিকভাবে খেলতে দেখা গিয়েছিল ২০১৪ সালের বিশ^কাপে। সেবার গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেও টানা পাঁচ জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।