ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ পেতে অনুপ্রবেশকারীদের দৌঁড়ঝাপ!

দীর্ঘ নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দলের শীর্ষ পদ পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত, জাতীয় পার্টি, জাসদ, জাকের পার্টি ঘুরে আসা বিতর্কিত ব্যক্তিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদ পেতে জোর লবিং শুরু করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতরা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রত্যাশী হয়েছেন এমন খবরে ক্ষোভ জানাচ্ছেন দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাদের দাবি, বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের যেন মূল্যায়ন করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। তবে নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সম্মেলন অনিবার্য কারণে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, ১২ সেপ্টেম্বর কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত রয়েছেন গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে দলে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি-জামায়াত, ফ্রিডম পার্টি থেকে যারা দলে প্রবেশ করেছে তাদেরকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা সম্মেলনের কাউন্সিলর তালিকা রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত কচুয়ায় পৌঁছেনি। তালিকা কচুয়া আওয়ামী লীগের কাছে আসার পর তা যাচাই বাছাই করা হবে। এরপর জেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় করে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের তারিখ জানাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৬ শে জানুয়ারি কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদ প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আইউব আলী পাটোয়ারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ উপ কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কামরুন নাহার ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কবির হোসেন, ডেন্টাল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. শাহাব উদ্দিন মজুমদার নিজাম ও ফয়েজ আহমেদ স্বপন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল জব্বার বাহার, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লালু এবং এ্যাড. হেলাল উদ্দিন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সভাপতি পদ প্রত্যাশী আইউব আলী পাটোয়ারী ২০১৩ সাল থেকে থেকে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একসময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকলেও নানা বিতর্কের কারণে পরবর্তীতে আর তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টির হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। এরপর যোগ দেন আওয়ামী লীগে।

২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া আইউব আলী পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গত এক যুগে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি থেকে অন্তত ১০ জনকে আওয়ামী লীগে পুনর্বাসন করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে একসময়ের বিএনপি নেতা জিকে আলমগীরকে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, জাতীয় পার্টি করা দুলাল প্রধানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাম রাজনীতি করা সম্রাট শাহজাহানকে যুগ্ম সম্পাদক পদ দিতে তার ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগও রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতি পদ প্রত্যাশী কামরুন নাহার ভূঁইয়া। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সমর্থনে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আর মনোনয়ন পাননি তিনি। জানা যায়, তার স্বামী মরহুম কামাল হোসেন ভূঁইয়া ছিলেন ১৯৯৮ সালের আগ পর্যন্ত বিএনপি সমর্থীত তিন বারের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৮ সালে স্বামী-স্ত্রী দু’জন উপজেলা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কবির হোসেন। জানা গেছে, কবির হোসেন ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সেই নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। আরেক সভাপতি প্রার্থী ডা. শামসুদ্দোহা মজুমদার নিজাম। বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসা পেশায় জড়িত নিজাম কালেভদ্রে এলাকায় যান। এছাড়া সভাপতি পদ প্রত্যাশী ফয়েজ আহমেদ স্বপন ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।

ত্রি-বার্ষিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলেনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ ছাত্রাবস্থায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে ছাত্রশিবির থেকে ছাত্রলীগের যোগ দেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন তিনি। আর কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ্যাড. হেলাল উদ্দীন একসময় জাকের পার্টির রাজনীতি করতেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লালু বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেকে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন তারাও পদ প্রত্যাশী। সভাপতি পদ প্রত্যাশী ফয়েজ আহমদ স্বপন ফ্রিডম পার্টি করেছে, সোহাগ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রশিবির করতো। এছাড়া এমন অনেকে পদ প্রত্যাশী আছে। আমাদের দাবি একটাই সুষ্ঠু কাউন্সিল হোক, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের নেতা নির্বাচিত হোক।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল জব্বার বাহার বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু আদর্শের সংগঠন করি। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক সংগঠন, জনগণকে নিয়ে আমরা রাজনীতি করি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি চায়।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে কচুয়ার রাজনীতিতে অপরাজনীতি শুরু হয়। বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনেকে পদ পেয়েছে যারা একসময় জাতীয় পার্টি, জাসদ, শিবির করতো। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সোহাগ চট্টগ্রামে ছাত্রাবস্থায় শিবিরের রাজনীতি করতো বলে আমরা ওখানকার স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী জেনেছি। আসলে ঐ সময়ে তার মতো একটা ছেলে আমাদের দরকার ছিল। তাই সেই সময়ে আমরা তাকে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য পদ দেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ বলেন, আমি জন্মগতভাবে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। শতভাগ আওয়ামী লীগ পরিবার। ১৯৮২ সালে রহিমানগর বি এ বি উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল কমিটির সভাপতি ছিলাম।

তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রামের মহসিন কলেজের ছাত্র ছিলাম। সেখানে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন আমি শিবির করেছি কি-না। আমি ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। এসব আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য করা হচ্ছে।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইউব আলী পাটোয়ারী বলেন, সম্মেলন পরে হবে। এখনো তারিখ জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, আমি জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করেছি এটা মিথ্যা কথা। বিএনপি, জাতীয় পার্টি থেকে আসা ব্যক্তিদের দলে পদ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো ভিত্তিহীন কথা।

সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্মেলন অনিবার্য কারণে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ হয়নি। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম তারিখ নির্ধারণ করে জানাবেন।

তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করেছে তারা দলের পদে আসবে না। এটা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত।

Tag :

২ লাখ টাকার ফুলদানি নিলামে বিক্রি হলো ৯২ কোটি টাকায়

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ পেতে অনুপ্রবেশকারীদের দৌঁড়ঝাপ!

প্রকাশের সময় : ১০:৫১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

দীর্ঘ নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দলের শীর্ষ পদ পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত, জাতীয় পার্টি, জাসদ, জাকের পার্টি ঘুরে আসা বিতর্কিত ব্যক্তিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদ পেতে জোর লবিং শুরু করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতরা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রত্যাশী হয়েছেন এমন খবরে ক্ষোভ জানাচ্ছেন দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাদের দাবি, বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের যেন মূল্যায়ন করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। তবে নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সম্মেলন অনিবার্য কারণে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, ১২ সেপ্টেম্বর কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত রয়েছেন গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে দলে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি-জামায়াত, ফ্রিডম পার্টি থেকে যারা দলে প্রবেশ করেছে তাদেরকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা সম্মেলনের কাউন্সিলর তালিকা রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত কচুয়ায় পৌঁছেনি। তালিকা কচুয়া আওয়ামী লীগের কাছে আসার পর তা যাচাই বাছাই করা হবে। এরপর জেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় করে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের তারিখ জানাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৬ শে জানুয়ারি কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদ প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আইউব আলী পাটোয়ারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ উপ কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কামরুন নাহার ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কবির হোসেন, ডেন্টাল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. শাহাব উদ্দিন মজুমদার নিজাম ও ফয়েজ আহমেদ স্বপন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল জব্বার বাহার, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লালু এবং এ্যাড. হেলাল উদ্দিন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সভাপতি পদ প্রত্যাশী আইউব আলী পাটোয়ারী ২০১৩ সাল থেকে থেকে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একসময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকলেও নানা বিতর্কের কারণে পরবর্তীতে আর তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টির হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। এরপর যোগ দেন আওয়ামী লীগে।

২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া আইউব আলী পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গত এক যুগে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি থেকে অন্তত ১০ জনকে আওয়ামী লীগে পুনর্বাসন করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে একসময়ের বিএনপি নেতা জিকে আলমগীরকে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, জাতীয় পার্টি করা দুলাল প্রধানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাম রাজনীতি করা সম্রাট শাহজাহানকে যুগ্ম সম্পাদক পদ দিতে তার ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগও রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতি পদ প্রত্যাশী কামরুন নাহার ভূঁইয়া। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সমর্থনে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আর মনোনয়ন পাননি তিনি। জানা যায়, তার স্বামী মরহুম কামাল হোসেন ভূঁইয়া ছিলেন ১৯৯৮ সালের আগ পর্যন্ত বিএনপি সমর্থীত তিন বারের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৮ সালে স্বামী-স্ত্রী দু’জন উপজেলা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কবির হোসেন। জানা গেছে, কবির হোসেন ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সেই নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। আরেক সভাপতি প্রার্থী ডা. শামসুদ্দোহা মজুমদার নিজাম। বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসা পেশায় জড়িত নিজাম কালেভদ্রে এলাকায় যান। এছাড়া সভাপতি পদ প্রত্যাশী ফয়েজ আহমেদ স্বপন ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।

ত্রি-বার্ষিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলেনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ ছাত্রাবস্থায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে ছাত্রশিবির থেকে ছাত্রলীগের যোগ দেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন তিনি। আর কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ্যাড. হেলাল উদ্দীন একসময় জাকের পার্টির রাজনীতি করতেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লালু বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেকে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন তারাও পদ প্রত্যাশী। সভাপতি পদ প্রত্যাশী ফয়েজ আহমদ স্বপন ফ্রিডম পার্টি করেছে, সোহাগ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রশিবির করতো। এছাড়া এমন অনেকে পদ প্রত্যাশী আছে। আমাদের দাবি একটাই সুষ্ঠু কাউন্সিল হোক, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের নেতা নির্বাচিত হোক।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল জব্বার বাহার বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু আদর্শের সংগঠন করি। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক সংগঠন, জনগণকে নিয়ে আমরা রাজনীতি করি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি চায়।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে কচুয়ার রাজনীতিতে অপরাজনীতি শুরু হয়। বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনেকে পদ পেয়েছে যারা একসময় জাতীয় পার্টি, জাসদ, শিবির করতো। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সোহাগ চট্টগ্রামে ছাত্রাবস্থায় শিবিরের রাজনীতি করতো বলে আমরা ওখানকার স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী জেনেছি। আসলে ঐ সময়ে তার মতো একটা ছেলে আমাদের দরকার ছিল। তাই সেই সময়ে আমরা তাকে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য পদ দেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ বলেন, আমি জন্মগতভাবে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। শতভাগ আওয়ামী লীগ পরিবার। ১৯৮২ সালে রহিমানগর বি এ বি উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল কমিটির সভাপতি ছিলাম।

তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রামের মহসিন কলেজের ছাত্র ছিলাম। সেখানে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন আমি শিবির করেছি কি-না। আমি ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। এসব আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য করা হচ্ছে।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইউব আলী পাটোয়ারী বলেন, সম্মেলন পরে হবে। এখনো তারিখ জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, আমি জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করেছি এটা মিথ্যা কথা। বিএনপি, জাতীয় পার্টি থেকে আসা ব্যক্তিদের দলে পদ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো ভিত্তিহীন কথা।

সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্মেলন অনিবার্য কারণে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ হয়নি। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম তারিখ নির্ধারণ করে জানাবেন।

তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করেছে তারা দলের পদে আসবে না। এটা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত।