ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা

টাকায় মেলে নকল প্রশ্ন, সিন্ডিকেটের দৌড়ঝাঁপ

পরীক্ষায় নকল একটি মারাত্মক অপরাধ। অনেক পরীক্ষার্থী বুঝে এবং না বুঝেও এই অপরাধ করছে। অসৎ পরীক্ষার্থীদের নকল করার ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন-১৯৮০ অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে নকলের সুনির্দিষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োগ হচ্ছে না।

আইনে বলা আছে, ‘যিনি বা যারা কোনো পরীক্ষার্থীকে কোনো লিখিত উত্তর অথবা কোনো বই বা লিখিত কাগজ অথবা তার কোনো পৃষ্ঠা কিংবা কোনো উদ্ধৃতি পরীক্ষার হলে সরবরাহ করেন অথবা মৌখিকভাবে বা যান্ত্রিক উপায়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য বলে দিয়ে সহায়তা করেন, তিনি বা তারা ধারা ৯ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

এসব আইনের কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করেই এসএসসি পরীক্ষা আসলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় শুরু হয় কেন্দ্রে নকল সরবরাহকারী চক্রের সদস্যদের দৌড়ঝাঁপ। নকল সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই একটি চক্রের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার ৫৪টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে ১৪টি সেন্টারে।

উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছেলে-মেয়ে যতই মেধাবী হোক না কেন, অভিভাবকদের সামর্থ না থাকলেও বিদ্যালয়ে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, সেখানে প্রাইভেট পড়াতে হয়। না পড়ালেই নম্বর কম দেওয়া শুরু হয় পরীক্ষার খাতায়। যার ফলে অনেক অভিভাবকই ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বাচ্চাদেরকে প্রাইভেট পড়াতে হয়। আর পরীক্ষা আসলে তো শুরু হয় আরেক এলাহি কাণ্ড। কয়েকজন অসাধু শিক্ষকের একটি সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে উঠে পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহ করার জন্য।

যারা ওই সিন্ডিকেটের কাছে প্রাইভেট পড়ে, তাদের কাছে নকল সরবরাহ করে প্রতি পরীক্ষায় নেওয়া হয় ১ হাজার টাকা। যারা তাদের কাছে প্রাইভেট না পড়ে সেইসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নকল সরবরাহর জন্য নেওয়া হয় ৩ হাজার টাকা। অপরদিকে যারা সারা বছর পড়ার নামে ঠনঠনাঠন, তাদের কাছ থেকে নকল সরবরাহ করে ভালো রেজাল্ট পাইয়ে দিতে নেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তার সন্তানের সঙ্গে পরীক্ষার হলে খারাপ আচরণ করা হয়। ফলে অভিযোগ তো দূরের কথা, ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হন না। এদিকে এসএসসি পরীক্ষায় কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের অসাধু শিক্ষক কর্তৃক নকল সরবরাহের বিষয়টি ‘ওপেন সিক্রেট’। সেই অসাধু শিক্ষকদের নিয়েই তৈরি হয়েছে এবারের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি। যেটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সচেতন মহলে চলছে তীব্র সমালোচনা।

রামচন্দ্রপুর রামকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক নিজেই একটি সিন্ডিকেট পালেন। যেখানে ছয় সদস্যের একটি শিক্ষকের টিম রয়েছে। কেবল তাদের কাছে প্রাইভেট পড়লেই এসএসসি পরীক্ষায় পাওয়া যায় ভালো নকলের সুযোগ-সুবিধা। তাদের কাছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কোনো মূল্যায়ন নেই। প্রতিটি পরীক্ষায় অভিভাবকদের সঙ্গে দাম দর করে নকল সরবরাহ করা হয়। ওই সিন্ডিকেটের শিক্ষকরা নিজেরাই পরীক্ষার হলে এসব নকল বহন করে থাকেন। জানা যায়, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই এসব সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের ফলে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে মেধাবীরা। সেটা একটি জাতির জন্য অশনি সংকেত।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মুরাদনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, নকল কি জিনিস! এই শব্দটির সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীরা পরিচিত না। এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে তাদেরকে আমরা নিজের সন্তানের মতো করে প্রস্তুত করে থাকি। আমরা বিনে পয়সায় তাদেরকে অতিরিক্ত ক্লাস করিয়ে থাকি। নকল সরবরাহের মতো খারাপ কাজে আমার কোনো শিক্ষক জড়িত না। যারা বলেছে, তারা সত্য কথা বলেনি।

কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, নকল সিন্ডিকেটের বিষয়টি আমার জানা নেই। টাকার বিনিময়ে নকল সাপ্লাই দেওয়ার বিষয়টিও আমার অজানা। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমি সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম।

মুরাদনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময় পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা প্রতিটি পরীক্ষায় শতভাগ নকলমুক্ত রাখার চেষ্টা করি। এই বছরও তার ব্যতিক্রম কিছু হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ যেসব কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোকে নজরে রেখে পুরো উপজেলাতেই শতভাগ এসএসসি পরীক্ষা নকলমুক্ত রাখার চেষ্টা করব।

মুরাদনগর ইউএনও আলাউদ্দিন ভুইয়া জনি বলেন, আগে কি হয়েছে না হয়েছে, এই বিষয়ে আমার জানা নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, পরীক্ষা নকলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষায় নকলের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। যদি এমন কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা

টাকায় মেলে নকল প্রশ্ন, সিন্ডিকেটের দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

পরীক্ষায় নকল একটি মারাত্মক অপরাধ। অনেক পরীক্ষার্থী বুঝে এবং না বুঝেও এই অপরাধ করছে। অসৎ পরীক্ষার্থীদের নকল করার ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন-১৯৮০ অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে নকলের সুনির্দিষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োগ হচ্ছে না।

আইনে বলা আছে, ‘যিনি বা যারা কোনো পরীক্ষার্থীকে কোনো লিখিত উত্তর অথবা কোনো বই বা লিখিত কাগজ অথবা তার কোনো পৃষ্ঠা কিংবা কোনো উদ্ধৃতি পরীক্ষার হলে সরবরাহ করেন অথবা মৌখিকভাবে বা যান্ত্রিক উপায়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য বলে দিয়ে সহায়তা করেন, তিনি বা তারা ধারা ৯ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

এসব আইনের কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করেই এসএসসি পরীক্ষা আসলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় শুরু হয় কেন্দ্রে নকল সরবরাহকারী চক্রের সদস্যদের দৌড়ঝাঁপ। নকল সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই একটি চক্রের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার ৫৪টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে ১৪টি সেন্টারে।

উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছেলে-মেয়ে যতই মেধাবী হোক না কেন, অভিভাবকদের সামর্থ না থাকলেও বিদ্যালয়ে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, সেখানে প্রাইভেট পড়াতে হয়। না পড়ালেই নম্বর কম দেওয়া শুরু হয় পরীক্ষার খাতায়। যার ফলে অনেক অভিভাবকই ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বাচ্চাদেরকে প্রাইভেট পড়াতে হয়। আর পরীক্ষা আসলে তো শুরু হয় আরেক এলাহি কাণ্ড। কয়েকজন অসাধু শিক্ষকের একটি সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে উঠে পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহ করার জন্য।

যারা ওই সিন্ডিকেটের কাছে প্রাইভেট পড়ে, তাদের কাছে নকল সরবরাহ করে প্রতি পরীক্ষায় নেওয়া হয় ১ হাজার টাকা। যারা তাদের কাছে প্রাইভেট না পড়ে সেইসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নকল সরবরাহর জন্য নেওয়া হয় ৩ হাজার টাকা। অপরদিকে যারা সারা বছর পড়ার নামে ঠনঠনাঠন, তাদের কাছ থেকে নকল সরবরাহ করে ভালো রেজাল্ট পাইয়ে দিতে নেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তার সন্তানের সঙ্গে পরীক্ষার হলে খারাপ আচরণ করা হয়। ফলে অভিযোগ তো দূরের কথা, ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হন না। এদিকে এসএসসি পরীক্ষায় কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের অসাধু শিক্ষক কর্তৃক নকল সরবরাহের বিষয়টি ‘ওপেন সিক্রেট’। সেই অসাধু শিক্ষকদের নিয়েই তৈরি হয়েছে এবারের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি। যেটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সচেতন মহলে চলছে তীব্র সমালোচনা।

রামচন্দ্রপুর রামকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক নিজেই একটি সিন্ডিকেট পালেন। যেখানে ছয় সদস্যের একটি শিক্ষকের টিম রয়েছে। কেবল তাদের কাছে প্রাইভেট পড়লেই এসএসসি পরীক্ষায় পাওয়া যায় ভালো নকলের সুযোগ-সুবিধা। তাদের কাছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কোনো মূল্যায়ন নেই। প্রতিটি পরীক্ষায় অভিভাবকদের সঙ্গে দাম দর করে নকল সরবরাহ করা হয়। ওই সিন্ডিকেটের শিক্ষকরা নিজেরাই পরীক্ষার হলে এসব নকল বহন করে থাকেন। জানা যায়, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই এসব সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের ফলে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে মেধাবীরা। সেটা একটি জাতির জন্য অশনি সংকেত।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মুরাদনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, নকল কি জিনিস! এই শব্দটির সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীরা পরিচিত না। এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে তাদেরকে আমরা নিজের সন্তানের মতো করে প্রস্তুত করে থাকি। আমরা বিনে পয়সায় তাদেরকে অতিরিক্ত ক্লাস করিয়ে থাকি। নকল সরবরাহের মতো খারাপ কাজে আমার কোনো শিক্ষক জড়িত না। যারা বলেছে, তারা সত্য কথা বলেনি।

কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, নকল সিন্ডিকেটের বিষয়টি আমার জানা নেই। টাকার বিনিময়ে নকল সাপ্লাই দেওয়ার বিষয়টিও আমার অজানা। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমি সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম।

মুরাদনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময় পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা প্রতিটি পরীক্ষায় শতভাগ নকলমুক্ত রাখার চেষ্টা করি। এই বছরও তার ব্যতিক্রম কিছু হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ যেসব কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোকে নজরে রেখে পুরো উপজেলাতেই শতভাগ এসএসসি পরীক্ষা নকলমুক্ত রাখার চেষ্টা করব।

মুরাদনগর ইউএনও আলাউদ্দিন ভুইয়া জনি বলেন, আগে কি হয়েছে না হয়েছে, এই বিষয়ে আমার জানা নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, পরীক্ষা নকলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষায় নকলের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। যদি এমন কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।