ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

১০ দিনের অবসর ভেঙে ফেরা ভানুকাই নায়ক

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে নানা অস্থিরতার কারণে চলতি বছরের শুরুতে হুট করেই একাধিক ক্রিকেটার অবসর নিতে থাকেন, তাদেরই একজন ভানুকা রাজাপাকসা। এই তো গত ৩ জানুয়ারি ব্যাট প্যাড তুলে রাখার ঘোষণা দেন এই ব্যাটসম্যান। অবসরের মিছিল লম্বা হতে থাকলে নড়েচড়ে বসে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ১০ দিন পরই অবসর প্রত্যাহার করে নেন এবং তিনিই এশিয়া কাপ ফাইনাল জয়ের নায়ক।

গত বছর কি একটা অস্থিরতাই না গেলো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে। কেন্দ্রীয় চুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে নতুন এক পয়েন্ট চালু করার পর তালিকায় নাম থাকলেও তাতে স্বাক্ষর না করে বিদ্রোহ করেছিলেন ক্রিকেটাররা। এমনকি একযোগে অবসর নেওয়ার হুমকি দেন তারা। গত বছরের শেষ দিকে নতুন বাধ্যতামূলক ফিটনেস শর্ত জুড়ে দিলে অবসর নেন দানুশকা গুনাথিলাকা ও ভানুকা। দুজনেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

ভানুকা অবসর থেকে সরে এসে ভালোই করেছেন। এই এশিয়া কাপে ফেভারিট না হয়েও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা, আর ফাইনালে জয়ের নায়ক তিনিই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার তিন বছরও পূর্ণ করেননি। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ভানুকার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রোববার ফাইনালে দুবাইয়ে একই দলের বিপক্ষে খেললেন ২৭তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। দল যখন ধুঁকছিল, তখন ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান ৩০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ৪৫ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৭১ রানের হার না মানা এই ইনিংসে ভর করেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর করে শ্রীলঙ্কা।

এই ছোট্ট ক্যারিয়ারে অনেক সেরা ইনিংসের মধ্যে এটিকে রাখলেন ভানুকা, ‘অবশ্যই এটা চমৎকার মুহূর্ত এবং অল্প সময়ে আমার খেলা সেরা ইনিংসগুলোর একটি।’ দলের পুরোনো আগ্রাসী মনোভাব ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ছিলেন তিনি, ‘আমরা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিলাম, কয়েক দশক আগে আমাদের দলে আগ্রাসন ছিল এবং আমরা সেই মুহূর্তগুলো আবারও তৈরি করতে চেয়েছিলাম। আমি মনে করি একটি দল হিসেবে আমরা এই মুহূর্তে সেটা চমৎকারভাবে করছি, আমরা এখন বিশ্বকাপে তাকিয়ে এবং এই মোমেন্টাম ধরে রাখতে চাই।’

দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত কয়েক মাস খারাপ গেছে দেশবাসীর। এই জয় তাদের মুখে হাসি ফুটাবে বিশ্বাস ভানুকার, ‘একটি জাতি হিসেবে যে সংকটের মধ্যে আমরা আছি, তার মধ্যে এমন জয় সত্যিই দারুণ বলে মনে করি আমি। শ্রীলঙ্কানদের জন্য কঠিন সময় যাচ্ছে এবং আমরা খুশি, আমরা আশাবাদী তাদের মুখে কিছুটা হাসি এনে দিতে পেরেছি।’

শুধু ফাইনাল কেন, পুরো টুর্নামেন্টে ভানুকা ছিলেন দুর্দান্ত। আফগানিস্তানের কাছে ১০৫ রানে অলআউটের ম্যাচে ইনিংস সেরা ৩৮ রান করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ রান করলেও সুপার ফোরে আফগানদের বিপক্ষে খেলেন ৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। ভারতের বিপক্ষে ২৫ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে আসেন। সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ২৪ রান। তারই ধারাবাহিকতায় ফাইনালে নিজেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। বলা যায়, তাকে ফিরিয়ে ভালোই করেছে শ্রীলঙ্কা। প্রতিদান দিয়েছেন নিজের সেরাটা দিয়ে।

Tag :

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ২ সহস্রাধিক, আক্রান্ত সাড়ে ৬ লাখ

১০ দিনের অবসর ভেঙে ফেরা ভানুকাই নায়ক

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে নানা অস্থিরতার কারণে চলতি বছরের শুরুতে হুট করেই একাধিক ক্রিকেটার অবসর নিতে থাকেন, তাদেরই একজন ভানুকা রাজাপাকসা। এই তো গত ৩ জানুয়ারি ব্যাট প্যাড তুলে রাখার ঘোষণা দেন এই ব্যাটসম্যান। অবসরের মিছিল লম্বা হতে থাকলে নড়েচড়ে বসে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ১০ দিন পরই অবসর প্রত্যাহার করে নেন এবং তিনিই এশিয়া কাপ ফাইনাল জয়ের নায়ক।

গত বছর কি একটা অস্থিরতাই না গেলো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে। কেন্দ্রীয় চুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে নতুন এক পয়েন্ট চালু করার পর তালিকায় নাম থাকলেও তাতে স্বাক্ষর না করে বিদ্রোহ করেছিলেন ক্রিকেটাররা। এমনকি একযোগে অবসর নেওয়ার হুমকি দেন তারা। গত বছরের শেষ দিকে নতুন বাধ্যতামূলক ফিটনেস শর্ত জুড়ে দিলে অবসর নেন দানুশকা গুনাথিলাকা ও ভানুকা। দুজনেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

ভানুকা অবসর থেকে সরে এসে ভালোই করেছেন। এই এশিয়া কাপে ফেভারিট না হয়েও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা, আর ফাইনালে জয়ের নায়ক তিনিই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার তিন বছরও পূর্ণ করেননি। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ভানুকার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রোববার ফাইনালে দুবাইয়ে একই দলের বিপক্ষে খেললেন ২৭তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। দল যখন ধুঁকছিল, তখন ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান ৩০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ৪৫ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৭১ রানের হার না মানা এই ইনিংসে ভর করেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর করে শ্রীলঙ্কা।

এই ছোট্ট ক্যারিয়ারে অনেক সেরা ইনিংসের মধ্যে এটিকে রাখলেন ভানুকা, ‘অবশ্যই এটা চমৎকার মুহূর্ত এবং অল্প সময়ে আমার খেলা সেরা ইনিংসগুলোর একটি।’ দলের পুরোনো আগ্রাসী মনোভাব ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ছিলেন তিনি, ‘আমরা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিলাম, কয়েক দশক আগে আমাদের দলে আগ্রাসন ছিল এবং আমরা সেই মুহূর্তগুলো আবারও তৈরি করতে চেয়েছিলাম। আমি মনে করি একটি দল হিসেবে আমরা এই মুহূর্তে সেটা চমৎকারভাবে করছি, আমরা এখন বিশ্বকাপে তাকিয়ে এবং এই মোমেন্টাম ধরে রাখতে চাই।’

দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত কয়েক মাস খারাপ গেছে দেশবাসীর। এই জয় তাদের মুখে হাসি ফুটাবে বিশ্বাস ভানুকার, ‘একটি জাতি হিসেবে যে সংকটের মধ্যে আমরা আছি, তার মধ্যে এমন জয় সত্যিই দারুণ বলে মনে করি আমি। শ্রীলঙ্কানদের জন্য কঠিন সময় যাচ্ছে এবং আমরা খুশি, আমরা আশাবাদী তাদের মুখে কিছুটা হাসি এনে দিতে পেরেছি।’

শুধু ফাইনাল কেন, পুরো টুর্নামেন্টে ভানুকা ছিলেন দুর্দান্ত। আফগানিস্তানের কাছে ১০৫ রানে অলআউটের ম্যাচে ইনিংস সেরা ৩৮ রান করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ রান করলেও সুপার ফোরে আফগানদের বিপক্ষে খেলেন ৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। ভারতের বিপক্ষে ২৫ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে আসেন। সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ২৪ রান। তারই ধারাবাহিকতায় ফাইনালে নিজেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। বলা যায়, তাকে ফিরিয়ে ভালোই করেছে শ্রীলঙ্কা। প্রতিদান দিয়েছেন নিজের সেরাটা দিয়ে।