ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মোংলায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবছে সুন্দরবন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি স্থলনিম্নচাপে পরিণত হয়ে ভারতের দক্ষিণ মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি স্থলভাগ দিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোংলা আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ অমরেশ চন্দ্র ঢালী। তিনি সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বলেন, এর প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ সংলগ্ন সাগর ও সুন্দরবন উপকূলে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসের গতি বেগ ঘণ্টায় ১৫ নটিক্যাল মাইল।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ৩০ মিলিমিটার, আর সোমবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এমন বৈরি আবহাওয়া আজ ও কাল পর্যন্ত করবে। পরশুদিন থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন এ আবহাওয়া কর্মকর্তা। তবে পূর্ণিমার গোন ও নিম্নচাপের প্রভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট উচ্চতার জ্বলোচ্ছাসে প্লাবিত হবে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা।

এ দিকে রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে পৌর শহর ও উপজেলা বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাতে শহরে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে, রাস্তাঘাটে লোকজনও নেই তেমন।
বঙ্গোপসাগরের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ মজুমদার বলেন, ৩ ফুটের জ্বলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছে দুবলাসহ পুরো সুন্দরবন। অস্বাভাবিক জোয়ারে আজও তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র।

করমজলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, তিন ফুটের মত বেশি পানি হয়েছিলো, আজ পানি আরো বাড়ছে তাতে পুরো জোয়ারের সময় তিন থেকে চার ফুট পানি বেশি হওয়ার আশংকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

খুব বেশি বাতাস না থাকায় বৃষ্টিতে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও পরিবহণে খুব বেশি সমস্যা হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আঃ ওয়াদুদ তরফদার। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে জাহাজের কাজ চলে থাকে, কিন্ত বাতাস বেশি হলে তা ব্যাহত হয়। আর তিন নম্বর সংকেতে সাধারণত বন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিকই থাকে বলে জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

মোংলায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবছে সুন্দরবন

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি স্থলনিম্নচাপে পরিণত হয়ে ভারতের দক্ষিণ মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি স্থলভাগ দিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোংলা আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ অমরেশ চন্দ্র ঢালী। তিনি সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বলেন, এর প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ সংলগ্ন সাগর ও সুন্দরবন উপকূলে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসের গতি বেগ ঘণ্টায় ১৫ নটিক্যাল মাইল।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ৩০ মিলিমিটার, আর সোমবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এমন বৈরি আবহাওয়া আজ ও কাল পর্যন্ত করবে। পরশুদিন থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন এ আবহাওয়া কর্মকর্তা। তবে পূর্ণিমার গোন ও নিম্নচাপের প্রভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট উচ্চতার জ্বলোচ্ছাসে প্লাবিত হবে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা।

এ দিকে রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে পৌর শহর ও উপজেলা বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাতে শহরে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে, রাস্তাঘাটে লোকজনও নেই তেমন।
বঙ্গোপসাগরের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ মজুমদার বলেন, ৩ ফুটের জ্বলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছে দুবলাসহ পুরো সুন্দরবন। অস্বাভাবিক জোয়ারে আজও তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র।

করমজলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, তিন ফুটের মত বেশি পানি হয়েছিলো, আজ পানি আরো বাড়ছে তাতে পুরো জোয়ারের সময় তিন থেকে চার ফুট পানি বেশি হওয়ার আশংকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

খুব বেশি বাতাস না থাকায় বৃষ্টিতে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও পরিবহণে খুব বেশি সমস্যা হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আঃ ওয়াদুদ তরফদার। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে জাহাজের কাজ চলে থাকে, কিন্ত বাতাস বেশি হলে তা ব্যাহত হয়। আর তিন নম্বর সংকেতে সাধারণত বন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিকই থাকে বলে জানান তিনি।