ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওয়ার্ক পারমিট নেই ভারতীয় সিনেমায় যুক্ত ৯০ শতাংশ বিদেশির!

অন্য দেশ থেকে এসে বলিউডে কাজ করছেন অনেকে। বলিউডে কাজ করা এসব বিদেশীর ৯০ শতাংশের কাছেই বৈধ অনুমোদন (ওয়ার্ক পারমিট) নেই। এমনটিই দাবি করেছে ভারতীয় সিনেমার কলাকুশলীদের ইউনিয়ন। তারা বলছেন, বিদেশ থেকে আসা ওই পেশাদারদের জন্য অনেক ভারতীয় কাজ হারাচ্ছেন বলিউডে। অথচ যাদের জন্য তাদের এই দুরবস্থা, তারা আইনতভাবে বলিউডে কাজ করতেই পারেন না।

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম ক্ষেত্রের মতো ভারতীয় সিনেমা জগতেও সম্প্রতি বিদেশি পেশাদারদের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিউডে সিনেমাটোগ্রাফি, নির্দেশনা, প্রযোজনা, চিত্রনাট্য লেখা থেকে শুরু করে জুনিয়র শিল্পী, নৃত্যশিল্পী, রূপটান শিল্পী, হেয়ার স্টাইলিস্ট, অ্যাকশন ডিরেক্টর, স্টান্টম্যান, কস্টিউম ডিজাইনার, আর্ট ডিরেক্টরÍ সব ক্ষেত্রেই বিদেশি নিয়োগের প্রবণতা ইদানিং বেড়েছে।

মূলত ব্রিটেন, রাশিয়া এবং উজবেকিস্তানের পেশাদারদের ওই কাজে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। তার কারণ মূলত দুটি। প্রথমত, বহু প্রতিভা চেখে দেখে কাজের সঠিক লোকটি খুঁজে বের করা। দ্বিতীয়ত, এতে আর্থিকভাবেও উপকৃত হয় ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প।

যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ ইউনিয়নগুলো। ‘ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ’-এর চেয়ারম্যান অশোক দুবে বলেন, ছবি বানানোর কাজের সঙ্গে কারা যুক্ত থাকবেন, তা মূলত ঠিক করেন প্রযোজকেরা। বিদেশিদের নিয়োগ করার ফলে আমাদের দেশের লোক কাজ পাচ্ছেন না।

শুধু তা-ই নয়, অধিকাংশ বিদেশিই ভিসা সংক্রান্ত নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ‘বেআইনি’ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অশোকের দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশি পেশাদার বেআইনিভাবে এ দেশে কাজ করছেন। তাদের কাছে যথাযথ কাগজপত্রও নেই। এ নিয়ে তিনি মুম্বাই পুলিশেরও দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, পুরো বিষয়টা একাধিকবার মুম্বাই পুলিশের নজরে এনেছি আমরা। কিন্তু আমাদের কথায় কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমাদের ইউনিয়নে অন্তত তিন লাখ পেশাদার রয়েছেন। আমরা তাদের জন্য লড়ে যাব।

মূলত, ভারতে পাকিস্তানি অভিনেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেভাবে কেন অন্য দেশের পেশাদারদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। বিজেপি চিত্রপট ইউনিয়নের সভাপতি সন্দীপ ঘুগেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার কথায়, ভারতীয় কলাকুশলীদের প্রতি এটা অবিচার ছাড়া আর কিছু নয়। পর্যটকের ভিসা নিয়ে এ দেশে এসে কাজ করে যাচ্ছেন বিদেশিরা। আমি মুম্বাই পুলিশ এবং ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

ওয়ার্ক পারমিট নেই ভারতীয় সিনেমায় যুক্ত ৯০ শতাংশ বিদেশির!

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

অন্য দেশ থেকে এসে বলিউডে কাজ করছেন অনেকে। বলিউডে কাজ করা এসব বিদেশীর ৯০ শতাংশের কাছেই বৈধ অনুমোদন (ওয়ার্ক পারমিট) নেই। এমনটিই দাবি করেছে ভারতীয় সিনেমার কলাকুশলীদের ইউনিয়ন। তারা বলছেন, বিদেশ থেকে আসা ওই পেশাদারদের জন্য অনেক ভারতীয় কাজ হারাচ্ছেন বলিউডে। অথচ যাদের জন্য তাদের এই দুরবস্থা, তারা আইনতভাবে বলিউডে কাজ করতেই পারেন না।

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম ক্ষেত্রের মতো ভারতীয় সিনেমা জগতেও সম্প্রতি বিদেশি পেশাদারদের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিউডে সিনেমাটোগ্রাফি, নির্দেশনা, প্রযোজনা, চিত্রনাট্য লেখা থেকে শুরু করে জুনিয়র শিল্পী, নৃত্যশিল্পী, রূপটান শিল্পী, হেয়ার স্টাইলিস্ট, অ্যাকশন ডিরেক্টর, স্টান্টম্যান, কস্টিউম ডিজাইনার, আর্ট ডিরেক্টরÍ সব ক্ষেত্রেই বিদেশি নিয়োগের প্রবণতা ইদানিং বেড়েছে।

মূলত ব্রিটেন, রাশিয়া এবং উজবেকিস্তানের পেশাদারদের ওই কাজে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। তার কারণ মূলত দুটি। প্রথমত, বহু প্রতিভা চেখে দেখে কাজের সঠিক লোকটি খুঁজে বের করা। দ্বিতীয়ত, এতে আর্থিকভাবেও উপকৃত হয় ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প।

যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ ইউনিয়নগুলো। ‘ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ’-এর চেয়ারম্যান অশোক দুবে বলেন, ছবি বানানোর কাজের সঙ্গে কারা যুক্ত থাকবেন, তা মূলত ঠিক করেন প্রযোজকেরা। বিদেশিদের নিয়োগ করার ফলে আমাদের দেশের লোক কাজ পাচ্ছেন না।

শুধু তা-ই নয়, অধিকাংশ বিদেশিই ভিসা সংক্রান্ত নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ‘বেআইনি’ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অশোকের দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশি পেশাদার বেআইনিভাবে এ দেশে কাজ করছেন। তাদের কাছে যথাযথ কাগজপত্রও নেই। এ নিয়ে তিনি মুম্বাই পুলিশেরও দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, পুরো বিষয়টা একাধিকবার মুম্বাই পুলিশের নজরে এনেছি আমরা। কিন্তু আমাদের কথায় কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমাদের ইউনিয়নে অন্তত তিন লাখ পেশাদার রয়েছেন। আমরা তাদের জন্য লড়ে যাব।

মূলত, ভারতে পাকিস্তানি অভিনেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেভাবে কেন অন্য দেশের পেশাদারদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। বিজেপি চিত্রপট ইউনিয়নের সভাপতি সন্দীপ ঘুগেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার কথায়, ভারতীয় কলাকুশলীদের প্রতি এটা অবিচার ছাড়া আর কিছু নয়। পর্যটকের ভিসা নিয়ে এ দেশে এসে কাজ করে যাচ্ছেন বিদেশিরা। আমি মুম্বাই পুলিশ এবং ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।