ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্কুল মাঠে মেলার সরঞ্জামাদি, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা হস্ত কুটির শিল্প ও পণ্য মেলা স্থগিতের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অপসারণ করা হয়নি মেলার সরঞ্জামাদি। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিনোদন প্রেমিরা। তবে প্রশাসন বলছেন, কর্তৃপক্ষ মেলাটি আবারও চালু করার চিন্তা ভাবনা করায় সরঞ্জামাদি এখনো অপসারণ করেননি। দ্রুত সময়ে এগুলো অপসারণ করবেন।

জানা যায়, উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের অসুস্থ লোকজনের উন্নত চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে জেবি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এ মেলার আয়োজন করে। গত ২৩ মে সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা হস্ত কুঠির শিল্প ও পণ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে এসএসসি পরীক্ষায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সে কারণে ১৭ জুন জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পেয়ে উপজেলা প্রশাসন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এ মেলা স্থগিত ঘোষণা করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অপসারণ করা হয়নি মেলার সরঞ্জামাদি। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। যেটি কিনা ফুটবল খেলার মাঠ নামে পরিচিত। বিনোদনের জন্য এটি এলাকার সবচেয়ে বড় মাঠ। প্রতিদিন বিকেলে সরকারি-বেসরকারি মিলে কমপক্ষে ৫/৬ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখানে খেলাধুলা করে। খেলাধুলা করতে আসে আশপাশের কিশোর-তরুণরাও। ভোরে ওই দৌড়াদৌড়ি করেন স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা ও হাটাহাটি করেন বৃদ্ধরা। প্রায় ৪ মাস ধরে সেই মাঠটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে মেলার সরঞ্জামাদি দিয়ে। এ কারণে চরম বিপাকে রয়েছেন ওই এলাকার লোকজন।

ঘগোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান স্বপন বলেন, ‘বয়েজ স্কুলের মাঠে বার্ষিক খেলাধুলা হতো। এবারে সেই খেলা হচ্ছে ১২ কিলোমিটার দূরে বাজার পড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। ছেলেমেয়েদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। মেলা স্থগিত করা হয়েছে ৩ মাস আগে। কিন্তু মেলার সরঞ্জাম মাঠে থাকায় এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খেলতে না পেয়ে এলাকার কিশোর-তরুণেরা অনলাইন গেমসে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তারা বিপথগামী হয়ে যেতে পারে।’

সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মুছা মিয়া বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সে কারণে মাঠ ফাঁকা নেই। আর ফুটবল খেলার মাঠটিও বন্ধ রয়েছে কয়েক মাস ধরে। বাড়ির আশপাশেও কোনো খেলার জায়গা নেই। সে কারণে মোবাইলে গেম খেলে সময় কাটে আমাদের।’

নাম প্রকাশের শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লোকজন মাঠে ঘুরতে আসত। সারা দিনই তরুণদের বিভিন্ন দল খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। সেই মাঠ এখন বাঁশসহ মেলার অবকাঠামো তৈরির সামগ্রী দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যখন মেলা হওয়ার কথা তখন থেকেই আমরা বাধা দিয়ে আসছিলাম। আমাদের কথা কেউ কর্ণপাত করেননি। অবশেষে স্থগিত করা হয় সেই মেলা। কিন্তু মেলার সরঞ্জামাদি এখনো অপসারণ করা হয়নি। প্রায় ৪ মাস ধরে এ অবস্থায় পড়ে আছে মাঠটি। মেলার সরঞ্জামাদি দ্রুত অপসারণের দাবি জানান তারা।

সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসুদেব রায় চৌধুরী বলেন, ‘এই মাঠটি এখন আমাদের কাছে বিষফোঁড়া মনে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে আমরা সাধ্যমতো কাজ করছি। কিন্তু মাঠটি ৪ মাস থেকে বন্ধ থাকায় তাদেরকে সুস্থ বিনোদনের জন্য খেলাধুলা করাতে পারছি না। মেলার সরঞ্জামাদি দ্রুত অপসারণ করে মাঠটি উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, ‘মেলার কর্তৃপক্ষ মেলাটি আবারও চালু করার চিন্তা-ভাবনা করছিলেন। কিন্তু তাদের বারবার এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। আশা করছি তারা খুব অল্প সময়ে এগুলো অপসারণ করবে।’

Tag :
জনপ্রিয়

সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিকসহ ৫জনের নামে চোরাকারবারির মামলা

স্কুল মাঠে মেলার সরঞ্জামাদি, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময় : ১০:০২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা হস্ত কুটির শিল্প ও পণ্য মেলা স্থগিতের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অপসারণ করা হয়নি মেলার সরঞ্জামাদি। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিনোদন প্রেমিরা। তবে প্রশাসন বলছেন, কর্তৃপক্ষ মেলাটি আবারও চালু করার চিন্তা ভাবনা করায় সরঞ্জামাদি এখনো অপসারণ করেননি। দ্রুত সময়ে এগুলো অপসারণ করবেন।

জানা যায়, উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের অসুস্থ লোকজনের উন্নত চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে জেবি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এ মেলার আয়োজন করে। গত ২৩ মে সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা হস্ত কুঠির শিল্প ও পণ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে এসএসসি পরীক্ষায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সে কারণে ১৭ জুন জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পেয়ে উপজেলা প্রশাসন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এ মেলা স্থগিত ঘোষণা করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অপসারণ করা হয়নি মেলার সরঞ্জামাদি। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। যেটি কিনা ফুটবল খেলার মাঠ নামে পরিচিত। বিনোদনের জন্য এটি এলাকার সবচেয়ে বড় মাঠ। প্রতিদিন বিকেলে সরকারি-বেসরকারি মিলে কমপক্ষে ৫/৬ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখানে খেলাধুলা করে। খেলাধুলা করতে আসে আশপাশের কিশোর-তরুণরাও। ভোরে ওই দৌড়াদৌড়ি করেন স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা ও হাটাহাটি করেন বৃদ্ধরা। প্রায় ৪ মাস ধরে সেই মাঠটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে মেলার সরঞ্জামাদি দিয়ে। এ কারণে চরম বিপাকে রয়েছেন ওই এলাকার লোকজন।

ঘগোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান স্বপন বলেন, ‘বয়েজ স্কুলের মাঠে বার্ষিক খেলাধুলা হতো। এবারে সেই খেলা হচ্ছে ১২ কিলোমিটার দূরে বাজার পড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। ছেলেমেয়েদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। মেলা স্থগিত করা হয়েছে ৩ মাস আগে। কিন্তু মেলার সরঞ্জাম মাঠে থাকায় এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খেলতে না পেয়ে এলাকার কিশোর-তরুণেরা অনলাইন গেমসে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তারা বিপথগামী হয়ে যেতে পারে।’

সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মুছা মিয়া বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সে কারণে মাঠ ফাঁকা নেই। আর ফুটবল খেলার মাঠটিও বন্ধ রয়েছে কয়েক মাস ধরে। বাড়ির আশপাশেও কোনো খেলার জায়গা নেই। সে কারণে মোবাইলে গেম খেলে সময় কাটে আমাদের।’

নাম প্রকাশের শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লোকজন মাঠে ঘুরতে আসত। সারা দিনই তরুণদের বিভিন্ন দল খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। সেই মাঠ এখন বাঁশসহ মেলার অবকাঠামো তৈরির সামগ্রী দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যখন মেলা হওয়ার কথা তখন থেকেই আমরা বাধা দিয়ে আসছিলাম। আমাদের কথা কেউ কর্ণপাত করেননি। অবশেষে স্থগিত করা হয় সেই মেলা। কিন্তু মেলার সরঞ্জামাদি এখনো অপসারণ করা হয়নি। প্রায় ৪ মাস ধরে এ অবস্থায় পড়ে আছে মাঠটি। মেলার সরঞ্জামাদি দ্রুত অপসারণের দাবি জানান তারা।

সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসুদেব রায় চৌধুরী বলেন, ‘এই মাঠটি এখন আমাদের কাছে বিষফোঁড়া মনে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে আমরা সাধ্যমতো কাজ করছি। কিন্তু মাঠটি ৪ মাস থেকে বন্ধ থাকায় তাদেরকে সুস্থ বিনোদনের জন্য খেলাধুলা করাতে পারছি না। মেলার সরঞ্জামাদি দ্রুত অপসারণ করে মাঠটি উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, ‘মেলার কর্তৃপক্ষ মেলাটি আবারও চালু করার চিন্তা-ভাবনা করছিলেন। কিন্তু তাদের বারবার এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। আশা করছি তারা খুব অল্প সময়ে এগুলো অপসারণ করবে।’