ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওয়েবিলেই চলছে লাব্বাইক-লাভলী, চার্ট নেই আয়াতে

সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে রীতিমতো ওয়েবিলের ভাড়া অনুযায়ী চলছে সাইনবোর্ড থেকে সাভার শ্রীপুর রুটে চলাচলকারী লাব্বাইক ও এমএম লাভলী বাস সার্ভিস। সরকার নির্ধারিত চার্টের ভাড়ার পরিবর্তে ওয়েবিলের ভাড়া নিতে গিয়ে যাত্রীদের সাথে প্রতিদিনই চলছে বাক বিতণ্ডা। কখনো কখনো ঘটছে হাতাহাতির ঘটনাও।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মগবাজার মোড়ে এমএম লাভলী পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী নামতেই উঠে পড়লেন ওয়েবিল রাইটার। রীতিমতো যাত্রী গুনে ওয়েবিল শিটে লিখে দিয়ে চলে গেলেন। মুগদা থেকে বাংলামোটর চার্টের ভাড়া দেওয়া আছে ১৫ টাকা। বাস কন্টাক্টার সবার কাছে ২০ টাকা আদায় করতে চাইলেন। যারা নিয়মিত যাত্রী তারা অনেকেই চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নিতে বাকবিতণ্ডা করলেন। শেষপর্যন্ত ২০ টাকাই রাখলেন। কন্টাক্টারের কথা, মুগদা থেকে বাংলামোটরের মাঝখানে দুই চেক। তাই ২০ টাকা দিতে হবে।

শুধু এমএম লাভলী নয়, একই রুটে চলাচলকারী লাব্বাইক বাসেও একই অবস্থায় চলতে দেখা গেছে। চার্ট উপেক্ষা করে নেওয়া হচ্ছে চার্টের বাড়তি ভাড়া।

এদিকে কমলাপুর থেকে মৌচাক মগবাজার হয়ে মিরপুর রুটে চলাচলকারী আয়াত পরিবহনের অধিকাংশ বাসেই নেই ভাড়ার চার্ট। আয়াতের ঢাকা মেট্রো-১১৯৪২৯ নাম্বার বাসে কোথাও কোনো চার্ট দেখা যায়নি। অথচ সরকারি অনুযায়ী দৃশ্যমান জায়গায় চার্ট থাকার কথা। রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসেই ওয়েবিল, চার্ট না থাকা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে গত আগস্ট মাসে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে মালিক সমিতির বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো

১. বিআরটিএর চার্ট অনুযায়ী ভাড়া আদায় করতে হবে, চার্টের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। প্রতিটি গাড়িতে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট অবশ্যই টানিয়ে রাখতে হবে।

২. কোনো পরিবহনের গাড়িতে বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া যাতে আদায় না করা হয়, সে বিষয়ে সভায় মালিকদের সমন্বয়ে ৯টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়। এসব টিম বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে থেকে সব অনিয়ম তদারকিসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

৩. ঢাকা শহর ও শহরতলি রুটে চলাচলকারী গাড়ির ওয়েবিলে কোনো স্ল্যাব থাকবে না। রাস্তায় কোনো চেকার থাকবে না। এক স্টপেজ থেকে আরেক স্টপেজ পর্যন্ত গাড়ির দরজা বন্ধ থাকবে, খোলা রাখা যাবে না। রুট পারমিটের স্টপেজ অনুযায়ী গাড়ি থামাতে হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

সিলেটে ক্বিন ব্রিজের পাশে হবে আরেকটি ব্রিজ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ওয়েবিলেই চলছে লাব্বাইক-লাভলী, চার্ট নেই আয়াতে

প্রকাশের সময় : ১০:০২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে রীতিমতো ওয়েবিলের ভাড়া অনুযায়ী চলছে সাইনবোর্ড থেকে সাভার শ্রীপুর রুটে চলাচলকারী লাব্বাইক ও এমএম লাভলী বাস সার্ভিস। সরকার নির্ধারিত চার্টের ভাড়ার পরিবর্তে ওয়েবিলের ভাড়া নিতে গিয়ে যাত্রীদের সাথে প্রতিদিনই চলছে বাক বিতণ্ডা। কখনো কখনো ঘটছে হাতাহাতির ঘটনাও।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মগবাজার মোড়ে এমএম লাভলী পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী নামতেই উঠে পড়লেন ওয়েবিল রাইটার। রীতিমতো যাত্রী গুনে ওয়েবিল শিটে লিখে দিয়ে চলে গেলেন। মুগদা থেকে বাংলামোটর চার্টের ভাড়া দেওয়া আছে ১৫ টাকা। বাস কন্টাক্টার সবার কাছে ২০ টাকা আদায় করতে চাইলেন। যারা নিয়মিত যাত্রী তারা অনেকেই চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নিতে বাকবিতণ্ডা করলেন। শেষপর্যন্ত ২০ টাকাই রাখলেন। কন্টাক্টারের কথা, মুগদা থেকে বাংলামোটরের মাঝখানে দুই চেক। তাই ২০ টাকা দিতে হবে।

শুধু এমএম লাভলী নয়, একই রুটে চলাচলকারী লাব্বাইক বাসেও একই অবস্থায় চলতে দেখা গেছে। চার্ট উপেক্ষা করে নেওয়া হচ্ছে চার্টের বাড়তি ভাড়া।

এদিকে কমলাপুর থেকে মৌচাক মগবাজার হয়ে মিরপুর রুটে চলাচলকারী আয়াত পরিবহনের অধিকাংশ বাসেই নেই ভাড়ার চার্ট। আয়াতের ঢাকা মেট্রো-১১৯৪২৯ নাম্বার বাসে কোথাও কোনো চার্ট দেখা যায়নি। অথচ সরকারি অনুযায়ী দৃশ্যমান জায়গায় চার্ট থাকার কথা। রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসেই ওয়েবিল, চার্ট না থাকা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে গত আগস্ট মাসে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে মালিক সমিতির বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো

১. বিআরটিএর চার্ট অনুযায়ী ভাড়া আদায় করতে হবে, চার্টের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। প্রতিটি গাড়িতে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট অবশ্যই টানিয়ে রাখতে হবে।

২. কোনো পরিবহনের গাড়িতে বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া যাতে আদায় না করা হয়, সে বিষয়ে সভায় মালিকদের সমন্বয়ে ৯টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়। এসব টিম বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে থেকে সব অনিয়ম তদারকিসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

৩. ঢাকা শহর ও শহরতলি রুটে চলাচলকারী গাড়ির ওয়েবিলে কোনো স্ল্যাব থাকবে না। রাস্তায় কোনো চেকার থাকবে না। এক স্টপেজ থেকে আরেক স্টপেজ পর্যন্ত গাড়ির দরজা বন্ধ থাকবে, খোলা রাখা যাবে না। রুট পারমিটের স্টপেজ অনুযায়ী গাড়ি থামাতে হবে।