ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মেট্রোরেলের কী প্রভাব পড়বে যাত্রীদের ওপর?

রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় মেট্রোরেল যুক্ত হতে যাচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে। দেশের প্রথম এই মেট্রোরেল শুরুতে চালু হবে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। ইতোমধ্যে এই রুটের ভাড়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এটি বিদ্যমান গণপরিবহন ব্যবস্থা ও যাত্রীদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে আসছে দ্রুতগামী, নিরাপদ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬)। বিদ্যুৎচালিত, পরিবেশবান্ধব এই বাহন যাত্রীদের সময় সাশ্রয় করবে। যাত্রীসেবায় অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে। তবে বাসমালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

আমিনুল ইসলাম আগারগাঁওয়ের একটি সরকারি দফতরে উত্তরা থেকে এসে অফিস করেন। তিনি বলেন, আমারও মেট্রোরেলে যাতায়াত করার ইচ্ছা আছে। এখন উত্তরা থেকে আসতে যে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তা থেকে মুক্তি মিলবে। এতে সময়ও সাশ্রয় হবে। স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবো।

একই ধরনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন আরও কয়েকজন চাকরিজীবী, যারা মূলত উচ্চশিক্ষিত ও আধুনিক। তারা বলেন, চাকরিজীবী ও এলিট শ্রেণির যাত্রীরা মেট্রোরেলে বেশি চলাচল করবে। তারা যানজটের ধকল ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে এটি বেছে নেবেন। আধুনিক পদ্ধতির কারণে টিকিট কাটা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই যাত্রাটাকে তারা উপভোগ করবেন বলে আশা করছেন।

তবে জলিল মিয়া নামের এক সাধারণ যাত্রী জানান, তারা দীর্ঘদিন বাসে চলাচল করে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। হাতে হাতে ভাড়া দেওয়া, যেখানে ইচ্ছা সেখানে নামতে পারা, যানজটে পড়লে হেঁটে সামনে এগিয়ে অন্য গাড়িতে চড়া, বাসে গন্তব্যের খুব কাছে গিয়ে নামাÍএসব নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এখন মেট্রোরেলে চলাচল করার চিন্তা আপাতত করছি না। এটি চালু হোক, তারপর দেখা যাবে।

মেট্রোরেল চালু হলে বাসের ওপর প্রভাব পড়বে কিনা বা নতুন কোনও পরিকল্পনা করছেন কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা বলেন, ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় মেট্রোরেল অবশ্যই একটি নতুন সংযোজন। এটার মধ্য দিয়ে আমরা উন্নয়নের নতুন দিগন্তে পৌঁছে যাব। তবে আমার ধারণা, এটি বাস যাত্রীদের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। এখনও পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। আবার বাস যেহেতু নানা রুটে যায় সেহেতু যাত্রী কমার শঙ্কা আমরা করছি না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আরেক নেতা বলছেন, মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে কম দূরত্বের যাত্রী হয়তো ১০ টাকা দিয়ে বাসেই যাতায়াত করবেন।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) মেট্রোরেলের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করার কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি চলাচল, মেট্রোরেল যাত্রীদের মাসিক, সাপ্তাহিক, পারিবারিক ও কার্ডে ভাড়া দেওয়া এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের প্রতিবার ভ্রমণে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।

ওই দিন উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপো এলাকায় নতুন এই বাহন নিয়ে জনসাধারণকে ধারণা দিতে মেট্রোরেল এক্সিবিশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার (এমইআইসি) উদ্বোধন করা হয়। এখান থেকে মেট্রোরেলের যাতায়াত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রবেশ ও বহির্গমনের যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলের অভ্যন্তরে ও মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়গুলোর সচিত্র উপস্থাপনা সংবলিত ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা এবং ভিডিও, অ্যানিমেটেড কার্টুন এবং টিকিট সংগ্রহের পদ্ধতি প্রদর্শন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেট্রোরেলে কোনও ছাড়া পাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সেতুমন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, উত্তরা-আগারগাঁও রুটে চলাচলের জন্য ১০ সেট (প্রতি সেটে ৬টি বগি) ট্রেন প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব ট্রেন প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ছাড়বে, চলবে রাত ১২টা পর্যন্ত। সাড়ে তিন মিনিট অন্তর ট্রেন ছাড়া হবে। তবে শুরুর দিকে ১০ মিনিট পর পর ট্রেন চালবে। যাত্রীরা অভ্যস্ত হয়ে উঠলে, যাত্রীসংখ্যা বাড়লে ট্রেন ছাড়ার সময় কমিয়ে আনা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএমটিসিএলের একটি সূত্র বলছে, বিপুল বিনিয়োগের কারণে আধুনিক এই গণপরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয় অনেক বেশি। সেই তুলনায় ভাড়া কমই নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীতে গণপরিবহন হিসেবে রয়েছে বাস, মিনিবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এরমধ্যে বাস-মিনিবাসেই ৭২ শতাংশ যাতায়াত হয়ে থাকে বলে ২০১৬ সালের ‘সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) ’ সমীক্ষায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া কম দূরত্বে যাতায়াতের হার ৪০ শতাংশ। এই কম দূরত্বে মেট্রোরেলের ভাড়া বাসের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে যাত্রীদের ওপর।

আরএসটিপি সমীক্ষার তথ্যমতে, মাসে ১০-৪০ হাজার টাকা আয় করা ব্যক্তিরা বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচল করেন সবচেয়ে বেশি। এই শ্রেণির যাত্রীরা মেট্রোরেলের যাত্রী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, যানজটে ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ে থাকে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই শহরে যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ৪ কিলোমিটার হতে পারে, যা হাঁটার গতির চেয়েও কম।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনে চরম নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এই অবস্থা মেট্রোরেল একটা আশার আলো হয়ে আসতে পারে। তবে যাত্রীদের কল্যাণের দিক বিবেচনা করে আমার মনে হয় এই বাহনের সর্বনিম্ন ভাড়া আরেকটু কম করতে পারলে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে চলাচল করা যাত্রীরা মেট্রোরেলে বেশি ঝুঁকতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

মেট্রোরেলের কী প্রভাব পড়বে যাত্রীদের ওপর?

প্রকাশের সময় : ১০:০২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় মেট্রোরেল যুক্ত হতে যাচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে। দেশের প্রথম এই মেট্রোরেল শুরুতে চালু হবে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। ইতোমধ্যে এই রুটের ভাড়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এটি বিদ্যমান গণপরিবহন ব্যবস্থা ও যাত্রীদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে আসছে দ্রুতগামী, নিরাপদ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬)। বিদ্যুৎচালিত, পরিবেশবান্ধব এই বাহন যাত্রীদের সময় সাশ্রয় করবে। যাত্রীসেবায় অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে। তবে বাসমালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

আমিনুল ইসলাম আগারগাঁওয়ের একটি সরকারি দফতরে উত্তরা থেকে এসে অফিস করেন। তিনি বলেন, আমারও মেট্রোরেলে যাতায়াত করার ইচ্ছা আছে। এখন উত্তরা থেকে আসতে যে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তা থেকে মুক্তি মিলবে। এতে সময়ও সাশ্রয় হবে। স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবো।

একই ধরনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন আরও কয়েকজন চাকরিজীবী, যারা মূলত উচ্চশিক্ষিত ও আধুনিক। তারা বলেন, চাকরিজীবী ও এলিট শ্রেণির যাত্রীরা মেট্রোরেলে বেশি চলাচল করবে। তারা যানজটের ধকল ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে এটি বেছে নেবেন। আধুনিক পদ্ধতির কারণে টিকিট কাটা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই যাত্রাটাকে তারা উপভোগ করবেন বলে আশা করছেন।

তবে জলিল মিয়া নামের এক সাধারণ যাত্রী জানান, তারা দীর্ঘদিন বাসে চলাচল করে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। হাতে হাতে ভাড়া দেওয়া, যেখানে ইচ্ছা সেখানে নামতে পারা, যানজটে পড়লে হেঁটে সামনে এগিয়ে অন্য গাড়িতে চড়া, বাসে গন্তব্যের খুব কাছে গিয়ে নামাÍএসব নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এখন মেট্রোরেলে চলাচল করার চিন্তা আপাতত করছি না। এটি চালু হোক, তারপর দেখা যাবে।

মেট্রোরেল চালু হলে বাসের ওপর প্রভাব পড়বে কিনা বা নতুন কোনও পরিকল্পনা করছেন কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা বলেন, ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় মেট্রোরেল অবশ্যই একটি নতুন সংযোজন। এটার মধ্য দিয়ে আমরা উন্নয়নের নতুন দিগন্তে পৌঁছে যাব। তবে আমার ধারণা, এটি বাস যাত্রীদের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। এখনও পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। আবার বাস যেহেতু নানা রুটে যায় সেহেতু যাত্রী কমার শঙ্কা আমরা করছি না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আরেক নেতা বলছেন, মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে কম দূরত্বের যাত্রী হয়তো ১০ টাকা দিয়ে বাসেই যাতায়াত করবেন।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) মেট্রোরেলের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করার কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি চলাচল, মেট্রোরেল যাত্রীদের মাসিক, সাপ্তাহিক, পারিবারিক ও কার্ডে ভাড়া দেওয়া এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের প্রতিবার ভ্রমণে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।

ওই দিন উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপো এলাকায় নতুন এই বাহন নিয়ে জনসাধারণকে ধারণা দিতে মেট্রোরেল এক্সিবিশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার (এমইআইসি) উদ্বোধন করা হয়। এখান থেকে মেট্রোরেলের যাতায়াত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রবেশ ও বহির্গমনের যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলের অভ্যন্তরে ও মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়গুলোর সচিত্র উপস্থাপনা সংবলিত ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা এবং ভিডিও, অ্যানিমেটেড কার্টুন এবং টিকিট সংগ্রহের পদ্ধতি প্রদর্শন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেট্রোরেলে কোনও ছাড়া পাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সেতুমন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, উত্তরা-আগারগাঁও রুটে চলাচলের জন্য ১০ সেট (প্রতি সেটে ৬টি বগি) ট্রেন প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব ট্রেন প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ছাড়বে, চলবে রাত ১২টা পর্যন্ত। সাড়ে তিন মিনিট অন্তর ট্রেন ছাড়া হবে। তবে শুরুর দিকে ১০ মিনিট পর পর ট্রেন চালবে। যাত্রীরা অভ্যস্ত হয়ে উঠলে, যাত্রীসংখ্যা বাড়লে ট্রেন ছাড়ার সময় কমিয়ে আনা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএমটিসিএলের একটি সূত্র বলছে, বিপুল বিনিয়োগের কারণে আধুনিক এই গণপরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয় অনেক বেশি। সেই তুলনায় ভাড়া কমই নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীতে গণপরিবহন হিসেবে রয়েছে বাস, মিনিবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এরমধ্যে বাস-মিনিবাসেই ৭২ শতাংশ যাতায়াত হয়ে থাকে বলে ২০১৬ সালের ‘সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) ’ সমীক্ষায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া কম দূরত্বে যাতায়াতের হার ৪০ শতাংশ। এই কম দূরত্বে মেট্রোরেলের ভাড়া বাসের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে যাত্রীদের ওপর।

আরএসটিপি সমীক্ষার তথ্যমতে, মাসে ১০-৪০ হাজার টাকা আয় করা ব্যক্তিরা বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচল করেন সবচেয়ে বেশি। এই শ্রেণির যাত্রীরা মেট্রোরেলের যাত্রী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, যানজটে ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ে থাকে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই শহরে যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ৪ কিলোমিটার হতে পারে, যা হাঁটার গতির চেয়েও কম।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনে চরম নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এই অবস্থা মেট্রোরেল একটা আশার আলো হয়ে আসতে পারে। তবে যাত্রীদের কল্যাণের দিক বিবেচনা করে আমার মনে হয় এই বাহনের সর্বনিম্ন ভাড়া আরেকটু কম করতে পারলে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে চলাচল করা যাত্রীরা মেট্রোরেলে বেশি ঝুঁকতে পারে।