ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ ভুলে গেলে করণীয়

প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের প্রতি আহ্বানের জন্য আজান দিতে হয়। দিন-রাতে চার ওয়াক্ত নামাজের আজানে একই বাক্য বললেও ফজরের আজানের সময় ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ শব্দটি অতিরিক্ত বলতে হয়। যদি কেউ ফজরের আজান দেওয়ার সময় ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলতে ভুলে যায়, তাহলে কি আজান অশুদ্ধ হবে এবং পুনরায় আজান দিতে হবে?

সমাধান

এ বিষয়ে ইসলামী আইন ও ফিকাহ শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বাক্যটি বলা মুস্তাহাবের পর্যায়ভুক্ত। এই ত্রুটির জন্য আজান অশুদ্ধ হয় না। তাই তা বাদ পড়লে আজান মাকরুহ হয় না।

এই শব্দ ছাড়া দেওয়া আজানেই আজানের হুকুম আদায় হয়ে যাবে। তবে সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ এলে তা থেকে শেষ পর্যন্ত বাক্যগুলো উচ্চারণ করে দেওয়া ভালো। আর আজান শেষে মনে পড়লে মনের শান্তি ও পরিপূর্ণতার জন্য মাইক ছাড়া কিংবা নীচুস্বরে আবার আজান দিয়ে ফেলবে। -(তুহফাতুল ফুকাহা : ১/১১১, হিন্দিয়া : ১/৫৬, রদ্দুল মুহতার : ১/৬৩৯)

আজানের বিধান

মূলত আজান শব্দের অর্থ, ডাকা, আহ্বান করা। আজান ইসলামের অন্যতম নিদর্শন বহন করে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের কাছাকাছি।

নবীজি সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর আজানের প্রচলন ঘটে। এর আগে মক্কায় আজান-একামত ছাড়াই নামাজ পড়া হতো। গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী হিজরতের প্রথম বছরেই আজানের সূচনা হয়।

আজানের সূচনা যেভাবে

কাজে ব্যস্ততা এবং ঘুমিয়ে থাকার কারণে অনেকেরই সময়মতো নামাজে উপস্থিত হতে দেরি হতো। তাই সবাই যেন ঠিক সময়ে নামাজের জন্য উপস্থিত হতে পারে এজন্য একবার আল্লাহর রাসুল সাহাবিদের নিয়ে পরামর্শে বসলেন।

পরামর্শ সভায় কেউ বললেন, একটা পতাকা গেড়ে দেয়া হবে। মুসলমানরা তা দেখে একে অপরকে অবহিত করে মসজিদে চলে আসবে। অনেকে শঙ্খ বাজানোর পরামর্শ দিলেন, কেউ আবার ঘণ্টা বাজানোর পরামর্শ দিলেন, কেউ আগুন জ্বালানোর পরামর্শ দেন।

এই প্রস্তাবের কোনওটিই রাসুল (সা.)-এর পছন্দ হলো না। কারণ এগুলো ইহুদি, খ্রিষ্টান ও অগ্নিপূজকদের উপাসনার রীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। তাই কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই নামাজের আহ্বান সংক্রান্ত পরামর্শ সভা শেষে সাহাবিরা বাড়িতে চলে যান।

পরামর্শ সভা থেকে বাড়ি ফিরলেও হজরত আবদুল্লাহ বিন জায়েদ বিন আবদে রাব্বি রা. বিষয়টি নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর স্বপ্নে তাকে আজানের পদ্ধতি দেখানো ও শেখানো হলো।

পরদিন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই স্বপ্নের বিষয়ে জানালেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন : হে আল্লাহর রাসূল, অর্ধ ঘুম ও নিদ্রাবস্থায় ছিলাম, আমার কাছে এক আগমনকারী আসল অতঃপর আমাকে আজান শেখালো।

সব শুনে নবীজি (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় নিশ্চয় ‘সত্য স্বপ্ন’। তুমি স্বপ্নে যা শিখেছ বেলালকে তা শিখিয়ে দাও। সে আজান দেবে। কেননা সে তোমার চেয়ে উঁচু আওয়াজের অধিকারী।’-(বুখারি, ৫৭৯ মুসলিম, ৩৭৭)

Tag :
জনপ্রিয়

বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূপেশ কুমার দাস রায় আর নেই : বিভিন্ন মহলে শোক

ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ ভুলে গেলে করণীয়

প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের প্রতি আহ্বানের জন্য আজান দিতে হয়। দিন-রাতে চার ওয়াক্ত নামাজের আজানে একই বাক্য বললেও ফজরের আজানের সময় ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ শব্দটি অতিরিক্ত বলতে হয়। যদি কেউ ফজরের আজান দেওয়ার সময় ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলতে ভুলে যায়, তাহলে কি আজান অশুদ্ধ হবে এবং পুনরায় আজান দিতে হবে?

সমাধান

এ বিষয়ে ইসলামী আইন ও ফিকাহ শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বাক্যটি বলা মুস্তাহাবের পর্যায়ভুক্ত। এই ত্রুটির জন্য আজান অশুদ্ধ হয় না। তাই তা বাদ পড়লে আজান মাকরুহ হয় না।

এই শব্দ ছাড়া দেওয়া আজানেই আজানের হুকুম আদায় হয়ে যাবে। তবে সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ এলে তা থেকে শেষ পর্যন্ত বাক্যগুলো উচ্চারণ করে দেওয়া ভালো। আর আজান শেষে মনে পড়লে মনের শান্তি ও পরিপূর্ণতার জন্য মাইক ছাড়া কিংবা নীচুস্বরে আবার আজান দিয়ে ফেলবে। -(তুহফাতুল ফুকাহা : ১/১১১, হিন্দিয়া : ১/৫৬, রদ্দুল মুহতার : ১/৬৩৯)

আজানের বিধান

মূলত আজান শব্দের অর্থ, ডাকা, আহ্বান করা। আজান ইসলামের অন্যতম নিদর্শন বহন করে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের কাছাকাছি।

নবীজি সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর আজানের প্রচলন ঘটে। এর আগে মক্কায় আজান-একামত ছাড়াই নামাজ পড়া হতো। গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী হিজরতের প্রথম বছরেই আজানের সূচনা হয়।

আজানের সূচনা যেভাবে

কাজে ব্যস্ততা এবং ঘুমিয়ে থাকার কারণে অনেকেরই সময়মতো নামাজে উপস্থিত হতে দেরি হতো। তাই সবাই যেন ঠিক সময়ে নামাজের জন্য উপস্থিত হতে পারে এজন্য একবার আল্লাহর রাসুল সাহাবিদের নিয়ে পরামর্শে বসলেন।

পরামর্শ সভায় কেউ বললেন, একটা পতাকা গেড়ে দেয়া হবে। মুসলমানরা তা দেখে একে অপরকে অবহিত করে মসজিদে চলে আসবে। অনেকে শঙ্খ বাজানোর পরামর্শ দিলেন, কেউ আবার ঘণ্টা বাজানোর পরামর্শ দিলেন, কেউ আগুন জ্বালানোর পরামর্শ দেন।

এই প্রস্তাবের কোনওটিই রাসুল (সা.)-এর পছন্দ হলো না। কারণ এগুলো ইহুদি, খ্রিষ্টান ও অগ্নিপূজকদের উপাসনার রীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। তাই কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই নামাজের আহ্বান সংক্রান্ত পরামর্শ সভা শেষে সাহাবিরা বাড়িতে চলে যান।

পরামর্শ সভা থেকে বাড়ি ফিরলেও হজরত আবদুল্লাহ বিন জায়েদ বিন আবদে রাব্বি রা. বিষয়টি নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর স্বপ্নে তাকে আজানের পদ্ধতি দেখানো ও শেখানো হলো।

পরদিন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই স্বপ্নের বিষয়ে জানালেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন : হে আল্লাহর রাসূল, অর্ধ ঘুম ও নিদ্রাবস্থায় ছিলাম, আমার কাছে এক আগমনকারী আসল অতঃপর আমাকে আজান শেখালো।

সব শুনে নবীজি (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় নিশ্চয় ‘সত্য স্বপ্ন’। তুমি স্বপ্নে যা শিখেছ বেলালকে তা শিখিয়ে দাও। সে আজান দেবে। কেননা সে তোমার চেয়ে উঁচু আওয়াজের অধিকারী।’-(বুখারি, ৫৭৯ মুসলিম, ৩৭৭)