ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাণিজ্যিক না হলে খোলামেলা চরিত্রে আপত্তি নেই

মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপক, ব্যবসায়ী ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। মডেল হিসেবেই ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০০৭ সালে হয়েছিলেন ‘মিস বাংলাদেশ’। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ সাময়িকীর প্রচ্ছদের মডেল হয়েছেন। বাংলাদেশে প্রথম বেবি বাম্প ফটোশুট করে আলোচিত হন। প্রশংসিত হয়েছেন ‘ছিটমহল’ সিনেমায় ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করে। বর্তমান ব্যস্ততাসহ নানা বিষয়ে এ অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকার

কেমন চলছে নতুন সিনেমার কাজ?

নতুন কোনো কাজ করছি না। বরং যে দুটো সিনেমায় শুটিং করছিলাম সে দুটো সিনেমার কাজও ছেড়ে দিয়েছি। এর মধ্যে একটি রায়হান রাফীর ‘স্বপ্নবাজী’ সিনেমা আরেকটি সৈকত নাসির পরিচালিত জাজ মাল্টি মিডিয়ার ‘মাসুদ রানা’। ‘মাসুদ রানা’তে শুটিং করিনি, শুটিং করার আগেই ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমি নিজের প্রফেশনাল জব আর পরিবার নিয়েই ব্যস্ত।

সিনেমা দুটোর কাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণ?

ব্যক্তিগত কারণেই সিনেমার কাজ ছেড়েছি। অন্যকোনো কারণে নয়। সম্প্রতি আমি সুপ্রিমকোর্টে ল’ইয়ার হয়েছি। তাই আমি মনে করলাম আপাতত আমার সিনেমা করা ঠিক নয়। এখন আমার যে অবস্থান সে অনুযায়ী সিনেমাটি না হলে কাজ করতে পারি না। অনেক সময় তো আমরা টিকে থাকার জন্য কাজ করি বা কাজ করার জন্য করি কিন্তু আমার বিষয়টি তেমন নয়। আমার জবের সঙ্গে যদি সিনেমাটি সম্মানজনক হয় তাহলে অভিনয় করব। যদি পরিচালক, আমার চরিত্র, গল্প, টাকা-পয়সা সবকিছু আমার জবটির মর্যাদার সঙ্গে মেলে তাহলেই অভিনয় করব। আর আমি এমন মেয়ে নই যে কাজের জন্য আমার জীবন-পরিবার সব বিসর্জন দেব।

যেমন ছিটমহল, সে রকম মানসম্মত সিনেমায়?

আসলে কিছু কিছু কাজ আছে যা নিজের জন্য করা হয়। আমি যখন ছিটমহলে চুক্তিবদ্ধ হই সেটা নিজের ক্যারিয়ারের জন্যই করি। আমি যে কয়টি সিনেমায় অভিনয় করেছি সবগুলোই ভিন্ন ঘরানার। ছিটমহলও খুব সুন্দর একটা গল্প হওয়াতেই এটা করি। পরিচালক, প্রযোজক গল্প সব মিলিয়েই দেখলাম এটা আমার জবের সঙ্গেও যায়। ছিটমহলের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ জানেই না। কিছু কিছু বিষয় আছে যেটা আমাদের উচিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ঐ কারণে সিনেমাটি খুবই বিউটিফুল।

‘ছিটমহল’ ইস্যুটি নিষ্পত্তি হওয়াতেই কি

দর্শকের কাছে সেটার গুরুত্ব হারায়?

একেকটা ইস্যুর কারণে একেক শ্রেণির দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে যায়। আমাদের সিনেমাটি ছিল মূলত একটা পটভূমির ওপর। একটা বুদ্ধিবৃত্তিক বা ইন্টেলেকচ্যুয়াল কাজ। সিনেমাটি যখন মুক্তি পায় তখনও কোভিড থামেনি। বুঝতেও পারছিলাম না এটা আদৌ থামবে কিনা। আমরা যে রকম পরিবেশে সিনেমা দেখে অভ্যস্ত সময়টা সে রকম ছিল না। তারপরেও সিনেমাটি মুক্তি দিতে আমরা অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। একটু সুযোগ পেতেই সেটা মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যে শিক্ষিত শ্রেণির দর্শক এটা দেখতে যাবে তখনও কোভিড থাকায় তারা দেখতে যায়নি। তবে এই সময়ে মুক্তি পেলে আরও ভালো দর্শক পেত।

এখনকার রমনীয় চেহারার নায়করা অ্যাকশন

সিনেমায় চলতে পারে?

আমাদের দর্শক কারা সেটা আগে দেখতে হবে। যেমন আমার ফিগার একজন রিকশাঅলা পছন্দ করবে না। তারা দেখতে চায় নাদুসনুদুস মেয়ে। আমাদের অ্যাকশন সিনেমা কয়টাই বা হয়। এখানে রোমান্টিক সিনেমাই বেশি হয়। আবার হলিউডে বা বলিউডে অ্যাকশন সিনেমাই বেশি হয়। যেখানে যেমন চাহিদা সে রকমই হয়। তবে আস্তে আস্তে এখানেও এর পরিবর্তন হবে।

চরিত্রের প্রয়োজনে খোলামেলা চরিত্রে অভিনয় করবেন?

সবাইকেই দেখি এভাবেই প্রশ্নটা করে। যা হোক, আমি হচ্ছি সময়ের কিছুটা আগে হাঁটা এক মেয়ে। অধিকাংশ মানুষই আছেন সময়ের আগে হাঁটতে ভয় পান। আমি সে রকম নই। খোলামেলা বলে কিছু নেই, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য না থাকলে এবং সেটা আর্টিস্টিক হলে গল্প ও চরিত্রের প্রয়োজনে হলে আপত্তি নেই।

প্রথম হওয়ার চিন্তা থেকেই কি বেবি

বাম্প ফটোশুট করেছিলেন?

অ্যাবসলিউটলি সেরকম নয়। বললাম না, আপনি যখন সময়ের কিছুটা আগে হাঁটবেন মানুষ সেটা অ্যাপ্রিশিয়েট করবে না। আমি যখন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিই আমার আগে কেউ নেয়নি। তেমনি আমি দেখলাম মাতৃত্ব এমন একটা বিউটিফুল স্টোরি যখন তার শারীরিক পরিবর্তন হয় সন্তান হওয়ার আগে ও পরে- সৃষ্টিকর্তার চমৎকার একটা সুন্দর র্মিযাকল। এটা ভেবেই নিজের জন্য ধরে রাখতে এটা করেছিলাম। ট্রেডমার্কের জন্য নয়।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

বাণিজ্যিক না হলে খোলামেলা চরিত্রে আপত্তি নেই

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপক, ব্যবসায়ী ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। মডেল হিসেবেই ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০০৭ সালে হয়েছিলেন ‘মিস বাংলাদেশ’। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ সাময়িকীর প্রচ্ছদের মডেল হয়েছেন। বাংলাদেশে প্রথম বেবি বাম্প ফটোশুট করে আলোচিত হন। প্রশংসিত হয়েছেন ‘ছিটমহল’ সিনেমায় ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করে। বর্তমান ব্যস্ততাসহ নানা বিষয়ে এ অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকার

কেমন চলছে নতুন সিনেমার কাজ?

নতুন কোনো কাজ করছি না। বরং যে দুটো সিনেমায় শুটিং করছিলাম সে দুটো সিনেমার কাজও ছেড়ে দিয়েছি। এর মধ্যে একটি রায়হান রাফীর ‘স্বপ্নবাজী’ সিনেমা আরেকটি সৈকত নাসির পরিচালিত জাজ মাল্টি মিডিয়ার ‘মাসুদ রানা’। ‘মাসুদ রানা’তে শুটিং করিনি, শুটিং করার আগেই ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমি নিজের প্রফেশনাল জব আর পরিবার নিয়েই ব্যস্ত।

সিনেমা দুটোর কাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণ?

ব্যক্তিগত কারণেই সিনেমার কাজ ছেড়েছি। অন্যকোনো কারণে নয়। সম্প্রতি আমি সুপ্রিমকোর্টে ল’ইয়ার হয়েছি। তাই আমি মনে করলাম আপাতত আমার সিনেমা করা ঠিক নয়। এখন আমার যে অবস্থান সে অনুযায়ী সিনেমাটি না হলে কাজ করতে পারি না। অনেক সময় তো আমরা টিকে থাকার জন্য কাজ করি বা কাজ করার জন্য করি কিন্তু আমার বিষয়টি তেমন নয়। আমার জবের সঙ্গে যদি সিনেমাটি সম্মানজনক হয় তাহলে অভিনয় করব। যদি পরিচালক, আমার চরিত্র, গল্প, টাকা-পয়সা সবকিছু আমার জবটির মর্যাদার সঙ্গে মেলে তাহলেই অভিনয় করব। আর আমি এমন মেয়ে নই যে কাজের জন্য আমার জীবন-পরিবার সব বিসর্জন দেব।

যেমন ছিটমহল, সে রকম মানসম্মত সিনেমায়?

আসলে কিছু কিছু কাজ আছে যা নিজের জন্য করা হয়। আমি যখন ছিটমহলে চুক্তিবদ্ধ হই সেটা নিজের ক্যারিয়ারের জন্যই করি। আমি যে কয়টি সিনেমায় অভিনয় করেছি সবগুলোই ভিন্ন ঘরানার। ছিটমহলও খুব সুন্দর একটা গল্প হওয়াতেই এটা করি। পরিচালক, প্রযোজক গল্প সব মিলিয়েই দেখলাম এটা আমার জবের সঙ্গেও যায়। ছিটমহলের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ জানেই না। কিছু কিছু বিষয় আছে যেটা আমাদের উচিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ঐ কারণে সিনেমাটি খুবই বিউটিফুল।

‘ছিটমহল’ ইস্যুটি নিষ্পত্তি হওয়াতেই কি

দর্শকের কাছে সেটার গুরুত্ব হারায়?

একেকটা ইস্যুর কারণে একেক শ্রেণির দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে যায়। আমাদের সিনেমাটি ছিল মূলত একটা পটভূমির ওপর। একটা বুদ্ধিবৃত্তিক বা ইন্টেলেকচ্যুয়াল কাজ। সিনেমাটি যখন মুক্তি পায় তখনও কোভিড থামেনি। বুঝতেও পারছিলাম না এটা আদৌ থামবে কিনা। আমরা যে রকম পরিবেশে সিনেমা দেখে অভ্যস্ত সময়টা সে রকম ছিল না। তারপরেও সিনেমাটি মুক্তি দিতে আমরা অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। একটু সুযোগ পেতেই সেটা মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যে শিক্ষিত শ্রেণির দর্শক এটা দেখতে যাবে তখনও কোভিড থাকায় তারা দেখতে যায়নি। তবে এই সময়ে মুক্তি পেলে আরও ভালো দর্শক পেত।

এখনকার রমনীয় চেহারার নায়করা অ্যাকশন

সিনেমায় চলতে পারে?

আমাদের দর্শক কারা সেটা আগে দেখতে হবে। যেমন আমার ফিগার একজন রিকশাঅলা পছন্দ করবে না। তারা দেখতে চায় নাদুসনুদুস মেয়ে। আমাদের অ্যাকশন সিনেমা কয়টাই বা হয়। এখানে রোমান্টিক সিনেমাই বেশি হয়। আবার হলিউডে বা বলিউডে অ্যাকশন সিনেমাই বেশি হয়। যেখানে যেমন চাহিদা সে রকমই হয়। তবে আস্তে আস্তে এখানেও এর পরিবর্তন হবে।

চরিত্রের প্রয়োজনে খোলামেলা চরিত্রে অভিনয় করবেন?

সবাইকেই দেখি এভাবেই প্রশ্নটা করে। যা হোক, আমি হচ্ছি সময়ের কিছুটা আগে হাঁটা এক মেয়ে। অধিকাংশ মানুষই আছেন সময়ের আগে হাঁটতে ভয় পান। আমি সে রকম নই। খোলামেলা বলে কিছু নেই, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য না থাকলে এবং সেটা আর্টিস্টিক হলে গল্প ও চরিত্রের প্রয়োজনে হলে আপত্তি নেই।

প্রথম হওয়ার চিন্তা থেকেই কি বেবি

বাম্প ফটোশুট করেছিলেন?

অ্যাবসলিউটলি সেরকম নয়। বললাম না, আপনি যখন সময়ের কিছুটা আগে হাঁটবেন মানুষ সেটা অ্যাপ্রিশিয়েট করবে না। আমি যখন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিই আমার আগে কেউ নেয়নি। তেমনি আমি দেখলাম মাতৃত্ব এমন একটা বিউটিফুল স্টোরি যখন তার শারীরিক পরিবর্তন হয় সন্তান হওয়ার আগে ও পরে- সৃষ্টিকর্তার চমৎকার একটা সুন্দর র্মিযাকল। এটা ভেবেই নিজের জন্য ধরে রাখতে এটা করেছিলাম। ট্রেডমার্কের জন্য নয়।