ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘হবু’ এমপি প্রার্থীদের দাপটে জাপায় গণ্ডগোল!

সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) ঝামেলা যেন কাটছেই না। নিত্যনতুন সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে হাইকমান্ডকে। দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের মাঝেই নতুন বিপদ সৃষ্টি করলেন আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের দল থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সেসব নেতারা। এলাকার নেতাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন এসব ‘হবু’ এমপিপ্রার্থীরা।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫২ জনকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চিঠি দিয়ে এলাকায় সাংগঠনিক কাজ করার জন্য বলা হয়েছিল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে। জেলা, পৌরসভা-উপজেলার নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য বলা হলেও তারা চিঠি পেয়ে দাপট দেখানো শুরু করেছেন। নিজেদের মতো করে কমিটি ভাঙছেন, কোথাও কমিটি ভাঙতে গিয়ে জেলা-উপজেলার নেতাদের বাধার মুখেও পড়ছেন।

এমন অভিযোগ কেন্দ্রে আসার পর নতুন করে আর কাউকে চিঠি দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে তাও মনিটরিং করে ভবিষ্যতে তারা সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে থাকবেন কি না তারও সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় পার্টি।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় পার্টির দফতর থেকে এক চিঠিতে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে।

পরে জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি আগামী নির্বাচনের জন্য মাঠ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি ধাপে ধাপে ৫২ জনকে এলাকায় কাজ করার জন্য চিঠি দেয়। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী, সাবেক সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাও আছেন। তবে চিঠি প্রাপ্তদের মধ্যে বর্তমান এমপিদের কেউ না থাকলেও সাবেক এমপি, সাবেক প্রার্থী ছাড়াও নতুন প্রার্থীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা আরও জানিয়েছেন, চিঠি পেয়ে কেউ কেউ নিজেকে অনেকটা এমপি ভাবা শুরু করে দিয়েছেন। এলাকার নেতাদের পাশ কাটিয়ে নিজের মতো করে দল চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে বাধ সাধেন স্থানীয় নেতারা। পরে তারা কেন্দ্রে ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।

ঔধঢ়ধএদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে- গত ৪ সেপ্টেম্বর ৫২ জনকে ডেকে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। কিন্তু হঠাৎ রাজনীতিতে আসা অনেকে সেদিন প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ এলাকার নেতাদের নামও বলতে পারেননি। পরে জাপা মহাসচিব সিদ্ধান্ত নেন নতুন করে চিঠি দেওয়া হবে না এবং যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের কার্যক্রম তদারকি করবেন খোদ দলের মহাসচিব।

ওই সভার পর আনুষ্ঠানিক অনুমতির জন্য দলের মহাসচিব জিএম কাদেরের কাছে আবেদন করা হয়। তিনি অনুমতি দেওয়ার পর শনিবার নতুন করে চিঠি দেওয়া হবে না বলেও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক- (২) এম এ রাজ্জাক খান স্বাক্ষরিত নতুন এই চিঠিতে বলা হয়েছে, দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অগ্রিম মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জানানো যাচ্ছে যে, জাতীয় পার্টির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অগ্রিম মনোনয়ন (সম্ভাব্য) চিঠি প্রদানের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিগত ৪ সেপ্টেম্বর ইতোপূর্বে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের সভায় দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু তাদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়েছে। ওই সময়ের পরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অগ্রিম মনোনয়ন প্রদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এম এ রাজ্জাক খান বলেন, ‘আগে যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাদের কার্যক্রম জাতীয় পার্টির মহাসচিব মনিটরিং করবেন। আর নতুন কাউকে চিঠি দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

Tag :

পঞ্চগড়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দূর্গা পূজা

‘হবু’ এমপি প্রার্থীদের দাপটে জাপায় গণ্ডগোল!

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) ঝামেলা যেন কাটছেই না। নিত্যনতুন সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে হাইকমান্ডকে। দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের মাঝেই নতুন বিপদ সৃষ্টি করলেন আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের দল থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সেসব নেতারা। এলাকার নেতাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন এসব ‘হবু’ এমপিপ্রার্থীরা।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫২ জনকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চিঠি দিয়ে এলাকায় সাংগঠনিক কাজ করার জন্য বলা হয়েছিল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে। জেলা, পৌরসভা-উপজেলার নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য বলা হলেও তারা চিঠি পেয়ে দাপট দেখানো শুরু করেছেন। নিজেদের মতো করে কমিটি ভাঙছেন, কোথাও কমিটি ভাঙতে গিয়ে জেলা-উপজেলার নেতাদের বাধার মুখেও পড়ছেন।

এমন অভিযোগ কেন্দ্রে আসার পর নতুন করে আর কাউকে চিঠি দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে তাও মনিটরিং করে ভবিষ্যতে তারা সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে থাকবেন কি না তারও সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় পার্টি।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় পার্টির দফতর থেকে এক চিঠিতে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে।

পরে জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি আগামী নির্বাচনের জন্য মাঠ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি ধাপে ধাপে ৫২ জনকে এলাকায় কাজ করার জন্য চিঠি দেয়। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী, সাবেক সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাও আছেন। তবে চিঠি প্রাপ্তদের মধ্যে বর্তমান এমপিদের কেউ না থাকলেও সাবেক এমপি, সাবেক প্রার্থী ছাড়াও নতুন প্রার্থীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা আরও জানিয়েছেন, চিঠি পেয়ে কেউ কেউ নিজেকে অনেকটা এমপি ভাবা শুরু করে দিয়েছেন। এলাকার নেতাদের পাশ কাটিয়ে নিজের মতো করে দল চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে বাধ সাধেন স্থানীয় নেতারা। পরে তারা কেন্দ্রে ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।

ঔধঢ়ধএদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে- গত ৪ সেপ্টেম্বর ৫২ জনকে ডেকে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। কিন্তু হঠাৎ রাজনীতিতে আসা অনেকে সেদিন প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ এলাকার নেতাদের নামও বলতে পারেননি। পরে জাপা মহাসচিব সিদ্ধান্ত নেন নতুন করে চিঠি দেওয়া হবে না এবং যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের কার্যক্রম তদারকি করবেন খোদ দলের মহাসচিব।

ওই সভার পর আনুষ্ঠানিক অনুমতির জন্য দলের মহাসচিব জিএম কাদেরের কাছে আবেদন করা হয়। তিনি অনুমতি দেওয়ার পর শনিবার নতুন করে চিঠি দেওয়া হবে না বলেও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক- (২) এম এ রাজ্জাক খান স্বাক্ষরিত নতুন এই চিঠিতে বলা হয়েছে, দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অগ্রিম মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জানানো যাচ্ছে যে, জাতীয় পার্টির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অগ্রিম মনোনয়ন (সম্ভাব্য) চিঠি প্রদানের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিগত ৪ সেপ্টেম্বর ইতোপূর্বে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের সভায় দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু তাদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়েছে। ওই সময়ের পরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অগ্রিম মনোনয়ন প্রদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এম এ রাজ্জাক খান বলেন, ‘আগে যাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাদের কার্যক্রম জাতীয় পার্টির মহাসচিব মনিটরিং করবেন। আর নতুন কাউকে চিঠি দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’