ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভেটেরিনারি ক্লিনিক গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন ইউএলও

মোঃ তানবীর হাসান, ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকে ব্যবহৃত গাড়ির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে নির্দেশনা রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। অথচ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ডাঃ মোহাম্মদ আবু হানিফ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে তাঁর ব্যক্তিগত কাজেই ব্যবহার করছেন মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক গাড়িটি। এতে জ্বালানি তেলের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তেমনি ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের।

জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের(এলডিডিপি) আওতায় দেশের প্রান্তিক খামারিদের দোরগোড়ায় আধুনিক ও জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ৬১টি জেলার ৬১টি উপজেলায় এবং২১ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ে একই জেলার ২৯৯টি উপজেলায় সর্বমোট ৩৬০টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক জিপগাড়ি বিতরণ করা হয়। যেটি প্রাণী চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সার্ভিসগুলোর সমন্বয়ে সাধারণ জিপগাড়ি কাস্টমাইজ করা। যাতে পশু চিকিৎসায় খুব সহজে খামারির দোরগোড়ায় চিকিৎসকসহ পৌঁছে যেতে পারে ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক।

অনুসন্ধান বলছে, চলতি বছরের ৩০ জুন প্রাণিচিকিৎসক আবু হানিফ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিন পর চলতি বছরের ২১ জুলাই এলডিডিপি প্রকল্প থেকে বিতরণ করে এ ক্লিনিক গাড়িটি।বিতরণের পর থেকেই তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন এ ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকটি । সপ্তাহের পাঁচদিনই কিশোরগঞ্জ থেকে ঈশ্বরগঞ্জে যাওয়া-আসা কাজে ব্যবহৃত ক্লিনিক গাড়িটি রাতে রাখা হয় কিশোরগঞ্জ শহরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণাধীন। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় এ ক্লিনিকগাড়িতে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢাকাসহ বড় বড় শহরে ছুটে বেড়ান তিনি। নিয়ম রয়েছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, কম্পাউন্ডার বা ড্রেসার এই ক্লিনিক গাড়িতে চড়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে প্রাণীর চিকিৎসা দেবে। ঠিক তা না করে বেশি ভিজিট ফি পেলে তিনি একাই ক্লিনিক গাড়িতে চড়ে এক থেকে দুইটি পশুর চিকিৎসা সেবা দিয়ে বাকি সময়টুকু তাঁর ব্যক্তিগত কাজেই ব্যবহার করেন ক্লিনিক গাড়িটি।
এতে জ্বালানি তেলের অর্থ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে বদনাম ছড়াচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এ পর্যন্ত এক রাতের জন্যও ক্লিনিক গাড়িটি হাসপাতালে রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাঃ হাফিজা জেসমিনের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, স্টেশনের বাইরে ক্লিনিক গাড়ি না নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বলে দিচ্ছি।

Tag :

পঞ্চগড়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দূর্গা পূজা

ভেটেরিনারি ক্লিনিক গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন ইউএলও

প্রকাশের সময় : ১১:২৮:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

মোঃ তানবীর হাসান, ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকে ব্যবহৃত গাড়ির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে নির্দেশনা রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। অথচ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ডাঃ মোহাম্মদ আবু হানিফ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে তাঁর ব্যক্তিগত কাজেই ব্যবহার করছেন মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক গাড়িটি। এতে জ্বালানি তেলের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তেমনি ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের।

জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের(এলডিডিপি) আওতায় দেশের প্রান্তিক খামারিদের দোরগোড়ায় আধুনিক ও জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ৬১টি জেলার ৬১টি উপজেলায় এবং২১ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ে একই জেলার ২৯৯টি উপজেলায় সর্বমোট ৩৬০টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক জিপগাড়ি বিতরণ করা হয়। যেটি প্রাণী চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সার্ভিসগুলোর সমন্বয়ে সাধারণ জিপগাড়ি কাস্টমাইজ করা। যাতে পশু চিকিৎসায় খুব সহজে খামারির দোরগোড়ায় চিকিৎসকসহ পৌঁছে যেতে পারে ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক।

অনুসন্ধান বলছে, চলতি বছরের ৩০ জুন প্রাণিচিকিৎসক আবু হানিফ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিন পর চলতি বছরের ২১ জুলাই এলডিডিপি প্রকল্প থেকে বিতরণ করে এ ক্লিনিক গাড়িটি।বিতরণের পর থেকেই তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন এ ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকটি । সপ্তাহের পাঁচদিনই কিশোরগঞ্জ থেকে ঈশ্বরগঞ্জে যাওয়া-আসা কাজে ব্যবহৃত ক্লিনিক গাড়িটি রাতে রাখা হয় কিশোরগঞ্জ শহরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণাধীন। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় এ ক্লিনিকগাড়িতে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢাকাসহ বড় বড় শহরে ছুটে বেড়ান তিনি। নিয়ম রয়েছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, কম্পাউন্ডার বা ড্রেসার এই ক্লিনিক গাড়িতে চড়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে প্রাণীর চিকিৎসা দেবে। ঠিক তা না করে বেশি ভিজিট ফি পেলে তিনি একাই ক্লিনিক গাড়িতে চড়ে এক থেকে দুইটি পশুর চিকিৎসা সেবা দিয়ে বাকি সময়টুকু তাঁর ব্যক্তিগত কাজেই ব্যবহার করেন ক্লিনিক গাড়িটি।
এতে জ্বালানি তেলের অর্থ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে বদনাম ছড়াচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এ পর্যন্ত এক রাতের জন্যও ক্লিনিক গাড়িটি হাসপাতালে রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাঃ হাফিজা জেসমিনের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, স্টেশনের বাইরে ক্লিনিক গাড়ি না নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বলে দিচ্ছি।