ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে কেন বিতর্ক?

দেশের প্রায় ৩৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনীতি করা যাবে না। কিন্তু ছাত্র সংগঠনগুলোও তাদের সিদ্ধান্তে পুরোপুরি অনঢ়। আর শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান কখনো রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে না। রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। এই নিয়ে গত সপ্তাহখানেক থেকেই বিরাাজ করছে নানা বিতর্ক আর উত্তেজনা।

ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক আর শিক্ষাবিদরাও। ক্যাম্পাসের ভেতরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তাদের। এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদরা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জায়গা, পরিসর অনেক ছোট। ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করাই সেখানে দুরূহ। এর মধ্যে যদি আবার রাজনীতি শুরু হয়ে যায় তাহলে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে।

সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এর আগে ১ ও ২ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ সম্মিলিত শাখার সভাপতি জাহিদ হোসেন পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাকিম সম্রাট স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অন্তত ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ইস্ট ওয়েস্ট, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এআইইউবি, ড্যাফোডিলের মতো বড় এবং নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও রয়েছে।

তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাস রাজনীতিকে ‘না’ করে ইতোমধ্যেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ব্র্যাক, ইস্ট-ওয়েস্ট, আইইউবিএটি, এআইইউবিসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

সর্বশেষ শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল এক বিবৃতিতে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান এবং কোনো রাজনৈতিক ক্লাব বা সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়া বা কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো ধরনের সংগঠন প্রতিষ্ঠার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বা বাইরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিনা অনুমতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো বা স্বাক্ষর ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম বা কর্মসূচি করা যাবে না। এসব কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বলা হয়েছে, চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে স্থগিতাদেশ বা বহিষ্কার বা সতর্ক করতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের, নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোনো ক্লাব বা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া কিংবা সংগঠন করতে পারার স্বাধীনতা আছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের পলিসি, শৃঙ্খলা ও নিয়মকানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম, সেমিস্টারভিত্তিক কর্মোপযোগী আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, সেশনজট ও রাজনৈতিক সংঘাতমুক্ত রেখে পাঠদান করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র রাজনীতি শুরু হলে সহিংতা বাড়ার আশঙ্কা আছে, যা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও সংশ্লিষ্ট একাাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলেও, গত ৩০ বছরে কোনো ক্যাম্পাসেই কোনো ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনাকারী ইউজিসির ১৯৯২ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং ২০১০ সালের সংস্কার করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ নেই। তবে প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটি গঠনের কথা বলা আছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৬(১০) ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত হইতে পারে এমন কোনো কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করিবে না বা সন্ত্রাসী বা জঙ্গি তৎপরতা বা এই জাতীয় কোনো কার্যকলাপে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই কোনো পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করিবে না।’

আর ৩৫(৭) ধারায় বলা হয়েছে, ‘(৭) কোনো কারণে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিলে কিংবা উহার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে, উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবার স্বার্থে, চ্যান্সেলর কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে, প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং এতদ্বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দেওয়া কমিটি প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালে ৪৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্ররাজনীতি শুরু করে ছাত্রদল। এরপর ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি দেয় দলটি। তবে বিরোধী রাজনীতির ছাত্র সংগঠন থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আপত্তির মুখে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ফের ২০১৬ সালে ৬৪৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে ছাত্রদল। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ জুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটে পাঁচ সদস্যের সুপার-ফাইভ কমিটি করে দলটি।

এছাড়াও ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপ করা ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞার কারণে সেসময় তাদের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড চালাতে দেখা যায়নি। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় টিউশন ফি কমানোর দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিল। এসব আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দলের ব্যানারে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবকরা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্নিষ্ট উপাচার্যদের ই-মেইল করেছেন। এমন অভিভাবকের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’।
এখন কী দেশে কোনো ছাত্র রাজনীতি আছে? ছাত্রনেতাদের ৪ বছরের লেখাপড়ার ১২ বছরেও শেষ হয় না কেন? যেখানে নিজেরা-নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মাথা পাটায়, সেখানে কিসের ছাত্র রাজনীতি।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, এখন কী দেশে কোনো ছাত্র রাজনীতি আছে? ছাত্রনেতাদের ৪ বছরের লেখাপড়ার ১২ বছরেও শেষ হয় না কেন? যেখানে নিজেরা-নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মাথা পাটায়, সেখানে কিসের ছাত্র রাজনীতি। আমাদের সময়কার ছাত্র রাজনীতি আর এখনকার ছাত্ররাজনীতির তারতম্য আকাশ-পাতাল। একটা দেশকে ভাগ করে আরেকটা দেশ তৈরি করেছিল ছাত্র রাজনীতি। কিন্তু এখন ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাত্রই ভালো করা শুরু করেছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে আসতে শুরু করেছে। ব্র্যাক ও নর্থ সাউথ বেশ ভালো করছে। ৫-৬ বছর আগেও যাদের অস্তিত্ব ছিল না, সেই জায়গা থেকে বর্তমানে একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও মোটামুটি এগিয়ে যাচ্ছে। তারা স্থায়ী ক্যাম্পাস করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ ধারণ করছে মাত্র। এই সময়টাতে এ ধরনের কাজ করা মানেই তারা পিছিয়ে পড়ার দিকে যাবে। তার কারণ, ছাত্র রাজনীতিকে আমরা বাংলাদেশে যেভাবে দেখি, সেই ধরনের ছাত্র রাজনীতি পৃথিবীর কোথাও নেই। আমাদের দেশের ছাত্র রাজনীতি আসলে ছাত্র রাজনীতি নয়।’

ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে আগে বুঝতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি হলো ছাত্রদের জন্য, ছাত্রদের দ্বারা অর্থাৎ ছাত্রদের কল্যাণে যারা কাজ করে। এটা অনেকটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো। আমাদের দেশে যেটা হয় সেটা ছাত্র রাজনীতি নয়, এটা জাতীয় রাজনীতি। জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রহরী। তাদের তোষামোদি। তারা কাজ করে কোনো একটি দল ক্ষমতায় আসলে তাদের কীভাবে ক্ষমতায় রাখা যায় অথবা অন্য কাউকে কীভাবে ক্ষমতায় নেওয়া যায়; সে রকম দলের একটি প্রহরী।
ছাত্র রাজনীতিকে আমরা বাংলাদেশে যেভাবে দেখি, সেই ধরনের ছাত্র রাজনীতি পৃথিবীর কোথাও নেই। আমাদের দেশের ছাত্র রাজনীতি আসলে ছাত্র রাজনীতি নয়। ছাত্র রাজনীতি হলো ছাত্রদের জন্য, ছাত্রদের দ্বারা- ছাত্রদের কল্যাণে যারা কাজ করে। এটা অনেকটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো। কিন্তু তারা কাজ করে কোনো একটি দল ক্ষমতায় আসলে তাদের কীভাবে ক্ষমতায় রাখা যায় অথবা অন্য কাউকে কীভাবে ক্ষমতায় নেওয়া যায়; সে রকম দলের একটি প্রহরী।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি সচেতনতা ও সম্পৃক্তটাকে নিরুৎসাহিত করে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলবে কিনা তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম দ্বারা নির্ধারিত হবে। উপাচার্যরা শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিয়ম-কানুন বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয পরিচালনা করবেন। ক্যাম্পাসের বাহিরে ইতিবাচক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিসি, শৃঙ্খলা ও নিয়ম-কানুন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সকলে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বেসরকারি বিম্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়টি আমরা বিশেষভাবে অবগত। ট্রাস্টের অধীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সেশনজট মুক্ত অলাভজনক, অরাজনৈতিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। তবে কে দলীয় রাজনীতি করবেন কি করবেন না তা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর প্রতিষ্ঠান তো রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে পারে না। কারণ যেটি অধিকার সেটি তো নিষিদ্ধ করা যায় না।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনো রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। তবে কে দলীয় রাজনীতি করবেন কি করবেন না তা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর প্রতিষ্ঠান তো রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে পারে না। কারণ যেটি অধিকার সেটি তো নিষিদ্ধ করা যায় না।

তবে রাজনীতির নামে কোনো অরাজকতা চান না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দলীয় রাজনীতি কীভাবে হবে, সেখানে রাজনীতি যারা করবেন, সেই শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিষ্ঠানের বোঝাপড়া, সৌহার্দ থাকা উচিত। তবে আমরা চাই, দলীয় রাজনীতির নামে যেন কোনো সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা না হয়।

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে কেন বিতর্ক?

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশের প্রায় ৩৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনীতি করা যাবে না। কিন্তু ছাত্র সংগঠনগুলোও তাদের সিদ্ধান্তে পুরোপুরি অনঢ়। আর শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান কখনো রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে না। রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। এই নিয়ে গত সপ্তাহখানেক থেকেই বিরাাজ করছে নানা বিতর্ক আর উত্তেজনা।

ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক আর শিক্ষাবিদরাও। ক্যাম্পাসের ভেতরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তাদের। এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদরা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জায়গা, পরিসর অনেক ছোট। ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করাই সেখানে দুরূহ। এর মধ্যে যদি আবার রাজনীতি শুরু হয়ে যায় তাহলে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে।

সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এর আগে ১ ও ২ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ সম্মিলিত শাখার সভাপতি জাহিদ হোসেন পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাকিম সম্রাট স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অন্তত ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ইস্ট ওয়েস্ট, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এআইইউবি, ড্যাফোডিলের মতো বড় এবং নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও রয়েছে।

তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাস রাজনীতিকে ‘না’ করে ইতোমধ্যেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ব্র্যাক, ইস্ট-ওয়েস্ট, আইইউবিএটি, এআইইউবিসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

সর্বশেষ শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল এক বিবৃতিতে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান এবং কোনো রাজনৈতিক ক্লাব বা সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়া বা কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো ধরনের সংগঠন প্রতিষ্ঠার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বা বাইরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিনা অনুমতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো বা স্বাক্ষর ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম বা কর্মসূচি করা যাবে না। এসব কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বলা হয়েছে, চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে স্থগিতাদেশ বা বহিষ্কার বা সতর্ক করতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের, নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোনো ক্লাব বা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া কিংবা সংগঠন করতে পারার স্বাধীনতা আছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের পলিসি, শৃঙ্খলা ও নিয়মকানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম, সেমিস্টারভিত্তিক কর্মোপযোগী আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, সেশনজট ও রাজনৈতিক সংঘাতমুক্ত রেখে পাঠদান করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র রাজনীতি শুরু হলে সহিংতা বাড়ার আশঙ্কা আছে, যা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও সংশ্লিষ্ট একাাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলেও, গত ৩০ বছরে কোনো ক্যাম্পাসেই কোনো ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনাকারী ইউজিসির ১৯৯২ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং ২০১০ সালের সংস্কার করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ নেই। তবে প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটি গঠনের কথা বলা আছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৬(১০) ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত হইতে পারে এমন কোনো কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করিবে না বা সন্ত্রাসী বা জঙ্গি তৎপরতা বা এই জাতীয় কোনো কার্যকলাপে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই কোনো পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করিবে না।’

আর ৩৫(৭) ধারায় বলা হয়েছে, ‘(৭) কোনো কারণে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিলে কিংবা উহার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে, উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবার স্বার্থে, চ্যান্সেলর কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে, প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং এতদ্বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দেওয়া কমিটি প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালে ৪৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্ররাজনীতি শুরু করে ছাত্রদল। এরপর ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি দেয় দলটি। তবে বিরোধী রাজনীতির ছাত্র সংগঠন থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আপত্তির মুখে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ফের ২০১৬ সালে ৬৪৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে ছাত্রদল। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ জুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটে পাঁচ সদস্যের সুপার-ফাইভ কমিটি করে দলটি।

এছাড়াও ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপ করা ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞার কারণে সেসময় তাদের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড চালাতে দেখা যায়নি। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় টিউশন ফি কমানোর দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিল। এসব আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দলের ব্যানারে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবকরা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্নিষ্ট উপাচার্যদের ই-মেইল করেছেন। এমন অভিভাবকের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’।
এখন কী দেশে কোনো ছাত্র রাজনীতি আছে? ছাত্রনেতাদের ৪ বছরের লেখাপড়ার ১২ বছরেও শেষ হয় না কেন? যেখানে নিজেরা-নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মাথা পাটায়, সেখানে কিসের ছাত্র রাজনীতি।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, এখন কী দেশে কোনো ছাত্র রাজনীতি আছে? ছাত্রনেতাদের ৪ বছরের লেখাপড়ার ১২ বছরেও শেষ হয় না কেন? যেখানে নিজেরা-নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মাথা পাটায়, সেখানে কিসের ছাত্র রাজনীতি। আমাদের সময়কার ছাত্র রাজনীতি আর এখনকার ছাত্ররাজনীতির তারতম্য আকাশ-পাতাল। একটা দেশকে ভাগ করে আরেকটা দেশ তৈরি করেছিল ছাত্র রাজনীতি। কিন্তু এখন ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাত্রই ভালো করা শুরু করেছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে আসতে শুরু করেছে। ব্র্যাক ও নর্থ সাউথ বেশ ভালো করছে। ৫-৬ বছর আগেও যাদের অস্তিত্ব ছিল না, সেই জায়গা থেকে বর্তমানে একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও মোটামুটি এগিয়ে যাচ্ছে। তারা স্থায়ী ক্যাম্পাস করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ ধারণ করছে মাত্র। এই সময়টাতে এ ধরনের কাজ করা মানেই তারা পিছিয়ে পড়ার দিকে যাবে। তার কারণ, ছাত্র রাজনীতিকে আমরা বাংলাদেশে যেভাবে দেখি, সেই ধরনের ছাত্র রাজনীতি পৃথিবীর কোথাও নেই। আমাদের দেশের ছাত্র রাজনীতি আসলে ছাত্র রাজনীতি নয়।’

ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে আগে বুঝতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি হলো ছাত্রদের জন্য, ছাত্রদের দ্বারা অর্থাৎ ছাত্রদের কল্যাণে যারা কাজ করে। এটা অনেকটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো। আমাদের দেশে যেটা হয় সেটা ছাত্র রাজনীতি নয়, এটা জাতীয় রাজনীতি। জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রহরী। তাদের তোষামোদি। তারা কাজ করে কোনো একটি দল ক্ষমতায় আসলে তাদের কীভাবে ক্ষমতায় রাখা যায় অথবা অন্য কাউকে কীভাবে ক্ষমতায় নেওয়া যায়; সে রকম দলের একটি প্রহরী।
ছাত্র রাজনীতিকে আমরা বাংলাদেশে যেভাবে দেখি, সেই ধরনের ছাত্র রাজনীতি পৃথিবীর কোথাও নেই। আমাদের দেশের ছাত্র রাজনীতি আসলে ছাত্র রাজনীতি নয়। ছাত্র রাজনীতি হলো ছাত্রদের জন্য, ছাত্রদের দ্বারা- ছাত্রদের কল্যাণে যারা কাজ করে। এটা অনেকটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো। কিন্তু তারা কাজ করে কোনো একটি দল ক্ষমতায় আসলে তাদের কীভাবে ক্ষমতায় রাখা যায় অথবা অন্য কাউকে কীভাবে ক্ষমতায় নেওয়া যায়; সে রকম দলের একটি প্রহরী।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি সচেতনতা ও সম্পৃক্তটাকে নিরুৎসাহিত করে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলবে কিনা তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম দ্বারা নির্ধারিত হবে। উপাচার্যরা শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিয়ম-কানুন বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয পরিচালনা করবেন। ক্যাম্পাসের বাহিরে ইতিবাচক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিসি, শৃঙ্খলা ও নিয়ম-কানুন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সকলে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বেসরকারি বিম্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়টি আমরা বিশেষভাবে অবগত। ট্রাস্টের অধীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সেশনজট মুক্ত অলাভজনক, অরাজনৈতিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। তবে কে দলীয় রাজনীতি করবেন কি করবেন না তা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর প্রতিষ্ঠান তো রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে পারে না। কারণ যেটি অধিকার সেটি তো নিষিদ্ধ করা যায় না।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনো রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। তবে কে দলীয় রাজনীতি করবেন কি করবেন না তা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর প্রতিষ্ঠান তো রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে পারে না। কারণ যেটি অধিকার সেটি তো নিষিদ্ধ করা যায় না।

তবে রাজনীতির নামে কোনো অরাজকতা চান না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দলীয় রাজনীতি কীভাবে হবে, সেখানে রাজনীতি যারা করবেন, সেই শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিষ্ঠানের বোঝাপড়া, সৌহার্দ থাকা উচিত। তবে আমরা চাই, দলীয় রাজনীতির নামে যেন কোনো সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা না হয়।