ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন ১৪০ টন প্লাস্টিক বর্জ্যে দূষিত চট্টগ্রাম

প্রতিদিন চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮৭ লাখ মানুষ ৩০০ টন বর্জ্য সৃষ্টি করে যার মধ্যে ২৪৯ টন প্লাস্টিক বর্জ্য। যার ৫৬ শতাংশ (১৪০ টন) রিসাইক্লিংয়ের জন্য সংগ্রহ না করায় নগরীর খাল নালা পরিবেশ প্রতিবেশের সঙ্গে মিশে মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে পরিবেশ। এই প্লাস্টিক পলিথিনের কারণে বাড়ছে জলাবদ্ধতা পানি দূষণ দুর্গন্ধযুক্ত আবহাওয়া, মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা। প্লাস্টিক পলিথিন নদী ও সাগরে মিশে ধ্বংস হচ্ছে সাগর নদীর মাছ। রাস্তায় পাশে জমা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এই পলিথিন প্লাস্টিক বৃহৎ জলজ প্রাণী তিমিরও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সোলতান আহমদ হলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ও বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম আয়োজিত গবেষণা প্রবন্ধে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পরিবেশকর্মী দিলরুবা খানমের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সভাপতি ও চুয়েট ভিসি (সাবেক) প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি গবেষণা প্রবন্ধের মডারেটর চুয়েট প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিত, সিনিয়র সহসভাপতি প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী, সহসভাপতি লোকমান দয়াল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক আলীউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, অধ্যাপক মনোজ কুমার দেব, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম পেয়ার আলী সদস্য জসিম উদ্দিন, সঞ্চয় দেব প্রমুখ।

চুয়েট ছাত্র প্রকৌশলী পিয়াল বড়ুয়া ও প্রকৌশলী আল আমিন প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিতের তত্ত্বাবধানে গত এক বছর ধরে নগরীর বাকলিয়া চান্দগাঁও মুরাদপুর, চকবাজার খাতুনগঞ্জ আগ্রাবাদ সিইপিজেডসহ ১৫ ওয়ার্ডে গত এক বছর ধরে এই গবেষণা কাজ পরিচালনা করেন। গবেষণায় সার্বিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম। গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, যত্রতত্র প্লাস্টিক ছুড়ে ফেলা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অভাব, প্লাস্টিক পড়ানো, প্লাস্টিক দূষণের কারণ সম্পর্কে অজ্ঞতা, অপচনশীলতা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্লাস্টিক বর্জ্যে দূষণ দিন দিন বাড়ছে। প্লাস্টিক দূষণের কারণে খাবার, পানি ও নিশ্বাসের সঙ্গে মাইক্রো প্লাস্টিক আমাদের দেহে প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক পলিথিনের সঙ্গে থাকা কেমিক্যাল এডিটিবস মানুষের শরীরে ঢুকে ক্যানসার, বন্ধ্যত্ব এবং অটিজমের মতো রোগ সৃষ্টি করছে। প্লাস্টিক পলিথিন বর্জ্য পরিবেশ এসে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া (প্যাথোজেন) এর মতো অণুজীবকে আকর্ষণ করে যা পরবর্তী সময়ে প্যাথেজেন ধারণকারী মাইক্রো প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণা প্রবন্ধে আরো জানানো হয়, ৩০ শতাংশ মানুষ প্লাস্টিক পলিথিনের পুনর্ব্যবহার করে, ৪৬ শতাংশ মানুষ কখনো প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার করে না, ১১ শতাংশ মানুষ কখনো পুনর্ব্যবহার করে।

গবেষণায় বলা হয়, সড়ক কার্পেটিং এ বিটুমিনের সঙ্গে ৫-১০ শতাংশ প্লাস্টিক পলিথিন মেশানোর ফলে পরিবেশ দূষণ কমবে, প্রতি কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং এ ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে সেইসঙ্গে তৈরি সড়ক দ্বিগুণ স্থায়ী হবে।

Tag :

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ২ সহস্রাধিক, আক্রান্ত সাড়ে ৬ লাখ

প্রতিদিন ১৪০ টন প্লাস্টিক বর্জ্যে দূষিত চট্টগ্রাম

প্রকাশের সময় : ১০:০২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রতিদিন চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮৭ লাখ মানুষ ৩০০ টন বর্জ্য সৃষ্টি করে যার মধ্যে ২৪৯ টন প্লাস্টিক বর্জ্য। যার ৫৬ শতাংশ (১৪০ টন) রিসাইক্লিংয়ের জন্য সংগ্রহ না করায় নগরীর খাল নালা পরিবেশ প্রতিবেশের সঙ্গে মিশে মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে পরিবেশ। এই প্লাস্টিক পলিথিনের কারণে বাড়ছে জলাবদ্ধতা পানি দূষণ দুর্গন্ধযুক্ত আবহাওয়া, মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা। প্লাস্টিক পলিথিন নদী ও সাগরে মিশে ধ্বংস হচ্ছে সাগর নদীর মাছ। রাস্তায় পাশে জমা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এই পলিথিন প্লাস্টিক বৃহৎ জলজ প্রাণী তিমিরও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সোলতান আহমদ হলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ও বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম আয়োজিত গবেষণা প্রবন্ধে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পরিবেশকর্মী দিলরুবা খানমের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সভাপতি ও চুয়েট ভিসি (সাবেক) প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি গবেষণা প্রবন্ধের মডারেটর চুয়েট প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিত, সিনিয়র সহসভাপতি প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী, সহসভাপতি লোকমান দয়াল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক আলীউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, অধ্যাপক মনোজ কুমার দেব, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম পেয়ার আলী সদস্য জসিম উদ্দিন, সঞ্চয় দেব প্রমুখ।

চুয়েট ছাত্র প্রকৌশলী পিয়াল বড়ুয়া ও প্রকৌশলী আল আমিন প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিতের তত্ত্বাবধানে গত এক বছর ধরে নগরীর বাকলিয়া চান্দগাঁও মুরাদপুর, চকবাজার খাতুনগঞ্জ আগ্রাবাদ সিইপিজেডসহ ১৫ ওয়ার্ডে গত এক বছর ধরে এই গবেষণা কাজ পরিচালনা করেন। গবেষণায় সার্বিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম। গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, যত্রতত্র প্লাস্টিক ছুড়ে ফেলা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অভাব, প্লাস্টিক পড়ানো, প্লাস্টিক দূষণের কারণ সম্পর্কে অজ্ঞতা, অপচনশীলতা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্লাস্টিক বর্জ্যে দূষণ দিন দিন বাড়ছে। প্লাস্টিক দূষণের কারণে খাবার, পানি ও নিশ্বাসের সঙ্গে মাইক্রো প্লাস্টিক আমাদের দেহে প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক পলিথিনের সঙ্গে থাকা কেমিক্যাল এডিটিবস মানুষের শরীরে ঢুকে ক্যানসার, বন্ধ্যত্ব এবং অটিজমের মতো রোগ সৃষ্টি করছে। প্লাস্টিক পলিথিন বর্জ্য পরিবেশ এসে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া (প্যাথোজেন) এর মতো অণুজীবকে আকর্ষণ করে যা পরবর্তী সময়ে প্যাথেজেন ধারণকারী মাইক্রো প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণা প্রবন্ধে আরো জানানো হয়, ৩০ শতাংশ মানুষ প্লাস্টিক পলিথিনের পুনর্ব্যবহার করে, ৪৬ শতাংশ মানুষ কখনো প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার করে না, ১১ শতাংশ মানুষ কখনো পুনর্ব্যবহার করে।

গবেষণায় বলা হয়, সড়ক কার্পেটিং এ বিটুমিনের সঙ্গে ৫-১০ শতাংশ প্লাস্টিক পলিথিন মেশানোর ফলে পরিবেশ দূষণ কমবে, প্রতি কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং এ ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে সেইসঙ্গে তৈরি সড়ক দ্বিগুণ স্থায়ী হবে।