ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চিন্তার নাম ‘ওপেনার’

দেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৭৭ ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ১৭০১ রান করা ওপেনার তামিম ইকবাল অবসরে গেছেন। এই ফরম্যাটে তারপরেই আছেন ৪০ ম্যাচে ৮৪০ রান করা ওপেনার লিটন দাস। কিন্তু ইনজুরিতে দেশের হয়ে খেলতে পারেননি চলতি এশিয়া কাপে। ৩৫ ম্যাচে ৮১৫ রান করা নাঈম শেখ নেই ফর্মে। এশিয়া কাপে জায়গা পেয়েও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তার সঙ্গে সুযোগ মিলেছিল আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়েরও। কিন্তু বিজয়ও ব্যর্থ। আর মাত্র ১ মাস পরেই অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বলার অপেক্ষা রাখে না ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বিশ্বকাপ। কিন্তু টাইগার শিবিরে এখনো চিন্তার নাম ‘ওপেনার’! দলের হাল ধরতে লিটনের সঙ্গী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।

আইসিসির বেঁধে দেয়া সময় মতো দল ঘোষণা করতে হাতে আছে মাত্র ৪ দিন। আর সেই কারণেই জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কন্ঠে শোনা গেল সেই দুশ্চিন্তার সুর। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। কে হবে না হবে। এশিয়া কাপে শেষ ম্যাচে আমরা একটা ভিন্ন কম্বিনেশনে গিয়েছিলাম, এখানে যেহেতু বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা সেখানে আমরা কাউকে মেকশিফট ওপেনার করবো কি না, নাকি নিয়মিত ওপেনার এটা নিয়ে এখনো আলোচনার বাকি আছে।’

লিটন ও নাঈমের পর ব্যাট হাতে দেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ওপেনার সৌম্য সরকার। ৩৬ ম্যাচে ১২৩.৪৩ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৬৯০ রান। যেখানে ফিফটির সংখ্যা মাত্র ৩টি। তবে তিনি দেশের হয়ে সবশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২১ এর নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এই ম্যাচসহ সব মিলিয়ে ১০ ইনিংসে তার কোনো ফিফটি তো নেই, এর মধ্যে খেলেছেন সর্বোচ্চ ১৭ রানের ইনিংস। ফর্মের কারণেই দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর আর খেলার সুযোগ হয়নি। তবে ‘এ’ দলের হয়ে খেলছেন তিনি। দিয়েছেন ফর্মে ফেরার আশ্বাসও। আর সেই কারণেই তাকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নির্বাচকদের নজরে আছেন ব্যর্থ নাঈম, বিজয়ও। আবার পরীক্ষামূলকভাবে খেলানো হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকেও। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমরা অনেককে নিয়ে ভাবছি, শুধু একজন (সৌম্য) নিয়ে ভাবছি না। শর্টলিস্টে বেশ কিছু ওপেনার আছেন, তারা আগে ওপেন করেছেন, এখনও করছেন। যেহেতু আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা টুর্নামেন্ট আমরা সিদ্ধান্তটা একটু ভেবে চিন্তেই নিতে চাই। কারণ, ওই একটা পজিশনে আমরা কাউকে সেটেলড করতে পারছি না টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। আমরা বেশি পরিবর্তন করতে চাইও না। কারণ, বিশ্বকাপে সাফল্য অনেকখানি ওপেনারদের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে। তাই সিদ্ধান্তটা বেশ ভেবেচিন্তে নিতে চাই।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি ১৭ ও ১৯শে অক্টোবর। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ ২৪শে অক্টোবর। জানা গেছে ১৪ই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দল ঘোঘণা হবে। আর নির্বাচক বাশার মনে করেন এরই মধ্যে তারা সমম্যার সমাধান করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘হাতে কিছু সময় আছে, এই ক’দিনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারবো যে মেকশিফট ওপেনার নিয়ে চেষ্টা করবো নাকি জেনুইন ওপেনার।’ অবশ্য ওপেনিংয়ে যারাই জয়গা পাবেন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ও কঠিন পরীক্ষা বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেই। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে টাইগারদের স্পিন শক্তি খুব একটা কাজে আসবে না। তাই দলে রাখতে হবে বাড়তি পেসার। আক্রমণও সাজাতে হবে পেসার নিয়েই। এই কারণে নির্বাচকদের বিবেচনায় আছেন বেশ কয়েকজন পেসার। এ নিয়ে বাশার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া কন্ডিশনে যখন খেলতে যাই স্বাভাবিকভাবে একজন বাড়তি পেসার নিয়ে যাওয়া হয়। সেটাই চেষ্টা থাকে। এবারও সেটাই হবে। আমরা যখন ঘরের মাঠে খেলি, একজন বাড়তি স্পিনার নেওয়া হয় যেহেতু একাদশে তিন পেসারের বেশি খেলে না। কিন্তু যেহেতু অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশন সেখানে একজন বাড়তি পেসার যাবে।’

Tag :

পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে হ্যান্ডকাপসহ পালালো আসামি

চিন্তার নাম ‘ওপেনার’

প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৭৭ ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ১৭০১ রান করা ওপেনার তামিম ইকবাল অবসরে গেছেন। এই ফরম্যাটে তারপরেই আছেন ৪০ ম্যাচে ৮৪০ রান করা ওপেনার লিটন দাস। কিন্তু ইনজুরিতে দেশের হয়ে খেলতে পারেননি চলতি এশিয়া কাপে। ৩৫ ম্যাচে ৮১৫ রান করা নাঈম শেখ নেই ফর্মে। এশিয়া কাপে জায়গা পেয়েও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তার সঙ্গে সুযোগ মিলেছিল আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়েরও। কিন্তু বিজয়ও ব্যর্থ। আর মাত্র ১ মাস পরেই অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বলার অপেক্ষা রাখে না ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বিশ্বকাপ। কিন্তু টাইগার শিবিরে এখনো চিন্তার নাম ‘ওপেনার’! দলের হাল ধরতে লিটনের সঙ্গী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।

আইসিসির বেঁধে দেয়া সময় মতো দল ঘোষণা করতে হাতে আছে মাত্র ৪ দিন। আর সেই কারণেই জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কন্ঠে শোনা গেল সেই দুশ্চিন্তার সুর। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। কে হবে না হবে। এশিয়া কাপে শেষ ম্যাচে আমরা একটা ভিন্ন কম্বিনেশনে গিয়েছিলাম, এখানে যেহেতু বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা সেখানে আমরা কাউকে মেকশিফট ওপেনার করবো কি না, নাকি নিয়মিত ওপেনার এটা নিয়ে এখনো আলোচনার বাকি আছে।’

লিটন ও নাঈমের পর ব্যাট হাতে দেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ওপেনার সৌম্য সরকার। ৩৬ ম্যাচে ১২৩.৪৩ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৬৯০ রান। যেখানে ফিফটির সংখ্যা মাত্র ৩টি। তবে তিনি দেশের হয়ে সবশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২১ এর নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এই ম্যাচসহ সব মিলিয়ে ১০ ইনিংসে তার কোনো ফিফটি তো নেই, এর মধ্যে খেলেছেন সর্বোচ্চ ১৭ রানের ইনিংস। ফর্মের কারণেই দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর আর খেলার সুযোগ হয়নি। তবে ‘এ’ দলের হয়ে খেলছেন তিনি। দিয়েছেন ফর্মে ফেরার আশ্বাসও। আর সেই কারণেই তাকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নির্বাচকদের নজরে আছেন ব্যর্থ নাঈম, বিজয়ও। আবার পরীক্ষামূলকভাবে খেলানো হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকেও। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমরা অনেককে নিয়ে ভাবছি, শুধু একজন (সৌম্য) নিয়ে ভাবছি না। শর্টলিস্টে বেশ কিছু ওপেনার আছেন, তারা আগে ওপেন করেছেন, এখনও করছেন। যেহেতু আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা টুর্নামেন্ট আমরা সিদ্ধান্তটা একটু ভেবে চিন্তেই নিতে চাই। কারণ, ওই একটা পজিশনে আমরা কাউকে সেটেলড করতে পারছি না টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। আমরা বেশি পরিবর্তন করতে চাইও না। কারণ, বিশ্বকাপে সাফল্য অনেকখানি ওপেনারদের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে। তাই সিদ্ধান্তটা বেশ ভেবেচিন্তে নিতে চাই।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি ১৭ ও ১৯শে অক্টোবর। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ ২৪শে অক্টোবর। জানা গেছে ১৪ই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দল ঘোঘণা হবে। আর নির্বাচক বাশার মনে করেন এরই মধ্যে তারা সমম্যার সমাধান করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘হাতে কিছু সময় আছে, এই ক’দিনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারবো যে মেকশিফট ওপেনার নিয়ে চেষ্টা করবো নাকি জেনুইন ওপেনার।’ অবশ্য ওপেনিংয়ে যারাই জয়গা পাবেন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ও কঠিন পরীক্ষা বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেই। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে টাইগারদের স্পিন শক্তি খুব একটা কাজে আসবে না। তাই দলে রাখতে হবে বাড়তি পেসার। আক্রমণও সাজাতে হবে পেসার নিয়েই। এই কারণে নির্বাচকদের বিবেচনায় আছেন বেশ কয়েকজন পেসার। এ নিয়ে বাশার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া কন্ডিশনে যখন খেলতে যাই স্বাভাবিকভাবে একজন বাড়তি পেসার নিয়ে যাওয়া হয়। সেটাই চেষ্টা থাকে। এবারও সেটাই হবে। আমরা যখন ঘরের মাঠে খেলি, একজন বাড়তি স্পিনার নেওয়া হয় যেহেতু একাদশে তিন পেসারের বেশি খেলে না। কিন্তু যেহেতু অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশন সেখানে একজন বাড়তি পেসার যাবে।’