ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কটিয়াদীতে মাচায় ঝুলছে রসে টইটম্বুর সুগার কিং তরমুজ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অসময়ে সুগার কিং তরমুজ চাষে এক কৃষক সফলতা পেয়েছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এলাকার কৃষকরা এটি চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অন্য সব ক্ষেতে তরমুজ যখন শেষ, তখন এই সেপ্টেম্বরে মাচায় মাচায় ঝুলছে সুগার কিং তৃপ্তি জাতের তরমুজ। এ ফল কালো, ভিতরে লাল ও রসাল আর খেতে অনেক সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।

কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পং মসূয়া গ্রামে এবছর প্রথম পরিক্ষামূলক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। প্রবাস ফেরত হাদিউল ইসলামের জমিতে কৃষি অফিসের সহায়তায় চাষ শুরু হয়। এতে প্রথমেই আশানুরূপ সাফল্য মিলেছে। সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনের ফলে ফলন ভালো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তরমুজের বীজ রোপণের অল্প দিনের মধ্যেই জমিতে গাছগুলো বেড়ে ওঠেছে। জমিতে বেড করে মাটির সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখা হত। পুরো ক্ষেতে বাঁশের খুঁটি ওপরে চিকন দড়ি দিয়ে জালের মতো করে বিছিয়ে মাচা তৈরি করা হয়েছে। বীজ রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে গাছের লতা-পাতাগুলো মাচায় উঠেছে। রোপণের আড়াই মাসের মধ্যে গাছে ফলন হয়েছে।

ঐসব তরমুজ ৩৫ দিনের পরিপক্ক হয়ে মাচায় ডোগায় ডোগায় ঝুলে আছে আড়াই থেকে চার কেজি ওজনের তরমুজ। এই তরমুজ দেখতে কালো রঙের মতো মনে হলে ভিতরে কিন্তু লাল টুকটুকে ও রসেভরা আর খেতে অনেক সুস্বাদু এবং মিষ্টি। এইসব তরমুজগুলো বিষ ও ফরমালিন মুক্ত পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ তরমুজগুলো খেতে সু-স্বাদ, দেখতে আকর্ষণীয় ও চাহিদা বেশি, ভালো দাম থাকায় এবং লাভজনক হওয়ায় এই জাতের তরমুজ দেখতে ক্ষেতে ভিড় করেন অনেকেই। অন্যান্য ফসলের মতো এটি বিক্রিতে সমস্যা হচ্ছে না।

সফল তরমুজ চাষি হাদিউল ইসলাম বলেন, আমার ৫০ শতাংশ জমিতে বেড করে মালচিং পদ্ধতিতে সুগার কিং তৃপ্তি জাতের তরমুজের বীজ রোপণ করি। সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে এক লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত যা বিক্রি করছি তার পরিমাণ দেড় লাখ টাকা হবে। বৃষ্টিপাতে চারার ক্ষতি হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে আর বাজার ঠিক থাকলে ৪-৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। তিনি আরো জানান, বীজ রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে গাছ মাচায় উঠে যায়। রোপণের ৪০ দিনের মধ্যে গাছে প্রচুর ফুল ও কুড়ি আসে। তারপর ৩৫ দিনের পরিপক্ক হয়ে মাচায় ডোগায় ডোগায় ঝুলে আছে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের তরমুজ। কেজি ৬০-৭০ টাকা প্রকার ভেদে। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসূয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শংকর কুমার সরকার বলেন, আমি সবসময়ই তদারকি করেছি। ফলন শতভাগ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষক লাভবান হবে।

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোকশেদুল হক বলেন,’এলাকায় তরমুজ চাষের জন্য কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহের পরামর্শ এবং বালাইনাশক ব্যবহারে ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এই এলাকার কৃষকরা নতুন পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন। আগামীতে এই ফসল চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, নতুন এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে একদিনে যেমন তরমুজ সারাবছর পাওয়া যাবে, অন্যদিকে তরমুজ চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।’

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

কটিয়াদীতে মাচায় ঝুলছে রসে টইটম্বুর সুগার কিং তরমুজ

প্রকাশের সময় : ১০:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অসময়ে সুগার কিং তরমুজ চাষে এক কৃষক সফলতা পেয়েছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এলাকার কৃষকরা এটি চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অন্য সব ক্ষেতে তরমুজ যখন শেষ, তখন এই সেপ্টেম্বরে মাচায় মাচায় ঝুলছে সুগার কিং তৃপ্তি জাতের তরমুজ। এ ফল কালো, ভিতরে লাল ও রসাল আর খেতে অনেক সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।

কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পং মসূয়া গ্রামে এবছর প্রথম পরিক্ষামূলক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। প্রবাস ফেরত হাদিউল ইসলামের জমিতে কৃষি অফিসের সহায়তায় চাষ শুরু হয়। এতে প্রথমেই আশানুরূপ সাফল্য মিলেছে। সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনের ফলে ফলন ভালো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তরমুজের বীজ রোপণের অল্প দিনের মধ্যেই জমিতে গাছগুলো বেড়ে ওঠেছে। জমিতে বেড করে মাটির সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখা হত। পুরো ক্ষেতে বাঁশের খুঁটি ওপরে চিকন দড়ি দিয়ে জালের মতো করে বিছিয়ে মাচা তৈরি করা হয়েছে। বীজ রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে গাছের লতা-পাতাগুলো মাচায় উঠেছে। রোপণের আড়াই মাসের মধ্যে গাছে ফলন হয়েছে।

ঐসব তরমুজ ৩৫ দিনের পরিপক্ক হয়ে মাচায় ডোগায় ডোগায় ঝুলে আছে আড়াই থেকে চার কেজি ওজনের তরমুজ। এই তরমুজ দেখতে কালো রঙের মতো মনে হলে ভিতরে কিন্তু লাল টুকটুকে ও রসেভরা আর খেতে অনেক সুস্বাদু এবং মিষ্টি। এইসব তরমুজগুলো বিষ ও ফরমালিন মুক্ত পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ তরমুজগুলো খেতে সু-স্বাদ, দেখতে আকর্ষণীয় ও চাহিদা বেশি, ভালো দাম থাকায় এবং লাভজনক হওয়ায় এই জাতের তরমুজ দেখতে ক্ষেতে ভিড় করেন অনেকেই। অন্যান্য ফসলের মতো এটি বিক্রিতে সমস্যা হচ্ছে না।

সফল তরমুজ চাষি হাদিউল ইসলাম বলেন, আমার ৫০ শতাংশ জমিতে বেড করে মালচিং পদ্ধতিতে সুগার কিং তৃপ্তি জাতের তরমুজের বীজ রোপণ করি। সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে এক লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত যা বিক্রি করছি তার পরিমাণ দেড় লাখ টাকা হবে। বৃষ্টিপাতে চারার ক্ষতি হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে আর বাজার ঠিক থাকলে ৪-৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। তিনি আরো জানান, বীজ রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে গাছ মাচায় উঠে যায়। রোপণের ৪০ দিনের মধ্যে গাছে প্রচুর ফুল ও কুড়ি আসে। তারপর ৩৫ দিনের পরিপক্ক হয়ে মাচায় ডোগায় ডোগায় ঝুলে আছে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের তরমুজ। কেজি ৬০-৭০ টাকা প্রকার ভেদে। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসূয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শংকর কুমার সরকার বলেন, আমি সবসময়ই তদারকি করেছি। ফলন শতভাগ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষক লাভবান হবে।

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোকশেদুল হক বলেন,’এলাকায় তরমুজ চাষের জন্য কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহের পরামর্শ এবং বালাইনাশক ব্যবহারে ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এই এলাকার কৃষকরা নতুন পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন। আগামীতে এই ফসল চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, নতুন এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে একদিনে যেমন তরমুজ সারাবছর পাওয়া যাবে, অন্যদিকে তরমুজ চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।’