ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আয় কমেছে ওষুধ রফতানিতে

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের বেশ কদর আছে। ১৫৩টিরও অধিক দেশে রফতানি হয় বংলাদেশে তৈরি ওষুধ। বিগত কয়েক বছর ওষুধ রফতানিতে বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি ২০২২- ২৩ অর্থবছরে ওষুধ রফতানির আয়ে বেশ বড় ধাক্কা লেগেছে। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের চেয়ে ২৫ শতাংশ আয় কম হয়েছে ওষুধ রফতানিতে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবি সূত্র জানায়, চলতি ২০২২- ২৩ অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে (জুলাই- আগস্ট) জীবন রক্ষাকারী ওষুধপণ্য রফতানি থেকে দুই কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম এসেছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

এই দুই মাসে এ খাত থেকে তিন কোটি ২৬ লাখ ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। গত অর্থবছরের জুলাই- আগস্ট সময়ে আয় হয়েছিল তিন কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ২০২২- ২৩ অর্থবছরের পুরো সময়ে ওষুধ রফতানি থেকে ২৩ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতি বছরই ওষুধ রফতানি থেকে আয় বেড়েছে। তবে ২০১৫ সালে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ২০৩২ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বে ছাড় (মেধাস্বত্ব অধিকার- ট্রিপস) দেওয়ার পর থেকে এ খাতের রফতানির পালে বাড়তি হাওয়া লাগে। এরপর করোনা চিকিৎসার ওষুধ রফতানি করে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ওষুধ খাত।

করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ওষুধ শিল্পে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো করোনা এ খাতে আশীর্বাদই বয়ে এনেছিল বলা যায়। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি রফতানি আয় বাড়ছিল সমানতালে। রফতানি পণ্যের তালিকায় কোভিড- ১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের অন্তর্ভুক্তি, গুণগত মানের উন্নয়ন ও সরকারের নীতিসহায়তার কারণে সুবাতাস বইছিল এ খাতে।

ওষুধ শিল্প- সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০- ২১ অর্থবছরে কেবল কোভিড- ১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রফতানি থেকেই আয় হয়েছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ মূলত ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, ক্যানসার, কুষ্ঠরোগ, অ্যান্টি- হেপাটিক, পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, কিডনি ডায়ালাইসিস, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক্যাল, আয়ুর্বেদিক ও হাইড্রোসিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ রফতানি করে থাকে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে এ তালিকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ওষুধ যুক্ত হয়, ফলে এ শিল্পে রফতানি আয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। গত ২০২১- ২২ অর্থবছর পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি স্বাভাবিক হয়ে আসায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ওষুধ আর এখন রফতানি হচ্ছে না।

ওষুধ শিল্প- সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে রেমডেসিভির ও ফ্যাভিপিরাভিরের জেনেরিক সংস্করণটি আমদানি করছে। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট চাহিদার ৯৭ শতাংশের বেশি ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হচ্ছে। এর পাশাপাশি ৪৩টি কোম্পানির বিভিন্ন প্রকারের ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ১৫৩টি দেশে রফতানি হচ্ছে।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় গত ২০২১- ২২ অর্থবছরেও ওষুধ রফতানির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল।

ওই অর্থবছরে এ খাত থেকে ১৮ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরা ছিল। আয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

এ হিসাবে লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছিল প্রায় ৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি এসেছিল ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০২০- ২১ অর্থবছরে ওষুধ রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ডলার।

ঔষধ শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ওষুধ রফতানি আয়ের ২০ শতাংশই দখল করে আছে বেক্সিমকো। দ্বিতীয় অবস্থানে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। এ ছাড়া স্কয়ার, এসকেএফ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, একমি ল্যাবরেটরিজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ওষুধ রফতানি করে থাকে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান বলেন, ‘করোনার ওষুধ রফতানি করে গত অর্থবছরে ভালো আয় করেছিলাম আমরা। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় এ ওষুধ রফতানি হচ্ছে না। তাই আয় কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন দেশে আমাদের ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। করোনার ওষুধ রফতানি না হলেও আমাদের রফতানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। দুই মাসের তথ্য দিয়ে সার্বিক অবস্থা বোঝা যাবে না। অর্থবছর শেষে ঠিকই আমাদের ওষুধ রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হবে।’

Tag :
জনপ্রিয়

সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিকসহ ৫জনের নামে চোরাকারবারির মামলা

আয় কমেছে ওষুধ রফতানিতে

প্রকাশের সময় : ০৮:৪১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের বেশ কদর আছে। ১৫৩টিরও অধিক দেশে রফতানি হয় বংলাদেশে তৈরি ওষুধ। বিগত কয়েক বছর ওষুধ রফতানিতে বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি ২০২২- ২৩ অর্থবছরে ওষুধ রফতানির আয়ে বেশ বড় ধাক্কা লেগেছে। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের চেয়ে ২৫ শতাংশ আয় কম হয়েছে ওষুধ রফতানিতে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবি সূত্র জানায়, চলতি ২০২২- ২৩ অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে (জুলাই- আগস্ট) জীবন রক্ষাকারী ওষুধপণ্য রফতানি থেকে দুই কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম এসেছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

এই দুই মাসে এ খাত থেকে তিন কোটি ২৬ লাখ ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। গত অর্থবছরের জুলাই- আগস্ট সময়ে আয় হয়েছিল তিন কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ২০২২- ২৩ অর্থবছরের পুরো সময়ে ওষুধ রফতানি থেকে ২৩ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতি বছরই ওষুধ রফতানি থেকে আয় বেড়েছে। তবে ২০১৫ সালে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ২০৩২ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বে ছাড় (মেধাস্বত্ব অধিকার- ট্রিপস) দেওয়ার পর থেকে এ খাতের রফতানির পালে বাড়তি হাওয়া লাগে। এরপর করোনা চিকিৎসার ওষুধ রফতানি করে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ওষুধ খাত।

করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ওষুধ শিল্পে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো করোনা এ খাতে আশীর্বাদই বয়ে এনেছিল বলা যায়। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি রফতানি আয় বাড়ছিল সমানতালে। রফতানি পণ্যের তালিকায় কোভিড- ১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের অন্তর্ভুক্তি, গুণগত মানের উন্নয়ন ও সরকারের নীতিসহায়তার কারণে সুবাতাস বইছিল এ খাতে।

ওষুধ শিল্প- সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০- ২১ অর্থবছরে কেবল কোভিড- ১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রফতানি থেকেই আয় হয়েছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ মূলত ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, ক্যানসার, কুষ্ঠরোগ, অ্যান্টি- হেপাটিক, পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, কিডনি ডায়ালাইসিস, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক্যাল, আয়ুর্বেদিক ও হাইড্রোসিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ রফতানি করে থাকে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে এ তালিকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ওষুধ যুক্ত হয়, ফলে এ শিল্পে রফতানি আয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। গত ২০২১- ২২ অর্থবছর পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি স্বাভাবিক হয়ে আসায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ওষুধ আর এখন রফতানি হচ্ছে না।

ওষুধ শিল্প- সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে রেমডেসিভির ও ফ্যাভিপিরাভিরের জেনেরিক সংস্করণটি আমদানি করছে। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট চাহিদার ৯৭ শতাংশের বেশি ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হচ্ছে। এর পাশাপাশি ৪৩টি কোম্পানির বিভিন্ন প্রকারের ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ১৫৩টি দেশে রফতানি হচ্ছে।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় গত ২০২১- ২২ অর্থবছরেও ওষুধ রফতানির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল।

ওই অর্থবছরে এ খাত থেকে ১৮ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরা ছিল। আয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

এ হিসাবে লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছিল প্রায় ৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি এসেছিল ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০২০- ২১ অর্থবছরে ওষুধ রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ডলার।

ঔষধ শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ওষুধ রফতানি আয়ের ২০ শতাংশই দখল করে আছে বেক্সিমকো। দ্বিতীয় অবস্থানে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। এ ছাড়া স্কয়ার, এসকেএফ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, একমি ল্যাবরেটরিজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ওষুধ রফতানি করে থাকে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান বলেন, ‘করোনার ওষুধ রফতানি করে গত অর্থবছরে ভালো আয় করেছিলাম আমরা। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় এ ওষুধ রফতানি হচ্ছে না। তাই আয় কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন দেশে আমাদের ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। করোনার ওষুধ রফতানি না হলেও আমাদের রফতানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। দুই মাসের তথ্য দিয়ে সার্বিক অবস্থা বোঝা যাবে না। অর্থবছর শেষে ঠিকই আমাদের ওষুধ রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হবে।’