ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাজপথের উত্তাপে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মুখোমুখি অবস্থানে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নেতাদের বাসা-বাড়িতে হামলা কিংবা যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, এমনকি গুলি ছুড়তে বাধ্য হচ্ছে। এতে সংঘাত-সংঘর্ষে সরাসরি অংশগ্রহণকারী বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আহত হয়েছেন। এরই মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে তিনজন মারা গেছেন। গুরুতর জখম আরও অর্ধশতাধিক মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এরপরও আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুইপক্ষই রাজপথ দখলে রাখার পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার দিচ্ছে। এতে আগামী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকার, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনসহ (ইভিএম) কয়েকটি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। সংকট নিরসনে দুই দলের আলোচনা বা সংলাপের কোনো উদ্যোগ নেই। বরং দিন যতই গড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে দূরত্ব ততই বাড়ছে। দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাগযুদ্ধ এখন রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতি চলমান থাকলে দেশে ভীষণভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর কে এম মহিউদ্দিন বলেন, দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ালে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। কিন্তু এখনও হরতাল-অবরোধের মতো কোনো বড় কর্মসূচি না আসায় অর্থনীতিতে সেই প্রভাব এখনও পড়েনি। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলমান রয়েছে, তাতে সে দুঃসময় বেশি দূরে নয় বলে মনে করেন তিনি।

এতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে দেশের অর্থনীতিবিদরা জোরালো আশঙ্কা করছেন। তাদের ভাষ্য, করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ফের তাতে মন্দা হাওয়া লেগেছে। বৈশ্বিক প্রভাবে খাদ্যসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম হুহু করে বেড়েছে। এতে দেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিশাল জনগোষ্ঠীর নাভিশ্বাস উঠেছে। এ দুঃসময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় সাধারণ জীবনযাত্রায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে উঠবে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ-শোডাউন ও সংঘাত-সহিংসতায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন উপার্জন কমছে। উত্তপ্ত আন্দোলন কর্মসূচিতে পণ্য পরিবহণ বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ নানামুখী সংকটে জিনিসপত্রের দাম আরও এক ধাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের পারদ ক্রমেই চড়ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জ্বালানি তেল, পরিবহণ ভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অসহনীয় লোডশেডিং এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে দলীয় কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজপথে অবস্থান এবং তাদের প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের তৎপরতায় রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তাপ বাড়তে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় পহেলা সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে দুইপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে শাওন নামের একজন যুবদল কর্মী মারা যান। এতে সারা দেশের রাজপথ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এরপর গত চার দিনে দেশের অন্তত ২৫ জেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে ৪০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত রোববার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়ার সিএন্ডবি এলাকায় বরগুনা-২ আসনের বিএনপি সমর্থিত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম মনির গাড়ি বহরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এতে নুরুল ইসলাম মনিসহ উপজেলা বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় তাদের ৫০টিরও বেশি মোটর সাইকেল ভাঙচুর ও বেশ কয়েকটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক সংঘাতে শুধু নেতাকর্মীরাই নয়, বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও হতাহত হচ্ছেন। নিরীহ মানুষের যানবাহন-দোকানপাটসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বিনষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে পড়ে পুলিশও রাজনৈতিক ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়েছেন। অথচ এরপরও আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুইপক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না এসে রাজপথে আরও সোচ্চার হওয়ার জানান দিচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, বৈশ্বিক সংকটের এই দুঃসময়ে রাজপথে উত্তাপ বাড়লে সংঘাতের সীমানা দ্রম্নত বিস্তৃত হবে। সমাজের নানা স্তরে খুনোখুনি ও লুটপাটসহ নানা অপরাধ বাড়বে। রাজনীতির সঙ্গে যাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তারাও নির্বিচারে এসব অপতৎপরতার শিকার হবে। আইনের শাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ভেঙে পড়ারও ভয় রয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিএনপির উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তারা (বিএনপি) তো রাজপথে নতুন এসেছে। আমরা রাজপথের পুরনো লোক। রাজপথ আমরা কাউকে ইজারা দেইনি। আমরা রাজপথে ছিলাম, রাজপথে আছি। আসুন রাজপথে মোকাবিলা হবে। ফয়সালা হবে। তবে আগুন নিয়ে খেলতে গেলে পরিণাম হবে ভয়াবহ।’

শুধু ওবায়দুল কাদেরই নন, আওয়ামী লীগের প্রথম সারির আরও বেশ কয়েকজন নেতা ‘রাজপথে খেলা হবে’ বলে একাধিকবার হুংকার দিয়েছেন। বিএনপি মাঠে নামলে তাদের প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। তারা ক্ষমতাসীন দল ও সরকারকে হুঁশিয়ার করে জানান, দেশজুড়ে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও সংঘর্ষের মতো ঘটনা বাড়তে থাকলেও তারা এবার রাজপথ ছাড়ছে না। বরং নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণে তারা আরও সোচ্চার হবে। হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা যতই ঘটুক, তারা মাঠে থেকেই তা মোকাবিলা করবে। ইস্যুভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে যাবে। এর মাধ্যমে তারা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তবেই ঘরে ফিরবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের রাজপথ দখল করতে হবে। রাজপথে দখল করে গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংগ্রাম শুরু হয়েছে, লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াই আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই। এ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট, দানবীয়, মাফিয়া সরকারকে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি ও ক্ষমতাসীনদের হামলায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহত হওয়ার পর তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। ২২ আগস্ট থেকে সারা দেশে চলমান বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোথাও পুলিশ নিজেরা, আবার কোথাও পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের লোকরা হামলা চালাচ্ছে; মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। সরকার ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠলে এ ধরনের হামলা-মামলার আশ্রয় নিতে পারে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভীত নয়। যতই হামলা নির্যাতন হোক রাজপথ থেকে এবার বিএনপি সরবে না। চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মুখোমুখি অবস্থানে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, এটি দেশের জন্য অশনি সংকেত। শুধু রাষ্ট্র পরিচালনাই নয়, ব্যক্তি থেকে শুরু একটি দেশের প্রায় প্রতিটি বিষয়ে রাজনীতির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব থাকে। তবে অর্থনীতির সঙ্গে রাজনীতির যোগসূত্রটা অন্যসব উপাদানের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে রাজনীতির আকাশে মেঘ থাকলে তা অর্থনীতিকেও মেঘাচ্ছন্ন করে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এবং পরে দীর্ঘদিন ধরে সরকার বিরোধী হরতাল-অবরোধের আন্দোলনে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকার বিরোধীদের টানা সহিংস আন্দোলনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল দেশের অর্থনীতি। বৈদেশিক বিনিয়োগ না আসা ও রপ্তানিতে ধস নামাসহ অভ্যন্তরীণ ব্যবসা বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশে প্রতিদিনের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ২০১৬ সালের পর ধীরে ধীরে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল ফিরতে শুরু করলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সূচকেও ইতিবাচক ধারা ফিরে আসতে থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে গত কয়েকদিন ধরে রাজপথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যে লড়াই চলছে তা অর্থনীতির জন্য শুভকর নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। যা পরবর্তীতে সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিত অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ অনেকাংশে কমে যায়। কারণ এতে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা দেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পায়। তারা তখন বিদেশে টাকা পাচার করতে উৎসাহী হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উলস্নাহ বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সভা-সমাবেশ করতে পারা বিরোধী দলগুলোর অধিকার। অথচ মাঠপর্যায়ে বিরোধীদের কর্মসূচিতে অনেক ক্ষেত্রে নৃশংস হামলা হচ্ছে। এর ফলে পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির যে সুযোগ, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয় কি না, সেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, বিরোধী দলগুলো অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম করছে। মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তৈরি করা, গণসংযোগ করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সভা-সমাবেশ। এই সুযোগটা তাদের দেওয়া উচিত। আর যদি এভাবে বিরোধীদের ওপর হামলা চলতে থাকে, এরপরও যদি তারা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে মানুষের সহানুভূতি আরও বেড়ে যাবে। যদি চাপে বিরোধীরা রণে ভঙ্গে দেয়, তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা সঙ্কুচিত হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা, তাতে এখন সহিষ্ণুতার খুব প্রয়োজন। এর জন্য সরকারের সদিচ্ছা খুবই দরকার। এর ব্যত্যয় দেশের ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কাজনক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Tag :
জনপ্রিয়

সিলেটে ক্বিন ব্রিজের পাশে হবে আরেকটি ব্রিজ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজপথের উত্তাপে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশের সময় : ০৮:৪১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মুখোমুখি অবস্থানে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নেতাদের বাসা-বাড়িতে হামলা কিংবা যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, এমনকি গুলি ছুড়তে বাধ্য হচ্ছে। এতে সংঘাত-সংঘর্ষে সরাসরি অংশগ্রহণকারী বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আহত হয়েছেন। এরই মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে তিনজন মারা গেছেন। গুরুতর জখম আরও অর্ধশতাধিক মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এরপরও আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুইপক্ষই রাজপথ দখলে রাখার পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার দিচ্ছে। এতে আগামী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকার, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনসহ (ইভিএম) কয়েকটি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। সংকট নিরসনে দুই দলের আলোচনা বা সংলাপের কোনো উদ্যোগ নেই। বরং দিন যতই গড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে দূরত্ব ততই বাড়ছে। দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাগযুদ্ধ এখন রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতি চলমান থাকলে দেশে ভীষণভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর কে এম মহিউদ্দিন বলেন, দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ালে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। কিন্তু এখনও হরতাল-অবরোধের মতো কোনো বড় কর্মসূচি না আসায় অর্থনীতিতে সেই প্রভাব এখনও পড়েনি। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলমান রয়েছে, তাতে সে দুঃসময় বেশি দূরে নয় বলে মনে করেন তিনি।

এতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে দেশের অর্থনীতিবিদরা জোরালো আশঙ্কা করছেন। তাদের ভাষ্য, করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ফের তাতে মন্দা হাওয়া লেগেছে। বৈশ্বিক প্রভাবে খাদ্যসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম হুহু করে বেড়েছে। এতে দেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিশাল জনগোষ্ঠীর নাভিশ্বাস উঠেছে। এ দুঃসময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় সাধারণ জীবনযাত্রায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে উঠবে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ-শোডাউন ও সংঘাত-সহিংসতায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন উপার্জন কমছে। উত্তপ্ত আন্দোলন কর্মসূচিতে পণ্য পরিবহণ বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ নানামুখী সংকটে জিনিসপত্রের দাম আরও এক ধাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের পারদ ক্রমেই চড়ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জ্বালানি তেল, পরিবহণ ভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অসহনীয় লোডশেডিং এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে দলীয় কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজপথে অবস্থান এবং তাদের প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের তৎপরতায় রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তাপ বাড়তে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় পহেলা সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে দুইপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে শাওন নামের একজন যুবদল কর্মী মারা যান। এতে সারা দেশের রাজপথ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এরপর গত চার দিনে দেশের অন্তত ২৫ জেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে ৪০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত রোববার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়ার সিএন্ডবি এলাকায় বরগুনা-২ আসনের বিএনপি সমর্থিত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম মনির গাড়ি বহরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এতে নুরুল ইসলাম মনিসহ উপজেলা বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় তাদের ৫০টিরও বেশি মোটর সাইকেল ভাঙচুর ও বেশ কয়েকটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক সংঘাতে শুধু নেতাকর্মীরাই নয়, বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও হতাহত হচ্ছেন। নিরীহ মানুষের যানবাহন-দোকানপাটসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বিনষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে পড়ে পুলিশও রাজনৈতিক ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়েছেন। অথচ এরপরও আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুইপক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না এসে রাজপথে আরও সোচ্চার হওয়ার জানান দিচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, বৈশ্বিক সংকটের এই দুঃসময়ে রাজপথে উত্তাপ বাড়লে সংঘাতের সীমানা দ্রম্নত বিস্তৃত হবে। সমাজের নানা স্তরে খুনোখুনি ও লুটপাটসহ নানা অপরাধ বাড়বে। রাজনীতির সঙ্গে যাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তারাও নির্বিচারে এসব অপতৎপরতার শিকার হবে। আইনের শাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ভেঙে পড়ারও ভয় রয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিএনপির উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তারা (বিএনপি) তো রাজপথে নতুন এসেছে। আমরা রাজপথের পুরনো লোক। রাজপথ আমরা কাউকে ইজারা দেইনি। আমরা রাজপথে ছিলাম, রাজপথে আছি। আসুন রাজপথে মোকাবিলা হবে। ফয়সালা হবে। তবে আগুন নিয়ে খেলতে গেলে পরিণাম হবে ভয়াবহ।’

শুধু ওবায়দুল কাদেরই নন, আওয়ামী লীগের প্রথম সারির আরও বেশ কয়েকজন নেতা ‘রাজপথে খেলা হবে’ বলে একাধিকবার হুংকার দিয়েছেন। বিএনপি মাঠে নামলে তাদের প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। তারা ক্ষমতাসীন দল ও সরকারকে হুঁশিয়ার করে জানান, দেশজুড়ে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও সংঘর্ষের মতো ঘটনা বাড়তে থাকলেও তারা এবার রাজপথ ছাড়ছে না। বরং নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণে তারা আরও সোচ্চার হবে। হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা যতই ঘটুক, তারা মাঠে থেকেই তা মোকাবিলা করবে। ইস্যুভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে যাবে। এর মাধ্যমে তারা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তবেই ঘরে ফিরবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের রাজপথ দখল করতে হবে। রাজপথে দখল করে গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংগ্রাম শুরু হয়েছে, লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াই আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই। এ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট, দানবীয়, মাফিয়া সরকারকে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি ও ক্ষমতাসীনদের হামলায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহত হওয়ার পর তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। ২২ আগস্ট থেকে সারা দেশে চলমান বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোথাও পুলিশ নিজেরা, আবার কোথাও পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের লোকরা হামলা চালাচ্ছে; মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। সরকার ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠলে এ ধরনের হামলা-মামলার আশ্রয় নিতে পারে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভীত নয়। যতই হামলা নির্যাতন হোক রাজপথ থেকে এবার বিএনপি সরবে না। চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মুখোমুখি অবস্থানে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, এটি দেশের জন্য অশনি সংকেত। শুধু রাষ্ট্র পরিচালনাই নয়, ব্যক্তি থেকে শুরু একটি দেশের প্রায় প্রতিটি বিষয়ে রাজনীতির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব থাকে। তবে অর্থনীতির সঙ্গে রাজনীতির যোগসূত্রটা অন্যসব উপাদানের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে রাজনীতির আকাশে মেঘ থাকলে তা অর্থনীতিকেও মেঘাচ্ছন্ন করে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এবং পরে দীর্ঘদিন ধরে সরকার বিরোধী হরতাল-অবরোধের আন্দোলনে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকার বিরোধীদের টানা সহিংস আন্দোলনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল দেশের অর্থনীতি। বৈদেশিক বিনিয়োগ না আসা ও রপ্তানিতে ধস নামাসহ অভ্যন্তরীণ ব্যবসা বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশে প্রতিদিনের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ২০১৬ সালের পর ধীরে ধীরে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল ফিরতে শুরু করলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সূচকেও ইতিবাচক ধারা ফিরে আসতে থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে গত কয়েকদিন ধরে রাজপথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যে লড়াই চলছে তা অর্থনীতির জন্য শুভকর নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। যা পরবর্তীতে সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিত অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ অনেকাংশে কমে যায়। কারণ এতে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা দেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পায়। তারা তখন বিদেশে টাকা পাচার করতে উৎসাহী হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উলস্নাহ বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সভা-সমাবেশ করতে পারা বিরোধী দলগুলোর অধিকার। অথচ মাঠপর্যায়ে বিরোধীদের কর্মসূচিতে অনেক ক্ষেত্রে নৃশংস হামলা হচ্ছে। এর ফলে পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির যে সুযোগ, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয় কি না, সেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, বিরোধী দলগুলো অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম করছে। মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তৈরি করা, গণসংযোগ করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সভা-সমাবেশ। এই সুযোগটা তাদের দেওয়া উচিত। আর যদি এভাবে বিরোধীদের ওপর হামলা চলতে থাকে, এরপরও যদি তারা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে মানুষের সহানুভূতি আরও বেড়ে যাবে। যদি চাপে বিরোধীরা রণে ভঙ্গে দেয়, তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা সঙ্কুচিত হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা, তাতে এখন সহিষ্ণুতার খুব প্রয়োজন। এর জন্য সরকারের সদিচ্ছা খুবই দরকার। এর ব্যত্যয় দেশের ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কাজনক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।